কাঞ্চনপুরে এসআরবির রাতভর অভিযান • জবাই করা ৩ ঘোড়ার মাংস উদ্ধার, মাটিতে পুঁতে বিনষ্ট • আরও একটি ঘোড়া জবাইয়ের প্রস্তুতি ছিল বলে দাবি
জি. এম. ফিরোজ, ডুমুরিয়া: খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কাঞ্চনপুরে নির্জন খামারে গোপনে ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস গরুর মাংস বলে বিক্রির অভিযোগে আনিচুর রহমান পলাশ (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (২৪ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন। একই সঙ্গে উদ্ধার করা মাংস মাটিতে পুঁতে বিনষ্ট করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আনিচুর রহমান পলাশ ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর এলাকার মৃত লুৎফর দফাদারের ছেলে। শনিবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহেল রানা। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্পেশাল রেসপন্স বাহিনীর (এসআরবি) ৬ নম্বর কোম্পানির কমান্ডার জায়েনুদ্দীন মোহাম্মদ জাহিদ।
নির্জন খামারে রাতের আঁধারে জবাইয়ের অভিযোগ
এসআরবি ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, অধিক মুনাফার উদ্দেশ্যে পলাশ বিভিন্ন এলাকা থেকে অসুস্থ ঘোড়া কম দামে কিনে আনতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে কাঞ্চনপুর গ্রামের নির্জন এলাকায় টিনশেডের ঘেরা স্থানে ‘সাউথ বেঙ্গল ক্যাটল’ নামের একটি কথিত খামারে সেগুলো রাখা হতো বলে সূত্রগুলোর দাবি।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন মোকামের পাইকারদের চাহিদা অনুযায়ী গভীর রাতে শ্রমিক দিয়ে ঘোড়া জবাই করে মাংস প্রস্তুত করা হতো। পরে পলিথিনে প্যাকেটজাত করে ঢাকা, খুলনা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে গরুর মাংস বলে বিক্রি করা হতো বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে মাংস কোথায় কোথায় সরবরাহ করা হয়েছে এবং কত দিন ধরে এ কার্যক্রম চলছিল, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
রাত ১টায় অভিযান, পালিয়ে যায় শ্রমিকেরা
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে এসআরবি-৬-এর একটি অভিযানিক দল কাঞ্চনপুরের ওই এলাকায় অভিযান চালায়। সূত্রের দাবি, দলটি সেখানে পৌঁছে কৌশলে ভেতরে প্রবেশ করে তিনটি জবাই করা ঘোড়ার মাংস প্রস্তুত ও প্যাকেটজাত অবস্থায় দেখতে পায়। এ ছাড়া আরও একটি ঘোড়া জবাইয়ের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে থাকা তিন থেকে চারজন শ্রমিক পালিয়ে যায় বলে সূত্রের দাবি। তবে পলাশকে আটক করা হয়। পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আনা হলে শনিবার ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রাণিসম্পদ সংরক্ষণ আইনে তাঁকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মাংস মাটিতে পুঁতে বিনষ্ট
অভিযানে উদ্ধার করা ঘোড়ার মাংস মাটিতে পুঁতে বিনষ্ট করা হয়। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কথিত খামারটির কার্যক্রম, মাংসের প্রকৃত সরবরাহব্যবস্থা এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
ঘটনায় মাংসের উৎস ও সরবরাহের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত হলে অভিযোগের পূর্ণ চিত্র সামনে আসতে পারে। একই সঙ্গে যেসব স্থানে মাংস সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে, সেসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সচেতন মহল।