কেডিএ’র অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে সম্পত্তি জবরদখল চক্রান্তের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

ইউনিক প্রতিবেদক :

খুলনা নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন দখলীয় নিষ্কন্টক সম্পত্তি কেডিএ’র অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে চিহ্নিত ভূমিদস্যু কর্তৃক জবরদখলের পায়তারার ও সপরিবারে জীবননাশের হুমকির অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী জমির মালিক শেখ তফসীর আহম্মেদ মিলন। শনিবার দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কেডিএ’র নিকট থেকে ১৯৯৪ সালে নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকায় ৪.৯৫ শতক (তিন কাঠা) এর একটি বাণিজ্যিক প্লট ক্রয় করেন। যার বানিয়াখামার মৌজার এসএ খতিয়ান নং ১০৬৮৫, দাগ নম্বর ২৮০২০ ও প্লট নং সি-১২। যার বর্তমান বিআরএস খতিয়ান নং ৪৪ তার নিজের নামে রেকর্ডীয়। সম্প্রতি স্থানীয় একজন চিহ্নিত ভূমিদস্যু বেনজির আহমেদ বাচ্চু কেডিএ’র অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে ঐ সম্পত্তি জবর-দখলের পায়তারা চালাচ্ছে।

এ ব্যাপারে তিনি বাদী হয়ে সহকারী জজ আদালত-৫ খুলনায় ৯৮৪(১)/২০০৫/২০০৬নং মিস কেসের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ১৭ জুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে ২নং বিবাদী করে দেওয়ানী ১০০০/০৮ নং মামলা দায়ের করেন। ঐ মামলা আদালতের ১৪নং আদেশে গত ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট নামপত্তন কেসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করেন, যা এখনো বলবৎ আছে। ঐ আদেশ অমান্য করে সম্পত্তি নামপত্তন করার জন্যে বেনজির আহমেদ বাচ্চু মামলার বিষয়টি গোপন করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে ২০২৫/১৭-১৮ নং নামপত্তন কেস করেন; যাহা আপত্তি দাখিলের পর স্থগিত রয়েছে।

শুধু তাই নয়, নতুন করে তফসিল বর্নিত সম্পত্তি নামপত্তন করার জন্যে ১৬৪৩নং মিস কেস (পিটিশন নং-২২৮১৯৮) করে। পুনরায় ঐ ব্যাক্তি ৪৪৮(১)/২০২১-২০২২ নং নামপত্তন কেস করলে তিনি আপত্তি দাখিল করেন।

এ বিষয়ে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশন-৩০১/২০০৬নং মামলা চলছে। এ সম্পত্তি সংক্রান্তে দেওয়ানী ও সিভিল রিভিশন মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কেউ যাতে তপশীল বর্ণিত সম্পত্তি নামপত্তন করতে না পারে সে জন্য আবারো সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেন।

এ ব্যপারে ভুক্তভোগী শেখ তফসীর আহম্মেদ মিলন খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ( কেডিএ) এর চেয়ারম্যান বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কেডিএ’র অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তায় ভূমিদস্যু চক্রটি আরও হিংস্র হয়ে উঠেছে। নানা ভাবে তার ও তার পরিবারকে জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে।

এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহ সকলের সহায়তা কামনা করেছেন।

খুলনায় বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসের কর্মসূচি

বিজ্ঞপ্তি :

আগামী ১৭ মার্চ স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস-২০২২ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসূচির আলোকে খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

১৭ মার্চ সকাল সকাল আটটায় বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্রে অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। সন্ধ্যা সাতটায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে আলোচনা সভা ও শিশুদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসের অনুষ্ঠান বিটিভি’র সহায়তায় সরাসরি প্রদর্শন/প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে।

সুবিধাজনক সময়ে শিশুদের অংশগ্রহণে কেককাটা, রচনা, চিত্রাংকন ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। ১৪ মার্চ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে রচনা ও চিত্রাংকন এবং ১৫ মার্চ সঙ্গীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। ১৭ মার্চ টুঙ্গিপাড়ার খোকা থেকে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন নতুন প্রজন্মের চিন্তা-চেতনা ও আদর্শ ধারণ করে শিশুদের নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম নাটকের দ্বারা চিত্রায়ণ/মঞ্চায়নের মাধ্যমে মোটিভেশনাল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।

১৭ মার্চ হাসপাতাল, কারাগার, শিশু পরিবার ও এতিমখানায় বিশেষ খাবার পরিবেশন এবং বাদযোহর বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ-মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। মুজিববর্ষ উদযাপনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যানার, ফেস্টুন ইত্যাদির মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও স্থাপনাসমূহ সজ্জিতকরণ, মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহে সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচলনা করা হবে। সন্ধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহ ও সরকারি ভবনসমূহে আলোজসজ্জা করা হবে।

১৭ মার্চ খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরভবনে শিশুদের অংশগ্রহণে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে বড় আকারের এলইডি স্ক্রিনে স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধুর ওপর স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। সুবিধাজনক সময়ে জেলা ও উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর জীবনী ও মহান মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পুস্তক ও ডকুমেন্টারি সপ্তাহব্যাপী প্রদর্শন এবং বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রচার করা হবে। এছাড়া শিশুদের সাথে বঙ্গবন্ধুর ছবি আর্কাইভ থেকে সংগ্রহ করে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা পর্যায়েও অনুরূপ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে

মওদুদ আহমদকে মেরে ফেলা হয়েছে, দাবি স্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক :

হত্যা করা হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মওদুদ আহমদকে এমনটাই দাবি করেছেন তাঁর স্ত্রী হাসনা মওদুদ। হাসনা মওদুদ বলেন, ‘তিনি (মওদুদ) করোনায় মারা যাননি। তাঁর অসুখ ধরা যায়নি। আমি শুনেছি, তাঁকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমাকেও হয়তো কেউ মেরে ফেলবে।’

আজ শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে মওদুদ আহমদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় এমন অভিযোগ করেন হাসনা মওদুদ। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ স্মৃতি পরিষদ এই স্মরণসভার আয়োজন করে।

হাসনা মওদুদ আরো বলেন, ‘মওদুদ সাহেবের শূন্য স্থান আমি শূন্য হতে দেব না। আমি তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব। আমার নোয়াখালী–৫ আসনের গরিব মানুষের পাশে থাকব। আমি চেষ্টা করব, মওদুদ যেভাবে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করে গেছেন, সে রকম করেই আমার এলাকায় সেবা করব।’

মওদুদ আহমদকে স্মরণের ভালো উপায় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ডাকা হরতালে সাড়া দিয়ে আইনজীবীদের আধা বেলা কাজ না করা দরকার বলে মনে করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী। অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দেশে দুর্ভিক্ষের কাছাকাছি অবস্থা, গণতন্ত্রহীনতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রয়োজন। ২৮ মার্চ বাম দলসহ অনেকেই হরতাল ডেকেছেন। আমি আশা করছি, সেদিন আধা বেলা আইনজীবীরা কোর্ট নাই–বা করলেন। জনগণের কাতারে এসে জনগণকে সাহস জোগালেন। আপনাদের সাহস জোগানোই হবে মওদুদ আহমদকে স্মরণ করার সবচেয়ে ভালো উপায়।’

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আবদুল মতিন বলেন, মওদুদ সাহেব প্রমাণ করে দিয়েছেন, আপনি যতই ব্যস্ত থাকেন, আপনার কিছুসংখ্যক মামলা থাকতে হবে গরিবদের। এ জন্য তাঁকে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি।

ব্যারিস্টার আমীর–উল ইসলাম বলেন, ‘তাঁকে (মওদুদ) বলতাম, আপনি যে বইগুলো লিখেছেন, সেগুলোর মাঝেই আপনি বেঁচে থাকবেন। আজ আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি তাঁর লেখনীতে বেঁচে আছেন।’

একজন রাজনীতিবিদকে মূল্যায়ন করার জন্য সময়ের প্রয়োজন উল্লেখ করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, মওদুদ যে দলেই থাকেন না কেন, তাঁর একটা উদার রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক চেতনা ছিল।

ইতিহাসের কাছে তিনি সৎ থাকার চেষ্টা করেছেন। আগামী প্রজন্মের জন্য তিনি যে শিক্ষা বইয়ের মধ্যে রেখে গেছেন, ইতিহাসের মাপকাঠিতে সেখানেই ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের চূড়ান্ত বিচার হবে।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, মওদুদ আহমদ নাকি বারবার দল বদল করেছেন। দল বদল করলে অসুবিধা কী? এরকম পরিবর্তন যখন হয়, তখন তিনি কি সুবিধাবাদের দিকে যান নাকি জনগণের পক্ষে থাকেন। সেটাই বড় কথা।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে মওদুদ আহমদ ব্যক্তিক্রমী ছিলেন উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, তিনি বইয়ে নিজের বিশ্বাসের কথা বলতেন। তাঁর লেখার পরিপ্রেক্ষিতে দলের ভেতরে ঝড় উঠেছিল, তারপরও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে স্থির ছিলেন।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ না খেয়ে আছে, হাহাকার। এ সরকার অন্ধ। মানুষের হাহাকার দেখে না। যেদিন দেশে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, স্বৈরাচারের পতন হবে, সেদিন মওদুদ ভাইয়ের প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধা নিবেদিত হবে। মওদুদ ভাইকে যারা অপমানে জর্জরিত করেছে, তারা অচিরেই বিদায় নেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, সংগীত ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা জামান আব্বাসী।

কয়রায় প্রধান শিক্ষকের উপর হামলা ও লাঞ্ছিত করায় প্রতিবাদ সমাবেশ

শেখ মনিরুজ্জামান, কয়রা, খুলনা: 

খুলনার কয়রা উপজেলায় হড্ডা ডি এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গত ৫ মার্চ কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি কয়রা উপজেলা উত্তর শাখার সভাপতি ও হড্ডা ডিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিহার রঞ্জন সরদারের উপর হামলা ও লাঞ্ছিত করায় প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্টিত হয়েছে।

কয়রা উপজেলা শিক্ষক সমিতি উত্তর শাখার আয়োজনে ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবিতে শনিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১ টায় হড্ডা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে ভাগবা এইচ বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির আলী সরদারের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তৃতা করেন, কপোতাক্ষ কলেজের অধ্যক্ষ অদ্র্যিস আদিত্য মন্ডল, শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক ও চান্নির চক এলসি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ রাজীব কুমার বাছাড়, কয়রা শাকবাড়িয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক, প্রেসকাবের সহ সভাপতি শেখ মনিরুজ্জামান মনু , প্রধান শিক্ষক জ্যেতিরশ্বর ঢালী, সুজিত কুমার রায়, রমেন রায়, মনিন্দ্র নাথ বৈরাগী, ব্রজেন জোয়াদ্দার, মনোজ কুমার বর্মন, আব্দুস সামাদ প্রমুখ।

ফরিদপুরে সাউথ লাইন পরিবহনের ১২ বাস আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত

ইউনিক প্রতিবেদক :

ফরিদপুরে আলোচিত দুই হাজার কোটি টাকার অর্থপাচার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই ভাই বরকত-রুবেলের মালিকানাধীন সাউথ লাইন পরিবহনের ১২টি বাস রহস্যজনক কারণে আগুনে পুড়ে গেছে।

শনিবার (১২ মার্চ) সকালে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, শুক্রবার (১১ মার্চ) দিনগত রাত দেড়টার দিকে শহরের গোয়ালচামটে নতুন বাস টার্মিনালের পাশে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম প্রায় ঘণ্টাখানেক চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি।

তিনি আরও জানান, সেখানে ২২টি বাস রাখা ছিল। এরমধ্যে ১২টি বাসেই আগুন লাগে। দীর্ঘদিন বাস ফেলে রাখার ফলে দ্রুতই বাসগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ দাউ দাউ করে বাসগুলোতে আগুন জ্বলতে দেখে লোকজন ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। সারিবদ্ধভাবে খোলা জায়গায় রেখে দেওয়া বাসগুলোতে রহস্যজনকভাবে একই সময়ে আগুন লাগে বলেও জানান তারা।

ফরিদপুরের সাউথ লাইন নামে পুড়ে যাওয়া ওই বাসগুলো অর্থপাচার মামলায় গ্রেফতার শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের বহিষ্কৃত সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের মালিকানাধীন। ২০২০ সালের ৭ জুন পুলিশের অভিযানে বরকত-রুবেলের গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতের নির্দেশে দুদক এসব বাস জব্দ করে। এরপর থেকে সেগুলো এখানেই রাখা ছিল।

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক শিপলু আহমেদ জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। তবে, আগুন লাগার কারণ এখনো জানা যায়নি।

ডুমুরিয়ায় পুলিশি অভিযানে আটক ৮

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : ডুমুরিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামী ডাকাত হবিসহ অন্যান্য ঘটনার সাথে জড়িত ৮জনকে আটকের পর আদালতে সোপর্দ করেছে।
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বিপ্লব জানান, থানা পুলিশ গত ২৪ ঘন্টায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৮জনকে আটক করতে সক্ষম হয়। এরমধ্যে ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ও ডাকাতিসহ ৮টি মামলার আসামী হাবিবুর রহমান হবিকে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। সে উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চাকুন্দিয়া গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে। হবি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং অনেক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বুধবার সকালে ওই এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। আটককৃত অন্যান্যরা হল উখড়া গ্রামের মাহাতাপ শেখের ছেলে হাফিজুর রহমান, মিকশিমিল গ্রামের সালাম মোল্যার ছেলে আবু তাহের মোল্যা ও রহিম গাজীর ছেলে বাবুল গাজী, টিপনা গ্রামের বাল্লাক গাজীর ছেলে রুহুল আমিন গাজী, নতুনরাস্তা মোড়ের ইব্রাহীম সরদারের ছেলে সাইদুর রহমান, গুটুদিয়া গ্রামের ইসহাক শেখের ছেলে জামাল শেখ ও মালতিয়া গ্রামের সোনাই সরদারের ছেলে সালাম সরদার। এদের বিরুদ্ধে যৌতুক, পারিবারিক কলহ, মাদক ও মারপিটের ঘটনায় মামলা রয়েছে।

আজগর হোসেন ছাব্বির, দাকোপ : দাকোপে সুন্দরবনে অবৈধ অনুপ্রবেশে মাছ ও কাকড়া শিকারীদের হামলায় বনরক্ষিদের ট্রলার চালক হাসপাতালে। নগত টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। এ ঘটনায় হামলাকারীদের নামে দাকোপ থানায় এজাহার দাখিল করা হয়েছে।
থানায় দাখিলকৃত এজাহার এবং ভুক্তভোগীদের বর্ণনামতে চলতি মাসের ৯ ও ১০ তারিখে নলিয়ান ষ্টেশনের বনরক্ষিরা সুন্দরবনে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বনে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং বিষ প্রয়োগে মাছ ও কাকড়া শিকারের অভিযোগে ১৬ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের অধিকাংশের বাড়ী দাকোপের পানখালী ইউনিয়নে। আবার ওই অভিযানে বনরক্ষিদের ব্যবহ্নত ট্রলার চালক হিসাবে ছিলেন পানখালী ইউপির মৌখালী গ্রামের রব গাজীর পুত্র আইয়ুব আলী গাজী। যে কারনে ঘটনার পর থেকে অবৈধ মাছ ও কাকড়া শিকারীরা আইয়ুব আলীর প্রতি ক্ষিপ্ত হয়। তারই জের হিসেবে শনিবার সকাল ১০ টার দিকে আইয়ুব আলী গাজী মোটর সাইকেল যোগে পানখালী হয়ে মৌখালী যাওয়ার পথে অভিযুক্ত রম ফকির, কবির ফকির, খবির ফকির, আলীরাজ ফকির, সিরাজুল শেখসহ আরো কয়েকজন মিলে নিজেদের বাড়ীর সামনে থেকে আইয়ুব আলীকে ধরে বাড়ীতে নিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। এ সময় আইয়ুব আলীর কাছে থাকা ঘেরের হারীর ১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা তারা ছিনিয়ে নেয়। অবস্থা বেগতিক হয়ে পড়লে এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দাকোপ থানা পুলিশ আইয়ুব আলীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় আইয়ুব আলী বাদী হয়ে উল্লেখিত অভিযুক্তদের নামে দাকোপ থানায় এজাহার দাখিল করেছে। এ দিকে এজাহার দাখিলের পর থেকে হামলাকারীদের পৃষ্টপোষক জনৈক মহাসিন শেখ ভুক্তভোগীদের নানাভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বনবিভাগের নলিয়ান ষ্টেশন কর্মকর্তা শেখ আনিসুর রহমান বলেন, আসামী কবির আলীরাজসহ ১৬ জনকে আমরা গত ৯ ও ১০ তারিখ সুন্দরবনের পাটকোষ্টা টহল ফাড়ীর আওতায় চেরাগখালী ও মোরগখালী খালে নিষিদ্ধ সময়ে নিষিদ্ধ এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশে মাছ ও কাকড়া শিকারের অভিযোগে আটক করে কয়রা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করি। তারা জামিনে এসে আমাদের ব্যবহ্নত ট্রলার চালকের উপর হামলা করেছে। ঘটনাটি জানার পর আমরা দাকোপ থানা পুলিশকে অনুরোধ করি ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্য। এলাকাবাসী এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছে।

গাইবান্ধায় ত্রিমোহনী সেতুর সংযোগ সড়কের বেহাল অবস্থা

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা-ফুলছড়িবাসী গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা হয়ে ঢাকা-বগুড়া যাতায়াতের জন্য কাটাখালি নদীর ওপর প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ত্রিমোহনী সেতু নির্মাণ করা হয়। নির্মানের পর এ সেতুর কারণে সাঘাটা-ফুলছড়ি উপজেলার মানুষ প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা কমিয়ে খুব সহজে গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়ক হয়ে ঢাকা-দিনাজপুর ও বগুড়ায় যেতে পারেন। কিন্তু বর্ষা শুরুর আগেই হালকা বৃষ্টিতে সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে গেছে। সংযোগ সড়ক ধসে পড়লে হুমকিতে পড়বে দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষের চলাচল। যানবাহনের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে এই সংযোগ সড়ক। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা না নিলে যেকোন মুহূর্তে ধসে পড়বে এ সেতুটি।

জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়নের সঙ্গে সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের কাটাখালি নদীর ওপর এলজিইডির অর্থায়নে ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ত্রিমোহনী সেতু নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে সেতুর পশ্চিম তীরের সংযোগ সড়ক ধসে গেছে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের বৃষ্টিতে প্রথমে এক ফুট ধসে যায়। কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে এখন সংযোগ সড়ক পুরোটাই ধসের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে এই সংযোগ সড়কটি। রাতে যেকোনো ধরণের দূরগামী গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অনায়সে। স্থানীয়রা জানায়, এই সংযোগ সড়ক বালু দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। হালকা বৃষ্টিতে বালু সরে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এরপর সড়ক ধসে গেছে। এখন মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবসায়ী আব্দুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, একটু বৃষ্টিতেই সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে গেছে। বর্ষাকাল শুরু হলে সংযোগ সড়ক আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। এখননি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান বলেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার একান্ত প্রচেষ্টায় এই সেতুটি আমরা পেয়েছি । এতে যোগাযোগ সহজ হয়েছে আমাদের সকলের। কিন্তু নিম্নমানের কাজ করায় এখন সংযোগ সড়ক ধসে গেছে। সংযোগ সড়ক দ্রুত মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. ছবিউল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, সেতু ও সেতুর পূর্বপাশের সংযোগ সড়ক সাঘাটা উপজেলার আওতায়। পশ্চিমপাশের সংযোগ সড়ক গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার আওতায়। কাজেই সংযোগ সড়ক সংস্কার করতে হলে দুই উপজেলাকে করতে হবে। অন্যদিকে সাংবাদিকদের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ জানান, ত্রিমোহনী ওই সেতুর সংযোগ সড়ক সংস্কারের জন্য এলজিইডি দফতরে আবেদন পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা হবে।

চট্টগ্রামে সুস্থ হয়ে আসা পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

মানস চৌধুরী, চট্টগ্রাম ব্যুরো: ছিলো হালকা জ্বর, সঙ্গে ডায়রিয়া। করোনা উপসর্গ মনে করে নমুনা পরীক্ষাও করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতিও পাওয়া যায়নি। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিলে বাসায় চলে যাওয়ার কয়েকদিন পর মৃত্যু হয় তার।
সদরঘাট থানার এএসআই মর্তুজা কাইয়ুমের এমন মৃত্যু মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে সহকর্মীদের। জ্বর ও ডায়রিয়া নিয়ে ১৯ মে থেকে বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন কাইয়ুম। সেখান থেকে ভর্তি করানো হয় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। ২৭ মে নমুনা পরীক্ষা করার পর তার শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
ডায়রিয়া ভালো হয়ে যাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দেয়। পরে তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। বাসায় দুইদিন থাকার পর হঠাৎ ২ জুন অসুস্থ হয়ে গেলে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি-দক্ষিণ) এসএম মেহেদী হাসান বলেন, তার করোনা উপসর্গ থাকায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ আসে। পরে ডায়রিয়াও ভালো হয়ে যাওয়ায় বাসায় যায়। দুইদিন পর ২ জুন অসুস্থ হয়ে গেলে অ্যাম্বুলেন্স আসতে আসতেই বাসায় মৃত্যু হয় কাইয়ুমের।
করোনা পরীক্ষার জন্য আবারও তার নমুনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। তাকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফন করা হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যা করতে শিবির ক্যাডারকে কন্ট্রাক্ট

মানস চৌধুরী, চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাজালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকে হত্যা করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়েছে দুই ভাড়াটে খুনি। শিবির ক্যাডারকে হত্যার কন্ট্রাক্ট দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান। এঘটনায় দ্বায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে থানা আওয়ামীলীগ।
মঙ্গলবার (২ জুন) ভোররাতে হত্যার উদ্দেশ্যে বাড়ির এলাকা রেকি করতে গিয়ে ধরা পড়ে তারা। ধরা পরার পর দুই ভাড়াটে খুনি বাজালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ চৌধুরী ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দীন সজিবকে হত্যার পরিকল্পনার কথা ফাঁস করে। তাদের ভাষ্যমতে পরিকল্পনাকারী হিসেবে নাম উঠে এসেছে বাজালিয়া ইউপি’র বর্তমান চেয়ারম্যান তাপস দত্ত ও জামায়াত ক্যাডার সদ্য কারামুক্ত রাশেদের নাম। পরে তাদের পুলিশের কাছে তুলে দেয় স্থানীয় জনতা। ধরা পড়া দুই ভাড়া করা খুনি হলো উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের আব্দুল গনির ছেলে হাবিবুর রহমান (২৮) ও ছদাহা ইউনিয়নের উত্তর ছদাহা এলাকার মোহাম্মদ সিরাজের পুত্র তরিকুল ইসলাম জিসান (২৫)। তাদের স্বীকারোক্তিমূলক একটি ভিডিও ফুটেজও ইতিমধ্যে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ভিডিওটিতে আটককৃতরা চেয়ারম্যান তাপস দত্তের পরিকল্পনায় রাশেদের সঙ্গী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা শহীদুল্লাহ চৌধুরী ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সজিবের গতিবিধি অনুসরণ করার কাজ করছিল বলে স্বীকারোক্তি দেয়। সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিউল কবীর বলেন, বাজালিয়া থেকে ২ যুবককে এলাকাবাসী আটক করে পুলিশের কাছে সোর্পদ করেছে। ২ জনকেই আমরা সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম। তার মধ্যে একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানা যায় সাতকানিয়ার স্থানীয় রাজনীতিতে দলীয় কোন্দলের কারণে প্রতিপক্ষ হিসেবে তৈরি হওয়া সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যার জন্য শিবির ক্যাডারকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ মনোনীত চট্টগ্রামের সাতকানিয়া বাজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের তাপস দত্তের বিরুদ্ধে।এই ঘটনা ঘটেছে সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মীরপাড়া এলাকায়। হামলার টার্গেট হওয়া ওই সাবেক ছাত্রলীগ নেতার নাম গিয়াস উদ্দীন সজীব। তিনি বাজালিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। গিয়াস উদ্দীন সজীব বাজালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ চৌধুরীর অনুসারী। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, বাজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাপস দত্ত ও বাজালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ চৌধুরীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে চেয়ারম্যান তাপসের লোকজনের হাতে শহীদুল্লাহ চৌধুরীর লোকজন বেশ কয়েকবার মারধর ও হামলার শিকার হয়।
তাদের দুইজনের এ রাজনৈতিক বিরোধ মেটাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বেশ কয়েকবার চেষ্টাও করেন। মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে চেয়ারম্যান তাপস দত্ত ও শহীদুল্লাহ চৌধুরীকে নিয়ে উপজেলা আওয়ালী লীগ বৈঠক হয়েছে ।
সম্প্রতি বেশ কয়েকবার হামলার শিকার হওয়ার পর নিজ বাড়িতে থাকতেন না সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গিয়াস উদ্দীন সজীব। তিনি শহীদুল্লাহ চৌধুরীর বাড়িতে সোমবার রাতে অবস্থান করেন। তাকে অনুসরণ করে সেখানে যায় হাবিবুর রহমান ও মো. তরিকুল ইসলাম নামে দুই যুবক। পরে স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। আটক হাবিবুর রহমান ও তরিকুল ইসলাম স্থানীয়দের সামনে স্বীকারোক্তিও দেন। তারা জানান, রাশেদ চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি তাদের ভাড়া করেছেন। জনপ্রতি ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তারা মোট চারজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গিয়াস উদ্দীন সজীবের ওপর হামলা চালাতে আসেন।
রাশেদ চৌধুরী বাজালিয়া এলাকার শিবির ক্যাডার। তার ভাই মাসুদও শিবির ক্যাডার। তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। রাশেদ চৌধুরী দীর্ঘদিন কারাগারেও ছিলেন বলে জানা গেছে। আটক হাবিবুর রহমান ও তরিকুল ইসলাম বর্তমানে সাতকানিয়া থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে বলে জানান সাতকানিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ।
বাজালিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দীন সজীব বলেন, চেয়ারম্যান তাপস দত্ত আমাকে মেরে ফেলার জন্য শিবির ক্যাডার রাশেদ চৌধুরীকে কন্ট্রাক্ট করেছেন। রাশেদ অন্য এলাকা থেকে লোক ভাড়া করে এনে আমার ওপর হামলা করতে এসেছিলেন। গিয়াস উদ্দীন সজীব বলেন, তাপস দত্ত আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার পর তার জন্য আমি কাজ করেছি। তার পক্ষে কাজ করেছি। কিন্তু তিনি চেয়ারম্যান হওয়ার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের এড়িয়ে চলেছেন। কয়েকজনের ওপর হামলাও করিয়েছেন তার লোকজন দিয়ে। তারপর থেকে আমি তার সঙ্গ ত্যাগ করেছি। শহীদুল্লাহ চৌধুরী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, তার সঙ্গে রাজনীতি করার কারণে চেয়ারম্যান আমার ওপর ক্ষুব্ধ। ইতি পূর্বে চেয়ারম্যান তাপস দত্ত চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ নেতা প্রশান্ত চৌধুরী জিশুর সাতকানিয়ার বাজালিয়া বাড়িতেও তার লোকজন দিয়ে হামলা করান বলে অভিযোগ করেন গিয়াস উদ্দীন সজীব।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, চেয়ারম্যান তাপস দত্তের সঙ্গে আমার দূরত্ব তৈরি হয়েছে তার বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করান, এটা তো মেনে নিতে পারি না। তাকে এসব বন্ধ করতে অনেকবার অনুরোধ করেছি কিন্তু তিনি শুনেন না।
অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান তাপস দত্ত জনান বলেন, আমি কাউকে হামলা করতে বলিনি। এ সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। আমার সঙ্গে শহীদুল্লাহ চৌধুরী, গিয়াস উদ্দীন সজীবের কোনো বিরোধ নেই।
সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দীন চৌধুরী জানান এই ঘটনাটি অত্যন্ত দু:খ জনক। আমরা শংর্কিত দলের অন্তকোন্দলের কারণে জামাতের ক্যাডারকে ব্যবহার করে দলীয় নেতা কর্মীদের হত্যা পরিকল্পনায় যুক্তদের বিরুদ্ধে শীর্ঘই দলীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বাজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে একাধিক সদস্যরা নাম প্রকাশের না করার শর্তে দৈনিক আজকালের খবরকে জানান তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া পর একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলে ছিল। তারা আরো জানান চেয়ারম্যান তাপস দত্ত দিকে বেলায় চেয়াম্যান হলে ও রাত ৩টা পর্যন্ত তার নিজস্ব পেট্রোল পাম্পের পাশে সন্ত্রাসী পরিকল্পনা করে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে স্থানীয় ইউপি সদস্য বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই নজরুল ইসলাম আসামী হাবিবুর রহমান (২৮) তরিকুল ইসলাম জিসান (২৫) কে জিজ্ঞাসাবাদেও জন্য আদালতে রিমান্ডে আনার আবেদন করেছেন বলে দৈনিক আজকালের খবরকে নিশ্চিত করেছেন সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিউল কবীর।