২৪ ঘণ্টার বেশি গোপন স্থানে আটক রাখা গুমের অপরাধ : চিফ প্রসিকিউটর

প্রকাশঃ ২০২৬-০৯-০৭ - ১৬:২১

নিউজ ডেস্ক : কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাউকে ২৪ ঘণ্টার বেশি আটক রাখলে, গোপন স্থানে রাখলে কিংবা তাকে আইনের সুবিধা লাভ থেকে বঞ্চিত করলে সেই অপরাধ গুম হিসেবে গণ্য হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন গতকাল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। আইনটিতে গুমের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, সেটি হলো, কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, আটক অথবা অজ্ঞাত স্থানে আটক রাখে, তাকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি গোপন রাখে কিংবা তাকে আইনের সুবিধা লাভ থেকে বঞ্চিত করে, তাহলে সেটি ফৌজদারি অপরাধ এবং স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গুম বলে গণ্য হবে।

তিনি বলেন, গুমের এই সংজ্ঞা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যেটা প্রতীয়মান হয় যে, এখন থেকে যদি কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ২৪ ঘণ্টার বেশি কাউকে আটক রাখে, কোথাও তাকে গোপন স্থানে রাখা হয় কিংবা তাকে যদি আইনের সুবিধা লাভে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে কিন্তু সেই অপরাধকে গুম বলে গণ্য করা হবে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আমাদের ওই আইনটাতে সংজ্ঞায় কিন্তু একটা প্রভিশন দিয়েছে যে, যদি গুমটা ব্যাপক মাত্রায় হয় অথবা যদি সেটা কোনো সেম প্যাটার্ন বা সিস্টেমেটিক ওয়েতে হয়, তাহলে সেটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং সেটির আবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হবে।

তিনি বলেন, যারা ভুক্তভোগী পরিবার আছেন, যারা গুমের শিকার হয়েছেন, তাদের যে কোনো ঘটনার বিচারের একটু দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। আমি সেই কারণে আইনটাকে স্বাগত জানাচ্ছি।

আমাদের বিচারের পরিধিটাও বড় হয়েছে।
‘এই আইন প্রণয়নের মধ্য দিয়ে আমাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে কোনো ধরনের কনফ্লিক্ট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অথবা আইনটিকে যেভাবে ডেফিনেশনটা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কিন্তু ডোমেস্টিক ল’তেও অন্য কোনো আইনের সঙ্গে সেটা কনফ্লিক্ট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে আইনটি করা হয়েছে।’

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমি মনে করি, এই আইনের প্রয়োগের মধ্য দিয়ে বা ভুক্তভোগী পরিবারের বিচারের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়ার একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।