ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চতুর্থ চক্র চলছে। লিগ পর্ব শেষ হতে আর ছয় মাসের কিছু বেশি সময় বাকি। এরই মধ্যে ২০২৭ সালের ফাইনালে জায়গা করে নিতে শীর্ষ দুইয়ে থাকার লড়াই জমে উঠেছে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা ও গতবারের রানার্সআপ অস্ট্রেলিয়া আবারও পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এখনও লড়াইয়ে আছে পাঁচটি দেশ।
আগামী বছরের ৯ থেকে ১৩ জুন লন্ডনের দ্য ওভালে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপার জন্য কারা লড়বে, তা নির্ধারণ করতে এখনও ৩৩টি টেস্ট বাকি। গত তিনটি আসরে চার দলের মধ্যে তিন দলই ফাইনালে উঠেছিল ৬৬.৬৭ বা তার বেশি পয়েন্ট শতাংশ নিয়ে। ২০২৩ সালের ফাইনালে ওঠার সময় ভারতের ৫৮.৮ শতাংশ ছিল এখন পর্যন্ত তিন আসরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বর্তমানে ৮০ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়া এবং ৭৫ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থান বিবেচনায় নিলে, ফাইনালে যেতে এবারও ৬০-এর মাঝামাঝি শতাংশ পয়েন্ট প্রয়োজন হতে পারে।
শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট ৮০ শতাংশ। তাদের আরও তিনটি সিরিজ বাকি। প্যাট কামিন্সের দল অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনটি অ্যাওয়ে টেস্ট, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চারটি হোম টেস্ট এবং জানুয়ারি-মার্চে ভারতের মাটিতে পাঁচটি টেস্ট খেলবে। প্রোটিয়া ও কিউইদের বিপক্ষে ৫টি ম্যাচ জিতলেই ফাইনালে উঠতে তাদের আর কোনো সমীকরণে পড়তে হবে না। ভারতে নিজেদের সর্বশেষ ১৮ টেস্টের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া জিতেছে মাত্র দুটি।
দক্ষিণ আফ্রিকা ৭৫ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে অবস্থান করছে। তাদের সামনে এখনও ১০টি টেস্ট বাকি। এর মধ্যে অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনটি হোম টেস্ট, নভেম্বরে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি হোম টেস্ট, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি হোম টেস্ট এবং ফেব্রুয়ারি-মার্চে শ্রীলঙ্কার মাটিতে দুটি টেস্ট রয়েছে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা এই চক্রে এখন পর্যন্ত মাত্র চারটি টেস্ট খেলেছে যা সব দলের মধ্যে সবচেয়ে কম। টেম্বা বাভুমার দলকে শীর্ষ দুইয়ে থাকতে হলে ছয়টি জয় এবং একটি ড্র যথেষ্ট।
নিউজিল্যান্ড ৭২.২২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপ টেবিলে তৃতীয়। তাদের সিরিজ বাকি আছে চারটি, নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভারতের বিপক্ষে দুটি হোম টেস্ট, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চারটি অ্যাওয়ে টেস্ট, ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি হোম টেস্ট এবং মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি অ্যাওয়ে টেস্ট। প্রথম চক্রের চ্যাম্পিয়ন কিউইদের শীর্ষ দুইয়ে থাকতে হলে ৬টি জয়ের সঙ্গে একটি ড্র করতে হবে।
বাংলাদেশ চার নম্বরে অবস্থান করছে ৫৫.৫৬ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে। তারা তিনটি সিরিজে আরও ৬টি টেস্ট খেলবে। অক্টোবর-নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি হোম টেস্ট, নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি অ্যাওয়ে টেস্ট, ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি হোম টেস্ট। বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলার স্বপ্ন তৈরি করেছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক এক জয় দিয়ে। তবে বাকি ৬ ম্যাচের মধ্যে তাদের ন্যূনতম ৫টিতে জিততে হবে। কম হলে পয়েন্ট শতাংশ থাকবে ৬৪–এর নিচে।
ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখা শেষ দেশটি ভারত। প্রথম দুই চক্রের ফাইনাল খেলা দেশটির বর্তমান অবস্থান পঞ্চম। তাদের পয়েন্ট ৫১.৫২ শতাংশ। বাকি দুটি সিরিজে শুভমান গিলের দল ৭টি টেস্ট খেলবে। এর মধ্যে নভেম্বর-ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি অ্যাওয়ে টেস্ট এবং জানুয়ারি-মার্চে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচটি হোম টেস্ট রয়েছে। ৬৫ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে লিগপর্ব শেষ করতে হলে তাদের অন্তত পাঁচটি জয় ও একটি ড্র প্রয়োজন। তবে বাকি দলগুলো হারলেও তাদের সুযোগ তৈরি হবে।