সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা উপকূলীয় অঞ্চলের নারীরা সংসারে অভাব-অনাটন কাটাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে দিনের পর দিন আয়ের সন্ধানে কাটিয়ে দিচ্ছে। অথচ তাদের জীবনের যে স্বাস্থ্য ঝুঁকি সে চিন্তা সংসারের অভাবের দায়ে কেউ করেনা যখনই দুরবস্থা দেখা দেয় রোগ বেঁধে দেখা দেয় তখন এই চিন্তা আসে মনে এর আগে নয়। সামিরা অন্য পেশায় থাকলেও তাদের রোজগার করা টাকায় সংসার চালানোর দায় সে কারণে নারীরা সংসারে ঠাক দেওয়ার জন্য নদীতে পড়ে আছে সব সময় আয়ের সন্ধানে। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিদেশী স্বাস্থ্য সংস্থা রা এক জরিপে জানিয়েছে উপকূলের নারীরা লবণাক্ততার কারণে জরায়ুসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অতিমাত্রায় যাহা অন্যান্য জেলা তুলনায় উপকূলীয় অঞ্চলে ৮৫
শতাংশ বেশি। তারপরেও নারীরা পেটের দায়ে সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য লবণ পানিতে চিংড়ি পোনা
ধরে আয় করার জন্য রাত দিন নদীতে পড়ে আছে কিন্তু তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে একবারও তারা চিন্তা করে না। এরপরে রয়েছে মারাত্মক খাবার পানি সংকট বিশেষজ্ঞরা বলেছে উপকূলীয় অঞ্চলে খাবার পানির সাথে ৬৫ শতাংশ লবণ পানি সংযুক্ত রয়েছে সে কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ নানা মাত্রিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত হার্ট অ্যাটাক সহ বিভিন্ন রোগে ভুগছে নানা পেশার মানুষরা। এজন্য সরকারকে অতি দ্রুত প্রয়োজন উপকূলীয় অঞ্চলে খাবার পানির ব্যবস্থা করা তা না হলে এক সময় আসবে উপকূলে মানুষের বাঁচিয়ে রাখা বড় কঠিন। উপকূলে মানুষের বিভিন্ন সমস্যার কথা স্বল্প ধরনের কিছু নিম্নে উল্লেখ করা হয়েছে।বিশ্বের অন্যতম সুপেয় পানির আধার বাংলাদেশে এখন লবণাক্ততা বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততার সমস্যা দীর্ঘদিনের। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। ফলে ওই অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে। জমির উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে এবং অনেকের জীবিকা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দেশের উপকূলীয় অঞ্চল প্রায় ২০ শতাংশ জুড়ে রয়েছে। লবণাক্ততার কারণে দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় উপকূলের মানুষের মৃত্যুহারও বেশি, বিশেষ করে শিশু মৃত্যু এখানে বেশি হয়। লবণাক্ততার কারণে প্রতিবছর বিশ্বের ১৮ কোটি মানুষের প্রয়োজনের সমপরিমাণ খাদ্য উৎপাদন কম হয়। শুধু লবণাক্ততাই নয়, বিশ্বজুড়ে পানির নতুন বিপদ হিসেবে অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার সমস্যাকে সামনে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও আর্সেনিকের কারণে পানিদূষণের বিষয়টি উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, এসব সমস্যা বিশ্বের সুপেয় পানির উৎসগুলোকে বিষিয়ে তুলছে।
উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বন্ধে পাকিস্তান আমল থেকে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে বেড়িবাঁধ উল্লেখযোগ্য। কিন্তু সিডর ও আইলার ও বড় বড় প্রাকৃতিক দূর্যোগের পর অনেক স্থানেই সেই বাঁধ ভেঙে গেছে। এ ছাড়া চিংড়ি চাষের জন্য স্থানীয় প্রভাবশালীরা বাঁধ কেটে ঘের এলাকায় লবণপানি উত্তেলন করেন। এতে গুটিকয়েক ঘের ব্যবসায়ী লাভবান হলেও এলাকার বেশির ভাগ বাসিন্দার জীবন-জীবিকা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের জরিপ অনুযায়ী, বিশ্বের ৮০ শতাংশ সুপেয় পানি, ট্যাপের পানির ৮১ শতাংশ ও বোতলজাত পানির ৯৩ শতাংশ ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার দূষণের শিকার। বাংলাদেশেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বাংলাদেশের ১২ শতাংশ মানুষ এখনো আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করে। আর গড়ে উপকূলের ৩ শতাংশ শিশু লবণাক্ততার কারণে মারা যায়। এই হার খুলনা বিভাগে প্রায় ২০ শতাংশ। এসব এলাকার নারীরা প্রতিদিন গড়ে ২০ কিলোমিটার দূর থেকে মিষ্টিপানি সংগ্রহ করে। এতে তাদের নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা হয়।
মানুষের শরীরে নির্দিষ্ট পরিমাণ লবণের প্রয়োজন এবং সেটি আসে খাদ্য ও পানি থেকে। কিন্তু উপকূলীয় এলাকার পানিতে লবণের পরিমাণ অনেক গুণ বেশি। এই পানি শরীরে প্রবেশ করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জন্য তা হয়ে ওঠে আরও বেশি বিপজ্জনক। গর্ভাবস্থায় নারীরা বেশি লবণাক্ত পানি খেলে খিঁচুনি ও উচ্চ রক্তচাপ হয়। এ কারণে নারীদের গর্ভাবস্থায় সন্তান মারা যাওয়ার হারও বেশি, যা বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) এক গবেষণায় বলা হয়, লবণাক্ততার কারণে উপকূলের নারীরা শুধু অকালগর্ভপাতেরই শিকার হন না, ৩ শতাংশ শিশুও মারা যায়। এ ছাড়া বেশি লবণ খাওয়ার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের । যা হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। দেশ এবং নেট আবাদযোগ্য ক্ষেত্রের ত্রিশ শতাংশেরও বেশি উপকূলীয় অঞ্চলে। এটি উপকূল থেকে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রসারিত হয়। উপকূলীয় ও উপকূলীয় অঞ্চলের ২.৮৮ মিলিয়ন হেক্টর জমির মধ্যে প্রায় ০.৮৮ মিলিয়ন হেক্টর আবাদযোগ্য জমি। যা বাংলাদেশের মোট আবাদযোগ্য জমির ৩০ শতাংশের বেশি অংশ জুড়ে। উপকূলীয় অঞ্চলের একটি অংশ সুন্দরবন প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন যা প্রায় ৪,৫০০ কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের অবশিষ্ট অংশ কৃষিতে ব্যবহৃত হয়।
উপকূলীয় জেলাগুলিতে আবাদযোগ্য অঞ্চলগুলি বিভিন্ন ডিগ্রি মাটির লবণাক্ততায় প্রভাবিত হয়। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল, বঙ্গোপসাগরসহ দক্ষিণে জোয়ার, মোহনা এবং নদী প্লাবন সমভূমি অর্ন্তভুুক্ত রয়েছে। এই অঞ্চলগুলিতে কৃষিজমি ব্যবহারের অবস্থা শোচনীয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি উপকূলের মানুষ কম লবণাক্ত পানি (যেমন বৃষ্টির পানি) পান করে, তাহলে তাদের রক্তচাপ কমিয়ে আনা সম্ভব। এই স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষকে সুরক্ষা দিতে হলে সুপেয় ও মিষ্টি পানির ব্যবস্থা করতে হবে। বড় বড় পুকুর খনন করে এবং বৃষ্টির পানি ধরে রেখে সেটি করা যায়। কিন্তু দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ এতটাই দরিদ্র যে তাদের পক্ষে পুকুর খনন বা বৃষ্টির পানি দীর্ঘদিন ধরে রাখা সম্ভব নয়। এজন্য পর্যাপ্ত জলাধারের ব্যবস্থা করতে হবে।
কিছু অঞ্চল এবং লবণাক্ত পানির আরও অনুপ্রবেশের কারণ হিসাবে লবণ প্রভাবিত অঞ্চলের সম্প্রসারণ, সাধারণ ফসলের উৎপাদন আরও সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। অতীতে দেশের লবনাক্ততা সমস্যা খুব কম মনোযোগ পেয়েছিল। কিন্তু ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বর্ধিত চাপ আরও খাদ্যের চাহিদা দাবি করে। সুতরাং ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এই (স্যালাইন) জমির উর্বরতা বাড়ানোর সম্ভাবনাগুলি খুঁজে বের করা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই লবণাক্ততায় ক্ষতিগ্রস্থ ভূমি অঞ্চলগুলির বর্তমান রাষ্ট্রের মূল্যায়ন প্রয়োজন। অতএব, সরকারি উদ্যোগেই পুকুর খনন ও বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি যে ব্যবস্থাগুলো নিতে হবে
প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ: উপযুক্ত আকারের বাঁধ স্থাপনের মাধ্যমে লবণাক্ত জলের স্রোতে জমি রক্ষা করা যেতে পারে। প্রস্তাবিত আকার উচ্চ জোয়ার স্তর থেকে এক মিটার উঁচু হওয়া উচিত।
বেড়িবাঁধে গেটের বিধান: অতিরিক্ত জল অপসারণ এবং উচ্চ জোয়ারের সময় লবণাক্ত পানিতে প্রবেশ রোধ করার জন্য বাঁধ ব্যবস্থায় ¯¬ুইস গেটের ব্যবস্থা করা দরকার।
ভূমির সমতলকরণ: মাইক্রো-রিলিফের সামান্য পরিবর্তনের ফলে উত্থিত দাগগুলিতে লবণের পরিমাণ বেড়ে যায়। অগভীর ভূগর্ভস্থ জলের টেবিলগুলি সহ নিম্ন-পাত্রে জলাবদ্ধতা জমে যাওয়া রোধ করতে এবং অতিরিক্ত পানির অভিন্ন নিকাশনের সুবিধার্থে জমিটি সঠিকভাবে সমতল করা উচিত।
সেচের জন্য অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ: খরিফ মৌসুমের প্রয়োজনীয়তা পূরণের পরে পুকুরে জমা হওয়া অতিরিক্ত পানির একটি অংশ শুকনো সময়কালে রবি ফসলের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
ধানের জাত নির্বাচন: উপকূলীয় অঞ্চল তুলনামূলক সমতল হলেও অঞ্চলগুলিতে উচ্চতা পার্থক্য রয়েছে, যেখানে স্থায়ী পানির গভীরতা ১৫৯৯ সেন্টিমিটার থেকে বিস্তৃত রয়েছে। ধানের জাতের নির্বাচন (বিআরআরআই ধান ২৩, ৩০, ৪০ ও ৪১), স্থায়ী জলের ভিত্তিতে এবং ক্ষেতে লবণাক্ততার পরিমাণের ভিত্তিতে দেশে পাওয়া যায় যা পরিস্থিতি অনেকাংশে কাটিয়ে উঠতে পারে।
শীতকালীন মৌসুমে ফসলের ভূমিকা: লবন সহনশীল ফসলের প্রবর্তনের সাথে সাথে যথাযথ মাটি এবং পানি ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি গ্রহণ করে প্রায় ০.৫৯৬ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে শস্যের ঘনত্ব বাড়ানো যেতে পারে।
শীত এবং গ্রীষ্মের মাসগুলিতে জমিটি আবৃত রাখা: ভূগর্ভস্থ পানি লবণাক্ত এবং অগভীর গভীরতায় (প্রায় ১.০ মিটার) উপস্থিত থাকে। অতিরিক্ত জমির আর্দ্রতা বাষ্পীভূত হওয়ার কারণে জমিগুলি পতিত হলে জমিতে লবণাক্ততা বাড়ে। তাই রবি মৌসুমে জমির পতন এড়াতে বাঞ্ছনীয়, লবণ সহনশীল ফসলগুলি বেছে নেওয়া এবং জন্মানো উচিত। এটি লবণাক্ততা কমিয়ে দেবে।
ফসলের নিষিদ্ধকরণ: যেহেতু সাধারণ জমিগুলি কম জৈব পদার্থের পরিমাণ সহ উর্বরতাশালী তাই ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য উপযুক্ত সার প্রয়োগ করা প্রয়োজন। পটাস সার মাটির লবণাক্ততার অধীনে একটি অতিরিক্ত সুবিধা রয়েছে।
উপ-পৃষ্ঠতল নিকাশির বিধান: উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক জায়গায় লবণাক্ততা খুব বেশি। সেই অঞ্চলগুলিতে সাফল্যের সাথে শস্য জন্মানোর জন্য, লবণের ফাঁস দিয়ে লবণাক্ততা নামিয়ে আনা দরকার। পানির টেবিলটি নীচে নামানো এবং বর্ধিত ফসলের ওপর লবণের প্রভাব রোধ করার জন্য এটির গভীরতা বজায় রাখাও প্রয়োজনীয়। লক্ষ্য অর্জনের জন্য, মাটির উপরিভাগের কমপক্ষে এক মিটার নিচে স্থলীয় পানি রাখতে একটি উপযুক্ত উপ-পৃষ্ঠতল নিকাশি স্থাপন করতে হবে। এই প্রযুক্তি কার্যকর তবে কিছুটা ব্যয়বহুল।
মাটির লবণাক্ততা বিশ্বব্যাপী সমস্যা। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশে, লবণাক্তকরণ শস্য উতপাদন ব্যাহতকারী অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক বিপদ। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল এ প্রায় ৫৩ শতাংশ লবণাক্ততার বিভিন্ন ডিগ্রী দ্বারা আক্রান্ত হয়। এই অঞ্চলগুলিতে কৃষিজমির অবস্থা খুব খারাপ। দেশে খাদ্য সুরক্ষা সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ। এ সমস্যা অতীতে খুব কম মনোযোগ পেয়েছিল। তবুও, এর লক্ষণগুলি স্যালাইনাইজেশনের সাথে এ জাতীয় ভূমির অবক্ষয় সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উপেক্ষা করার মতো হয়ে উঠছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বর্ধিত চাপ আরও খাদ্যের চাহিদা করে। সুতরাং দীর্ঘমেয়াদি ভূমি ব্যবস্থাপনার কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে দেশে খাদ্য সুরক্ষার জন্য ভূমি লবণাক্তকরণ সমস্যার মোকাবিলা করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
কপোতাক্ষ নদের তীরে ছোট্ট কুঁড়েঘর। ঘরটিই আমিরন বিবির রাজপ্রাসাদ। দুঃখ আর দুর্যোগকে সঙ্গী করেই বসবাস করছেন এখানে। এ ঘরে থেকেই সিডর, ফনি, বুলবুলসহ একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করেছেন ৫০ বছর বয়সী আমিরন বিবি।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন উপকূলীয় পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাতাখালি বাজার সংলগ্ন কপোতাক্ষ নদের তীরে এভাবেই একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বসবাস করছেন আমিরন বিবি। ২০ বছর আগে স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যায়। তখন থেকেই একা যুদ্ধ করছেন তিনি।
আমিরন বিবি বলেন, ‘২০০৯ সালে আইলার পর থেকে এখানেই বসবাস করছি। একটা মেয়ে, নাম ববিতা। তাকে নিয়েই আমার বসবাস। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কয়েকবার ঘরটি ভেঙেছে। আবারও মেরামত করে নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘নদীতে জাল টেনে বাগদার পোনা ধরে বাজারে বিক্রি করি। রোজগারের সেই টাকা দিয়েই চলে সংসার। সারাদিন নদীতে জাল টেনে যে পোনা পাই, তা ২০০-৩০০ টাকা বিক্রি করতে পারি। কোনো দিন আবার তা-ও হয় না। একশ’ বাগদার পোনা বিক্রি হয় ৪০ টাকা।’
সরকারি সাহায্য পেয়েছেন কি-না? এমন প্রশ্নে কেঁদে ফেলেন আমিরন। তিনি বলেন, ‘নদীর তীরে এতগুলো বছর আছি, আজ পর্যন্ত কেউ এক টাকাও সাহায্য করেনি। ইউনিয়ন পরিষদের ১০ টাকা কেজি চালের কার্ডও পাইনি। সরকার ঘর দেয়, তা-ও জোটেনি। নদীর কূল-কিনারা আছে, আমার নাই।’
পদ্মপুকুর ইউনিয়নে নদের কূলে বসবাস করা ৫০টি পরিবারের মানুষের জীবন-জীবিকার গল্পও আমিরন বিবির মতোই। ইউনিয়নের পাতাখালি এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন দাউদ ঢালীর স্ত্রী মনজিলা খাতুন। চার ছেলেকে নিয়ে একটি এনজিওর দেওয়া ঘরে তাদের বসবাস।
মনজিলা খাতুন বলেন, ‘আমাদের কষ্ট দেখার মানুষ নাই। নদীতে জাল টেনে উপার্জন করি। বাগদার পোনা ধরে ঘের মালিকের কাছে বিক্রি করি। এটাই জীবিকার প্রধান উৎস। স্বামী বৃদ্ধ হয়ে অচল হয়ে পড়েছেন। নদী থেকে বাগদার পোনা ধরে ৩০০-৪০০ টাকা রোজগার হয়। তাতেই চলে সংসার।’
পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘উপকূলীয় অঞ্চলে ৫০ পরিবারে শতাধিক মানুষ বাস করে। তারা নদীতে জাল টেনে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। অসহায় নারীদের ভিজিডি, ভিজিএফ কার্ড ও চাল দেওয়া হয়। এছাড়া দুর্যোগের সময়ে সাহায্য দেওয়া হয়। এর বাইরে কোনো সহযোগিতা দেওয় হয়।
যাদের ঘর নেই, তাদের ঘর দেওয়ার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকার না দিলে আমি কিভাবে দেবো? এখনো এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’
শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের উপকূলে বাস করে ৪০ পরিবার। তাদের চিত্রও একই রকম। এখানকার নারীরা নদীতে জাল টেনে মাছ ধরে, পুরুষরা ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করে। দুর্যোগ উপেক্ষা করে নদীর তীরে ছোট্ট কুঁড়েঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করে।
গাবুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জি এম মাসুদুল আলম বলেন, ‘কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়ার তীরে ৪০ পরিবার বসবাস করে। অসহায় মানুষগুলোর দুর্দশার শেষ নেই। তাদের ঘর দেওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা পরিষদে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো কোনো ঘর বরাদ
দেশে দেশে জলবায়ুগত সমস্যার প্রভাব পড়েছে ভিন্নভাবে। জলবায়ুগত সমস্যা বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার নারীদের বহুমুখী বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারীর স্বাস্থের ওপর প্রভাব পড়েছে বেশি। সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাটের সুন্দরবনসংলগ্ন অঞ্চলের লাখ লাখ নারী নদীতে নেট জাল টেনে জীবন নির্বাহ করেন। লবণাক্ত পানিতে দীর্ঘক্ষণ থাকার ফলে তাদের শারীরিক ক্ষতি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে লবণাক্ত পানিতে নেট জাল টানার ফলে নারীর প্রজনন স্বাস্থের ক্ষতি হচ্ছে ।
মূলত লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণ, নারীর প্রতি সম্মান ও সমান অধিকারের বার্তা ছড়িয়ে দিতে বিশ্বজুড়ে দিবসটির সূচনা। নারীর জীবন সংগ্রাম ও অধিকার আদায়ের গল্পগুলো একেক দেশে একেক রকম। মানবসৃষ্ট বৈষম্য ও সমস্যার বিরুদ্ধে নারীর সংগ্রাম ও অধিকার আদায়ের ইতিহাস সাম্প্রতিক কালের।
তবে প্রকৃতিসৃষ্ট দুর্যোগ নারীর জীবনকে তছনছ করে দিলেও সেটি খুব কম উচ্চারিত হয়। যদিও জলবায়ুসৃষ্ট দুর্যোগ মানুষের কর্মকাণ্ডেরই ফসল। পৃথিবীর দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোতে জলবায়ু সমস্যার প্রভাব পড়েছে সবচেয়ে বেশি। বর্তমান সময়ে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন।
দেশে দেশে জলবায়ুগত সমস্যার প্রভাব পড়েছে ভিন্নভাবে। জলবায়ুগত সমস্যা বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার নারীদের বহুমুখী বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারীর স্বাস্থের ওপর প্রভাব পড়েছে বেশি। সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাটের সুন্দরবনসংলগ্ন অঞ্চলের লাখ লাখ নারী নদীতে নেট জাল টেনে জীবন নির্বাহ করেন। লবণাক্ত পানিতে দীর্ঘক্ষণ থাকার ফলে তাদের শারীরিক ক্ষতি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে লবণাক্ত পানিতে নেট জাল টানার ফলে নারীর প্রজনন স্বাস্থের ক্ষতি হচ্ছে।
উপকূল জুড়ে লবণাক্ততার ভয়াবহ প্রভাবের কথা এখন লুকিয়ে রাখার মতো বিষয় নয়। জলবায়ু সমস্যায় ফসল কম হচ্ছে। লবণপানির চিংড়ি চাষ ও জোয়ারে লোনাপানির প্রবেশের ফলে উপকূল জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে লবণাক্ততার ভয়াবহ প্রভাব। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নারীদের ঘণ্টার পর ঘন্টা কষ্ট করে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অল্প বয়সে বুড়িয়ে যাচ্ছে নারীরা। লবণপানি পান করার কারণে নারীর গর্ভপাত, ত্বকের ক্ষতিসহ নানা জটিলতায় ভুগতে হচ্ছে।
উপকূলের সার্বিক ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে। খাদ্য সংগ্রহ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাল্যবিবাহ ও সামগ্রিক জীবনে নারীর কষ্টের কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি)- এর তথ্য মতে, পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ২০৫০ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ১ ফুট বৃদ্ধি পাবে। ফলে বাংলাদেশসহ দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর উপকূলের বড় একটা অংশ পানিতে তলিয়ে যাবে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থাৎ তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেতে পারে ১০ থেকে ৩০ ইঞ্চি। জলবায়ু সমস্যা নারীর মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। জাতিসংঘ জনসংখ্যা কর্মসূচি (ইউএনএফপিএ) প্রতিবেদন বলছে, ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দের ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলে ১ লাখ ৪০ হাজার নিহতের মধ্যে ৭৭ শতাংশ ছিলো নারী।
আর ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দের আইলায় আহত ও নিহত মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ নারীই ছিলো ৭৩ শতাংশ। সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)-এর উপকূলের পশুর নদী অববাহিকায় করা গবেষণা বলছে, পশুর নদী অববাহিকায় মানুষদের পানি ও অন্যান্য খাবার থেকে দৈনিক ১৬ গ্রাম অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করতে হচ্ছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মাত্রা থেকে বেশি। জলবায়ুগত সমস্যায় উপকূলে কর্মসংস্থানের ব্যাপক অভাব দেখা দেয়ায় পুরুষ মানুষকে দূর দূরান্ত গিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। ফলে ঘরের সমস্যা সামলাতে হচ্ছে নারীকেই। উপকূলে পানির জন্য হাহাকার চলছে। জ্বালানি কাঠ ও পানি সংগ্রহ করতে নারীকে অনেক বেশি কষ্ট করতে হচ্ছে। বনের মধ্য দিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অনেক পরিবার পানি সংগ্রহ করতে না পেরে অর্থ খরচ করে পানি কিনে খাচ্ছেন। লবণাক্ত পানি গ্রহণের ফলে অপরিণত শিশুর জন্ম, উচ্চ রক্তচাপ, গর্ভকালীন খিঁচুনি, নারীদের জরায়ুসংক্রান্ত ত্রুটি, পানিবাহিত রোগ ও চর্মরোগের সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। কিশোরীদের বাল্যবিবাহ ও স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার ত্বরান্বিত করছে জলবায়ু পরিবর্তন।
জলবায়ু সমস্যার শিকার হয়ে নারীরা উদ্বাস্তু হয়ে শহরে ভিড় জমাচ্ছে। কিশোরীদের শিক্ষাজীবন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। উপকূলে শিক্ষার সুযোগ ও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নারী ও কন্যারা। জলবায়ুগত সমস্যা আগামী দিনগুলোতে আরও বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখনই উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারলে উপকূলের নারী ও কিশোরীদের জীবন আরো বেশি মাত্রায় নাজুক অবস্থায় উপনীত হবে। উপকূলের নারীদের রক্ষায় বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় নারীদের যত বেশি সম্পৃক্ত করা যাবে অভিযোজনের মাধ্যমে নারীরা তত বেশি নিজেদের রক্ষায় সক্ষম হবে। উপকূলের নারীদের অধিকার ব্যতিরেকে সমগ্র নারীর উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীরা তাদের জলবায়ু ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য সোচ্চার হচ্ছে। দিনকে দিন তাদের দাবি জোরালো হচ্ছে। যারা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী নয়, তারা কেনো জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হবে? উপকূলের নারীদের ক্ষয়ে যাওয়া জীবন দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উপকূলের নারীদের পানির কষ্ট দূর করতে হবে। নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায্যতা ও অধিকার নিশ্চিতপূর্বক উপকূলের নারীদের এখন অনেক বেশি দরকার মানবিক সহায়তা। নারীর ক্ষমতায়ন, অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব ব্যতীত দেশে নারীর অধিকার বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রনি খাতুন এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘তাদের জীবনমান পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হচ্ছে। তাদের আমরা ঘর দিতে পারি না। সরকারি ঘর পাওয়ার প্রথম শর্ত নিজস্ব জমি থাকতে হবে। তবে ভূমিহীন তালিকা প্রস্তুত করে বছরে ৪৮ ভূমিহীন পরিবারকে এক একর করে জমি দেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘শুধু ঘর দেওয়া ছাড়া সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা উপকূলীয় তারা পেয়ে থাকেন। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এসব বাসিন্দাদের দেওয়া হয়। কেউ বাদ পড়লে আমাকে জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ পূর্ব কালিনগর এলাকার সাবিনা খাতুন উপকূলীয় পেশাগত সংকটের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তার স্বামী আব্দুস সালাম সুন্দরবন-নির্ভরশীল একজন জেলে। বনের পাস-পারমিট বা প্রবেশাধিকার যখন বন্ধ থাকে, তখন সরকারি নিষেধাজ্ঞার মুখে সালাম কর্মহীন হয়ে বাড়িতে বসে থাকতে বাধ্য হন। কিন্তু পরিবারের দৈনন্দিন ক্ষুধা কিংবা এনজিও ও মহাজনের ঋণের কিস্তি তো আর নিষেধাজ্ঞা বোঝে না।
সাবিনা খাতুন বলেন, “বন বন্ধ থাকলে স্বামী কাজ পায় না। কিন্তু সংসারের খরচ আর ঋণের কিস্তি ঠিকই চালানো লাগে। তাই বাধ্য হয়ে আমাকেই রোদে পুড়ে, জলে ভিজে পরের চিংড়ি ঘেরে ‘জোন’ (মজুরি) দিতে হয়। আগে মিষ্টি পানিতে ধান হতো, এখন লোনা পানির কারণে আবাদি জমি শেষ। বিকল্প কাজ বলতে শুধু ঘেরের শারীরিক শ্রমই বাকি আছে।”
সুন্দরবনের জোয়ার-ভাটায় নির্ধারিত হয় সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলার হাজার হাজার মানুষের ভাগ্য। সুন্দরবনের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বছরে দু’দফায় (জুন থেকে আগস্ট তিন মাস পর্যটনসহ সব বনজ সম্পদ এবং জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি দুই মাস কাঁকড়া আহরণ) প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখে বন বিভাগ। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিনের মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা থাকে।
তবে বনজীবীদের অভিযোগ, সরকারি বিধিনিষেধের কারণে বন বা সাগরে যাওয়া বন্ধ হলে উপকূল জুড়ে নেমে আসে এক ধরনের নীরব অর্থনৈতিক বিপর্যয়। এই সংকটকালে স্থানীয় বাজারে বিকল্প কাজ বা নির্দিষ্ট দক্ষতার অভাবে অধিকাংশ পুরুষ যখন পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়েন, তখন পরিবার টিকে রাখার মূল দায়িত্ব এসে পড়ে নারীদের কাঁধে।
মুন্সীগঞ্জ এলাকার বনজীবী নেপাল সানা তাঁর কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকে শুধু সুন্দরবনে মাছ-কাঁকড়া ধরি। অন্য কোনো কাজের দক্ষতা আমাদের নেই। ঘেরে যে ধরনের কাজের সুযোগ তৈরি হয়, তার সংখ্যা সীমিত এবং মজুরিও অত্যন্ত কম। ফলে পরিবারের পুরুষরা রিকশা চালানো বা ইটভাটায় না গেলে কাজ পায় না। বাধ্য হয়ে পরিবারের নারীদের দিনমজুরি দিতে পাঠাতে হয়।
উপকূলীয় এই সংকটকালে নারীদের কাজের সুযোগ তৈরি হলেও তা জন্ম দিচ্ছে কঠোর শ্রম শোষণের। শেফালী বিবি, রহিমা বুলি দাসীসহ একাধিক স্থানীয় নারী শ্রমিক জানান, যে কাজের জন্য একজন পুরুষ দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা মজুরি পান, সেখানে একই শারীরিক পরিশ্রমের কাজে নারীদের দেওয়া হয় মাত্র ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। মজুরি কম হওয়ায় স্থানীয় ঘের মালিকরাও পুরুষ শ্রমিকের বদলে নারী শ্রমিক নিতে বেশি আগ্রহী হন।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরায় বর্তমানে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪৯ হাজার জন। এর মধ্যে ১২ হাজার ৮৮৯ জন গভীর সমুদ্রে যান, যাদের মধ্যে শ্যামনগর উপজেলায় নিবন্ধিত জেলে সবচেয়ে বেশি ৭ হাজার ৩৫৫ জন। সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ থাকাকালীন ৫৮ দিনের জন্য ১২ হাজার ৮৭৯ জন নিবন্ধিত জেলেকে প্রতি মাসে ভিজিএফ চাল হিসেবে মোট ৭৭.৩৩ কেজি করে দেওয়া হয়।উপকূলীয় এই সংকটকালে নারীদের কাজের সুযোগ তৈরি হলেও তা জন্ম দিচ্ছে কঠোর শ্রম শোষণের। শেফালী বিবি, রহিমা বুলি দাসীসহ একাধিক স্থানীয় নারী শ্রমিক জানান, যে কাজের জন্য একজন পুরুষ দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা মজুরি পান, সেখানে একই শারীরিক পরিশ্রমের কাজে নারীদের দেওয়া হয় মাত্র ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। মজুরি কম হওয়ায় স্থানীয় ঘের মালিকরাও পুরুষ শ্রমিকের বদলে নারী শ্রমিক নিতে বেশি আগ্রহী হন।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরায় বর্তমানে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪৯ হাজার জন। এর মধ্যে ১২ হাজার ৮৮৯ জন গভীর সমুদ্রে যান, যাদের মধ্যে শ্যামনগর উপজেলায় নিবন্ধিত জেলে সবচেয়ে বেশি ৭ হাজার ৩৫৫ জন। সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ থাকাকালীন ৫৮ দিনের জন্য ১২ হাজার ৮৭৯ জন নিবন্ধিত জেলেকে প্রতি মাসে ভিজিএফ চাল হিসেবে মোট ৭৭.৩৩ কেজি করে দেওয়া হয়।
তবে স্থানীয় জেলে ও ট্রলার মালিক সমিতির মতে, জেলায় প্রকৃত জেলের সংখ্যা দেড় লক্ষাধিক। ফলে প্রায় এক লাখের বেশি অনিবন্ধিত জেলে সরকারের ভিজিএফ সহায়তার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কথা জানান দাতিনাখালী গ্রামের জেলে শাহজাহান সরদার।
সাতক্ষীরা জলবায়ু পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লোনা পানির আগ্রাসনে উপকূলীয় অঞ্চলের আবাদি জমি ও কাজের সুযোগ মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়েছে। পুরুষরা কাজের খোঁজে পরিযায়ী হয়ে ‘জলবায়ু উদ্বাস্তুর’ মতো জীবন কাটাচ্ছেন, আর তাদের অনুপস্থিতি ও বেকারত্বের সময়ে পুরো সংসারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঢাল হয়ে দাঁড়াচ্ছেন এই উপকূলের নারীরাই।