একজন মেসির বিদায়; একটি স্বর্ণযুগের সমাপ্তি

প্রকাশঃ ২০২৬-০৯-০১ - ১৫:৪৯

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মেসির জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণায় আবেগাপ্লুত সতীর্থরা। রদ্রিগো দি পলের চোখে তিনি ‘সর্বকালের সেরা’, আর ডি মারিয়ার কণ্ঠে ‘চিরকালীন ধন্যবাদ, অধিনায়ক’। শুধু সতীর্থরাই নন, মেসির বিদায়ে মন খারাপ ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের। ফিফার পক্ষ থেকেও এসেছে শ্রদ্ধাভরা বার্তা ‘গ্রাসিয়াস’। বিদায়টা যেন মেনে নিতে পারছেন না কেউই। ২১ বছরের আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের ইতি টানা মেসির বিদায় যেন শুধু একজন ফুটবলারের বিদায় নয়, শেষ হতে যাওয়া একটি স্বর্ণযুগের গল্প।

চোখে জল কোটি কোটি মেসি-ভক্তের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটাই আক্ষেপ ‘ফুটবল আর আগের মতো থাকবে না।’ কারও প্রশ্ন, ‘এটা কেন করলে লিও?’ কারণ মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন; আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক আবেগের নাম।

২০০৫ সালে প্রথমবার আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে চাপিয়েছিলেন মেসি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচেই দেখেছিলেন লাল কার্ড। এরপর কেটে গেছে ২১ বছর। এ দীর্ঘ পথচলায় এসেছে হতাশা, কান্না, সমালোচনা আবার এসেছে ইতিহাস গড়ার মুহূর্তও।

কোপা আমেরিকার শিরোপা, বিশ্বকাপ জয়, অসংখ্য গোল-রেকর্ড আর অধিনায়ক হিসেবে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বসেরার মঞ্চে তুলে দেয়া সব মিলিয়ে জাতীয় দলের হয়ে মেসির অর্জনের খাতা পূর্ণ। তবু বিদায়ের সিদ্ধান্তটা সহজ ছিল না মেসির জন্যও।

প্রিয় অধিনায়কের বিদায়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি সতীর্থরাও। রদ্রিগো দি পলের কাছে মেসি ‘সর্বকালের সেরা’। দেশের প্রতি ভালোবাসা, কখনো হার না মানার মানসিকতা এবং সতীর্থদের প্রতি মানবিকতার জন্য মেসিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

লাওতারো মার্তিনেজ মনে করিয়ে দিয়েছেন গোল, অ্যাসিস্ট কিংবা শিরোপার বাইরেও মেসির সবচেয়ে বড় অর্জন তার নেতৃত্ব ও লড়াইয়ের উদাহরণ।

এনজো ফার্নান্দেজের কাছে মেসিকে ছাড়া পরবর্তী জাতীয় দলের ক্যাম্প কল্পনা করাই কঠিন। ১০ নম্বর জার্সিতে মেসিকে আর না দেখার বিষয়টি তাঁর কাছে যেন অসম্ভব।

সাবেক সতীর্থ ডি মারিয়ার বার্তা আরও আবেগঘন ‘চিরকালীন ধন্যবাদ, অধিনায়ক।’

মেসির বিদায়ে বার্তা এসেছে ফুটবল বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকেও। ফিফার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাভরা একটি শব্দ ‘গ্রাসিয়াস’।

এলএমটেনের বিদায়ে মন খারাপ ডেভিড বেকহ্যামের। বার্সেলোনায় মেসির সাবেক সতীর্থ ও পরে কোচ জাভি জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার হয়ে মেসি যা যা অর্জন করতে চেয়েছিলেন, তার সবই করেছেন। তাঁর জন্য রইল অনেক ভালোবাসা।

ভালো কিংবা খারাপ, প্রতিটি মুহূর্তে সবচেয়ে কাছে থাকা স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জুও গর্বিত তার যাত্রাপথের সঙ্গী হতে পেরে।

২০০৫ থেকে ২০২৬ আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২১ বছরের এক মহাকাব্যিক অধ্যায়। যে ছেলেটি অভিষেকেই লাল কার্ড দেখেছিল, সেই মেসিই একদিন হাতে তুলেছেন বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি। সেই মেসিই বলছেন সময় ফুরিয়ে এসেছে। বিদায় মেসি বিদায় শুধু একজন ফুটবলারের নয়, একটি যুগের।