কেএমপিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ উদযাপন

প্রকাশঃ ২০২৪-০৩-১০ - ১৪:৩১

“নারী সমঅধিকার, সমসুযোগ-এগিয়ে নিতে হোক বিনিয়োগ” এই প্রতিপাদ্য কে সামনে রেখে আজ ৮ই মার্চ ২০২৪ খ্রিঃ শুক্রবার সারা বাংলাদেশ সহ বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৪ পালিত হচ্ছে।

খুলনাঃ আজ ০৮ মার্চ ২০২৪ খ্রিঃ, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ শুক্রবার সকাল ০৮.৩০ ঘটিকায় বসন্তের রৌদ্র উজ্জ্বল স্নিগ্ধ সকালে বয়রাস্থ পুলিশ লাইন্স ডাইনিং লাউঞ্জ-০১ এ খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক ব্যাপক আয়োজনের মধ্যদিয়ে “আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৪’’ উদযাপিত হয়। এ উপলক্ষ্যে সকাল ০৮:৩০ ঘটিকায় নগরীর বয়রা বাজার মোড় হতে এক বর্ণাঢ্য Rally শুরু হয়ে সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেএমপি’র বয়রাস্থ পুলিশ লাইন্সে এসে শেষ হয়। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে বেলুন ও ফেস্টুন উড্ডয়ন ও কেক কাটা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জনাব মোঃ মোজাম্মেল হক, বিপিএম (বার), পিপিএম-সেবা মহোদয় অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

 

অতঃপর আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে নারী অফিসার ও পুলিশ সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদানের মধ্য দিয়ে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভার কার্যক্রম শুরু হয়। উক্ত আলোচনা সভায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জনাব মোঃ মোজাম্মেল হক, বিপিএম (বার), পিপিএম-সেবা মহোদয় উপস্থিত সকলকে সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বক্তব্যে বলেন,“রাষ্ট্রের যে সামগ্রিক উন্নয়ন, সে উন্নয়নের কোন কিছুই নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া সম্ভব হয় না। প্রকৃতপক্ষে এই পৃথিবীতে সভ্যতার ক্রম-বিকাশের শুরুর দিকে কিন্তু মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা ছিল। এই মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা পরবর্তীকালে সভ্যতার ক্রম বিকাশে নারীরা পিছিয়ে যায়। কিন্তু একটা জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে বা একটি পরিবারকে সুখী হতে হলে এবং সমাজ ব্যবস্থাকে পরিপূর্ণ শান্তির বাতায়নে আনতে হলে নারী-পুরুষের যে যৌথ অংশীদারিত্ব এটি নিশ্চিত করতে হবে। নারী জাগরণে অগ্রদূত বেগম রোকেয়া নারীদের শিক্ষার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তার সমগ্র জীবনে নারীদের ঘর থেকে বের করে এনে মূল্যায়নের স্রোত ধারায় শামিল করার জন্য চেষ্টা করেছেন।

 

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যিনি এই দেশটিকে নেতৃত্ব দিয়ে সার্বভৌম বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। এই স্বাধীন বাংলাদেশ গঠন করার পরে সংবিধানে নারী এবং পুরুষের সম অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন। নারীদের কল্যাণ করতে পিছিয়ে থাকা নারীদের সমঅধিকার দেওয়ার সাথে সাথে চাকরিসহ বিভিন্ন সেক্টরে বিভিন্ন কোটার মাধ্যমে এটা নিশ্চিত করেন। আমরা জানি, ১৯৭৪ সালে জাতির জনকের সময় পুলিশ বাহিনীতে ১৪ জন নারী যোগদান করেন এবং ১৯৮৬ সালে ০৪ জন বিসিএস নারী অফিসার পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করে। পরবর্তীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে নারীদের পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে পুলিশ বাহিনীতে এডিশনাল আইজিপি, ডিআইজি, এ্যাডিশনাল ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার সহ সকল পদমর্যাদা নিয়ে প্রায় ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য কর্মরত রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র পুলিশেই নারীদের পদায়ন করেন নাই তিনি অন্যান্য চাকুরিতে নারীদের মূল্যায়ন করেছেন। যেমন- নৌ-বাহিনী, সেনাবাহিনী মত জায়গায় শুধু অফিসার না নাবিক হিসেবেও কর্মরত রয়েছে। তিনি সর্বস্তরের নারীর যে ক্ষমতায়ন, নারীর যে মূল্যায়ন এটা নিশ্চিত করতে গিয়ে সরাসরি জাতীয় নির্বাচনে ২৩ জন নারী এমপিকে সরাসরি নির্বাচিত করে সংসদে নিয়ে গেছেন। মহান সংসদে আরো ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পরে বৃদ্দি করেছেন। পাশাপাশি তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নারীদের নিয়োগ দিয়েছেন। এভাবে গুরুত্বপূর্ণ সকল জায়গায় নারীদের মূল্যায়ন করেছেন এবং এমন কোন ক্ষেত্র নাই যেখানে নারীদের তিনি সুযোগ দেননি। তারা কিন্তু চাকরির পাশাপাশি স্ত্রী হিসেবে, মা হিসেবে ও বোন হিসেবে দায়িত্ব পালন সহ সংসারের কাজ করে যাচ্ছে।

 

তোমাদেরই কাজ করতে হবে এবং কাজের মাধ্যমে দক্ষতার প্রমাণ করতে হবে যে তোমরা পারো। তোমরা নারী হিসেবে নয়, একজন যোগ্য পুলিশ সদস্য হিসেবে যে সকল নারী ভিকটিম পুলিশে সেবা নেয়ার জন্য আসে। তাদের কথা যেভাবে বুঝতে পারবে বা তোমাদের সাথে সে যেভাবে আলোচনা করতে পারবে সেটি মানুষের সাথে বলতে পারবে না। সেজন্য আমি চাই তোমরা তাদের সমস্যাটি নিজেদের মধ্যে ধারণ করো শ্রবণ করো এবং সমাধানের চেষ্টা করো। পাশাপাশি অস্ত্র, মাদক, জঙ্গি ও নাশকতাকারী সকলকে আইনের আওতায় আনার জন্য তোমরা ভূমিকা পালন করে প্রমাণ করবা যে আমরা নারী আমরাও পারি। আমরা ডিসিপ্লিন নিয়ে কোন কম্প্রোমাইজ করবো না। আমরা কঠোরভাবে ডিসিপ্লিন মেনে চলবো এবং আমরা এমন কিছু করবো না যাতে নারীরা তোমাদেরকে দেখে এই চাকরিতে আসতে অনিচ্ছা ও অনীহা প্রকাশ করে। আমি আশা করব তোমরা তোমাদের মেধা, যোগ্যতা ও বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে কেএমপিকে জঙ্গিমুক্ত, মাদকমুক্ত, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং মুক্ত যুগোপযোগী সেবা প্রতিষ্ঠানে গড়ে তুলবে। আমি আবারো বিশ্ব নারী দিবসে নারী সদস্যদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

 

এছাড়াও, আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। সম্মানিত বক্তারা সর্বক্ষেত্রে নারীদের পদায়ন সহ তাদের মেধা, যোগ্যতা ও বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে মাদক, সন্ত্রাস, নাশকতা, জুয়া, কিশোর গ্যাং, বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি মুক্ত এবং উন্নত, সুখী-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যাশা জানিয়ে সকল নারী পুলিশ সদস্য কে সম্মিলিত ভাবে কাজ করার আহবান জানান।

 

উক্ত অনুষ্ঠানে কেএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক এন্ড প্রটোকল) জনাব মোছাঃ তাসলিমা খাতুন; ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (সদর) অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত জনাব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন; ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস অ্যান্ড সাপ্লাই) অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত জনাব এম.এম শাকিলুজ্জামান; ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (এফএন্ডবি) জনাব শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু; ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) জনাব মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম; ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) জনাব মনিরা সুলতানা; ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (আরসিডি) জনাব শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী-সহ বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ অফিসারবৃন্দ, নারী পুলিশ সদস্যবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।