ঝিনাইদহে ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার (ভিডিও)

খুলনা অফিস : র‌্যাব ৬ এর অভিযানে ঝিনাইদহ থেকে বিপুল পরিমান ফেন্সিডিলসহ এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়েছে ।
র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলার মো হৃদয় খাঁন(২২) কে ৫৫৯ বোতল ফেন্সিডিল, ২টি মোবাইল ও মোটর সাইকেলসহ গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখ্য যে, ধৃত আসামী হৃদয় খাঁন এর বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা এবং যশোর জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদকসহ অন্যান্য মামলা রয়েছে। জব্দকৃত আলামত ও গ্রেফতারকৃত আসামীকে ঝিনাইদহ জেলার সদর থানায় হস্তান্তর করতঃ আসামীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

 

 

বাগেরহাটে চোরাই মালামালসহ গ্রেফতার ১ (ভিডিও)

খুলনা অফিস : বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানা এলাকায় থেকে চোরাই মালামালসহ চোরচক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ৬।
র‌্যাব জানায়, গত ২৪ জুলাই ২০২২ তারিখ ঢাকা জেলার তেজগাঁও থানাধীন কাওরান বাজারস্থ মেট্টো এক্সপ্রেস কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মচারী কর্তৃক অফিসের বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়ে যায়। পরবর্তীতে উক্ত কুরিয়ার সার্ভিসের সুপার ভাইজার বাদী হয়ে উক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে ডিএমপি ঢাকার তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
উক্ত কর্মচারী চোরাই মালামাল নিয়ে খুলনাঞ্চলে অবস্থান করছে মর্মে জানা যায়। র‌্যাব ৬ এর একটি আভিযানিক দল চোরকে ধরতে তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার দিবাগত রাতে র‌্যাব ৬ এর দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানা এলাকা থেকে মোঃ রাজু শেখ (২৫) কে চুরিকৃত বিভিন্ন হার্ডওয়ার এর ১১৮৭ কেজি মালামাল, ৪৪ কেজি স্যানেটারী আইটেম,-প্রায়, ৩৮ কেজি খাবার সামগ্রীসহ গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামী রাজু শেখকে ডিএমপি ঢাকার তেজগাঁও থানায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী সৃষ্টি এবং স্থাপত্য শিল্পের মাইল ফলক : মোঃ মফিদুল ইসলাম টুটুল

মোঃ শহীদুল হাসান :

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। পদ্মা বহুমুখী সেতু বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী সৃষ্টি ও স্থাপত্য শিল্পের মাইল ফলক। পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বিশ্ব দরবারে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মোঃ মফিদুল ইসলাম টুটুল।

আগামী ২৫জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনীকে ঘিরে সারা দেশে যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, সমৃদ্ধি, উন্নয়ন ও মানবতার নেত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও দৃঢ়তার ফলে পদ্মা সেতু আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের একুশটি জেলার জনগণের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও দাবি ছিল পদ্মা সেতুর। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাও বঙ্গবন্ধুর মতো একজন ভিশনারি লিডার। তিনি পদ্মা নদীর ওপর সেতুর শুধু স্বপ্নই দেখেননি তার বাস্তব সৃষ্টিও দেখতে চেয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে তিনি পদ্মা সেতুর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ হাতে নেন। ১৯৯৮-১৯৯৯সালে বিশেষজ্ঞ দল দ্বারা সেতুর সম্ভাব্যতা বা ফিজিবিলিটি স্টাডি করান। ২০০১সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে পদ্মা সেতুর নির্মাণের বাস্তব ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তারপরেও বঙ্গবন্ধু কন্যা স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কথা বিস্মৃত হননি। ২০০৮সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইস্তেহারে পদ্মা সেতু নির্মানে জনগনকে স্বপ্ন দেখান ও প্রতিশ্রুতি দেন। দেশের মানুষ শেখ হাসিনার পদ্মা সেতুর স্বপ্নের উপর আস্থা রেখে নির্বাচনে বোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করে। নির্বাচনে জয় লাভের পর সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইস্তেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ হাতে নেন। সরকারের পরিকল্পনা ছিল বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে।

২০১১ সালের ২৮এপ্রিল বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১২০কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা চুক্তি সই হয়। এছাড়া ১৮ মে জাইকার সঙ্গে, ২৪ মে আইডিবির সঙ্গে এবং ৬ জুন এডিবির সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই বছর অর্থাৎ ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাংক অভিযোগ করে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক তাদের ঋণচুক্তি বাতিল করে। প্রথম থেকেই দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা পদ্মা সেতু নির্মাণে বিরোধিতা করে আসছিলো। ষড়যন্ত্রকারীরা চেয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারকে বিপাকে ফেলতে। দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ এনে সরকারের জনপ্রিয়তা কমানোর পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে বরাবরের মতই বৈষম্যের বেড়াজালে আটকে রাখতে পদ্মা সেতু নির্মান বন্ধ করাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। বাস্তবে তার উল্টোই হয়েছে। বিশ্বব্যাংক কর্তৃক ঋণচুক্তি বাতিল বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদই হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ঋণচুক্তি স্থগিত করলে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন পদ্মা সেতু অবশ্যই হবে। তবে তা নিজস্ব অর্থায়নেই।অন্যের কাছ থেকে হাত পেতে টাকা এনে পদ্মা সেতু করবেন না। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা শত প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরু করেন। বাংলাদেশ পদ্মা সেতুর মতো একটি বৃহৎ বহুমুখী সেতু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত করতে সক্ষম হয়েছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি বহির্বিশ্বে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ২৫শে জুন ফিতা কেটে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন এটা বাংলাদেশ তথা বিশ্বের ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। পদ্মা নদীর উপরে শুধু একটি সেতু নয়-এটি একটি লালিত স্বপ্নের সফলতা। পদ্মা বহুমুখী সেতু শুধু যোগাযোগ নেটওয়ার্ক-এর বিপ্লব ঘটাবে না। এ সেতু সতেরো কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পদ্মা সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার ২ কোটি মানুষের আঞ্চলিক বৈষম্য কমার পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। এ অঞ্চলে নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা স্থাপনের ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে। মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরের গুরুত্ব বেড়ে যাবে। ভোমরা, বেনাপোল বন্দরসহ ভারতের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি পাবে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের দ্বিখন্ডিত বাংলাদেশকে সড়কপথে ঐক্যবদ্ধ করবে। এই সেতু সড়ক ও রেলপথের যোগাযোগের মাধ্যমে তড়িৎ অগ্রগতি সাধিত হবে। পণ্য পরিবহন, ব্যবসা বাণিজ্য শিক্ষা চিকিৎসা শাস্ত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

তিনি প্রত্যাশা করে বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে মানুষের যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সমীক্ষা অনুযায়ী, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) ১ দশমিক ২৩ শতাংশ বাড়বে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২দশমিক ৩শতাংশ। দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের নুতন দ্বার উন্মোচিত হবে। তবে শুরুতেই বড় গতিশীলতা আসবে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে। সেতুর কারণে সব ধরণের কৃষিপণ্য তাদের সবচেয়েৎকাঙ্ক্ষিত বাজারে দ্রুত যেতে পারবে। শুধু ঢাকা নয়, বরং বড় বড় জেলায়শহরগুলোতেও তাদের পণ্য যাওয়ার সুযোগ পাবে। পদ্মা সেতুর প্রাথমিক প্রভাবয়পড়বে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি খাতে আর দীর্ঘমেয়াদী সুফল আসবে ভারী শিল্পখাতে। ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন ও খানজাহান আলী মাজার, ষাট গম্বুজ মসজিদ ঘিরে পর্যটনের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। যা বাংলাদেশকে পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় পর্যটন শিল্পের দেশে রুপান্তরিত করবে বলে মনে করেন। এই ব্যবসায়ী নেতার প্রত্যাশা পদ্মা সেতু যোগাযোগের বড় দিগন্ত উন্মোচন করবে। সে বিষয়ে তার কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু এই যোগাযোগ সুবিধাকে অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপান্তর করতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস, বিদ্যুতসহ অন্য অবকাঠামোতেও নজর দিতে হবে বলেও জানান তিনি।

পানিতে ডুবে ছেলের মৃত্যুর ৪দিন পর শোকাতুর মায়ের মৃত্যু

ইউনিক প্রতিবেদক, বাগেরহাট :

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে কলেজ ছাত্র ছেলে আল-আমিন শেখ পুকুরে পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ৪ দিন পর রাস্তায় পড়ে মৃত্যু হয়েছে শোকাতুর মা আমিনা বেগমের। এঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার (২ জুন) দুপুর দুইটার দিকে মোল্লাহাট উপজেলার দারিয়ালা পূর্বপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে একটি ইজিবাইককে সাইড দিতে গিয়ে রাস্তায় পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। সে ওই গ্রামের মো. ফুল মিয়া শেখের স্ত্রী। 

মোল্লাহাট থানার ওসি (তদন্ত) মতিয়ার রহমান বলেন, মিনা বেগম নামের এক নারী মাথা ঘুরে রাস্তায় পড়ে যায়। এরপর স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে তাকে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিনা বেগমকে মৃত ঘোষনা করে।

মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক জব্বার ফারুকী বলেন, মিনা বেগম নামের এক নারীকে তার স্বজনেরা হাসপাতলে নিয়ে আসে। তবে এখানে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার গায়ে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই।

প্রতিবেশিরা জানায়, গত শনিবার (২৮ মে) রাতে উপজেলার দারিয়ালা পূর্বপাড়া গ্রামের আল-আমিন শেখ (১৯) বাড়ি থেকে বের হয়ে গোসল করতে যায়। পরে আর তাকে ওই খুজে পাওয়া যায়নি। পরের দিন সকালে পুকুরে ভাসমান ঐ কলেজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে এলাকাবাসি। এরপর থেকে মা মিনা বেগম ছেলের শোকে পাগল প্রায়। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে মিনা বেগম খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেয় এবং দ্বিগবিদিক ছোটাছুটি করে। আল-আমিন শেখ মোল্লাহাট খলিলুর রহমান ডিগ্রী কলেজের ২০২২ শিক্ষা বর্ষের এইচ এসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন ।

স্থানীয় গাংনী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রবিউল আলম বলেন, একমাত্র ছেলে আলামিনকে হারিয়ে পাগল প্রায় মা মিনা বেগম। কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছিল না ছেলের মৃত্যু। দুপুরে বাড়ির সামনে বের হলে তার এই মৃত্যুতে তার পরিবার ও গ্রামবাসির মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মোংলায় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের ঘর পাচ্ছেন ১৪০ পরিবার

ইউনিক প্রতিবেদক, মোংলা, বাগেরহাট :

মোংলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহার স্বরুপ ঘর পাচ্ছেন ১৪০টি পরিবার। আশ্রয়ণ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে দেয়া হচ্ছে এ ঘর। উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের মাকড়ঢোন এলাকায় নির্মিত হচ্ছে ঘরগুলো। বেশির ভাগ ঘরেরই কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। পৌরসভার শেষ সীমান্তে ও উপজেলার চাঁদপাই এবং বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের মাঝে আন্তর্জাতিক মোংলা-ঘাষিয়াখালী বঙ্গবন্ধু চ্যানেলের পাড়ে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক এ ঘরগুলো। সেখানকার পরিবেশ দেখে যে কেউই ভাববেন এটি কোন রিসোর্টই হবে। এখানে ঘরের পাশাপাশি খোলা জায়গা ও পুকুর রয়েছে। রয়েছে ক্ষেত ও ফসল চাষের মাঠও। নতুন এ ঘরে থাকছে বিদ্যুৎ সংযোগও। প্রত্যেক পরিবারকে ঘর ও জমির কাগজপত্র বুঝিয়ে দেয়া হবে শীগগিরই। তৃতীয় পর্যায়ের এ ঘরগুলো পূর্বের দুই দফায় দেয়া ঘরের চেয়ে মজবুত ও ব্যয়বহুলও। এবারের প্রতিটি এ ঘরে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। এর আগে প্রতিটিতে ব্যয় ছিলো ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এদিকে চাঁদপাই ইউনিয়নের মাকড়ডোন গ্রামে নির্মিত এ ঘর প্রকৃত ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে হস্তান্তর উপলক্ষে সোমবার বেলা ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে।

আর এ ঘরগুলো সুন্দরভাবে নির্মাণ সম্পন্ন করতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার। তিনি বলেন, অত্যন্ত সুন্দর একটি পরিবেশে এ ঘরগুলো করা হয়েছে। ঘর নির্মাণে মানসম্মত সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে খুব টেকসই হয়। কাজ শেষ পর্যায়ে উপকারভোগীরা নতুন এ ঘরেই ঈদ করতে পারবেন।

আ’লীগ এদেশের মাটি ও মানুষের কল্যাণ এবং ভাগ্যোন্নয়ণের রাজনীতি করে : খুলনা নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঈদ উপহার বিতরণকালে সেখ জুয়েল এমপি

বিজ্ঞপ্তি :

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভ্রাতুষ্পুত্র খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল বলেন, “জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের শাসনামলে দেশের একটি মানুষও না খেয়ে থাকবে না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যেমন সারাজীবন এই দেশ ও দেশের মানুষের কল্যানের জন্য রাজনীতি করে গেছেন, জীবন বিলিয়ে দিয়ে গেছেন ঠিক তেমনি তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এদেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ও সুখী সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ বির্নিমাণে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এদেশের মাটি ও মানুষের কল্যাণ এবং ভাগ্যোন্নয়ণের রাজনীতি করে। তিনি আরও বলেন, তার সরকারের আমলে এদেশে কোন মানুষ যেমন ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবে না। সে কারনেই তিনি এদেশের প্রায় সাড়ে ৯ লাখ ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষকে জমিসহ ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। একই সাথে মানুষের নিরাপদ খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন। তার নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশের মানুষ যাতে নিরাপদে ও শান্তিতে বসবাস করতে পারে সে লক্ষে তিনি আইন-শৃংখলার পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছেন। তৎকালীন বিএনপি জোট সরকারের আমলের মত আজ দেশে জঙ্গী হামলা, বোমা হামলা হয় না। দেশের মানুষ আজ শান্তিতে আছেন। দেশের জনগণের সার্বিক জীবন মান উন্নত হয়েছে। বিগত দুই বছর করোনা মহামারীর কারনে সারা বিশ্ব যেখানে থমকে গিয়েছিলো, সেখানে বাংলাদেশ তার অর্থনীতির চাকা সচল রেখে রিজার্ভ বৃদ্ধি করেছে। যখনই দেশের কোন ক্রান্তি কাল এসেছে তখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসহযোগী সংগঠন মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে খাদ্যদ্রব্য, নগদ অর্থ, ঔষধ, অক্সিজেন সহ বিভিন্ন সেবা সামগ্রী পৌছিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের এই ঈদ উপহার কিছুটা হলেও অসহায় মানুষের মুখে ঈদের হাঁসি ফোঁটাবে। তিনি মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ কে ধন্যবাদ দিয়ে আগামীতে এমন সব ভাল কাজের সাথে সংগঠনকে নিয়োজিত রাখতে আহবান জানান। তিনি সকলের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন আসুন সকল ভেদাভেদ ভুলে মানুষের সেবায় কাজ করতে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে এবং দেশরতœ জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প বাস্তবায়ন করতে আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীককে আবার বিজয়ী করি।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় শঙ্খমার্কেটস্থ দলীয় কার্যালয়ে খুলনা মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আয়োজনে ঈদ উপহার বিতরণ কালে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও খুলনা সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম.ডি.এ বাবুল রানা। এছাড়ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা কাউন্সিলর জেড এ মাহমুদ ডন, শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলম, মফিদুল ইসলাম টুটুল, এ্যাড. মো. সাইফুল ইসলাম। খুলনা মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এম.এ নাসিমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এস.এম আসাদুজ্জামান রাসেলের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবলীগের আহবায়ক সফিকুর রহমান পলাশ, সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মীর বরকত আলী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক রাসেল, মহানগর যুবলীগ নেতা কাজী কামাল হোসেন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ড.সাঈদুর রহমান, মো. গোলাম মাওলা টিংকু, শেখ মাসুম বিল্লাহ, ইদ্রিস আলী, মোঃ জিলহজ্জ হাওলাদার, মোঃ কামরুল ইসলাম, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, বুলবুল আহম্মেদ, মো. শফিকুল ইসলাম অভি, আশরাফুল আলম বাবু, শেখ রায়হান উদ্দিন, আসাদুল ইসলাম সানি, মারুফ চৌধুরী লেমন,মো. আমিরুল ইসলাম বাবু, মিটু দে, রাহাত আলী মোড়ল, মোঃ নাজমুল হক, সাকিব হাসান, কাজী ইউসুফ আলী মন্টু, মোঃ মোজাহার হোসেন মোজো, জাকির হোসেন, এম. আসিফ সবুজ, রুপম তালুকদার, কামরুজ্জামান ইমরান, মারুফ চৌধুরী রিমন, তাপস চোধুরী, সোহানুর রহমান সোহাগ, হাবিবুর রহমান, শওকাত হাওলাদার,মো. দেলোয়ার হোসেন, রফিকুল ইসলাম কাজল, মোঃ হানিফ শেখ, শেখ সাহিদ, রফিক খান, মোঃ রাজিব, রায়হান শিকদার, শেখ মো. নাজমুল হাসান, শেখ রাজিব হাসান, , কবির হোসেন, রাম মোহন সরদার, নাদিম খান, রবিন ধর, সারমিন সুলতানা মিথিলা, লতা আক্তার প্রিয়া, দিদারুল আলম, নাসির মৃধা,জাকির হোসেন খোকন, ফরহাদ হোসেন, আকরাম হুসাইন, আব্দুল্লাহ আল নোমান, মোঃ পিয়াল, মোঃ জাহিদুল ইসলাম বাদশা, বায়োজিদ হোসেন, মোঃ নাসির, মোঃ রাসেল, নুশান অভিসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবন্দ। ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে দুইশতাধিক নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়।

খুলনার আড়ংঘাটায় গ্লোবাল চ্যারিটেবল এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

ইউনিক প্রতিবেদক :

খুলনার আড়ংঘাটা ইউনিয়নের ০৯ টি ওয়ার্ডের অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে গ্লোবাল চ্যারিটেবল এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন।

বৃহস্পতি সকাল ১১টায় আড়ংঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে গ্লোবাল চ্যারিটেবল এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (টঝঅ) এর অর্থায়নে ও “মাহমুদ আলী ফাউন্ডেশন” এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেএমপি খালিশপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ূন কবির। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আড়ংঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম ফরিদ আক্তার, আড়ংঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর, বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোড়ল জাহাঙ্গীর হোসেন, আড়ংঘাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. দীন এলাহী, আড়ংঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো. সোহেল সরদার, মাহমুদ আলী ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মো. আনিসুর রহমান মোল্লা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আড়ংঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শেখ ইয়ার হোসেন। প্রধান সমন্বায়কারীর দায়িত্ব পালন করেন মো. তুহিন মোড়ল।

উক্ত অনুষ্ঠানে রামাদান ফুড বাস্কেট প্রোগ্রাম-২০২২ এর অংশ হিসেবে ৪০০ দরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী (২৫ কেজি চাল, ০১ কেজি চিনি, ০১ কেজি ছোলা, ০১ কেজি খেজুর ও ০২ কেজি চিড়া) বিতরণ করা হয়। এসময়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেনীর পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন

খুলনার রূপসা উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদকের জমি দখলের অভিযোগ

ইউনিক প্রতিবেদক :

খুলনার রূপসা উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশার বিরুদ্ধে জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সুজিত অধিকারীর পৈত্রিক সম্পত্তি জবর দখল করে ইটভাটা তৈরির এবং উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের ডোবা গ্রামের জনৈক গোপাল দাসের জায়গা জবর দখলেরও অভিযোগ উঠেছে। সেই সাথে ইটভাটায় অবৈধভাবে জমি দখলে সহযোগিতাকারীদের সমন্বয়ে এবার উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটি গঠনের পায়তারা করছেন তিনি। বুধবার (৩০ মার্চ) ঘাটভোগ ইউনিয়ন যুবলীগের সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও এসব বিষয়ে কিছুই জানেন না আহবায়ক মোঃ রউফ শিকদার। মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেছেন রূপসার ঘাটভোগ ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক মোঃ রউফ শিকদার। উপজেলা চেয়ারম্যানের এসব অনিয়মে সহায়তার অভিযোগ তুলেছেন উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক এবিএম কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে।

ঘাটভোগ ইউনিয়ন যুবলীগের দেড় যুগ ধরে আহবায়ক মোঃ রউফ শিকদার। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর যাবত থানা ও ইউনিয়ন যুবলীগের কোন সম্মেলন হয় না। যখন জেলা যুবলীগের সম্মেলন হবে জানতে পারছি; ঠিক সেই মুহুর্তে তড়িঘড়ি করে একটি মহল সংগঠন পরিপন্থিভাবে হঠাৎ করে তাকে না জানিয়ে, তার নাম ব্যবহার করে ৩০ মার্চ ইউনিয়ন যুবলীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেছে। এ বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি।

তিনি বলেন, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক এবিএম কামরুজ্জামান, রূপসা উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও রূপসা উপজেলার চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশার নির্দেশে সম্মেলনের বিষয়ে তার সাথে নুন্যতম কোন আলোচনা ছাড়াই সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার। মুলত এই সম্মেলনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন যাবৎ রূপসা উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও উপজেলার চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশা যাদের দ্বারা তার ইট ভাটায় বিভিন্ন লোকের সম্পত্তি জবর দখল করে ইট ভাটা পরিচালনা করছেন তাদের দিয়েই এই সম্মেলনের কমিটি করতে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। রূপসা আ’লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশা ইতিপূর্বে রূপসার ডোবা গ্রামের জনৈক গোপাল দাসের জায়গা জবর দখলে নিয়ে ইটভাটার মধ্যে। এমনকি জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সুজিত অধিকারীর পৈত্রিক সম্পত্তিও তিনি জবর দখল করে তার ইটভাটার ভিতরে নিয়েছেন। আত্মসম্মান রক্ষার্থে কিছুই বলেন না এ্যাড. সুজিত অধিকারী। তিনি লোকালয়ে, স্কুল, রাস্তার পার্শ্বে এবং আঠারো ঢেঁকি নদীর মাটি যেটা প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দ্বারা খননকৃত মাটি সেই মাটি নিয়ে তিনি ইট ভাটা পরিচালনা করছে যেটা পরিবেশ এবং আইন বিরোধী। বর্তমানে তিনি তার এই সকল অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে যুবলীগকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করার জন্য নিজস্ব লোক নিয়ে কমিটি করার জন্য আমাকে না জানিয়ে আগামীকাল ২৯/০৩/২০২২ তারিখ সম্মেলন করতে যাচ্ছে। যেখানে জামাত-বিএনপির লোক কমিটিতে আসতে পারে বলে আমি আশংকা করছি। বর্তমান এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ঘাটভোগ ইউনিয়নে পক্ষে এবং বিপক্ষে দু’টি গ্রুপের সৃষ্টি হয়েছে এবং একটি উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।

পরিশেষে তিনি বলেন, যেহেতু ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক হিসাবে দাওয়াতপত্রে আমাকে সভাপতি উল্লেখ করা হয়েছে- অথচ এ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না; বিধায় আগামীকালের সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করছেন তিনি।

রূপসা আ’লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশা মুঠোফোনে অভিযোগের বিষয়ে বলেন, এসব সুজিত অধিকারী আর ডাবলু পয়সা দিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে। আমি কারোরই জমি দখল করে রাখিনি। আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে মামলা দিয়েছে। ওরা যদি কিছু পারে তাহলে যেন আমার কিছু করে। আপনারা সাংবাদিকরা এলাকাতে এসে সঠিকভাবে তদন্ত করুন এ বিষয়ে।

জমি দখলের বিষয়ে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারী মুঠোফোনে জানান, চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশা আমার পৈত্রিক সম্পত্তি দখল করে ইটভাটা তৈরি করেছে। ডোবা গ্রামের জনৈক গোপাল দাসের জমি দখল করে রেখেছে চেয়ারম্যান বাদশা। এমনকি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দ্বারা খননকৃত মাটি সেই মাটি নিয়ে তিনি ইট ভাটা পরিচালনা করছে যেটা পরিবেশ এবং আইন বিরোধী। তার ভাটায় অভিযান চালালে এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

সাবেক দস্যু বাহিনী প্রধানের বিরুদ্ধে জেলেদের উপর জুলুম ও হয়রানী  এবং বনে আতংক সৃষ্টির অভিযোগ

ইউনিক প্রতিবেদক, মোংলা, বাগেরহাট : 

সুন্দরবনের সাবেক দস্যু বাহিনী প্রধানের বিরুদ্ধে নতুন করে জেলেদের উপর জুলুম ও হয়রানীসহ নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে দুর্গম বনাঞ্চলে নতুন করে আতংকের সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টায় মোংলা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জেলেরা এ অভিযোগ করেন।

সুন্দরবনের জেলে মোঃ শাাহজাহান লিখিত অভিযোগ ও বক্তব্যে বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চর সংলগ্ল লইট্যাখালী এলাকায় প্রায় ৪০ বছর ধরে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন তিনিসহ এক দল জেলে। কিন্তু গত ২২ মার্চ সকালে সাবেক দস্যু মাস্টার বাহিনীর প্রধান আব্দুল কাদের মাস্টার ও আইনশৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স পরিচয়ে জনৈক বেলায়েত ও দেবুসহ ১০/১২ জন লোক ওই সকল জেলেদের নৌকা-জাল নিয়ে সেখান থেকে চলে যাওয়ার হমকি দেয়। এরপর হুমকিদাতারা ওই জেলেদের জালের সামনে জাল পেতে মাছ ধরে সেই জায়গা দখলে নিয়ে নেয়। এতে ওই নিরীহ জেলেরা ভয়ে ও আতংকে জাল ফেলে লোকালয়ে চলে আসেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, ৩/৪ বছর আগেও সুন্দরবনের জেলেদের হত্যা, নির্যাতন ও অপহরণসহ চাঁদাবাজী করছিলো দস্যুরা। কিন্তু আইনশৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় দস্যু মুক্ত সুন্দরবনে বেশ ভালই ছিলেন সাধারণ জেলেরা। কিন্তু আত্মসমর্পনকারী সাবেক দস্যু বাহিনীর সদস্যরা সরকারীভাবে নানা সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করলেও সাবেক দস্যু মাস্টার বাহিনীর প্রধান ও তার সহযোগীদের অপতৎপরতার কাছে ফের অসহায় হয়ে পড়েছেন নিরীহ জেলে ও পেশাজীবিরা। এ সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবন থেকে ফিরে আসা অনেক জেলে উপস্থিত ছিলেন। এ থেকে প্রতিকার পেতে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মােংলার আ’লীগ নেতাসহ ছেলের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি ও হুম‌কি প্রদানের অভিযোগ

ইউনিক প্রতিবেদক: 

শিশু গৃহপ‌রিচা‌রিকাকে যৌন নিপীড়নের মামলা করায় মােংলা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হােসেন ও তার ছেলে রনির বিরুদ্ধে নানাভাবে ভয়ভী‌তি ও হুম‌কি প্রদানের অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। সেই সাথে পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ করেন পরিবারটি।

আজ মঙ্গলবার (২২ মার্চ) দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিশুটির ফুপু মানজুম আক্তার। তি‌নি খুলনার লবনচরা থানার মােক্তার হোসেন সড়কের বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো জানান, মানজুম আক্তারের ভাই রাকিব তালুকদারের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর শিশু কন্যা রিভা (১০)কে ২০২১ সালে লালন-পালনের কথা বলে আসামি মােঃ রনি মােংলায় নিয়ে যান। মােংলার বাতেন সড়কে অবস্থিত বাড়িতে নিয়ে রনি ওই রিভাকে প্রায় সময় যৌন নিপীড়ন চালাতো। এবং বিষয়টি কাউকে না বলতে ওই শিশুটিকে নানা ধরনের ভয়ভীতি দিতেন। শারীরিক নির্যাতনও চালাতেন। এছাড়া রনি’র স্ত্রী রীমা (৩২) ওই শিশুটিকে মারাত্বকভাবে নির্যাতন করতো। সর্বশেষ গত ২৮ আগস্ট সারাদিন বাসার কাজ করে রিভা রাতে ঘুমিয়ে পড়ে। গভীর রাতে রনি এসে রিভাকে বিবস্ত্র করে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষনের চেষ্টা করে। তাছাড়া রনির স্ত্রি রিমাও রিভাকে শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। পরদিন সকালে রিভা বাসার একটি মোবাইল ফোন থেকে কৌশলে ফুফু মানজুকে ফোন করে এসব কথা জানায়। খবর পেয়ে ভাই রাকিব তালুকদার ও মানজুম মােংলায় গিয়ে রিভাকে খুলনায় নিয়ে আসে। পরদিন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)কে ভর্তি করা হয়।

এঘটনায় গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর খুলনা সদর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ না নিয়ে আদালতে যেতে পরামর্শ দেন। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মানজুম আক্তার বাদি হয়ে রনি ও স্ত্রি রিমাকে আসামি করে পিটিশন দায়ের করে (নং-৯৬/২১)। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরাে অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে নির্দেশ দেন। ২৮ অক্টোবর খুলনার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম সুমি আহমেদ ভিকটিমের ২২ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব‌্যুরাে অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’র পুলিশ পরিদর্শক মনজুরুল হাসান মাসুদ তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে আসামি রনি’র বিরুদ্ধে ওই শিশুকে যৌন নিপীড়ন ও শারীরিক নির্যাতনের অপরাধে জড়িত বলে অভিযুক্ত করেন। আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও গ্রেফতার হননি রনি। গত ২০ মার্চ খুলনার আদালত থেকে জামিন নেন আসামি রনি। রনির স্ত্রীকে মামলা থেকে বাদ দেন তদন্ত কর্মকর্তা। তদন্ত কর্মকর্তা ওই অসহায় প‌রিবা‌রের কাছে ১লাখ টাকা চেয়েছিলেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন মানজুম আক্তার।