সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : বাংলাদেশের অর্থনীতি, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ জীবিকায় মৎস্য খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মোট প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৬০ শতাংশেরও বেশি আসে মাছ থেকে। এছাড়া বাংলাদেশের মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হয় এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বর্তমানে দেশের মৎস্য রপ্তানির একটি বড় অংশ এখন মূল্য সংযোজিত পণ্যের দিকে ঝুঁকছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে।
বাংলাদেশের একটি অবহেলিত অথচ অত্যন্ত সম্ভাবনাময় জলজ সম্পদ হলো কুচিয়া মাছ। উচ্চমাত্রার প্রোটিন, খনিজ (ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন), ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ কুচিয়া মাছকে আন্তর্জাতিক বাজারে ‘হাই ভ্যালু অ্যাকুয়াটিক রিসোর্স’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া উপস্থিত ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা উন্নত করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। সহজপাচ্য হওয়ায় এটি হজমশক্তি উন্নত করে এবং শরীরকে দ্রুত পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে। তবুও বাংলাদেশে এই সম্পদকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রক্রিয়াজাত শিল্পে রূপান্তরের উদ্যোগ এতদিন সীমিত ছিল। তবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. পরেশ কুমার শর্মার নেতৃত্বে একদল গবেষক উদ্ভাবিত আধুনিক ক্যানিং প্রযুক্তি এই ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। গবেষণার মাধ্যমে কুচিয়া মাছ থেকে নিরাপদ, পুষ্টিসমৃদ্ধ ও দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণযোগ্য ক্যানড ফিশ পণ্য তৈরি করা হয়েছে এবং পরীক্ষামূলকভাবে এর সফলতা অর্জিত হয়েছে। উন্নত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, জীবাণুমুক্ত প্রক্রিয়াজাতকরণ, মানসম্মত প্যাকেজিং এবং সংরক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ক্যানড কুচিয়া পণ্যের স্বাদ, গুণগত মান ও নিরাপত্তা সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ড. পরেশ কুমার শর্মা জানান, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কুচিয়া মাছ চাষ ও রপ্তানি বাংলাদেশের মৎস্য খাতে একটি দ্রুত বিকাশমান ও সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে গড়ে উঠেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১৫টি দেশে কুচিয়া মাছ রপ্তানি হচ্ছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জাপান, চীন, মঙ্গোলিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়া। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই মাছের মোট উৎপাদন ছিল ১৫ হাজার ৭৯০ মেট্রিক টন, যার মধ্যে ৯ হাজার ৯৪৭ টন রপ্তানি করে প্রায় ৭৫২ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়।
তবে সম্ভাবনাময় এই খাতে অপর্যাপ্ত কোল্ড-চেইন ব্যবস্থা, দুর্বল পরিবহন অবকাঠামো, অনুন্নত সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে বাংলাদেশে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাছ আহরণ-পরবর্তী ক্ষতির শিকার হয়। এর ফলে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, পুষ্টিগুণের অবনতি এবং বাজারমূল্য হ্রাসও ঘটে। তবে আধুনিক পোস্ট-হারভেস্ট প্রযুক্তি, নিরাপদ প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত শুকানো ও ক্যানিং প্রযুক্তি এবং ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য উন্নয়েনের মাধ্যমে এই ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
গবেষক আরো জানান, আমরা কুচিয়া মাছ থেকে প্রথমবারের মতো ক্যানিং প্রক্রিয়ায় পণ্য তৈরি করি। এতে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নত তাপ নিয়ন্ত্রণ, সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং মানসম্মত প্যাকেজিং। ফলে পণ্যের স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও নিরাপত্তা সম্পূর্ণ অক্ষত থাকে যা আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য আবশ্যক। আমরা কুচিয়া মাছ থেকে উদ্ভাবিত ক্যানড ফিশ পণ্যের আন্তর্জাতিক মান যাচাইয়ের জন্য ভারতের স্বনামধন্য পরীক্ষাগার ‘শিভা এনালাইটিক্যাল প্রাইভেট লিমিটেড’ এ নমুনা প্রেরন করে বিশ্লেষণ সম্পন্ন করেছি, যা আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত কটেকনা গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান থেকে ক্যানড কুচিয়া পণ্যের নমুনা পরীক্ষায় মাইক্রোবায়োলজিক্যাল সেফটি, পুষ্টিমান, আর্দ্রতা, সংরক্ষণ সক্ষমতা এবং খাদ্য নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সূচকে সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়া যায়। অর্থাৎ, এই পণ্য এখন বৈশ্বিক রপ্তানির জন্য শতভাগ প্রস্তুত। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা মানদন্ড অনুযায়ী পণ্যের গুণগত স্থায়িত্ব এবং নিরাপদ ভোক্তা উপযোগিতা নিশ্চিত হওয়ায় এটি রপ্তানিযোগ্য পণ্য হিসেবে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
গবেষণার প্রাথমিক সাফল্য কুচিয়া মাছভিত্তিক ক্যানড ফুডের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে তুলে ধরলেও এর ভবিষ্যৎ গতিপথ, ব্যবসায়িক মডেল এবং সম্ভাব্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার আরো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে উৎপাদন ব্যয়, বাজার চাহিদা, রপ্তানি সক্ষমতা, ভোক্তার গ্রহণযোগ্যতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর আরো গবেষণা জরুরি। একই সঙ্গে এই উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা, কৃষক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি দাতা সংস্থা এবং বিনিযোগকারীদের সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই অবহেলিত কুচিয়া মাছ বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় বৈদেশিক আয় ও টেকসই উদ্যোক্তা উন্নয়নের খাতে পরিণত হতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ছোট একটি ক্যানের ভেতর লুকিয়ে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। কুচিয়া শুধু একটি পণ্য নয়, এটি বাংলাদেশের মৎস্যখাতের ‘গেম চেঞ্জার’ কারণ কুচিয়া মাছ স্বপ্ন দেখাচ্ছে বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক আয়ের। আধুনিক ক্যানিং প্রযুক্তি আর আন্তর্জাতিক মানের স¦ীকৃতি এই দুই হাতিয়ারেই বাংলাদেশ একসময়ের অবহেলিত মাছকে পরিণত করতে পারে বৈদেশিক মুদ্রার উৎস, বদলে দিতে পারে অর্থনীতির হিসাব।যশোর ও খুলনা অঞ্চলের প্রাকৃতিক খাল-বিলের কুঁচিয়া এখন চীন, তাইওয়ানসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর ও চৌগাছা উপজেলায় এবং সাতক্ষীরা খুলনা-বাগেরহাট অঞ্চলে কুঁচিয়া শিকার করে এবং এই ব্যবসায়ে যুক্ত হয়ে লাখো মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাঁদের অনেকেই ইতিমধ্যে দারিদ্র্য কাটিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।
কুঁচিয়া রপ্তানিকারক বাবুল সরকার এই প্রতিবেদককে বলেন, ঢাকা থেকে নিয়মিত বিমানযোগে চীন ও তাইওয়ানে কুঁচিয়া রপ্তানি হয়। তবে দেশে এখনো কুঁচিয়ার বাণিজ্যিক চাষ সফল হয়নি। ফলে পুরো ব্যবসাই প্রাকৃতিক খাল-বিলের ওপর নির্ভরশীল। তাঁর ভাষ্য, কুঁচিয়া সম্ভাবনাময় একটি কৃষিপণ্য, যার বিদেশে কয়েক শ কোটি টাকার বাজার রয়েছে।
মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জীবন্ত কুঁচিয়া বিদেশে রপ্তানি হয়েছে ৮ হাজার ৪০৮ মেট্রিক টন, যার রপ্তানি মূল্য ৩৯৮ কোটি টাকা। এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৭ হাজার ৪৩৮ মেট্রিক টন রপ্তানি হয়, যার মূল্য ছিল ৯৯৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এ ছাড়া ২০২২–২৩ অর্থবছরে রপ্তানি হয় ১২ হাজার ১০৮ মেট্রিক টন, যার রপ্তানি মূল্য ছিল ৬২০ কোটি টাকা।
অভয়নগর উপজেলার কচুয়া গ্রামের কুমার বৈরাগী একসময় কুঁচিয়া শিকার করে হাটবাজারে বিক্রি করে সংসার চালাতেন। সাত বছর আগে ১০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে কুঁচিয়ার ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তাঁর বাড়িতেই রয়েছে কুঁচিয়া সংরক্ষণের হাউস। তিনি কুঁচিয়া সরবরাহ করেন খুলনার রূপসা ও ঢাকার কাঁকড়া-কুঁচিয়ার আড়তে। পাশাপাশি কুঁচিয়া প্রক্রিয়াজাত করে রান্নার উপযোগী করেও বিক্রি করেন।
কুমার বৈরাগী জানান, গত অর্থবছরে ১০০টি চালানের মাধ্যমে ১০ হাজার কেজি কুঁচিয়া পাইকারি বিক্রি করেছেন। খরচ বাদে লাভ হয়েছে তিন লাখ টাকার বেশি। গত পাঁচ বছরই তিনি লাভ করেছেন। লাভের টাকায় বসতভিটার সাত শতক জমির সঙ্গে আরও সাত শতক জমি কিনে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে আধা পাকা বাড়ি নির্মাণ করছেন।
৪৫ বছরের কুমার বৈরাগী জানান, বড় ছেলেকে নিয়ে আশপাশের অন্তত ৩০টি গ্রাম ঘুরে জীবিত কুঁচিয়া সংগ্রহ করে এনে বাড়ির সংরক্ষণ হাউসে রাখেন। পরে সুবিধাজনক সময়ে খুলনার রূপসা এলাকার মৃণাল কান্তি দের আড়তে পাঠান। কেউ চাইলে কুঁচিয়া কেটে রান্নার উপযোগী করেও দেন।
কুমার বৈরাগী জানান, গত বছর বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নবলোক পরিষদ তাঁর বাড়ির আঙিনায় বিনা মূল্যে সংরক্ষণ হাউসটি নির্মাণ, কুঁচিয়া প্রক্রিয়াজাতকরণের উপকরণ ও প্রশিক্ষণও দিয়েছে।
নবলোক পরিষদের মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ কুমার মোস্তফী এই প্রতিবেদককে বলেন, পল্লী কর্ম–সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) আর্থিক সহায়তায় একটি কর্মসূচির আওতায় কুমার বৈরাগীকে ব্যবসার উপকরণ দেওয়ার পাশাপাশি সংরক্ষণ হাউসের পানি নিয়মিত পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে কুঁচিয়া সংরক্ষণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ফলে গত অর্থবছরে কুমার বৈরাগীর সবচেয়ে বেশি ব্যবসা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যদেরও একই ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।
খুলনার রূপসা এলাকার নিউ মামা এন্টারপ্রাইজ আড়তের স্বত্বাধিকারী মৃণাল কান্তি দে বলেন, যশোরের অভয়নগর ও মনিরামপুর; খুলনার তেরখাদা এবং বাগেরহাটের চিতলমারিসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে কুঁচিয়া আড়তে আসে। সেখান থেকে ঢাকার রপ্তানিকারকদের কাছে বিক্রি করা হয়। পরে জীবন্ত অবস্থায় সেগুলো চীন, তাইওয়ানসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়।
মৃণাল কান্তি দে আরও জানান, গত বছর তিনি ১৫০ মেট্রিক টন কুঁচিয়া ঢাকার রপ্তানিকারকদের কাছে পাঠিয়েছেন। তাঁর ভাই প্রশান্ত কুমার দে ও বাবুল সরকার কুঁচিয়ার বড় রপ্তানিকারক।
জানতে চাইলে যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন বলেন, কুঁচিয়া অপ্রচলিত কৃষিপণ্য হলেও বিদেশে এটির চাহিদা রয়েছে। একটি প্রকল্পের আওতায় মনিরামপুর, অভয়নগরসহ বিভিন্ন মাছের বাজারে কুঁচিয়া বিক্রয়কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে মৎস্যজীবীরা সহজে সেখানে কুঁচিয়া কেনাবেচা করতে পারেন।সাতক্ষিরায় খামারে কুচিয়া চাষ করা হয়
সাদা সোনা খ্যাত রফতানিযোগ্য চিংড়ি সাতক্ষীরা জেলায় চাষ হয়। তবে গত কয়েক বছর ধরে চিংড়ি রফতানির পাশাপাশি সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় উৎপাদিত কুচিয়া বিদেশে রফতানি হচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালীগঞ্জে বেশ কয়েকটি কুচিয়া খামার গড়ে উঠেছে।
প্রাকৃতিকভাবে জন্মনো এসব কুচিয়া সংগ্রহ করে মোটাতাজা করার পর থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, চায়না, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরসহ ১৫টি দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। বিশেষ করে চায়নায় এর চাহিদা বেশি।
তবে খামারিরা বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে সাতক্ষীরার কুচিয়া রফতানি।
আশাশুনির উপজেলার শবদলপুরে গ্রামের নিতাই সরকার বলেন, স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে বাড়িতে কুচিয়া মোটাতাজা করেন। পাঁচ বছর ধরে নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন কুচিয়া মোটাতাজাকরণ খামার। তার খামারে ছোট বড় কয়েক হাজার কুচিয়া রয়েছে।
তিনি বলেন, এলাকার বিভিন্ন মৎস্যঘের থেকে এসব কুচিয়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে কিনে তা খামারে এসে পরিচর্যা করেন। ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম ওজনের কুচিয়া সংগ্রহ করে দুই থেকে আড়াই মাস পরিচর্যা করার পর একেকটি কুচিয়ার ওজন হয় ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত। এরপর স্থানীয়ভাবে প্রতিকেজি কুচিয়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন।
তিনি আরও জানান, বছরের ১২ মাসই কুচিয়া মোটাতাজা করেন। এতে তার খামারের ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা লাভ হয়। তবে সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে উপকূলীয় এলাকার কুচিয়া রফতানি আরও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে বলে জানান তিনি।
বিক্রির জন্য রাখা কুচিয়া
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের উজিরপুর গ্রামের আব্দুল বারী গাজী বলেন, এলাকার বিভিন্ন মৎস্যঘের থেকে কুচিয়া সংগ্রহ করে খামারে মোটাতাজা করছেন। কুচিয়ার জন্য তারা খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন কেচো, ছোট তেলাপোয়া মাছ ও চিংড়ি মাছ।
এদিকে আশাশুনি এলাকার গৃহবধূ ফুলজান বিবি ও ছন্দা রানী জানান, তারা সংসারের কাজকর্ম করেও প্রতি মাসে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা আয় করছেন কুচিয়ার খামার থেকে।
উন্নয়ন সংস্থা নামে খুলনাভিত্তিক একটি এনজিও সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় কুচিয়া মোটাতাজাকরণে খামারিদের প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য সহযোগিতা করছে।
আশাশুনি উপজেলায় উন্নয়ন সংস্থা দায়িত্বে থাকা মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর রেজা বলেন, ‘পিকেএসএসের আর্থিক সহায়তায় ও লিফট কর্মসূচির আওতায় আশাশুনিতে প্রায় ২০০টি কুচিয়া মোটাতাজাকরণ খামার গড়ে তোলা হয়েছে। এই এলাকার বিভিন্ন মৎস্যঘের থেকে কুচিয়া সংগ্রহ করে এসব খামারে পরিচর্যা করার পর তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকার উত্তরা এলাকার কিছু রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরা অঞ্চল থেকে এসব কুচিয়া সংগ্রহ করে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, চায়না, ভিয়েতনাম, ও সিঙ্গাপুরসহ প্রায় ১৫টি দেশে রফতানি করছে।’
আশাশুনি উপজেলার উজিরপুর বাজারের পাইকারি কুচিয়া ব্যবসার প্রতিষ্ঠান আসিফ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুস সালাম জানান, খামারিদের কাছ থেকে কুচিয়া সংগ্রহ করে তা ঢাকার উত্তরা এলাকার কয়েকটি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করেন। প্রতি মাসে তিনি ২০ থেকে ২৫ মেট্রিক টন কুচিয়া উত্তরায় সরবরাহ করেন।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিএম সেলিম এই প্রতিবেদক কে বলেন, ‘শ্যামনগরে সরকারিভাবে কুচিয়ার দুটি প্রদর্শনী খামার গড়ে তোলা হয়েছিল। চিংড়ি ও কাকড়ার পর কুচিয়া রফতানিতে সাতক্ষীরা বেশ সম্ভাবনাময়। কিন্তু মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এর জনপ্রিয়তা কম।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত অর্থবছরে কাকড়া মোটাতাজাকরণ একটি প্রকল্প সাতক্ষীরায় ছিল। সেটি গত জুনে শেষ হয়ে গেছে। তবে আগামীতে কুচিয়া চাষের ওপর প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।’বরিশাল : বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ১২ কোটি টাকার কুচিয়া রপ্তানী হচ্ছে বিদেশে। কুচিয়া চাষে ভাগ্য ফিরেছে পাঁচ শতাধিক লোকের। মৎস্য অধিদপ্তর ও সাদু পানি গবেষণা কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে আগৈলঝাড়ায় কুচিয়া চাষে ৩৬ কোটি টাকা ব্যায়ে পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু।
সংশ্লিষ্ঠ সূত্র মতে, বানিজ্যিকভাবে কুচিয়ার চাষ সম্প্রসারণ করতে দক্ষিনাঞ্চলের তিনটি জায়গায় কুচিয়া ও কাঁকড়ার খামার স্থাপনের জন্য পৃথকভাবে ৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে মৎস্য অধিদপ্তর এবং সাদু পানি গবেষণা কেন্দ্র।
এসব প্রকল্প থেকে বছরে কুচিয়া ও কাঁকড়া রপ্তানী করে কয়েক’শ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন প্রকল্প বাস্তবায়কারী সংশ্লিষ্ঠরা।
কুচিয়া ও কাঁকড়া চাষ প্রকল্প পরিচালক ড. বিনয় চক্রবর্তী জানান, প্রচুর সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে আগৈলঝাড়ায় কুচিয়া চাষের জন্য ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিন অর্থ বছরে বানিজ্যিকভাবে কুচিয়া চাষের সম্প্রসারণ করতে পাইলট প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬ কোটি টাকা। দু’টি ধাপে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে মৎস্য অধিদপ্তর এবং দ্বিতীয় ধাপে সাদু পানি গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে মৎস্য অধিদপ্তর ২২ কোটি টাকা এবং সাদু পানি গবেষণা কেন্দ্র ১৪ কোটি টাকার প্রাক্কালন ব্যয় ধরা হয়েছে।
বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. ওয়াহেদুজ্জামান জানান, আগৈলঝাড়ায় বানিজ্যিকভাবে কুচিয়ার চাষ বাড়াতে সরকারের পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে। এছাড়া আরও চারটি জেলায় এ প্রকল্পের আওতায় কাঁকড়া চাষ সম্প্রসারণের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। কুচিয়া প্রদর্শনী খামারের জন্য তিনটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। কুচিয়া সাধারণতঃ ‘মাছ” হিসেবে খাবারের তালিকায় গ্রহন করা হয়। কুচিয়া স্বাদ ও অধিক পুষ্টিগুন সম্পন্ন।
তিনি আরও জানান, কুচিয়া চাষের জন্য বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা এবং কাঁকড়া চাষের জন্য ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা এবং পিরোজপুর জেলা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এক’শ চাষি ও ব্যবসায়িকে বাছাই করে কুচিয়া চাষের উপর তাদের আধুনিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক পরিচালক ডা. অনিল চন্দ্র দত্ত বলেন, সাপের মতো দেখতে হলেও কুচিয়া এক প্রকার মাছ। এটা দেশের বিভিন্ন স্থানে কুইচ্চা, কুইচা, কুচে, কুচো, কুচিয়া নামে পরিচিত। দেশের হাওর, বাঁওড়, খাল-বিল, পরিত্যাক্ত ও মজা পুকুর, ধানক্ষেতে এবং বন্যা প্লাবিত অঞ্চলে কুচিয়া মাছ দেখতে পাওয়া যায়। কুচিয়া মাছের শরীর লম্বা বেলনাকৃতির। আপাতদৃষ্টিতে কুচিয়া মাছকে আঁশবিহীন মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এর গায়ে ক্ষুদ্রাকৃতির আঁশ বিদ্যমান যার বেশিরভাগ অংশই চামড়ার নিচে সজ্জিত থাকে।
খাদ্য হিসেবে উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর কাছে জনপ্রিয় হলেও বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ কুচিয়া মাছকে অস্পৃর্শ মনে করে। যদিও কুচিয়া শারীরিক দুর্বলতা, রক্ত শূন্যতা, অ্যাজমা রোগ, ডায়াবেটিস, বাতজ্বর, পাইলসসহ অনেক রোগ সারাতে মহৌষধের কাজ করে।
বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (খামার বাড়ি) উপ-পরিচালক রমেন্দ্র নাথ বাড়ৈ জানান, পরিবেশের খাদ্য জালে কুঁচিয়ার অনন্য অবদান রয়েছে। ধান ক্ষেতের ফসল অনিষ্টকারী পোকার লার্ভা, শামুক, কৃমি ইত্যাদি খেয়ে কুঁচিয়া কৃষকের উপকারী বন্ধু হিসেবে কাজ করে। অনেক পচা-গলা জৈব পদার্থ খেয়ে পরিবেশে মানবসমাজের বিশেষ বন্ধু হিসেবেও ভূমিকা রাখে কুচিয়া।
সূত্র মতে, পাইলট প্রকল্প গ্রহনের আগে শুধুমাত্র আগৈলঝাড়া উপজেলা থেকে প্রতি বছর ১২ কোটি টাকার কুচিয়া রপ্তানী হত বিদেশে। কুচিয়া শিকার ও বিক্রির মাধ্যমে এলাকার পাঁচ শতাধিক পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। আর একারণেই বরিশাল বিভাগের মধ্যে আগৈলঝাড়া উপজেলায় কুচিয়া চাষ সম্প্রসারণের জন্য পাইলট প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে।
কুচিয়া শিকারী, খামারী ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলায় প্রায় ১৫ বছর পূর্বে কুচিয়া শিকার ও ব্যবসা শুরু হয়। এক পর্যায়ে উপজেলায় কুচিয়ার ৬টি আড়ত গড়ে ওঠে। আড়তগুলোর মধ্যে অন্যতম আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরে দু’টি, গৈলায় তিনটি এবং ঐচারমাঠে একটি।
আগৈলঝাড়া গৈলা এলাাকার কুচিয়া ব্যবসায়ি সুশীল মন্ডল, জয়দেব মন্ডল, অর্জুন মন্ডল, জহর মন্ডল, ভীম মন্ডল ও প্রদীপ বাড়ৈ জানান- তারা আগে মাছ এবং কচ্ছপের ব্যবসা করতেন। আবার অনেকে ছিলেন বেকার।
ব্যবসার জন্য ঢাকা আসা-যাওয়ার সূত্র ধরে যোগাযোগ হয় ঢাকার উত্তরার টঙ্গীর কামারপাড়া ও নলভোগ এলাকার অর্কিড ট্রেডিং কর্পোরেশন, আঞ্জুম ইন্টারন্যাশনাল ও গাজী এন্টারপ্রাইজসহ অন্যান্য কুচিয়া রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠানের সাথে। ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে তাদের মজুদ করা কুচিয়া বিদেশে রপ্তানী করে আসছিল তারা। রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কুচিয়া ব্যবসার সম্প্রসারণের জন্য স্থানীয় কুচিয়া ব্যবসায়ীদের দাদনে টাকা দিতেন।
ওই সকল প্রতিষ্ঠান থেকে আগৈলঝাড়ার ব্যবসায়ীরা পাঁচ থেকে দশ লাখ টাকা দাদনে (সুদে বা তাদের কাছে মাল বিক্রির শর্তে) গ্রহন করতেন। রপ্তানীকারকদের কাছে কুচিয়া বিক্রির মাধ্যমে দাদনের টাকা পরিশোধ করতেন ব্যবসায়িরা।
ওই দাদনের টাকা নিয়ে স্থানীয় কুচিয়া ব্যবসায়িরা এলাকার বেকার যুবকদের মাঝে দশ থেকে ত্রিশ হাজার করে টাকা দাদন দিতেন কুচিয়া শিকারের জন্য। আগৈলঝাড়ার স্থানীয় লোকজন ছাড়াও কুচিয়া শিকারের সাথে জড়িত হয়ে পরে ময়মনসিংহ এলাকার যুবকরা। জীবিকার প্রয়োজনে এরা কুচিয়া শিকার করে। এরা কুচিয়া শিকার করে স্থানীয় ব্যবসায়িদের কাছে বিক্রি করত। দিনমজুর ওই মানুষগুলো দৈনিক শ্রম বিক্রির চেয়ে কুচিয়া শিকার ও বিক্রির মাধ্যমে অধিক লাভবান হয়েছে। এভাবেই স্থানীয় ব্যবসায়িদের মাধ্যমে কুচিয়ার বাজারের ক্রমঃবিকাশ ঘটিয়ে অন্তত পাঁচ’শ লোক কুচিয়া শিকার, মজুদ ও ব্যবসার মাধ্যমে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।
শিকারীরা প্রথমতঃ গর্তের ভিতরে হাত বা লাঠি দিয়ে। দ্বিতীয়তঃ গর্তের মুখে বড়শি দিয়ে এবং তৃতীয়তঃ মাছ ধরা চাঁইয়ের মধ্যে খাবার দিয়ে কুচিয়া শিকার করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়িরা আরও জানান, বাজারে প্রতি কেজি কুচিয়া বিক্রি হয় আড়াই’শ থেকে তিন’শ টাকায়। সেই হিসেবে প্রতি মন কুচিয়ার মূল্য দাড়ায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। তবে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কুচিয়ার বাজার মূল্য ওঠানামা করে।
আগৈলঝাড়ার উল্লেখিত ছয়টি আড়ৎ থেকে প্রতি সপ্তাহে ৭ টন হিসেবে মাসে ২৮ টন কুুচিয়া ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। যার মূল্য দাঁড়ায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সে হিসেবে প্রতি মাসে আগৈলঝাড়া থেকে ৬টি আরতের মাধ্যমে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকার কুচিয়া বিক্রি হচ্ছে। যা বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে।
ঢাকার উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানগুলো কুচিয়া মাছগুলো বিদেশে রপ্তানী করে আসছে। বাংলাদেশ লাইট এন্ড জিলড ফুড এক্সপোর্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আঞ্জুম ইন্টারন্যাশনালের স্বত্ত্বাধিকারী মো. শিহাব উদ্দিন মোবাইল ফোনে জানান, তারা আগৈলঝাড়া থেকে প্রতি সপ্তাহে ৭-৮ টন কুুচিয়া আমদানি করেন। আর সারা দেশ থেকে সপ্তাহে আমদানি হয় প্রায় একশ’ টন। আমদানিকৃত কুচিয়ার ৯০ ভাগ রপ্তানী হয় চীনে। বাকি ১০ ভাগ রপ্তানী হয় সিঙ্গাপুর, কোরিয়া, তাইওয়ান এবং আমেরিকায়। তিনি আরও জানান, কুচিয়া মাছ রপ্তানী করে ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে তিন’শ কোটি টাকার উপরে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে। এ খাত থেকে সরকার ৪৫ কোটি টাকার উপরে রাজস্ব পেয়েছে। সম্ভাবনাময় এখাত থেকে রাজস্ব বৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রেখে বরিশালের দক্ষিণাঞ্চলে পাইলট প্রোগ্রাম হিসেবে কুঁচিয়া এবং কাঁকড়া চাষ এবং গবেষণা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, এলাকা জরীপের সময় দেখা গেছে, বেশ কিছু মানুষ কুচিয়া শিকার ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। তাছাড়া এটি লাভজনক এবং রপ্তানীযোগ্য হওয়ায় জেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে প্রকল্পটি বাস্তবানের জন্য আগৈলঝাড়া উপজেলার নাম সুপারিশ করেন। মাঠ পর্যায়ে কুুচিয়া চাষ প্রদর্শনীর জন্য আগৈলঝাড়ায় দু’টি স্থান নির্ধারণ করে ১০ জন করে দল গঠন করা হয়েছে। এরমধ্যে বাকাল গ্রামের চ্যাটার্জী বাড়ি, রাজিহার গ্রামে বিশ্বাস (ভাংরা) বাড়ি।
উপজেলার গৈলা গ্রামের সুশীল মন্ডল জানান, তিনি আগে মাছ এবং কচ্ছপের ব্যবসা করতেন। বর্তমানে কুচিয়ার ব্যবসা করে ভালো আছেন তিনি। জয়দেব মন্ডল জানান সরকার যদি এই খাতে তাদের সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করত তাহলে দাদন ব্যবসায়ীদের হাতে জিম্মি থাকতে হত না। তাহলে এ ব্যবসারও প্রসার লাভ করত এবং সরকার আরও বেশি রাজস্ব পেত।