ডেস্ক রিপোর্ট : চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টের পৃথক তিনটি ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার সদর ও দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এসব ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, দামুড়হুদা উপজেলার কালিয়াবকরী গ্রামের কৃষক লিটন আলী ও তার স্ত্রী, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামের চকপাড়ার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ইজিবাইকচালক নাসির উদ্দীন (৪০) এবং দর্শনা পৌর এলাকার শান্তিপাড়ার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে শফিকুল ইসলাম বরু (৪৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলার কালিয়াবকরী গ্রামে বৈদ্যুতিক মেশিনে গরুর ঘাস কাটছিলেন কৃষক লিটন আলী। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। স্বামীকে বিদ্যুতের সংযোগ থেকে উদ্ধার করতে এগিয়ে গেলে তার স্ত্রীও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামের চকপাড়ায় নিজ বাড়িতে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জ দিচ্ছিলেন নাসির উদ্দীন। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নাসির উদ্দীন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
আলুকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আল বেলাল বলেন, নিজ বাড়িতে ইজিবাইক চার্জ দেওয়ার সময় নাসির বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে তাকে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ রহমান বলেন, ইজিবাইক চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে, মঙ্গলবার ভোরে দামুড়হুদা উপজেলার লোকনাথপুর গ্রামের কেরামত আলীর বাড়ির টিউবওয়েলের বৈদ্যুতিক মোটরের পাশে শফিকুল ইসলাম বরুর মরদেহ পাওয়া যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে তিনি ওই বাড়ির টিউবওয়েলের বৈদ্যুতিক মোটরের কাছে যান। একপর্যায়ে মোটর থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অথবা মোটরটি খোলার চেষ্টা করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ধারণা, বৈদ্যুতিক মোটর চুরির উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়ে থাকতে পারেন শফিকুল। তবে বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ। মঙ্গলবার সকালে টিউবওয়েলের মোটরের পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, উপজেলার পৃথক দুটি স্থানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর বিষয়টি ধারণা করা হচ্ছে এবং আইনগত বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।