পদ্মা সেতু বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী সৃষ্টি এবং স্থাপত্য শিল্পের মাইল ফলক : মোঃ মফিদুল ইসলাম টুটুল

মোঃ শহীদুল হাসান :

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। পদ্মা বহুমুখী সেতু বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী সৃষ্টি ও স্থাপত্য শিল্পের মাইল ফলক। পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বিশ্ব দরবারে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মোঃ মফিদুল ইসলাম টুটুল।

আগামী ২৫জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনীকে ঘিরে সারা দেশে যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, সমৃদ্ধি, উন্নয়ন ও মানবতার নেত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও দৃঢ়তার ফলে পদ্মা সেতু আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের একুশটি জেলার জনগণের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও দাবি ছিল পদ্মা সেতুর। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাও বঙ্গবন্ধুর মতো একজন ভিশনারি লিডার। তিনি পদ্মা নদীর ওপর সেতুর শুধু স্বপ্নই দেখেননি তার বাস্তব সৃষ্টিও দেখতে চেয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে তিনি পদ্মা সেতুর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ হাতে নেন। ১৯৯৮-১৯৯৯সালে বিশেষজ্ঞ দল দ্বারা সেতুর সম্ভাব্যতা বা ফিজিবিলিটি স্টাডি করান। ২০০১সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে পদ্মা সেতুর নির্মাণের বাস্তব ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তারপরেও বঙ্গবন্ধু কন্যা স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কথা বিস্মৃত হননি। ২০০৮সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইস্তেহারে পদ্মা সেতু নির্মানে জনগনকে স্বপ্ন দেখান ও প্রতিশ্রুতি দেন। দেশের মানুষ শেখ হাসিনার পদ্মা সেতুর স্বপ্নের উপর আস্থা রেখে নির্বাচনে বোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করে। নির্বাচনে জয় লাভের পর সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইস্তেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ হাতে নেন। সরকারের পরিকল্পনা ছিল বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে।

২০১১ সালের ২৮এপ্রিল বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১২০কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা চুক্তি সই হয়। এছাড়া ১৮ মে জাইকার সঙ্গে, ২৪ মে আইডিবির সঙ্গে এবং ৬ জুন এডিবির সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই বছর অর্থাৎ ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাংক অভিযোগ করে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক তাদের ঋণচুক্তি বাতিল করে। প্রথম থেকেই দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা পদ্মা সেতু নির্মাণে বিরোধিতা করে আসছিলো। ষড়যন্ত্রকারীরা চেয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারকে বিপাকে ফেলতে। দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ এনে সরকারের জনপ্রিয়তা কমানোর পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে বরাবরের মতই বৈষম্যের বেড়াজালে আটকে রাখতে পদ্মা সেতু নির্মান বন্ধ করাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। বাস্তবে তার উল্টোই হয়েছে। বিশ্বব্যাংক কর্তৃক ঋণচুক্তি বাতিল বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদই হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ঋণচুক্তি স্থগিত করলে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন পদ্মা সেতু অবশ্যই হবে। তবে তা নিজস্ব অর্থায়নেই।অন্যের কাছ থেকে হাত পেতে টাকা এনে পদ্মা সেতু করবেন না। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা শত প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরু করেন। বাংলাদেশ পদ্মা সেতুর মতো একটি বৃহৎ বহুমুখী সেতু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত করতে সক্ষম হয়েছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি বহির্বিশ্বে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ২৫শে জুন ফিতা কেটে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন এটা বাংলাদেশ তথা বিশ্বের ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। পদ্মা নদীর উপরে শুধু একটি সেতু নয়-এটি একটি লালিত স্বপ্নের সফলতা। পদ্মা বহুমুখী সেতু শুধু যোগাযোগ নেটওয়ার্ক-এর বিপ্লব ঘটাবে না। এ সেতু সতেরো কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পদ্মা সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার ২ কোটি মানুষের আঞ্চলিক বৈষম্য কমার পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। এ অঞ্চলে নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা স্থাপনের ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে। মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরের গুরুত্ব বেড়ে যাবে। ভোমরা, বেনাপোল বন্দরসহ ভারতের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি পাবে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের দ্বিখন্ডিত বাংলাদেশকে সড়কপথে ঐক্যবদ্ধ করবে। এই সেতু সড়ক ও রেলপথের যোগাযোগের মাধ্যমে তড়িৎ অগ্রগতি সাধিত হবে। পণ্য পরিবহন, ব্যবসা বাণিজ্য শিক্ষা চিকিৎসা শাস্ত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

তিনি প্রত্যাশা করে বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে মানুষের যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সমীক্ষা অনুযায়ী, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) ১ দশমিক ২৩ শতাংশ বাড়বে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২দশমিক ৩শতাংশ। দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের নুতন দ্বার উন্মোচিত হবে। তবে শুরুতেই বড় গতিশীলতা আসবে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে। সেতুর কারণে সব ধরণের কৃষিপণ্য তাদের সবচেয়েৎকাঙ্ক্ষিত বাজারে দ্রুত যেতে পারবে। শুধু ঢাকা নয়, বরং বড় বড় জেলায়শহরগুলোতেও তাদের পণ্য যাওয়ার সুযোগ পাবে। পদ্মা সেতুর প্রাথমিক প্রভাবয়পড়বে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি খাতে আর দীর্ঘমেয়াদী সুফল আসবে ভারী শিল্পখাতে। ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন ও খানজাহান আলী মাজার, ষাট গম্বুজ মসজিদ ঘিরে পর্যটনের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। যা বাংলাদেশকে পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় পর্যটন শিল্পের দেশে রুপান্তরিত করবে বলে মনে করেন। এই ব্যবসায়ী নেতার প্রত্যাশা পদ্মা সেতু যোগাযোগের বড় দিগন্ত উন্মোচন করবে। সে বিষয়ে তার কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু এই যোগাযোগ সুবিধাকে অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপান্তর করতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস, বিদ্যুতসহ অন্য অবকাঠামোতেও নজর দিতে হবে বলেও জানান তিনি।

খুলনা রেলওয়ের স্টেশন মাষ্টারকে শোকজ ও পাকশীতে তলব

খুলনা রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার

ইউনিক প্রতিবেদক :

কর্তৃপক্ষের মিথ্যা অযুহাতে পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে থানায় সাধারণ ডায়েরি করায় স্টেশন মাস্টারকে শোকজ সহ বিভাগীয় সদর দপ্তরে তলব করা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) পাকশি মো. আনোয়ার হোসেন খুলনা রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার মানিক চন্দ্র সরকারকে এ শোকজ করেন। শোকজে মানিক চন্দ্রকে ১৯ মে বৃহস্পতিবারে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে শোকজের জবাব দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।
রেল সূত্র জানায়, গত ১৬ মে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার মানিক চন্দ্র সরকার উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে খুলনার ৫ কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে খুলনার রেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। ডায়েরী করার পরে স্টেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের রোষানলে পড়লে তখন তিনি বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের নাম বলেন। তখন তিনি বলেন, ‘আমি রেলের বিভাগীয় পরিবহণ কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই রেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছি।” একই সাথে তিনি সাধারণ ডায়েরীতে উল্লেখ করেন যে, “ স্টেশনের শান্তি শৃংখলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে বিভাগীয় পরিবহণ কর্মকর্তার টেলিফোন নির্দেশে আমি এই সাধারণ ডায়েরী রেল থানায় নথিভুক্ত করেছি।” তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, “রেলওয়ের টিএক্সআর বায়তুল ইসলাম, আইডব্লিউ অফিসের মো. জাফর মিয়া, তোতা মিয়া, সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. আশিক আহম্মেদ ও সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. জাকির হোসেনে কালোবাজারে টিকিট বিক্রি করেন এবং তারা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ভূয়া নাম ব্যবহার করে টিকিটের চাহিদা প্রদান করে টিকিট গ্রহণ করেন। টিকিট না পেলে তারা বহিরাগতদের দিয়ে আমাকে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করেন এবং স্টেশন ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও মারধরের পায়তার নীলনকসা করছে। এছাড়া আমার মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়েছে।” এই জিডি কপি বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তার হাতে পৌছালে তাৎক্ষনাত তিনি খুলনার স্টেশন মাষ্টার মানিক চন্দ্র সরকারকে কারন দর্শিয়ে বিভাগীয় সদর দপ্তরে স্বশরীরে এসে উত্তর প্রদানের নির্দেশ দেন।
এদিকে খুলনা রেল স্টেশনে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান যে, এই স্টেশন মাষ্টার মানিক চন্দ্র সরকার এর আগে টিকিট কালোবাজারে বিক্রি করার অভিযোগে পানিষ্টমেন্ট ট্রান্সফার (শাস্তিমূলক বদলি) হয়েছিলো। এছাড়া তাকে কখনই তার চেয়ারে পাওয়া যায় না। তাকে মোবাইল করলেও তিনি ফোন রিসিভি করে না বলে কর্মকর্তা কর্মচারী সহ অসংখ্য ট্রেনযাত্রীরা অভিযোগ করেন।
এব্যাপারে রেলওয়ের টিএক্সআর বায়তুল ইসলাম বলেন, “আমরা কখনওই টিকিট কালো বাজারী করি না। স্টেশন মাষ্টারকে ট্রেন যাত্রীরা চেয়ারে না পেয়ে আমাদের কাছে আসে। তখন আমরা উপায়ান্ত না পেয়ে রেলের যাত্রী সেবার কথা বিবেচনায় নিয়ে যাত্রীদের কথা শুনি। এছাড়া আমরা খুলনায় বসবাস করি, আমাদের সাথে অনেক রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, অনেক সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা টিকিট না পেয়ে আমাদের স্মরণাপন্ন হন। এমনকি আমাদের রেলের অনেক কর্মকর্তা আছেন তাদের নির্দেশ শুনতে আমাদেরকে লাইনে দাড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করে দিতে হয়। এটি যদি আমাদের দোষ হয় তাহলে আমরা সে দোষে দোষী। আমরা প্রধানমন্ত্রীর সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোরায় পৌছে দিতে চাই।”
সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. আশিক আহম্মেদ বলেন, “স্টেশন মাষ্টার সাধারণ মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। আর তিনি ঠিকমত অফিসে বসেন না। ফলে সেবা গ্রহণকারী যাত্রীদের চাপ আমাদের উপর এসে পড়ে।” তিনি এক প্রশ্নের জবাবে দৈনিক দেশ সংযোগকে বলেন, “টিকিট আমরা কেন কালো বাজারে বিক্রি করবো? টিকিট তো কালোবাজারে মাষ্টার নিজেই বিক্রি করেন। তিনি যে কালো বাজারে টিকিট বিক্রি করে তার একটি তালিকা আমাদের কাছে রয়েছে। আর তিনি এতই উচু মাপের কর্মকর্তা যে, তিনি কোন নেতাদের হিসাবে রাখেন না। তিনি আমাদের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথেও খারাপ আচরণ করেন। আমরা সব সময় তার সহযোগীতা করে আসছি। আর তার স্বার্থ ফুরিয়ে গেলেই আমাদের সাথে এ ধরনের জীবিকার উপর হুমকি নিয়ে আসেন।”
এদিকে কারন দর্শানো নোটিশের বিষয়ে খুলনা রেল স্টেশন মাষ্টারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তার ফোনে ঢুকলেও তিনি ফোন কেটে দেন।
এ ব্যাপারে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেনকে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

বঙ্গবন্ধু দিয়েছেন স্বাধীনতা আর শেখ হাসিনা দিয়েছেন অর্থনৈতিক মুক্তি : সাবেক ছাত্রলীগ ফোরামের ঈদ পুনর্মিলনীতে বাবুল রানা

ইউনিক প্রতিবেদক:

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সংগঠনটির দীর্ঘ পথচলায় রয়েছে দেশ ও জাতির জন্য গৌরবময় অসংখ্য অর্জন। সমৃদ্ধ সেসব অর্জন জাতিকে দিয়েছে নতুন পথের ঠিকানা। স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের যেভাবে হলো, সে শব্দ প্রাপ্তিতে সংগঠনটির অবদান ইতিহাসের পাতায় আজও উজ্জ্বল হয়ে আছে। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন দাবি ও প্রেক্ষাপটের আলোকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা প্রতিষ্ঠিত করার দাবিতে; সর্বোপরি সাংগঠনিক প্রয়োজনীয়তা ও সংঘবদ্ধভাবে সফল আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই জাতির পিতা ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রলীগের রয়েছে অনন্য ভূমিকা। এ ছাত্র সংগঠনটিই হলো আওয়ামী লীগের প্রাণ।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আমাদের দিয়েছেন স্বাধীনতা আর জননেত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন অর্থনৈতিক মুক্তি। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশে ফিরে পিতার পথ ধরে সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। সরকার প্রধান হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সুযোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারণে আজ বিশ্ব নেত্রীতে পরিণত হয়েছেন। ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত করতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। আর একাজে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীদের সবসময়ের মতো জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহায়তা করতে হবে।

খুলনা সাবেক ছাত্রলীগ ফোরামের আয়োজনে নগরীর লিনিয়ার পার্কে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মিলন মেলা ও ঈদপুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেডিএ‘র স্থায়াী সদস্য জামাল উদ্দিন বাচ্চু, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ও প্যানেল মেয়র আলী আকবর টিপু। ছাত্রলীগের ফোরামের আহ্বায়ক ও মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আফরোজা জেসমিন বিথীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ১৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আবিদ উল্লাহ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল হক, ২৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জি এম রেজাউল ইসলাম, সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর, দিলীপ বর্মণ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আমিরুল ইসলাম লিটু, নুরে আলম ময়না, শাহিদা আক্তার রিনি, এ্যাড. মাহবুব রহমান, শহীদুল ইসলাম সবুজ সহ সাবেক ছাত্রলীগের নেতকর্মী, সমর্থক ও তাদের পরিবারবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

মিলনমেলায় সবার জন্য বিভিন্ন প্রতিযোগীতা, কৃতি শিক্ষার্থী সন্তানদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট, সকল বাচ্চাদের জন্য ক্রেস্ট প্রদান, ফানুস উড়ানো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

বাণীশান্তার তিনফসলি জমিতে বালি ফেলার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের সুপষ্ট লঙ্ঘন : বাপা’র খুলনা সংলাপে বক্তারা

ইউনিক প্রতিবেদক :

বাণীশান্তার তিনফসলি উর্বর জমিতে মোংলা বন্দর কর্তৃক পশুর নদী খননের বালি ফেলার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ইতিমধ্যেই খননকৃত বালি ফেলার কারনে চিলা এলাকার পশুর নদী পাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা-স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। খননকৃত বালি দ্বারা পশুর নদীর অববাহিকার ব-দ্বীপ পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রকে ধ্বংস করছে এতে কোন সন্দেহ নেই। বাণীশান্তার তিনশো একর কৃষিজমিতে খননকৃত বালি ফেলার সিদ্ধান্ত’র বহু বিকল্প প্রস্তাব রয়েছে। তাই পশুর নদী খননের সমস্যা সমাধানের জন্য টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

শনিবার সকালে খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু ( ভিআইপি লাউঞ্জ ) মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং বাণীশান্তা ইউনিয়ন কৃষিজমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে ” পশুর নদী খননকৃত বালির কবল থেকে বাণীশান্তা ইউনিয়নের তিনশো একর তিনফসলি কৃষিজমি রক্ষায় করনীয়” শীর্ষক খুলনা সংলাপে বক্তারা একথা বলেন।

সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত খুলনা সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) খুলনার আহ্বায়ক এ্যাড. বাবুল হাওলাদার। সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ননী গোপাল মন্ডল। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল। এছাড়া খুলনা সংলাপে বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য এস এ রশিদ, খুলনা পরিবেশ মঞ্চ’র আহ্বায়ক এ্যাড. কুদরত-ই-খোদা, সাংবাদিক-গবেষক গৌরাঙ্গ নন্দী, ক্লিন খুলনার প্রধান নির্বাহি হাসান মেহেদী, দাকোপ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান গৌরপদ বাছাড়, সাবেক ছাত্রনেতা পূর্ণেন্দু দে, বাসদ নেতা জনার্দন দত্ত নান্টু, ওয়ার্কার্স পাটির নেতা শেখ মহিদুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টি ( মার্কসবাদী ) নেতা কমরেড মোজাম্মেল হক, সাংবাদিক এইচ এম আলাউদ্দিন, সিপিডি’র খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী ইকবাল হোসেন বিপ্লব, সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক এস এম শাহনওয়াজ আলী, বাপা বাগেরহাট জেলার নেতা সৈয়দ মিজানুর রহমান, বাণীশান্তা ইউপি চেয়ারম্যান সুদেব কুমার রায়, লাউডোব ইউপি চেয়ারম্যান শেখ যুবরাজ, কৃষক নেতা এ্যাড. রুহুল আমীন, কৃষক নেতা গৌরাঙ্গ প্রসাদ রায়, ছাত্র ইউনিয়ন খুলনা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র সৌরভ, বাণীশান্তা ইউনিয়ন কৃষিজমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির নেতা সত্যজিৎ গাইন, বাণীশান্তা ইউপি সদস্য জয়দেব কুমার মানিক, হিরন্ময় মন্ডল, ইউপি সদস্য পাপিয়া মিস্ত্রি, উন্নয়নকর্মী মেরিনা যুথী, চিলা ইউনিয়ন কৃষিজমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির নেতা হুমায়ুন কবির প্রমূখ। সংলাপ সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর জাতীয় পরিষদ সদস্য মো. নূর আলম শেখ। প্রধান বক্তা বাপা’র সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন সরকারের মধ্যে ভালো-মন্দ লোক আছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বাণীশান্তার কৃষিজমিতে বালি ফেলার ষড়যন্ত্র করছে। আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। বাণীশান্তার সংখ্যালঘু মানুষের কৃষিজমিতে বালি ফেলললে সরকার আন্তর্জাতিক ভাবে সমালোচিত হবে। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সাবেক সংসদ ননী গোপাল মন্ডল বলেন বাণীশান্তার কৃষিজমিতে বালি ফেলার বিষয় জাতীয় সংসদে আলোচনা দরকার ছিলো। সংসদ সদস্য আছে পার্লামেন্ট আছে কিন্তু সংসদে আলোচনা হচ্ছে না। পশুর নদীর বালি ফেলার জন্যে বিকল্প জায়গা খুঁজতে হবে। প্রয়োজনে বন্দরকে আরো দক্ষিণে সরিয়ে নিতে হবে। বন্দর বড় না মানুষ বড়। আশার আলো বাণীশান্তার কৃষকদের পাশে রাজনৈতিক-মানবিক এবং পরিবেশবাদী সংগঠন দাড়িয়েছে। বাণীশান্তার সমস্যা জাতীয় ভাবে তুলে ধরার জন্যে বাপাকে ধন্যবাদ। সভাপতির বক্তব্যে বাপা খুলনার সমন্বয়কারী বাবুল হাওলাদার কৃষি এবং কৃষক বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে গণসংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

মোংলায় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের ঘর পাচ্ছেন ১৪০ পরিবার

ইউনিক প্রতিবেদক, মোংলা, বাগেরহাট :

মোংলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহার স্বরুপ ঘর পাচ্ছেন ১৪০টি পরিবার। আশ্রয়ণ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে দেয়া হচ্ছে এ ঘর। উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের মাকড়ঢোন এলাকায় নির্মিত হচ্ছে ঘরগুলো। বেশির ভাগ ঘরেরই কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। পৌরসভার শেষ সীমান্তে ও উপজেলার চাঁদপাই এবং বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের মাঝে আন্তর্জাতিক মোংলা-ঘাষিয়াখালী বঙ্গবন্ধু চ্যানেলের পাড়ে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক এ ঘরগুলো। সেখানকার পরিবেশ দেখে যে কেউই ভাববেন এটি কোন রিসোর্টই হবে। এখানে ঘরের পাশাপাশি খোলা জায়গা ও পুকুর রয়েছে। রয়েছে ক্ষেত ও ফসল চাষের মাঠও। নতুন এ ঘরে থাকছে বিদ্যুৎ সংযোগও। প্রত্যেক পরিবারকে ঘর ও জমির কাগজপত্র বুঝিয়ে দেয়া হবে শীগগিরই। তৃতীয় পর্যায়ের এ ঘরগুলো পূর্বের দুই দফায় দেয়া ঘরের চেয়ে মজবুত ও ব্যয়বহুলও। এবারের প্রতিটি এ ঘরে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। এর আগে প্রতিটিতে ব্যয় ছিলো ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এদিকে চাঁদপাই ইউনিয়নের মাকড়ডোন গ্রামে নির্মিত এ ঘর প্রকৃত ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে হস্তান্তর উপলক্ষে সোমবার বেলা ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে।

আর এ ঘরগুলো সুন্দরভাবে নির্মাণ সম্পন্ন করতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার। তিনি বলেন, অত্যন্ত সুন্দর একটি পরিবেশে এ ঘরগুলো করা হয়েছে। ঘর নির্মাণে মানসম্মত সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে খুব টেকসই হয়। কাজ শেষ পর্যায়ে উপকারভোগীরা নতুন এ ঘরেই ঈদ করতে পারবেন।

আ’লীগ এদেশের মাটি ও মানুষের কল্যাণ এবং ভাগ্যোন্নয়ণের রাজনীতি করে : খুলনা নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঈদ উপহার বিতরণকালে সেখ জুয়েল এমপি

বিজ্ঞপ্তি :

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভ্রাতুষ্পুত্র খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল বলেন, “জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের শাসনামলে দেশের একটি মানুষও না খেয়ে থাকবে না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যেমন সারাজীবন এই দেশ ও দেশের মানুষের কল্যানের জন্য রাজনীতি করে গেছেন, জীবন বিলিয়ে দিয়ে গেছেন ঠিক তেমনি তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এদেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ও সুখী সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ বির্নিমাণে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এদেশের মাটি ও মানুষের কল্যাণ এবং ভাগ্যোন্নয়ণের রাজনীতি করে। তিনি আরও বলেন, তার সরকারের আমলে এদেশে কোন মানুষ যেমন ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবে না। সে কারনেই তিনি এদেশের প্রায় সাড়ে ৯ লাখ ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষকে জমিসহ ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। একই সাথে মানুষের নিরাপদ খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন। তার নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশের মানুষ যাতে নিরাপদে ও শান্তিতে বসবাস করতে পারে সে লক্ষে তিনি আইন-শৃংখলার পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছেন। তৎকালীন বিএনপি জোট সরকারের আমলের মত আজ দেশে জঙ্গী হামলা, বোমা হামলা হয় না। দেশের মানুষ আজ শান্তিতে আছেন। দেশের জনগণের সার্বিক জীবন মান উন্নত হয়েছে। বিগত দুই বছর করোনা মহামারীর কারনে সারা বিশ্ব যেখানে থমকে গিয়েছিলো, সেখানে বাংলাদেশ তার অর্থনীতির চাকা সচল রেখে রিজার্ভ বৃদ্ধি করেছে। যখনই দেশের কোন ক্রান্তি কাল এসেছে তখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসহযোগী সংগঠন মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে খাদ্যদ্রব্য, নগদ অর্থ, ঔষধ, অক্সিজেন সহ বিভিন্ন সেবা সামগ্রী পৌছিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের এই ঈদ উপহার কিছুটা হলেও অসহায় মানুষের মুখে ঈদের হাঁসি ফোঁটাবে। তিনি মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ কে ধন্যবাদ দিয়ে আগামীতে এমন সব ভাল কাজের সাথে সংগঠনকে নিয়োজিত রাখতে আহবান জানান। তিনি সকলের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন আসুন সকল ভেদাভেদ ভুলে মানুষের সেবায় কাজ করতে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে এবং দেশরতœ জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প বাস্তবায়ন করতে আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীককে আবার বিজয়ী করি।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় শঙ্খমার্কেটস্থ দলীয় কার্যালয়ে খুলনা মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আয়োজনে ঈদ উপহার বিতরণ কালে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও খুলনা সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম.ডি.এ বাবুল রানা। এছাড়ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা কাউন্সিলর জেড এ মাহমুদ ডন, শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলম, মফিদুল ইসলাম টুটুল, এ্যাড. মো. সাইফুল ইসলাম। খুলনা মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এম.এ নাসিমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এস.এম আসাদুজ্জামান রাসেলের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবলীগের আহবায়ক সফিকুর রহমান পলাশ, সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মীর বরকত আলী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক রাসেল, মহানগর যুবলীগ নেতা কাজী কামাল হোসেন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ড.সাঈদুর রহমান, মো. গোলাম মাওলা টিংকু, শেখ মাসুম বিল্লাহ, ইদ্রিস আলী, মোঃ জিলহজ্জ হাওলাদার, মোঃ কামরুল ইসলাম, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, বুলবুল আহম্মেদ, মো. শফিকুল ইসলাম অভি, আশরাফুল আলম বাবু, শেখ রায়হান উদ্দিন, আসাদুল ইসলাম সানি, মারুফ চৌধুরী লেমন,মো. আমিরুল ইসলাম বাবু, মিটু দে, রাহাত আলী মোড়ল, মোঃ নাজমুল হক, সাকিব হাসান, কাজী ইউসুফ আলী মন্টু, মোঃ মোজাহার হোসেন মোজো, জাকির হোসেন, এম. আসিফ সবুজ, রুপম তালুকদার, কামরুজ্জামান ইমরান, মারুফ চৌধুরী রিমন, তাপস চোধুরী, সোহানুর রহমান সোহাগ, হাবিবুর রহমান, শওকাত হাওলাদার,মো. দেলোয়ার হোসেন, রফিকুল ইসলাম কাজল, মোঃ হানিফ শেখ, শেখ সাহিদ, রফিক খান, মোঃ রাজিব, রায়হান শিকদার, শেখ মো. নাজমুল হাসান, শেখ রাজিব হাসান, , কবির হোসেন, রাম মোহন সরদার, নাদিম খান, রবিন ধর, সারমিন সুলতানা মিথিলা, লতা আক্তার প্রিয়া, দিদারুল আলম, নাসির মৃধা,জাকির হোসেন খোকন, ফরহাদ হোসেন, আকরাম হুসাইন, আব্দুল্লাহ আল নোমান, মোঃ পিয়াল, মোঃ জাহিদুল ইসলাম বাদশা, বায়োজিদ হোসেন, মোঃ নাসির, মোঃ রাসেল, নুশান অভিসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবন্দ। ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে দুইশতাধিক নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় সরকার উপকূলীয় এলাকার নারীদের জীবিকায়ন ও সুপেয় পানি নিশ্চিত করেছে : মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী

আজগর হোসেন সাব্বির, দাকোপ, খুলনা : 

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় সরকার উপকূলীয় এলাকার ৪৩ হাজার পরিবারের জীবিকায়নে সহায়তা প্রদান করছে। এসব পরিবারের জন্য জলবায়ু সহিষ্ণু, নিরাপদ এবং সারা বছর পানযোগ্য পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে। গ্রীণ ক্লাইমেট এডাপটেশন (জিসিএ) প্রকল্পের আওতায় খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার ৫টি উপজেলায় ১৩ হাজার পরিবারে জন্য খানাভিত্তিক রেইন ওয়াটার হারভেষ্টিং সিস্টেম স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। এ প্রকল্প থেকে ২২৮ টি কমিউনিটি, ১৯টি প্রতিষ্ঠান ও ৪১ টি পুকুর ভিত্তিক আল্ট্রা-ফিল্ট্রেশন রেইন ওয়াটার হারভেষ্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ৩০ হাজার পরিবার সুপেয় পানিয়জলের সুবিধা পাবে।

মঙ্গলবার খুলনার দাকোপ উপজেলায় গড়খালি পল্লীমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায় বাস্তবায়িত ‘উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর, বিশেষত নারীদের, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবনাক্ততা মোকাবেলায় অভিযোজন সক্ষমতাবৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পের আওতায় রেইন ওয়াটার হারভেষ্টিং সিস্টেমের হস্তান্তর ও অপারেশন কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর একটি বাংলাদেশ অথচ জলবায়ুর পরিবর্তনে বাংলাদেশের কোন দায় নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে তীব্র ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে স্বাদুপানির এলাকাসমূহে লবনাক্ত পানির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। যার ফলে উপকূলীয় বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠীর পানীয় জলের সহজলভ্যতা, স্বাদুপানি নির্ভর কৃষিকাজ ও জীবিকার ওপর ব্যাপক বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এর ফলে নারী ও শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঘরে খাওয়ার পানি না থাকলে, তা সংগ্রহের জন্য নারীদের অনেক কষ্ট করতে হয়।

খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান বেগম চেমন আরা তৈয়ব, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভীন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তুষার মোহন সাধু খাঁ, ইউএনডিপি’র সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি সরদার এম আসাদুজ্জামান, প্রকল্প পরিচালক মোঃ ইকবাল হোসেন, দাকোপ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খান, দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিন্টু বিশ্বাস।

প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা বলেন, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের কারণে বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠীর জলবায়ু সহনশীল জীবিকা এবং পানীয় জলের সমাধানের জন্য বাংলাদেশ সরকার, গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) এবং ইউএনডিপির সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এটি বাংলাদেশ তথা বিশ্বের মধ্যে প্রথম জিসিএফ প্রকল্প যেটি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের নেতৃত্বে নারীদের জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। সরকার জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বিভিন্ন পরিকল্পনা, কর্মসূচি, নীতি ও কৌশল বাস্তবায়ন করছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আর্থসামাজিক উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে জয়যুক্ত করার আহবান জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা গড়খালি পল্লীমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং স্থাপনাটি ২৫ জন উপকারভোগীর নিকট হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় নারী ও জনপ্রতিনিধিরা উপকূলীয় এলাকার সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানান।

উল্লেখ্য ‘উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর, বিশেষত নারীদের, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবনাক্ততা মোকাবেলায় অভিযোজন সক্ষমতাবৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পটি ২৭৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে (সরকারি ৬৭ কোটি ১৬ লাখ এবং জিসিএফ ফান্ড ২০৯ কোটি ৭০ লাখ) ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে। খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার ৫ টি উপজেলায় ৩৯ টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পের মোট সুবিধাভোগী ৭ লাখ ১৯ হাজার ২২৯ জন। প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য উপকূলীয় এলাকার নারীদের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জীবিকায়ন; নারীদের অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি; সুপেয় পানি নিশ্চিত করা এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়।

সাবেক দস্যু বাহিনী প্রধানের বিরুদ্ধে জেলেদের উপর জুলুম ও হয়রানী  এবং বনে আতংক সৃষ্টির অভিযোগ

ইউনিক প্রতিবেদক, মোংলা, বাগেরহাট : 

সুন্দরবনের সাবেক দস্যু বাহিনী প্রধানের বিরুদ্ধে নতুন করে জেলেদের উপর জুলুম ও হয়রানীসহ নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে দুর্গম বনাঞ্চলে নতুন করে আতংকের সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টায় মোংলা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জেলেরা এ অভিযোগ করেন।

সুন্দরবনের জেলে মোঃ শাাহজাহান লিখিত অভিযোগ ও বক্তব্যে বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চর সংলগ্ল লইট্যাখালী এলাকায় প্রায় ৪০ বছর ধরে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন তিনিসহ এক দল জেলে। কিন্তু গত ২২ মার্চ সকালে সাবেক দস্যু মাস্টার বাহিনীর প্রধান আব্দুল কাদের মাস্টার ও আইনশৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স পরিচয়ে জনৈক বেলায়েত ও দেবুসহ ১০/১২ জন লোক ওই সকল জেলেদের নৌকা-জাল নিয়ে সেখান থেকে চলে যাওয়ার হমকি দেয়। এরপর হুমকিদাতারা ওই জেলেদের জালের সামনে জাল পেতে মাছ ধরে সেই জায়গা দখলে নিয়ে নেয়। এতে ওই নিরীহ জেলেরা ভয়ে ও আতংকে জাল ফেলে লোকালয়ে চলে আসেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, ৩/৪ বছর আগেও সুন্দরবনের জেলেদের হত্যা, নির্যাতন ও অপহরণসহ চাঁদাবাজী করছিলো দস্যুরা। কিন্তু আইনশৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় দস্যু মুক্ত সুন্দরবনে বেশ ভালই ছিলেন সাধারণ জেলেরা। কিন্তু আত্মসমর্পনকারী সাবেক দস্যু বাহিনীর সদস্যরা সরকারীভাবে নানা সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করলেও সাবেক দস্যু মাস্টার বাহিনীর প্রধান ও তার সহযোগীদের অপতৎপরতার কাছে ফের অসহায় হয়ে পড়েছেন নিরীহ জেলে ও পেশাজীবিরা। এ সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবন থেকে ফিরে আসা অনেক জেলে উপস্থিত ছিলেন। এ থেকে প্রতিকার পেতে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পাইকগাছায় সুখেন হত্যার কারণ পরকিয়া : খুনি প্রকাশ গ্রেফতার

ইউনিক প্রতিবেদক, পাইকগাছা :

খুলনার পাইকগাছায় সুখেন হত্যার মোটিভ দুই সপ্তাহ পর উদঘাটিত হয়েছে।  খুনি প্রকাশ গ্রেপ্তারের পর ফোনের আসল রহস্য বেরিয়ে এসেছে। স্ত্রীর সাথে পরকিয়ার কারণেই সুখেনকে খুন করা হয়েছে বলে প্রকাশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

খুলনার পাইকগাছায় সুখেন সরদার হত্যার খুনি প্রকাশ সরদার ( ৩৫) কে পুলিশ গ্রেফতার করেছেন।

মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় লস্কর ইউপি চেয়ারম্যান কেএম আরিফুজ্জামান তুহিন ও স্থানীয়দের সহয়তায় কয়রার আমাদী ইউপির চক গোয়ালবাড়ী শুশ্বরবাড়ী এলাকা থেকে খুনি প্রকাশ সরদার ( ৩৫) কে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, প্রকাশ নিহত সুখেন এর প্রতিবেশি খড়িয়া ভড়েঙ্গার চকস্থ জয়দের সরদারের ছেলে। গ্রেফতারের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে খুনির দেখানো মতে সুব্রত ঢালীর চিংড়ি ঘেরের পশ্চিম পাশ্বের পাড়ে পানিতে পুতে রাখা ক্ষেত নিংড়ানো ধারালো লোহার রড উদ্ধার করেছেন।

এদিকে কোন হয়রানী ছাড়াই হত্যাকান্ডের ১৫ দিনেই খুনের মোটিভ উদ্ধার ও একমাত্র আসামী গ্রেফতারে এলাকার মানুষের কাছে পুলিশের ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে।

মামলা তদন্ত কর্মকর্তা সুকান্ত কর্মকার জানান, আটক প্রকাশের স্ত্রী জিগাজ্ঞাবাদে ইতোমধ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। যা মামলা তদন্তে যথেষ্ঠ সহয়তা করবে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রকাশ সরদারের স্ত্রীর সাথে নিহত সুখেন সরদার দীর্ঘদিন পরকিয়ায় জড়িত ছিল। এক সময় মোবাইলে কথাপোকথন জানতে পেরে প্রকাশ তার স্ত্রী ও সুখেন কে সতর্ক করে দেয়। কিন্তু সতর্কতায় কোন কাজ না হওয়ায় প্রকাশ স্ত্রীকে আত্মহত্যা করতে বলেন। এর পর সে নিজেকে শেষ করে দেওয়া নতুবা সুখেনকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেন। হত্যাকান্ডের ৩ দিন পুর্বে সে ক্ষেত নিংড়ানো লোহার রডের মাথা আগুনে তাপ দিয়ে ধারালো করে। ঘটনার দিন ৭ মার্চ রাত সাড়ে ৮ টার পর বাড়ীর অদুরে সুখেন নিজ চিংড়ি ঘেরে পৌছিয়ে কাত হয়ে বাসার দরজা খোলার মুহুর্তে পিছন থেকে প্রকাশ ধারালো রড দিয়ে চোয়ালে আঘাত করে বুকে উপুর্যপুরী চুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। গ্রেফতারের পর প্রকাশ পুলিশের কাছে প্রাথমিক ভাবে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের মা অমেলা সরকার বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের নামে থানায় হত্যা মামলা করেন। হত্যাকান্ডের পর স্থানীয়রা এক ধরনের আতঙ্কে ছিল। হত্যা সম্পর্কে নিহতের পরিবার বা স্থানীয়রা সঠিক কোন তথ্য দিতে না পারায় পুলিশের উপর নির্ভরতা বেড়ে যায়। সর্বশেষ খুনি গ্রেফতারে এলাকায় স্বস্ত্বি ফিরে এসেছে।

এ হত্যা মামলা সম্পর্কে ওসি মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, পরকিয়ার জেরে পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে। যা গ্রেফতারের প্রকাশ সরদার সবই স্বীকার করেছেন

নদী ভাঙ্গন রোধে সর্বপ্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে : সালাম মূর্শেদী এমপি

বিজ্ঞপ্তি :

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী বলেছেন, রূপসা উপজেলার চর শ্রীরামপুর এলাকায় নদী ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। অপর পাড়ের অবৈধ ইট ভাটা ব্যবসায়ী কর্তৃক নদী দখলের বিরুদ্ধে সর্বপ্রকার আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ সরকারের সময়ে কেউই জনসাধারণকে ফাঁকি দিয়ে নদী দখল করে অবৈধভাবে ভাটা ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেনা। ভাটা ব্যবসায়ী যে দলেরই হোকনা কেন কৃষকদের স্বার্থে দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অতিসত্ত্বর গ্রহন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, চর শ্রীরামপুর এলাকায় ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডির মাধ্যমে সর্ব প্রকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি গত ১৮ মার্চ রূপসার চর শ্রীরামপুর এলাকায় নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত ভেড়িবাধের সংস্কার কাজের উদ্বোধন, রূপসা উপজেলার আজগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতার পুরস্কার বিতরণী, রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া উপজেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় পালেরবাজার সংলগ্ন কমিনিউটি ল্যাট্রিন এর উদ্বোধন কালে এসব কথা বলেন।

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলজিইডির খুলনা নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কামরুজ্জামান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ কামাল উদ্দিন বাদশা, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাজজাদ হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সাইদুর রহমান, রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ সরদার মোশাররফ হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী এস এম ওয়াহিদুজ্জামান, জেলা আ’লীগের সদস্য অধ্যক্ষ ফ.ম.আঃ সালাম, জাহাঙ্গীর হোসেন মুকুল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা আফরোজ মনা, প্রভাষক অয়াহিদুজ্জামান, জেলা আ’লীগ নেতা আঃ মজিদ ফকির, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মোতালেব হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কামাল হোসেন বুলবুল, এমপির সমন্বয়কারী মোঃ নোমান ওসমানী রিচি, আ’লীগ নেতা চঞ্চল মিত্র, এস এম হাবিব, আক্তার ফারুক, আঃ গফুর খান, শ.ম জাহাঙ্গীর, সাইদুর রহমান সগির, আঃ মান্নান শেখ, আশাবুর রহমান মোড়ল, জেলা যুবলীগ নেতা নাসির হোসেন সজল, উপজেলা যুবলীগ নেতা সরদার জসিম উদ্দিন প্রমূখ।