কুষ্টিয়ায় কাবাডি খেলায় হেরে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে এক স্কুলছাত্র আহত হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া আড়াইশ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে কুষ্টিয়া শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে ৩৬তম জাতীয় স্কুল, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষার্থী রক্তিম (১৬) কুষ্টিয়া সদর উপজেলার দহকুলা মোহাম্মদ শাহী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও দহকুলা এলাকার মুন্সি সালামের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে দহকুলা মোহাম্মদ শাহী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কুষ্টিয়া কালেক্টরেট স্কুলের মধ্যে কাবাডি খেলা চলছিল। খেলায় কুষ্টিয়া কালেক্টরেট স্কুল পরাজিত হয়। এ সময় কুষ্টিয়া কালেক্টরেট স্কুলের এক শিক্ষার্থী ও তার বন্ধুরা মিলে শিক্ষার্থী রক্তিমের উপর হামলা ও পিঠে ছুরি দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ উঠে। পরে শিক্ষক ও সহপাঠীরা রক্তাক্ত অবস্থায় রক্তিমকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া আড়াইশ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী দহকুলা মোহাম্মদ শাহী উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষক খন্দকার নজরুল ইসলাম বলেন, খেলার শেষ পর্যায়ে যখন হেরে যাচ্ছে তখন তারা উত্তেজিত হয়। ৪৪/২৮ পয়েন্টে বিজয়ী হওয়ার পর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় আমাদের স্কুলের শিক্ষার্থী রক্তিম আহত হয়।
কুষ্টিয়া আড়াইশ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইকবাল হোসেন বলেন, ছুরিকাঘাতে আহত এক স্কুলশিক্ষার্থীকে হাসপাতাল আনা হয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে সে আশঙ্কামুক্ত রয়েছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশিদ জানান, আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে খেলায় হেরে যাওয়ায় প্রতিপক্ষ কয়েকজন শিক্ষার্থীর হামলায় দহকুলা মোহাম্মদ শাহী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত এক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে। বাকিদের আটক করতে অভিযান চলছে। আহত শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থা হাসপাতালে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। সে বর্তমানে আশঙ্কা মুক্ত। ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, খেলাকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সাথে জড়িত একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাকিদের আটকের জন্য অভিযান চলছে।