পাইকগাছায় সুখেন হত্যার কারণ পরকিয়া : খুনি প্রকাশ গ্রেফতার

ইউনিক প্রতিবেদক, পাইকগাছা :

খুলনার পাইকগাছায় সুখেন হত্যার মোটিভ দুই সপ্তাহ পর উদঘাটিত হয়েছে।  খুনি প্রকাশ গ্রেপ্তারের পর ফোনের আসল রহস্য বেরিয়ে এসেছে। স্ত্রীর সাথে পরকিয়ার কারণেই সুখেনকে খুন করা হয়েছে বলে প্রকাশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

খুলনার পাইকগাছায় সুখেন সরদার হত্যার খুনি প্রকাশ সরদার ( ৩৫) কে পুলিশ গ্রেফতার করেছেন।

মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় লস্কর ইউপি চেয়ারম্যান কেএম আরিফুজ্জামান তুহিন ও স্থানীয়দের সহয়তায় কয়রার আমাদী ইউপির চক গোয়ালবাড়ী শুশ্বরবাড়ী এলাকা থেকে খুনি প্রকাশ সরদার ( ৩৫) কে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, প্রকাশ নিহত সুখেন এর প্রতিবেশি খড়িয়া ভড়েঙ্গার চকস্থ জয়দের সরদারের ছেলে। গ্রেফতারের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে খুনির দেখানো মতে সুব্রত ঢালীর চিংড়ি ঘেরের পশ্চিম পাশ্বের পাড়ে পানিতে পুতে রাখা ক্ষেত নিংড়ানো ধারালো লোহার রড উদ্ধার করেছেন।

এদিকে কোন হয়রানী ছাড়াই হত্যাকান্ডের ১৫ দিনেই খুনের মোটিভ উদ্ধার ও একমাত্র আসামী গ্রেফতারে এলাকার মানুষের কাছে পুলিশের ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে।

মামলা তদন্ত কর্মকর্তা সুকান্ত কর্মকার জানান, আটক প্রকাশের স্ত্রী জিগাজ্ঞাবাদে ইতোমধ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। যা মামলা তদন্তে যথেষ্ঠ সহয়তা করবে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রকাশ সরদারের স্ত্রীর সাথে নিহত সুখেন সরদার দীর্ঘদিন পরকিয়ায় জড়িত ছিল। এক সময় মোবাইলে কথাপোকথন জানতে পেরে প্রকাশ তার স্ত্রী ও সুখেন কে সতর্ক করে দেয়। কিন্তু সতর্কতায় কোন কাজ না হওয়ায় প্রকাশ স্ত্রীকে আত্মহত্যা করতে বলেন। এর পর সে নিজেকে শেষ করে দেওয়া নতুবা সুখেনকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেন। হত্যাকান্ডের ৩ দিন পুর্বে সে ক্ষেত নিংড়ানো লোহার রডের মাথা আগুনে তাপ দিয়ে ধারালো করে। ঘটনার দিন ৭ মার্চ রাত সাড়ে ৮ টার পর বাড়ীর অদুরে সুখেন নিজ চিংড়ি ঘেরে পৌছিয়ে কাত হয়ে বাসার দরজা খোলার মুহুর্তে পিছন থেকে প্রকাশ ধারালো রড দিয়ে চোয়ালে আঘাত করে বুকে উপুর্যপুরী চুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। গ্রেফতারের পর প্রকাশ পুলিশের কাছে প্রাথমিক ভাবে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের মা অমেলা সরকার বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের নামে থানায় হত্যা মামলা করেন। হত্যাকান্ডের পর স্থানীয়রা এক ধরনের আতঙ্কে ছিল। হত্যা সম্পর্কে নিহতের পরিবার বা স্থানীয়রা সঠিক কোন তথ্য দিতে না পারায় পুলিশের উপর নির্ভরতা বেড়ে যায়। সর্বশেষ খুনি গ্রেফতারে এলাকায় স্বস্ত্বি ফিরে এসেছে।

এ হত্যা মামলা সম্পর্কে ওসি মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, পরকিয়ার জেরে পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে। যা গ্রেফতারের প্রকাশ সরদার সবই স্বীকার করেছেন

নদী ভাঙ্গন রোধে সর্বপ্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে : সালাম মূর্শেদী এমপি

বিজ্ঞপ্তি :

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী বলেছেন, রূপসা উপজেলার চর শ্রীরামপুর এলাকায় নদী ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। অপর পাড়ের অবৈধ ইট ভাটা ব্যবসায়ী কর্তৃক নদী দখলের বিরুদ্ধে সর্বপ্রকার আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ সরকারের সময়ে কেউই জনসাধারণকে ফাঁকি দিয়ে নদী দখল করে অবৈধভাবে ভাটা ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেনা। ভাটা ব্যবসায়ী যে দলেরই হোকনা কেন কৃষকদের স্বার্থে দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অতিসত্ত্বর গ্রহন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, চর শ্রীরামপুর এলাকায় ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডির মাধ্যমে সর্ব প্রকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি গত ১৮ মার্চ রূপসার চর শ্রীরামপুর এলাকায় নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত ভেড়িবাধের সংস্কার কাজের উদ্বোধন, রূপসা উপজেলার আজগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতার পুরস্কার বিতরণী, রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া উপজেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় পালেরবাজার সংলগ্ন কমিনিউটি ল্যাট্রিন এর উদ্বোধন কালে এসব কথা বলেন।

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলজিইডির খুলনা নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কামরুজ্জামান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ কামাল উদ্দিন বাদশা, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাজজাদ হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সাইদুর রহমান, রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ সরদার মোশাররফ হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী এস এম ওয়াহিদুজ্জামান, জেলা আ’লীগের সদস্য অধ্যক্ষ ফ.ম.আঃ সালাম, জাহাঙ্গীর হোসেন মুকুল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা আফরোজ মনা, প্রভাষক অয়াহিদুজ্জামান, জেলা আ’লীগ নেতা আঃ মজিদ ফকির, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মোতালেব হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কামাল হোসেন বুলবুল, এমপির সমন্বয়কারী মোঃ নোমান ওসমানী রিচি, আ’লীগ নেতা চঞ্চল মিত্র, এস এম হাবিব, আক্তার ফারুক, আঃ গফুর খান, শ.ম জাহাঙ্গীর, সাইদুর রহমান সগির, আঃ মান্নান শেখ, আশাবুর রহমান মোড়ল, জেলা যুবলীগ নেতা নাসির হোসেন সজল, উপজেলা যুবলীগ নেতা সরদার জসিম উদ্দিন প্রমূখ।

দেশ ও জনগনের উন্নয়ন করতে শেখ হাসিনা সরকারের বিকল্প নাই : মিসেস সারমিন সালাম 

ওয়াছিক রাজিব,  দিঘলিয়া, খুলনা :

বাংলাদেশ এখন তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে উন্নয়নের রোল মডেল। এসবই সম্ভব হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে।গতকাল দিঘলিয়া উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগ এর বিশেষ কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন খুলনা-০৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী এমপির সহ ধর্মিণী এনভয় গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট সমাজ সেবিকা মিসেস সারমিন সালাম। তিনি আরও বলেন, এই উন্নয়নকে তরান্বিত করতে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে। শনিবার বিকাল ৫.৩০ টায় দেয়াড়া আয়তুননেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গণে উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোসাম্মাৎ সামসুন নাহার এর সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগ এর দপ্তর সম্পাদক অধ্যাপক লোকমান হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগ এর সহ প্রচার সম্পাদক মোঃ মকবুল হোসেন, দিঘলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ আনসার আলী, সাধারণ সম্পাদক শেখ মুন্জুর হোসেন, মহিলা নেত্রী পাখি বেগম প্রমূখ।

এর আগে সকাল ১১টায় প্রধান অতিথি উপজেলা অডিটোরিয়ামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। দুপুর ১২ টায় সেনহাটী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এর কৃতি ছাত্রী সংবর্ধনা-২০২২ইং অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের মাঝে পুরুষ্কার বিতরন ও কৃতি ছাত্রীদের মাঝে সাইকেল বিতন করেন। দুপুর ২ টায় দিঘলিয়া দারুল উলুম এতিমখানার ছাত্রদের সাথে দুপুরের খাবার গ্রহণে অংশগ্রহণ শেষে দুপুর ৩.৩০ টায় দিঘলিয়া এম এ মজিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গণে সারমিন সালাম মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের উদ্যোগে ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পে অংশগ্রহণ ও হুইল চেয়ার বিতরন করেন, এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল আলম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি খান নজরুল ইসলাম,দিঘলিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগ এর সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মোল্লা আকরাম হোসেন, উপজেলা পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাহবুবুল আলম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মাহফুজুর রহমান, দিঘলিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হায়দার আলী মোড়ল, দিঘলিয়া এম এ মজিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আমিরুল ইসলাম, সেনহাটী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান মল্লিক,এমপি মহোদয় এর প্রধান সমন্বয়ক নোমান ওসামানী রিচি, দিঘলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ আনসার আলী, সেনহাটী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান, দিঘলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সাধারণ সম্পাদক শেখ মুন্জুর হোসেন, চন্দনীমহল সাংগঠনিক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সাধারণ সম্পাদক শেখ ইখতিয়ার হোসেন সহ সকল সহযোগী সংগঠন এর নেতৃবৃন্দ।

খুলনার গিলাতলায় চুরি যাওয়া মালামালসহ আটক ২ 

ইউনিক প্রতিবেদক, ফুলবাড়ীগেট :

খুলনার খানজাহান আলী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গিলাতলা আলহাজ্ব গাজী মেছের আহম্মেদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চুরি হয়ে যাওয়া মালামাল উদ্ধার সহ ২ চোরকে আটক করেছে পুলিশ।

খানজাহান আলী থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২০২১ সালের ১৪ ডিসেম্বর গিলাতলা আলহাজ্ব গাজী মেছের আহম্মেদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেটের তালা ও হ্যাজবোর্ড ভেঙ্গে চোরেরা ১টি কম্পিউটারের (এইচপি এসমার্ট ৫০০ মডেলের) প্রিন্টার চুরি করে নিয়ে যায়। এব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোসাঃ ফেরদৌসী আরা বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে ৩ মাস পর ১৭ মার্চ খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রবীর কুমার বিশ্বাসের দিক নির্দেশনায় তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে থানার সেকেন্ড অফিসার শতদল মজুমদার, এসআই ইসতিয়াক ও এ এস আই নিতিশ বিশ্বাসের সহযোগীতায় অভিযান পরিচালনা করে খুলনা জেলার দিঘলিয়া থানার মহেশপুর দক্ষিণ পাড়ার সিরাজুল ইসলামের পুত্র মোঃ মাসুম (২৫) কে গিলাতলা সি আই ডি রোড এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অপর আসামী যশোরের অভয়নগরের সিদ্দিপাশার ফারাজীপাড়ার মোঃ কবীর শেখের পুত্র হাবিবুর রহমান শেখ (২৮) কে আটক করে এবং চোরাইকৃত মালামাল উদ্ধার করে পুলিশ। এব্যাপারে খানজাহান আলী থানা মামলা হয়েছে যার নং- ৫, তারিখ-১৭/০৩/২০২২।

এঘটনায় ওসি প্রবীর কুমার বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আটককৃত ২ চোর স্বীকার করেছে তারা বিভিন্নস্থানে চুরি সিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমুলক কার্যক্রম করে আসছে। খানজাহান আলী থানা এলাকায় মাদক, চুরি, ছিনতাইসহ অপরাধমুলক কর্মকান্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মোংলায় লাইটার জাহাজ থেকে পাচার হওয়া গম উদ্ধারের ঘটনায় মামলা, এক পাচারকারীকে আদালতে প্রেরণ

আবু হোসেন সুমন, মোংলা, বাগেরহাট: 

মোংলা বন্দরে লাইটার জাহাজ থেকে পাচার হওয়ার গম উদ্ধারের ঘটনায় ৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের হয়েছে। বুধবার রাত ১২ টার দিকে মোংলা থানার এসআই দেবজিৎ কুমার সানা বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১১। গম পাচারের এ মামলায় আসামী করা হয়েছে আসাদুল মন্ডল (৩৫), মনিরুল ইসলাম (৪৫), মোঃ ওবায়দুল (৩৫), আব্দুল খালেক শিকদার (৪২) ও মোঃ সবুজ (২৮)। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাত আরো ০৪/৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। 

মোংলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, আসামীদের মধ্যে বুধবার আসাদুল মন্ডলকে গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার সকালে বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে বুধবার বন্দরের পশুর নদীতে অবস্থারত একটি লাইটার জাহাজ থেকে পাচার হওয়া গম পৌর শহরের মাদ্রাসা রোডের মুনলিট কিন্ডার গার্ডেনের সামনের মনিরুলের অটোরাইস মিল থেকে তা উদ্ধার করা হয়। ৭৫ বস্তায় ৩ হাজার ৭৫০ কেজি চোরাই গম রয়েছে। এ গম উদ্ধারকালে আসাদুল মন্ডল নামের এক পাচারকারীকেও আটক করে পুলিশ। পরে এ ঘটনার সাথে জড়িত আরো চারজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন পুলিশ কর্মকর্তা দেবজিৎ কুমার সানা।

এদিকে মোংলা বন্দরে আগত খাদ্যশস্যবাহী জাহাজ থেকে প্রায়ই গম পাচার হয়ে আসছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পৌর শহরের কুমারখালী, মাদ্রাসা রোড, বাগেরহাট জেটি, মাছমারা, কাইনমারী ও পশুর নদীর পশ্চিম পাড়ের লাউডোব, বাজুয়া ও কাটাখালী এলাকার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র দেদারছে এ গম পাচার করে আসলেও দীর্ঘদিন ধরেই ধরা ছোঁয়ার বাহিরে রয়েছেন তারা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুরদর্শী নেতৃত্বে দেশ কৃষি ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে: খুলনায় কৃষক হত্যা দিবসের আলোচনা সভায় বাবুল রানা

দেশ প্রতিবেদক :

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা বলেছেন, বিএনপি সরকারের আমলে ১৯৯৫ সালে সার, তেল, কীটনাশক ও কৃষিপণ্যের দাবিতে আন্দোলন করা ১৮ জন কৃষককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার ১৫ মার্চকে ‘কৃষক হত্যা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। উল্টোদিকে বর্তমান সরকার কৃষকের ঘরে ঘরে স্বল্প মূল্যে সার পৌঁছে দিচ্ছে। সার চাইলে কৃষককে এখন আর মরতে হয় না, সময়মতো সার তাদের দোরগোড়ায় চলে যায়।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিনামূল্যে সার-বীজ দিয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার দুরদর্শী নেতৃত্বে দেশ কৃষি ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। কৃষকরা দেশের সম্পদ। তাদের কঠোর পরিশ্রমের সুফল আমরা সবাই ভোগ করছি।

তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশ উন্নয়নের পথে হাটছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেইদিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে কৃষক হত্যা দিবস উপলক্ষে মহানগর কৃষক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শহীদুল হক মিন্টু, জামাল উদ্দিন বাচ্চু, দপ্তর সম্পাদক মো. মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ, জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মানিকুজ্জামান অশোক, দীঘলিয়া উপজেলা কৃষক লীগের সদস্য সচিব খান আবু সাঈদ, মহানগর কৃষক লীগের সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিকী বাবুল ও মো. আবু নাঈম। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর কৃষক লীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট একেএম শাহজাহান কচি। মহানগর কৃষক লীগের সদস্য সচিব অধ্যাপক এবিএম আদেল মুকুলের পরিচালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য মোজাম্মেল হক হাওলাদার, সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামিম আহমেদ পলাশ, মহানগর কৃষকলীগ নেতা মোঃ আউইব আলী, মোঃ শহীদুল হাসান, শেখ হারুন মানু, মনিরুল ইসলাম গাজী, শেখ আকরাম শিকদার, মো. মফিজুর রহমান, ওয়ার্ড কৃষক লীগ নেতা বাবুল হোসেন, হাবিবুর রহমান নাজিম, জাহাঙ্গীর শেখ, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. কামরুল ইসলাম, মো. নজরুল ইসলাম, মো. শাইকুল আলম, মো. আব্দুল কাইউম মোল্লা, মো. আবুল হোসেন, এস এম শহিদুল ইসলাম, মো. আব্দুল হালিম আকন, মো. ইয়াছিন, মো. আবু হাসান, মো. সাফায়েত হোসেন মামুন, মো. নজরুল ইসলাম সেজান, শেখ আকরাম হোসেন, মো. শহিদুল ইসলাম ধলু, মো. সাকিব হাসান, কানাই ঢালী সহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে সকল ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে : খুলনা সিটি মেয়র

বিজ্ঞপ্তি :

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, দলে কোন বির্তকিতদের স্থান হবে না। বিতর্কিতরা সব সময়ই নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে দলের মধ্যে বিশৃংখলার সৃষ্টি করে। যারা দু:সময়ে অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে দলকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এনেছে তাদের সামনে রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, বিএনপি-জামায়াত নানাবিধ ষড়যন্ত্র চালিয়ে দেশকে অশান্ত করার অপচেষ্টা করছে। দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে সকল ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। আর সেজন্যে সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।

সোমবার দুপুর ১২টায় দৌলতপুর থানা আওয়ামী লীগের বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দৌলতপুর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ সৈয়দ আলীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বন্দের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা। এসময়ে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা নুর ইসলাম বন্দ, দপ্তর সম্পাদক মো. মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মাকসুদ আলম খাজা, নির্বাহী সদস্য মোজাম্মেল হক হাওলাদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোশাররফ হোসেন, মনিরুজ্জামান খান খোকন, প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম, মফিজুর রহমান জিবলু, মো. শাহাদাৎ হোসেন মিনা, আসিফুর রশিদ, আব্দুর রউফ মোড়ল, মফিজুর রহমান হিরু, শেখ কওসার আলী, জাফর ইকবাল মিলন, হারুন অর রশীদ হাওলাদার, শেখ ওহিদুজ্জাম্মান, মাকসুদ হাসান পিকু, আবু জাফর মিয়া, শেখ রেজাউল ইসলাম প্রমুখ।

সভায় থানার ৬টি ওয়ার্ডের কমিটি চূড়ান্তভাবে যাচাই বাছাই শেষে ওর্য়াার্কিং কমিটিতে অনুমোদনের জন্য প্রেরণের সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু কিশোর দিবস উপলক্ষে ১৫ মার্চ দৌলতপুর থানা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে থানার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে “বঙ্গবন্ধুকে জানো” শিরোনামে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধকরণ গণসংযোগের সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় ১৭ মার্চ হতে ৩১ মার্চ পর্যন্ত থানা এবং সকল ওয়ার্ড কার্যালয় আলোকসজ্জা থাকবে। ১৭ মার্চ সকাল সাড়ে ৭টায় থানা এবং থানার সকল দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হবে। সকাল ১০টায় দলীয় কার্যালয় হতে র‌্যালি শুরু করে বিএল কলেজে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে শ্রদ্ধা নিবেদন।

১৭ মার্চ হতে ২৩ মার্চ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জীবন আলেখ্য নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভার সিদ্ধান্ত হয়।

কয়রায় মৎস্য ঘের দখলের চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

শেখ মনিরুজ্জামান, কয়রা, খুলনা : 

খুলনার কয়রায় মৎস্যঘের দখলের চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কয়রা উপজেলার হড্ডা গ্রামের মৃত নিরোধ সরকারের পুত্র রুপক কুমার সরকার।

সোমবার (১৪ মার্চ)  বেলা ১১ টায় কয়রা উপজেলা প্রেসকাবে উপস্থিত হয়ে লিখিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি জানান। হড্ডা মৌজার ৩৭০ নং খতিয়ানের ৯১০, ৯১২, ৯১৩, ৯৩৪ ও ৯৩৭ নং দাগের ৫.৫৮ একর সম্পত্তি সরকারে নিকট হতে বাংলা ১৩৮৬ সাল হতে ডিসিআর নিয়ে সরকারী বিধিমোতাবেক ১৪২৫ সাল পর্যন্ত রাজস্ব পরিশোধ করে দীর্ঘ ৪২ বছর যাবৎ শান্তিপূর্ণ ভাবে মৎস্য ঘের বা মৎস্য চাষ করে আসিতেছে। উল্লেখিত সম্পত্তির বেড়িবাঁধ দিয়ে সীমানা দেওয়া আছে। পূর্বশত্রুতার জের ধরে গত ৮ মার্চ একই গ্রামের মৃত মনিন্দ্র সরকারের পুত্র স্বপন সরকার, মনোরঞ্জন সরকার, দেবব্রত সরকার ও রঞ্জন সরকারের নেতৃত্বে পরিকল্পিত ভাবে দা, লাঠি, সাবোল, কোদাল, হাতুড়ি চাপাতি সহ অস্ত্রসস্ত্রে সর্জিত হয়ে বে-আইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে অজ্ঞাতনামা ভাড়াটিয়া ব্যাক্তিদের এনে আমার মৎস্য ঘেরে অবৈধ ভাবে প্রবেশ করে ঘেরের রাস্তা কাটিতে থাকিলে আমি ঘটনাস্থলে যেয়ে বাধা প্রদান করি। এ সময় তারা আমাকে জানে শেষ করার অসৎ উদ্দেশ্য মারপিট করে নগদ টাকা, একটি টার্চ মোবাইল ও রাস্তা কেটে আনুমানিক লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধণ করে । আমি বিষয়টি স্থানীয় ভাবে আপোষ মিমাংসার চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়ে উল্লেখিত ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, কয়রা, খুলনায় একটি মামলা দায়ের করি যার নং সিআর ১৩২/২২। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে সমন জারি করে।

এ ব্যাপারে স্বপন সরকারের নিকট জানতে চাইলে, তিনি ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

খুলনা মহানগর কৃষক লীগ একটি শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আমি বিশ্বাস করি : শেখ হেলাল এমপি

বিজ্ঞপ্তি :

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভ্রাতুষ্পুত্র বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি বলেছেন, খুলনা মহানগর কৃষক লীগ একটি শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এ্যাড. শাহজাহান কচি’র নেতৃত্বে সংগঠনটি খুলনার রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া এ সংগঠনটি দেশের কৃষক ও মেহনতী মানুষের অধিকার আদায়ে সবসময় সচেষ্ট ছিল। স্বৈরাচারবিরোধী সকল আন্দোলনে সংগঠনটির সদস্যরা অনন্য ভূমিকা রেখেছে। আগামী নির্বাচনেও সংগঠনটি তাদের সুশৃংখল কার্যক্রমের মাধ্যমে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করবে।

রবিবার রাত ১০টায় নগরীর শেরে বাংলা রোডস্থ সাংসদের নিজ বাড়ীতে মহানগর কৃষক লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ কালে তিনি এসব কথা বলেন। খুলনায় আগমন উপলক্ষে নেতৃবৃন্দ এসময় তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। তিনি এ সময় মহানগর কৃষকলীগ নেতৃবৃন্দকে সাংগঠনিক বিভিন্ন পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেন।

এসময়ে মহানগর কৃষক লীগের আহ্বায়ক এ্যাড. এ কে এম শাহজাহান কচি, সদস্য সচিব অধ্যা. এবিএম আদেল মুকুল, সদস্য মো. শহীদুল হাসান, কানাই রায়, মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিকী বাবুল, রেজওয়ান আকঞ্জি রাজা, অনীক রায়, জিল্লুর রহমান ডালিম, মাহবুবুর রহমান নাজিম সহ মহানগর কৃষক লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নগরীতে আ‘লীগ নেতা ও কাউন্সিলরের সহযোগীতায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে অত্যাচার ও হয়রানির অভিযোগ

দেশ প্রতিবেদক :

খুলনা নগরীর বয়রা এলাকায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা একটি পরিবারকে অত্যাচার, নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় থানা আওয়ামী লীগ নেতা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সহযোগীতায় জাফর বিশ্বাস ও তার দলবল এসব করছে বলে অভিযোগ করেছে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। রোববার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা শেখ শহীদুল্লাহ‘র মেয়ে ১৪নং ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদা ইয়াসমিন সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

এসময়ে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তাদের বাড়ির পাশে মেজর কবির আহমেদের স্ত্রী সুপর্ণা কবিরের ক্রয়কৃত জমিতে গত ৯ বছর ধরে বয়রা এলাকার সামাদ বিশ্বাসের ছেলে জাফর বিশ্বাস ও তার স্ত্রী সালমা বেগম জবরদখল করে রয়েছে। সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু জাফর বিশ্বাস এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকার সাধারণ মানুষ ও ভূক্তভোগীর পরিবারের উপর তারা দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করে আসছে। এসকল কাজের প্রতিবাদ করায় ভূক্তভোগী পরিবারের সন্তানদের মারধোর, গালিগালাজ ও জীবন নাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে পরিবারের নামে অপপ্রচার ও সম্মানহানী করছে। এছাড়াও জাফর বিশ্বাস ও তার স্ত্রী নানা কৌশলে পরিবারটির নিকট মোটা অংকের টাকা দাবী করে আসছে। টাকা দিতে রাজী না হওয়ায় মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছে। তাদের নামে থানায় এলাকাবাসীসহ ভূক্তভোগীরা একাধিক জিডি ও অভিযোগ দায়ের করার পরেও কোন প্রতিকার পায়নি।

তিনি লিখিত বক্তব্যে আরো জানান, ইতোপূর্বে জমির মালিক মেজর কবির দখল নিতে আসলে তাদেরকেও অপমান, অসম্মান, গালিগালাজ ও হুমকি প্রদান করে জাফর বিশ্বাস। কয়েক বছর ধরে জমির মালিকের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করে এবং বর্তমানেও আরো টাকা দাবি করছে দখলবাজ জাফর। দখল না ছাড়ার জন্য তারা বর্তমানে অবস্থানরত নিজ বাড়ীতে আগুন লাগানোর নাটক করে ভূক্তভোগী পরিবারটিকে মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। গত ৩ দিন পূর্বে এলাকাবাসী থানায় উপস্থিত হয়ে তাদেরকে এলাকা থেকে উচ্ছেদ ও প্রবেশ বন্ধ করার জন্য লিখিত অভিযোগ করে। গত শুক্রবার মাকদব্যবসায়ী জাফরকে এলাকায় প্রবেশ ও তার মাদক ব্যবসা বন্ধে মানববন্ধন করে এলাকাবাসি।

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি জাফর বিশ্বাস নিজ বাড়ীর বারান্দায় ককটেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। পরে ভূক্তভোগী পরিবারটির বিরুদ্ধে থানায় ককটেল হামলার অভিযোগ দায়ের করে। তাদের এ সকল কর্মকান্ডে জাফর বিশ্বাসের চাচাতো ভাই সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি বুলু বিশ্বাস ও কাউন্সিলর আনিসুর রহমান বিশ্বাস সরাসরি সহায়তা করে আসছে। তারা প্রশাসনের উপর ক্ষমতার চাপ সৃষ্টি করছে।

সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারটি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ ও প্রশাসনের নিকট নিজেদের নিরাপত্তা কামনা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জাফর বিশ্বাস মুঠোফোনে জানান, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাদের বিরুদ্ধে খালিশপুর থানায় আমার জিডি করা রয়েছে। তৌহিদা ইয়াসমিনের দেবর বিদেশে পাঠানোর নামে আমার নিকট হতে ১০ লক্ষ টাকা নেয়। পরবর্তীতে টাকা ফেরত দিতে না পারায় তারা আমার কাছে একটি জমি বিক্রি করার প্রস্তাব দেয়। পরে যানতে পারি জমিটি ২০ বছর আগেই মেজর কবিরের নিকট বিক্রি করেছে। একটা সময় তারা জমির পরিবর্তে আমাকে ১০ লক্ষ টাকার চেক প্রদান করে। যা ব্যাংকে ডিজঅনার হলে আমি চেক ডিজঅনারের মামলা করি। আর এসব কারণে পরিবারটি আমার বিরুদ্ধে এসব চক্রান্ত করছে।

মেজর কবিরের জমি দখল করে রাখার অভিযোগের বিষয়ে বলেন, আমি তাদের কোন জমি দখল করিনি। এটা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার।

এ বিষয়ে মেজর কবিরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জমিটি আমরা ১৯৮২ সালে ক্রয় করি। জাফর বিশ্বাস আমার জমিটি অনেকদিন ধরে দখল করে রেখেছে। আমি এ বিষয়ে আদালতে মামলা করেছি। সে আমার জমি ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেও টালবাহানা করছে। এখন পর্যন্ত সে জমিটি জবরদখল করে রেখেছে।

অভিযোগের বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের ১৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিছুর রহমান বিশ্বাস মুঠোফোনে জানান, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। জাফর বিশ্বাস আমাদের এখানে থাকেন না। তার সাথে আমার কোন যোগাযোগ নেই। তাছাড়া এ বিষয়টি সম্বন্ধে আমি কিছুই জানিনা এবং যারা অভিযোগ করেছে তাদেরকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনিনা। তাই জাফর বিশ্বাসকে সহায়তা করার কোন প্রশ্নই আসে না।

জাফর বিশ্বাসের চাচাতো ভাই সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি বুুলু বিশ্বাস অভিযোগের বিষয়ে বলেন, জাফর বিশ্বাস ২০০৭ সালে আমাদের এলাকা থেকে জায়গা বিক্রি করে চলে গেছে। তার সাথে আমাদের যোগাযোগ নেই। তাই এ বিষয়ে আমার সহায়তা করার কোন প্রশ্নই আসে না। তবে ওদের মধ্যে জমি বিক্রি নিয়ে টাকার লেনদেন হয়েছিল এবং এটা নিয়ে মামলাও হয়েছে বলে শুনেছি।