নড়াইলে মাদরাসা ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু

প্রকাশঃ ২০২৬-০৯-০৩ - ১৫:৫৮

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলে মারকাজুল কোরআন মাদরাসার আবাসিক ছাত্রাবাসে এক শিক্ষার্থী হঠাৎ করে অসুস্থ্য হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। একটি পক্ষের অভিযোগ মাদরাসা ছাত্র সৈয়দ সুলায়মান ইসলাম (১২) শিক্ষকের মারপিটে অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছে। নিহত সৈয়দ সুলায়মান ইসলাম (১২) নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া গ্রামের মারকাযুল কুরআন মাদারাসার শিক্ষার্থী। সে নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের সৈয়দ ইকরাম আলীর ছেলে। অপরদিকে মারকাজুল কোরআন মাদরাসার শিক্ষকবৃন্দ জানান, বুধবার ভোর রাতে সুলায়মান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঘটনাটি তার পরিবারকে জানানো হয়। সেই সাথে চিকিৎসা দেয়ার জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দিলে যশোর নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার সন্ধ্যায় মাদরাসার ৩ শিক্ষককে আটক করেছে নড়াইল থানা পুলিশ। আটককৃত শিক্ষকবৃন্দ হলেন ইউসুফ হায়দার(৩৭), হাসিবুর রহমান(৩০) এবং ফাহাদ শেখ(৩২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদরাাসার আবাসিকে থাকা সুলায়মান বুধবার ভোর রাতে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। এ সময় মাদরাসার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা শিক্ষার্থীর পরিবারের স্বজনদের সকালে মোবাইল ফোনে শিক্ষার্থীর অসুস্থতার বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে পরিবারের স্বজনেরা মাদরাসায় এসে দেখেন ছেলেটি খুব অসুস্থ। এসময় তাকে দ্রুত নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
শিক্ষকের মারপিটে তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করে তার বাবা সৈয়দ ইকরাম আলী বলেন, তার শরীরে রোগ ব্যাধী কিছু ছিল না। তাকে শিক্ষকরা মারপিট করে হত্যা করেছে। তাকে ডাক্তারের কাছে নেয়নি। আমরা গিয়ে ছেলেকে হাসপাতালে নিয়েছি। আমার ছেলেটা আমাকে দেখে কিছু বলতে চেয়েছিল। সে কিছু বলতেই পারিনি। শুধু ঘাড়ে হাত দিয়ে দেখাচ্ছিল। সে ঘাড়ে ব্যাথা পেয়েছে।
এদিকে মারপিটের অভিযোগ অস্বীকার করে মারকাজুল কোরআন মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নাজমুস সায়াৎ আল মামুন বলেন,ওই শিক্ষার্থী গত রাত ৩টার দিকে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাকে কোন শিক্ষক মারপিট করেনি। তদন্তে যদি কেউ দোষি প্রমানিত হয়, তাহলে যে বিচার হবে তা আমরা মাথা পেতে মেনে নিব। তবে আমরা মাদরাসা কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, মাদরাসার কেউ তাকে মারপিট করেনি।

এ বিষয়ে নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় শিক্ষক ইউসুফ হায়দার, হাসিবুর রহমান ও ফাহাদ শেখকে আটক করা হয়েছে। নিহতের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।