ইমরান খান-বুশরাকে নির্জন কারাগারে না রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ

প্রকাশঃ ২০২৬-০৯-০২ - ১৪:৩৫

পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে একাকী কারাবন্দী রাখা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী তাদের পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি খাদিম হুসেইন সোমরো এসব নির্দেশ দেন।

ইমরান খান ও বুশরা বিবি বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী। দুর্নীতি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মামলায় তাদের দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ইমরান খানকে কথিত একাকী কারাবন্দী রাখার অভিযোগে তার বোন আলিমা খান আদালতে আবেদন করেছিলেন। অন্যদিকে বুশরা বিবিকে নিয়ে পৃথক আবেদন করেন তার মেয়ে মুবাশারা খাওয়ার মানেকা।

রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তার দুই ছেলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থাও করতে হবে।

ইমরান খানকে প্রতিদিন সংবাদপত্র ও বই দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টকে এসব নির্দেশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে একটি বাস্তবায়ন প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন। তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) শুরু থেকেই এসব মামলায় দেওয়া সাজাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। তার পরিবারের সদস্য ও সমর্থকেরাও অভিযোগ করে আসছেন, কারা কর্তৃপক্ষ ইমরান খানকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ সীমিত করছে। তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এদিকে দুর্নীতির একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর বুশরা বিবিকে ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি প্রথমবার কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় নয় মাস পর ওই বছরের ২৪ অক্টোবর জামিনে মুক্তি পান তিনি।

পরে আরেকটি দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দুর্নীতিসংক্রান্ত আরও কয়েকটি মামলায় তাকে অতিরিক্ত সাজা দেওয়া হয়। তিনি এখনো আদিয়ালা কারাগারে বন্দী।

ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া নিয়েও সম্প্রতি তার পরিবার ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে।

গত মাসে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে বেসরকারি হাসপাতাল শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার পরিবার ও সমর্থকেরা কয়েক মাস ধরে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। বিশেষ করে চলতি বছরের শুরুতে শনাক্ত হওয়া তার চোখের সমস্যা নিয়ে তারা উদ্বেগ জানিয়েছিলেন।

তবে ২০ ও ২১ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে না নিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। পরে তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

এরপর ইমরান খানের পরিবার আবার আদালতের দ্বারস্থ হয়। তাদের অভিযোগ, তাকে পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশের লঙ্ঘন। ওই নির্দেশে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি রাখার কথা বলা হয়েছিল।

তবে ইমরান খানকে পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়ার পক্ষে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়েছে পাকিস্তান সরকার।

এ ঘটনায় আদালত অবমাননার আবেদনটির শুনানি আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ওই শুনানি করবেন। বেঞ্চের সদস্যরা হলেন বিচারপতি শহীদ ওয়াহিদ, নাঈম আখতার আফগান ও ইশতিয়াক ইব্রাহিম।

একই বেঞ্চে ইমরান খানের স্বাস্থ্য এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার সাক্ষাতের সুযোগসংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাগুলোরও শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।