ঝিনাইদহে ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার (ভিডিও)

খুলনা অফিস : র‌্যাব ৬ এর অভিযানে ঝিনাইদহ থেকে বিপুল পরিমান ফেন্সিডিলসহ এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়েছে ।
র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলার মো হৃদয় খাঁন(২২) কে ৫৫৯ বোতল ফেন্সিডিল, ২টি মোবাইল ও মোটর সাইকেলসহ গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখ্য যে, ধৃত আসামী হৃদয় খাঁন এর বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা এবং যশোর জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদকসহ অন্যান্য মামলা রয়েছে। জব্দকৃত আলামত ও গ্রেফতারকৃত আসামীকে ঝিনাইদহ জেলার সদর থানায় হস্তান্তর করতঃ আসামীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

 

 

বাগেরহাটে চোরাই মালামালসহ গ্রেফতার ১ (ভিডিও)

খুলনা অফিস : বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানা এলাকায় থেকে চোরাই মালামালসহ চোরচক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ৬।
র‌্যাব জানায়, গত ২৪ জুলাই ২০২২ তারিখ ঢাকা জেলার তেজগাঁও থানাধীন কাওরান বাজারস্থ মেট্টো এক্সপ্রেস কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মচারী কর্তৃক অফিসের বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়ে যায়। পরবর্তীতে উক্ত কুরিয়ার সার্ভিসের সুপার ভাইজার বাদী হয়ে উক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে ডিএমপি ঢাকার তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
উক্ত কর্মচারী চোরাই মালামাল নিয়ে খুলনাঞ্চলে অবস্থান করছে মর্মে জানা যায়। র‌্যাব ৬ এর একটি আভিযানিক দল চোরকে ধরতে তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার দিবাগত রাতে র‌্যাব ৬ এর দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানা এলাকা থেকে মোঃ রাজু শেখ (২৫) কে চুরিকৃত বিভিন্ন হার্ডওয়ার এর ১১৮৭ কেজি মালামাল, ৪৪ কেজি স্যানেটারী আইটেম,-প্রায়, ৩৮ কেজি খাবার সামগ্রীসহ গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামী রাজু শেখকে ডিএমপি ঢাকার তেজগাঁও থানায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী সৃষ্টি এবং স্থাপত্য শিল্পের মাইল ফলক : মোঃ মফিদুল ইসলাম টুটুল

মোঃ শহীদুল হাসান :

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। পদ্মা বহুমুখী সেতু বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী সৃষ্টি ও স্থাপত্য শিল্পের মাইল ফলক। পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বিশ্ব দরবারে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মোঃ মফিদুল ইসলাম টুটুল।

আগামী ২৫জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনীকে ঘিরে সারা দেশে যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, সমৃদ্ধি, উন্নয়ন ও মানবতার নেত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও দৃঢ়তার ফলে পদ্মা সেতু আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের একুশটি জেলার জনগণের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও দাবি ছিল পদ্মা সেতুর। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাও বঙ্গবন্ধুর মতো একজন ভিশনারি লিডার। তিনি পদ্মা নদীর ওপর সেতুর শুধু স্বপ্নই দেখেননি তার বাস্তব সৃষ্টিও দেখতে চেয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে তিনি পদ্মা সেতুর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ হাতে নেন। ১৯৯৮-১৯৯৯সালে বিশেষজ্ঞ দল দ্বারা সেতুর সম্ভাব্যতা বা ফিজিবিলিটি স্টাডি করান। ২০০১সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে পদ্মা সেতুর নির্মাণের বাস্তব ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তারপরেও বঙ্গবন্ধু কন্যা স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কথা বিস্মৃত হননি। ২০০৮সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইস্তেহারে পদ্মা সেতু নির্মানে জনগনকে স্বপ্ন দেখান ও প্রতিশ্রুতি দেন। দেশের মানুষ শেখ হাসিনার পদ্মা সেতুর স্বপ্নের উপর আস্থা রেখে নির্বাচনে বোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করে। নির্বাচনে জয় লাভের পর সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইস্তেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ হাতে নেন। সরকারের পরিকল্পনা ছিল বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে।

২০১১ সালের ২৮এপ্রিল বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১২০কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা চুক্তি সই হয়। এছাড়া ১৮ মে জাইকার সঙ্গে, ২৪ মে আইডিবির সঙ্গে এবং ৬ জুন এডিবির সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই বছর অর্থাৎ ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাংক অভিযোগ করে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক তাদের ঋণচুক্তি বাতিল করে। প্রথম থেকেই দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা পদ্মা সেতু নির্মাণে বিরোধিতা করে আসছিলো। ষড়যন্ত্রকারীরা চেয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারকে বিপাকে ফেলতে। দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ এনে সরকারের জনপ্রিয়তা কমানোর পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে বরাবরের মতই বৈষম্যের বেড়াজালে আটকে রাখতে পদ্মা সেতু নির্মান বন্ধ করাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। বাস্তবে তার উল্টোই হয়েছে। বিশ্বব্যাংক কর্তৃক ঋণচুক্তি বাতিল বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদই হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ঋণচুক্তি স্থগিত করলে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন পদ্মা সেতু অবশ্যই হবে। তবে তা নিজস্ব অর্থায়নেই।অন্যের কাছ থেকে হাত পেতে টাকা এনে পদ্মা সেতু করবেন না। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা শত প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরু করেন। বাংলাদেশ পদ্মা সেতুর মতো একটি বৃহৎ বহুমুখী সেতু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত করতে সক্ষম হয়েছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি বহির্বিশ্বে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ২৫শে জুন ফিতা কেটে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন এটা বাংলাদেশ তথা বিশ্বের ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। পদ্মা নদীর উপরে শুধু একটি সেতু নয়-এটি একটি লালিত স্বপ্নের সফলতা। পদ্মা বহুমুখী সেতু শুধু যোগাযোগ নেটওয়ার্ক-এর বিপ্লব ঘটাবে না। এ সেতু সতেরো কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পদ্মা সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার ২ কোটি মানুষের আঞ্চলিক বৈষম্য কমার পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। এ অঞ্চলে নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা স্থাপনের ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে। মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরের গুরুত্ব বেড়ে যাবে। ভোমরা, বেনাপোল বন্দরসহ ভারতের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি পাবে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের দ্বিখন্ডিত বাংলাদেশকে সড়কপথে ঐক্যবদ্ধ করবে। এই সেতু সড়ক ও রেলপথের যোগাযোগের মাধ্যমে তড়িৎ অগ্রগতি সাধিত হবে। পণ্য পরিবহন, ব্যবসা বাণিজ্য শিক্ষা চিকিৎসা শাস্ত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

তিনি প্রত্যাশা করে বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে মানুষের যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সমীক্ষা অনুযায়ী, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) ১ দশমিক ২৩ শতাংশ বাড়বে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২দশমিক ৩শতাংশ। দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের নুতন দ্বার উন্মোচিত হবে। তবে শুরুতেই বড় গতিশীলতা আসবে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে। সেতুর কারণে সব ধরণের কৃষিপণ্য তাদের সবচেয়েৎকাঙ্ক্ষিত বাজারে দ্রুত যেতে পারবে। শুধু ঢাকা নয়, বরং বড় বড় জেলায়শহরগুলোতেও তাদের পণ্য যাওয়ার সুযোগ পাবে। পদ্মা সেতুর প্রাথমিক প্রভাবয়পড়বে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি খাতে আর দীর্ঘমেয়াদী সুফল আসবে ভারী শিল্পখাতে। ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন ও খানজাহান আলী মাজার, ষাট গম্বুজ মসজিদ ঘিরে পর্যটনের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। যা বাংলাদেশকে পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় পর্যটন শিল্পের দেশে রুপান্তরিত করবে বলে মনে করেন। এই ব্যবসায়ী নেতার প্রত্যাশা পদ্মা সেতু যোগাযোগের বড় দিগন্ত উন্মোচন করবে। সে বিষয়ে তার কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু এই যোগাযোগ সুবিধাকে অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপান্তর করতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস, বিদ্যুতসহ অন্য অবকাঠামোতেও নজর দিতে হবে বলেও জানান তিনি।

পানিতে ডুবে ছেলের মৃত্যুর ৪দিন পর শোকাতুর মায়ের মৃত্যু

ইউনিক প্রতিবেদক, বাগেরহাট :

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে কলেজ ছাত্র ছেলে আল-আমিন শেখ পুকুরে পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ৪ দিন পর রাস্তায় পড়ে মৃত্যু হয়েছে শোকাতুর মা আমিনা বেগমের। এঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার (২ জুন) দুপুর দুইটার দিকে মোল্লাহাট উপজেলার দারিয়ালা পূর্বপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে একটি ইজিবাইককে সাইড দিতে গিয়ে রাস্তায় পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। সে ওই গ্রামের মো. ফুল মিয়া শেখের স্ত্রী। 

মোল্লাহাট থানার ওসি (তদন্ত) মতিয়ার রহমান বলেন, মিনা বেগম নামের এক নারী মাথা ঘুরে রাস্তায় পড়ে যায়। এরপর স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে তাকে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিনা বেগমকে মৃত ঘোষনা করে।

মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক জব্বার ফারুকী বলেন, মিনা বেগম নামের এক নারীকে তার স্বজনেরা হাসপাতলে নিয়ে আসে। তবে এখানে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার গায়ে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই।

প্রতিবেশিরা জানায়, গত শনিবার (২৮ মে) রাতে উপজেলার দারিয়ালা পূর্বপাড়া গ্রামের আল-আমিন শেখ (১৯) বাড়ি থেকে বের হয়ে গোসল করতে যায়। পরে আর তাকে ওই খুজে পাওয়া যায়নি। পরের দিন সকালে পুকুরে ভাসমান ঐ কলেজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে এলাকাবাসি। এরপর থেকে মা মিনা বেগম ছেলের শোকে পাগল প্রায়। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে মিনা বেগম খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেয় এবং দ্বিগবিদিক ছোটাছুটি করে। আল-আমিন শেখ মোল্লাহাট খলিলুর রহমান ডিগ্রী কলেজের ২০২২ শিক্ষা বর্ষের এইচ এসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন ।

স্থানীয় গাংনী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রবিউল আলম বলেন, একমাত্র ছেলে আলামিনকে হারিয়ে পাগল প্রায় মা মিনা বেগম। কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছিল না ছেলের মৃত্যু। দুপুরে বাড়ির সামনে বের হলে তার এই মৃত্যুতে তার পরিবার ও গ্রামবাসির মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

খুলনা রেলওয়ের স্টেশন মাষ্টারকে শোকজ ও পাকশীতে তলব

খুলনা রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার

ইউনিক প্রতিবেদক :

কর্তৃপক্ষের মিথ্যা অযুহাতে পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে থানায় সাধারণ ডায়েরি করায় স্টেশন মাস্টারকে শোকজ সহ বিভাগীয় সদর দপ্তরে তলব করা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) পাকশি মো. আনোয়ার হোসেন খুলনা রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার মানিক চন্দ্র সরকারকে এ শোকজ করেন। শোকজে মানিক চন্দ্রকে ১৯ মে বৃহস্পতিবারে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে শোকজের জবাব দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।
রেল সূত্র জানায়, গত ১৬ মে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার মানিক চন্দ্র সরকার উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে খুলনার ৫ কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে খুলনার রেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। ডায়েরী করার পরে স্টেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের রোষানলে পড়লে তখন তিনি বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের নাম বলেন। তখন তিনি বলেন, ‘আমি রেলের বিভাগীয় পরিবহণ কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই রেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছি।” একই সাথে তিনি সাধারণ ডায়েরীতে উল্লেখ করেন যে, “ স্টেশনের শান্তি শৃংখলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে বিভাগীয় পরিবহণ কর্মকর্তার টেলিফোন নির্দেশে আমি এই সাধারণ ডায়েরী রেল থানায় নথিভুক্ত করেছি।” তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, “রেলওয়ের টিএক্সআর বায়তুল ইসলাম, আইডব্লিউ অফিসের মো. জাফর মিয়া, তোতা মিয়া, সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. আশিক আহম্মেদ ও সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. জাকির হোসেনে কালোবাজারে টিকিট বিক্রি করেন এবং তারা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ভূয়া নাম ব্যবহার করে টিকিটের চাহিদা প্রদান করে টিকিট গ্রহণ করেন। টিকিট না পেলে তারা বহিরাগতদের দিয়ে আমাকে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করেন এবং স্টেশন ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও মারধরের পায়তার নীলনকসা করছে। এছাড়া আমার মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়েছে।” এই জিডি কপি বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তার হাতে পৌছালে তাৎক্ষনাত তিনি খুলনার স্টেশন মাষ্টার মানিক চন্দ্র সরকারকে কারন দর্শিয়ে বিভাগীয় সদর দপ্তরে স্বশরীরে এসে উত্তর প্রদানের নির্দেশ দেন।
এদিকে খুলনা রেল স্টেশনে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান যে, এই স্টেশন মাষ্টার মানিক চন্দ্র সরকার এর আগে টিকিট কালোবাজারে বিক্রি করার অভিযোগে পানিষ্টমেন্ট ট্রান্সফার (শাস্তিমূলক বদলি) হয়েছিলো। এছাড়া তাকে কখনই তার চেয়ারে পাওয়া যায় না। তাকে মোবাইল করলেও তিনি ফোন রিসিভি করে না বলে কর্মকর্তা কর্মচারী সহ অসংখ্য ট্রেনযাত্রীরা অভিযোগ করেন।
এব্যাপারে রেলওয়ের টিএক্সআর বায়তুল ইসলাম বলেন, “আমরা কখনওই টিকিট কালো বাজারী করি না। স্টেশন মাষ্টারকে ট্রেন যাত্রীরা চেয়ারে না পেয়ে আমাদের কাছে আসে। তখন আমরা উপায়ান্ত না পেয়ে রেলের যাত্রী সেবার কথা বিবেচনায় নিয়ে যাত্রীদের কথা শুনি। এছাড়া আমরা খুলনায় বসবাস করি, আমাদের সাথে অনেক রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, অনেক সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা টিকিট না পেয়ে আমাদের স্মরণাপন্ন হন। এমনকি আমাদের রেলের অনেক কর্মকর্তা আছেন তাদের নির্দেশ শুনতে আমাদেরকে লাইনে দাড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করে দিতে হয়। এটি যদি আমাদের দোষ হয় তাহলে আমরা সে দোষে দোষী। আমরা প্রধানমন্ত্রীর সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোরায় পৌছে দিতে চাই।”
সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. আশিক আহম্মেদ বলেন, “স্টেশন মাষ্টার সাধারণ মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। আর তিনি ঠিকমত অফিসে বসেন না। ফলে সেবা গ্রহণকারী যাত্রীদের চাপ আমাদের উপর এসে পড়ে।” তিনি এক প্রশ্নের জবাবে দৈনিক দেশ সংযোগকে বলেন, “টিকিট আমরা কেন কালো বাজারে বিক্রি করবো? টিকিট তো কালোবাজারে মাষ্টার নিজেই বিক্রি করেন। তিনি যে কালো বাজারে টিকিট বিক্রি করে তার একটি তালিকা আমাদের কাছে রয়েছে। আর তিনি এতই উচু মাপের কর্মকর্তা যে, তিনি কোন নেতাদের হিসাবে রাখেন না। তিনি আমাদের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথেও খারাপ আচরণ করেন। আমরা সব সময় তার সহযোগীতা করে আসছি। আর তার স্বার্থ ফুরিয়ে গেলেই আমাদের সাথে এ ধরনের জীবিকার উপর হুমকি নিয়ে আসেন।”
এদিকে কারন দর্শানো নোটিশের বিষয়ে খুলনা রেল স্টেশন মাষ্টারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তার ফোনে ঢুকলেও তিনি ফোন কেটে দেন।
এ ব্যাপারে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেনকে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় সরকার উপকূলীয় এলাকার নারীদের জীবিকায়ন ও সুপেয় পানি নিশ্চিত করেছে : মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী

আজগর হোসেন সাব্বির, দাকোপ, খুলনা : 

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় সরকার উপকূলীয় এলাকার ৪৩ হাজার পরিবারের জীবিকায়নে সহায়তা প্রদান করছে। এসব পরিবারের জন্য জলবায়ু সহিষ্ণু, নিরাপদ এবং সারা বছর পানযোগ্য পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে। গ্রীণ ক্লাইমেট এডাপটেশন (জিসিএ) প্রকল্পের আওতায় খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার ৫টি উপজেলায় ১৩ হাজার পরিবারে জন্য খানাভিত্তিক রেইন ওয়াটার হারভেষ্টিং সিস্টেম স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। এ প্রকল্প থেকে ২২৮ টি কমিউনিটি, ১৯টি প্রতিষ্ঠান ও ৪১ টি পুকুর ভিত্তিক আল্ট্রা-ফিল্ট্রেশন রেইন ওয়াটার হারভেষ্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ৩০ হাজার পরিবার সুপেয় পানিয়জলের সুবিধা পাবে।

মঙ্গলবার খুলনার দাকোপ উপজেলায় গড়খালি পল্লীমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায় বাস্তবায়িত ‘উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর, বিশেষত নারীদের, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবনাক্ততা মোকাবেলায় অভিযোজন সক্ষমতাবৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পের আওতায় রেইন ওয়াটার হারভেষ্টিং সিস্টেমের হস্তান্তর ও অপারেশন কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর একটি বাংলাদেশ অথচ জলবায়ুর পরিবর্তনে বাংলাদেশের কোন দায় নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে তীব্র ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে স্বাদুপানির এলাকাসমূহে লবনাক্ত পানির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। যার ফলে উপকূলীয় বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠীর পানীয় জলের সহজলভ্যতা, স্বাদুপানি নির্ভর কৃষিকাজ ও জীবিকার ওপর ব্যাপক বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এর ফলে নারী ও শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঘরে খাওয়ার পানি না থাকলে, তা সংগ্রহের জন্য নারীদের অনেক কষ্ট করতে হয়।

খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান বেগম চেমন আরা তৈয়ব, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভীন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তুষার মোহন সাধু খাঁ, ইউএনডিপি’র সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি সরদার এম আসাদুজ্জামান, প্রকল্প পরিচালক মোঃ ইকবাল হোসেন, দাকোপ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খান, দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিন্টু বিশ্বাস।

প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা বলেন, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের কারণে বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠীর জলবায়ু সহনশীল জীবিকা এবং পানীয় জলের সমাধানের জন্য বাংলাদেশ সরকার, গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) এবং ইউএনডিপির সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এটি বাংলাদেশ তথা বিশ্বের মধ্যে প্রথম জিসিএফ প্রকল্প যেটি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের নেতৃত্বে নারীদের জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। সরকার জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বিভিন্ন পরিকল্পনা, কর্মসূচি, নীতি ও কৌশল বাস্তবায়ন করছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আর্থসামাজিক উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে জয়যুক্ত করার আহবান জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা গড়খালি পল্লীমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং স্থাপনাটি ২৫ জন উপকারভোগীর নিকট হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় নারী ও জনপ্রতিনিধিরা উপকূলীয় এলাকার সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানান।

উল্লেখ্য ‘উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর, বিশেষত নারীদের, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবনাক্ততা মোকাবেলায় অভিযোজন সক্ষমতাবৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পটি ২৭৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে (সরকারি ৬৭ কোটি ১৬ লাখ এবং জিসিএফ ফান্ড ২০৯ কোটি ৭০ লাখ) ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে। খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার ৫ টি উপজেলায় ৩৯ টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পের মোট সুবিধাভোগী ৭ লাখ ১৯ হাজার ২২৯ জন। প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য উপকূলীয় এলাকার নারীদের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জীবিকায়ন; নারীদের অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি; সুপেয় পানি নিশ্চিত করা এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়।

হত্যা চেষ্টাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে ভূক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

ইউনিক প্রতিবেদক :

বাগেরহাটে সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের চি‎হ্নিত সন্ত্রাসী হালিম মোড়লের নেতৃত্বে পরিকল্পিত হত্যা চেষ্টাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি করেছে হামলার স্বীকার ভূক্তভোগীরা। এসময়ে তারা পুলিশের দায়িত্বে অবহেলারও অভিযোগ করেন। রবিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে ভূক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভূক্তভোগী বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সদস্য সচিব প্রকৌশলী মো. রায়হান হুসাইন।  

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি ও আমার রাজনৈতিক সহযোদ্ধা বাগেরহাট সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আক্তার বিল্লাহ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান, বারুইপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. জহির মল্লিক ও সাধারণ সম্পাদক মো. ফেরদাউস মোড়ল গত ২৫ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কর্মসূচীতে অংশগ্রহনের জন্য ২৪ মার্চ সন্ধ্যায় ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের দাওয়াত দিতে ০২টি মোটরসাইকেল যোগে বের হই। কাজ শেষে আমরা রাত সাড়ে ১০টায় ১নং ওয়ার্ডের আড়পাড়া বাজারে আসলে হঠাৎ অন্ধকারে আড়পাড়া গ্রামের আজাহার মোড়লের ছেলে হালিম মোড়লের নেতৃত্বে একই গ্রামের মোস্তাকিন মোড়ল, অনিক মোড়ল, এরশাদ মোড়ল, ইরফান মোড়লসহ আরো অজ্ঞাত নামা ৬/৭ জন রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে আমাদের গতিরোধ করে। তারপর তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আমাদের রামদা, লোহার রড, হাতুড়ী, লাঠিসোটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। সেই সাথে সন্ত্রাসীরা আমাদের ৪টি মোবাইল ফোন ও ০২টি মোটর সাইকেলের ব্যাপক ভাংচুর করে। সন্ত্রাসীরা আমাদের নিকট থাকা ২১,৭৭৫ (একুশ হাজার সাতশত পঁচাত্তর) টাকা জোর পূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমাদের রাজনৈতিক সহকর্মী মোহাম্মদ জিলানী সংবাদ পেয়ে লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে আমি ও আমার দুই সহকর্মীকে উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠায়। আর আক্তার বিল্লাহকে উদ্ধার করে ফকিরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা অবস্থা গুরুতর দেখে আক্তার বিল্লাহকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করে। আজ অবধি আমার সহযোদ্ধা প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বাগেরহাট হাসপাতালে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আক্তার বিল্লাহর শরীরে ৫৫টির উপরে সেলাই দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনার পরের দিন ২৫ মার্চ আমার পিতা মো. আবু সাহিদ বাগেরহাট সদর থানায় মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং ২৫। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় আসামীরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার করেনি। যেখানে মামলার আসামী হালিম মোড়লের নামে থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। তারপরও সে প্রকাশ্যে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আমরা সবাই আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কর্মসুচি ‘হৃদয়ে পিতৃভূমি’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এলাকায় কাজ করতে গিয়ে নির্মমভাবে হামলা স্বীকার হয়েও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কোন সহায়তা পাচ্ছিনা। প্রযুক্তির এই যুগে আসামীদের কেন পুলিশ এখনও গ্রেফতার করছে না তা আমাদের বোধগম্য নয়।

তিনি আরো বলেন, মানবতার মা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, দক্ষিনবাংলার রাজনৈতিক অভিভাবক শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রী, তরুন প্রজন্মের আইকন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সাহরান নাসের তন্ময়, খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে এসব সন্ত্রাসীদের ও তাদের মদদদাতাদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

আসামী গ্রেফতারে পুলিশের অবহেলার বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর মো. সেরাজুল ইসলামের মুঠোফোনে (০১৭১৬-৪৭২০৮৯) যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য নয়। আমরা আসামীদের গ্রেফতারে সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি। বাদীদের কাছে আসামীদের অবস্থান সম্পর্কে কোন তথ্য থাকলে আমাদেরকে তারা জানাতে পারে। তবে আমরা আশাবাদী খুব শীঘ্রই আসামীদের গ্রেফতার করতে পারবো।

আসামীরা এলাকায় ঘোরাফেরা করছে কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না এমন অভিযোগের বিষয়ে বাগেরহাট সদর থানা অফিসার ইনচার্জ কে এম আজিজুল ইসলামের মুঠোফোনে (০১৩২০-১৪১১৭৯) যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এটা সত্য নয়, এটা বলতে পারে তারা তাদের বক্তব্যে। বিষয়টিতে একটি মামলা হয়েছে। আমরা তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছি। আমার জানামতে আসামীরা কেউই এলাকাতে নেই। আমি তারপরও খোজ নিয়ে দেখবো। আমাদের কর্মকর্তারা আসামীদের গ্রেফতারে সব জায়গায় কাজ করছে।

মোল্লাহাটে সমাজসেবা অফিসের কর্মচারীকে গলা কেটে হত্যা

ইউনিক প্রতিবেদক, মোল্লাহাট, বাগেরহাট :

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের অফিস সহায়ক নাইম খাঁনকে (২৮) শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে গাংনী গ্রামের হিরণ মাষ্টারের বাড়ীর উঠান থেকে গুরতর আহত অবস্থায় নাইমকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী ও তার স্বজনেরা। পরে তাঁকে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারী ক্লিনিকে নেওয়া হয় । এরপর সেখানে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নাইম খাঁন গাংনী গ্রামের আবুল খাঁনের ছেলে। সে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে অফিস সহায়ক পদে চাকুরী করতেন।

মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোমেন দাস বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহত নাইমের লাশ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। এঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

পাইকগাছায় সুখেন হত্যার কারণ পরকিয়া : খুনি প্রকাশ গ্রেফতার

ইউনিক প্রতিবেদক, পাইকগাছা :

খুলনার পাইকগাছায় সুখেন হত্যার মোটিভ দুই সপ্তাহ পর উদঘাটিত হয়েছে।  খুনি প্রকাশ গ্রেপ্তারের পর ফোনের আসল রহস্য বেরিয়ে এসেছে। স্ত্রীর সাথে পরকিয়ার কারণেই সুখেনকে খুন করা হয়েছে বলে প্রকাশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

খুলনার পাইকগাছায় সুখেন সরদার হত্যার খুনি প্রকাশ সরদার ( ৩৫) কে পুলিশ গ্রেফতার করেছেন।

মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় লস্কর ইউপি চেয়ারম্যান কেএম আরিফুজ্জামান তুহিন ও স্থানীয়দের সহয়তায় কয়রার আমাদী ইউপির চক গোয়ালবাড়ী শুশ্বরবাড়ী এলাকা থেকে খুনি প্রকাশ সরদার ( ৩৫) কে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, প্রকাশ নিহত সুখেন এর প্রতিবেশি খড়িয়া ভড়েঙ্গার চকস্থ জয়দের সরদারের ছেলে। গ্রেফতারের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে খুনির দেখানো মতে সুব্রত ঢালীর চিংড়ি ঘেরের পশ্চিম পাশ্বের পাড়ে পানিতে পুতে রাখা ক্ষেত নিংড়ানো ধারালো লোহার রড উদ্ধার করেছেন।

এদিকে কোন হয়রানী ছাড়াই হত্যাকান্ডের ১৫ দিনেই খুনের মোটিভ উদ্ধার ও একমাত্র আসামী গ্রেফতারে এলাকার মানুষের কাছে পুলিশের ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে।

মামলা তদন্ত কর্মকর্তা সুকান্ত কর্মকার জানান, আটক প্রকাশের স্ত্রী জিগাজ্ঞাবাদে ইতোমধ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। যা মামলা তদন্তে যথেষ্ঠ সহয়তা করবে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রকাশ সরদারের স্ত্রীর সাথে নিহত সুখেন সরদার দীর্ঘদিন পরকিয়ায় জড়িত ছিল। এক সময় মোবাইলে কথাপোকথন জানতে পেরে প্রকাশ তার স্ত্রী ও সুখেন কে সতর্ক করে দেয়। কিন্তু সতর্কতায় কোন কাজ না হওয়ায় প্রকাশ স্ত্রীকে আত্মহত্যা করতে বলেন। এর পর সে নিজেকে শেষ করে দেওয়া নতুবা সুখেনকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেন। হত্যাকান্ডের ৩ দিন পুর্বে সে ক্ষেত নিংড়ানো লোহার রডের মাথা আগুনে তাপ দিয়ে ধারালো করে। ঘটনার দিন ৭ মার্চ রাত সাড়ে ৮ টার পর বাড়ীর অদুরে সুখেন নিজ চিংড়ি ঘেরে পৌছিয়ে কাত হয়ে বাসার দরজা খোলার মুহুর্তে পিছন থেকে প্রকাশ ধারালো রড দিয়ে চোয়ালে আঘাত করে বুকে উপুর্যপুরী চুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। গ্রেফতারের পর প্রকাশ পুলিশের কাছে প্রাথমিক ভাবে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের মা অমেলা সরকার বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের নামে থানায় হত্যা মামলা করেন। হত্যাকান্ডের পর স্থানীয়রা এক ধরনের আতঙ্কে ছিল। হত্যা সম্পর্কে নিহতের পরিবার বা স্থানীয়রা সঠিক কোন তথ্য দিতে না পারায় পুলিশের উপর নির্ভরতা বেড়ে যায়। সর্বশেষ খুনি গ্রেফতারে এলাকায় স্বস্ত্বি ফিরে এসেছে।

এ হত্যা মামলা সম্পর্কে ওসি মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, পরকিয়ার জেরে পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে। যা গ্রেফতারের প্রকাশ সরদার সবই স্বীকার করেছেন

মােংলার আ’লীগ নেতাসহ ছেলের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি ও হুম‌কি প্রদানের অভিযোগ

ইউনিক প্রতিবেদক: 

শিশু গৃহপ‌রিচা‌রিকাকে যৌন নিপীড়নের মামলা করায় মােংলা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হােসেন ও তার ছেলে রনির বিরুদ্ধে নানাভাবে ভয়ভী‌তি ও হুম‌কি প্রদানের অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। সেই সাথে পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ করেন পরিবারটি।

আজ মঙ্গলবার (২২ মার্চ) দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিশুটির ফুপু মানজুম আক্তার। তি‌নি খুলনার লবনচরা থানার মােক্তার হোসেন সড়কের বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো জানান, মানজুম আক্তারের ভাই রাকিব তালুকদারের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর শিশু কন্যা রিভা (১০)কে ২০২১ সালে লালন-পালনের কথা বলে আসামি মােঃ রনি মােংলায় নিয়ে যান। মােংলার বাতেন সড়কে অবস্থিত বাড়িতে নিয়ে রনি ওই রিভাকে প্রায় সময় যৌন নিপীড়ন চালাতো। এবং বিষয়টি কাউকে না বলতে ওই শিশুটিকে নানা ধরনের ভয়ভীতি দিতেন। শারীরিক নির্যাতনও চালাতেন। এছাড়া রনি’র স্ত্রী রীমা (৩২) ওই শিশুটিকে মারাত্বকভাবে নির্যাতন করতো। সর্বশেষ গত ২৮ আগস্ট সারাদিন বাসার কাজ করে রিভা রাতে ঘুমিয়ে পড়ে। গভীর রাতে রনি এসে রিভাকে বিবস্ত্র করে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষনের চেষ্টা করে। তাছাড়া রনির স্ত্রি রিমাও রিভাকে শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। পরদিন সকালে রিভা বাসার একটি মোবাইল ফোন থেকে কৌশলে ফুফু মানজুকে ফোন করে এসব কথা জানায়। খবর পেয়ে ভাই রাকিব তালুকদার ও মানজুম মােংলায় গিয়ে রিভাকে খুলনায় নিয়ে আসে। পরদিন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)কে ভর্তি করা হয়।

এঘটনায় গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর খুলনা সদর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ না নিয়ে আদালতে যেতে পরামর্শ দেন। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মানজুম আক্তার বাদি হয়ে রনি ও স্ত্রি রিমাকে আসামি করে পিটিশন দায়ের করে (নং-৯৬/২১)। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরাে অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে নির্দেশ দেন। ২৮ অক্টোবর খুলনার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম সুমি আহমেদ ভিকটিমের ২২ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব‌্যুরাে অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’র পুলিশ পরিদর্শক মনজুরুল হাসান মাসুদ তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে আসামি রনি’র বিরুদ্ধে ওই শিশুকে যৌন নিপীড়ন ও শারীরিক নির্যাতনের অপরাধে জড়িত বলে অভিযুক্ত করেন। আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও গ্রেফতার হননি রনি। গত ২০ মার্চ খুলনার আদালত থেকে জামিন নেন আসামি রনি। রনির স্ত্রীকে মামলা থেকে বাদ দেন তদন্ত কর্মকর্তা। তদন্ত কর্মকর্তা ওই অসহায় প‌রিবা‌রের কাছে ১লাখ টাকা চেয়েছিলেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন মানজুম আক্তার।