ক্রীড়া প্রতিবেদক : আর্জেন্টিনার জার্সিকে বিদায় জানানোর পর লিওনেল মেসির উদ্দেশে আবেগঘন চিঠি লিখেছেন তার স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো। দীর্ঘ যাত্রায় মেসির সাফল্যের পাশাপাশি তার লড়াই, হতাশা ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পও তুলে ধরেছেন শৈশবের সঙ্গী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসির বিদায়ের ভিডিওটি প্রকাশ করে আন্তোনেলা লিখেছেন, জাতীয় দলের অধ্যায়টি এভাবে শেষ করতে দেখাটা তার জন্য ভীষণ গর্বের। বছরের পর বছর ধরে এই যাত্রায় ছিল অসংখ্য আনন্দের মুহূর্ত, আবার সামলাতে হয়েছে অনেক কঠিন আঘাতও।
মেসির সেই লড়াই খুব কাছ থেকে দেখেছেন আন্তোনেলা। তিনি লিখেছেন, ‘তোমাকে কষ্ট পেতে, পড়ে যেতে এবং আবার উঠে দাঁড়াতে দেখেছি। কিছু ঠিকঠাক না হলেও তোমাকে এগিয়ে যেতে ও বারবার চেষ্টা করতে দেখেছি।’
২০১৪ বিশ্বকাপ এবং ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পর মেসিকে কঠিন সময় পার করতে হয়েছিল। একবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত বদলে ফেরেন এবং আর্জেন্টিনাকে জেতান ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালের ফিনালিসিমা ও বিশ্বকাপ।
সেই সাফল্যের দিনগুলোর কথাও এসেছে আন্তোনেলার চিঠিতে। তার ভাষায়, দীর্ঘ অপেক্ষার পর মেসিকে স্বপ্নপূরণ করতে এবং পরিবারের জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় কিছু মুহূর্ত উপহার দিতে দেখাটা ছিল বড় সৌভাগ্যের।
তবে মেসির অর্জনের চেয়েও আন্তোনেলাকে বেশি আবেগাপ্লুত করেছে তাদের তিন সন্তান থিয়াগো, মাতেও ও সিরোর সামনে পুরো গল্পটি উন্মোচিত হওয়া। সন্তানদের কাছে মেসির লড়াইকে বড় শিক্ষা হিসেবেই দেখছেন তিনি।
আন্তোনেলা লিখেছেন, ‘আমাদের সন্তানরা খুব কাছ থেকে পুরো যাত্রাটি দেখেছে। নিজেদের বাবাকে স্বপ্নের জন্য লড়তে, হাল না ছাড়তে এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস রাখতে দেখেছে।’
সন্তানেরা বাবাকে বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরতেও দেখেছে। আন্তোনেলার বিশ্বাস, মেসির ফুটবলীয় অর্জনের বিশালতা হয়তো তারা এখনো পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেনি। ভবিষ্যতে বুঝতে পারলেও এই মুহূর্তে তারা শুধু নিজেদের বাবাকে নিয়ে গর্বিত।
চিঠির শেষ অংশে স্বামীর প্রতি নিজের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কথাও জানিয়েছেন আন্তোনেলা। মেসির পথচলা, প্রতিকূলতা জয় এবং প্রতিটি সাফল্যের আড়ালে থাকা মানুষটিকে নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘তোমার পাশে থেকে সবকিছু দেখার সুযোগ পাওয়া কত বড় সৌভাগ্য। আমরা তোমাকে অসীম ভালোবাসি।’
৩৯ বছর বয়সী মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে ২১ বছরের পথচলায় ২০৭ ম্যাচে রেকর্ড ১২৫ গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন। তবে আন্তোনেলার চিঠিতে সংখ্যার চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে একজন স্বামী ও বাবার হার না মানা যাত্রা।