ঝিনাইদহে ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার (ভিডিও)

খুলনা অফিস : র‌্যাব ৬ এর অভিযানে ঝিনাইদহ থেকে বিপুল পরিমান ফেন্সিডিলসহ এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়েছে ।
র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলার মো হৃদয় খাঁন(২২) কে ৫৫৯ বোতল ফেন্সিডিল, ২টি মোবাইল ও মোটর সাইকেলসহ গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখ্য যে, ধৃত আসামী হৃদয় খাঁন এর বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা এবং যশোর জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদকসহ অন্যান্য মামলা রয়েছে। জব্দকৃত আলামত ও গ্রেফতারকৃত আসামীকে ঝিনাইদহ জেলার সদর থানায় হস্তান্তর করতঃ আসামীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

 

 

বাগেরহাটে চোরাই মালামালসহ গ্রেফতার ১ (ভিডিও)

খুলনা অফিস : বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানা এলাকায় থেকে চোরাই মালামালসহ চোরচক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ৬।
র‌্যাব জানায়, গত ২৪ জুলাই ২০২২ তারিখ ঢাকা জেলার তেজগাঁও থানাধীন কাওরান বাজারস্থ মেট্টো এক্সপ্রেস কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মচারী কর্তৃক অফিসের বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়ে যায়। পরবর্তীতে উক্ত কুরিয়ার সার্ভিসের সুপার ভাইজার বাদী হয়ে উক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে ডিএমপি ঢাকার তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
উক্ত কর্মচারী চোরাই মালামাল নিয়ে খুলনাঞ্চলে অবস্থান করছে মর্মে জানা যায়। র‌্যাব ৬ এর একটি আভিযানিক দল চোরকে ধরতে তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার দিবাগত রাতে র‌্যাব ৬ এর দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানা এলাকা থেকে মোঃ রাজু শেখ (২৫) কে চুরিকৃত বিভিন্ন হার্ডওয়ার এর ১১৮৭ কেজি মালামাল, ৪৪ কেজি স্যানেটারী আইটেম,-প্রায়, ৩৮ কেজি খাবার সামগ্রীসহ গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামী রাজু শেখকে ডিএমপি ঢাকার তেজগাঁও থানায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী সৃষ্টি এবং স্থাপত্য শিল্পের মাইল ফলক : মোঃ মফিদুল ইসলাম টুটুল

মোঃ শহীদুল হাসান :

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। পদ্মা বহুমুখী সেতু বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী সৃষ্টি ও স্থাপত্য শিল্পের মাইল ফলক। পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বিশ্ব দরবারে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মোঃ মফিদুল ইসলাম টুটুল।

আগামী ২৫জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনীকে ঘিরে সারা দেশে যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, সমৃদ্ধি, উন্নয়ন ও মানবতার নেত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও দৃঢ়তার ফলে পদ্মা সেতু আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের একুশটি জেলার জনগণের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও দাবি ছিল পদ্মা সেতুর। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাও বঙ্গবন্ধুর মতো একজন ভিশনারি লিডার। তিনি পদ্মা নদীর ওপর সেতুর শুধু স্বপ্নই দেখেননি তার বাস্তব সৃষ্টিও দেখতে চেয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে তিনি পদ্মা সেতুর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ হাতে নেন। ১৯৯৮-১৯৯৯সালে বিশেষজ্ঞ দল দ্বারা সেতুর সম্ভাব্যতা বা ফিজিবিলিটি স্টাডি করান। ২০০১সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে পদ্মা সেতুর নির্মাণের বাস্তব ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তারপরেও বঙ্গবন্ধু কন্যা স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কথা বিস্মৃত হননি। ২০০৮সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইস্তেহারে পদ্মা সেতু নির্মানে জনগনকে স্বপ্ন দেখান ও প্রতিশ্রুতি দেন। দেশের মানুষ শেখ হাসিনার পদ্মা সেতুর স্বপ্নের উপর আস্থা রেখে নির্বাচনে বোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করে। নির্বাচনে জয় লাভের পর সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইস্তেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ হাতে নেন। সরকারের পরিকল্পনা ছিল বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে।

২০১১ সালের ২৮এপ্রিল বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১২০কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা চুক্তি সই হয়। এছাড়া ১৮ মে জাইকার সঙ্গে, ২৪ মে আইডিবির সঙ্গে এবং ৬ জুন এডিবির সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই বছর অর্থাৎ ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাংক অভিযোগ করে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক তাদের ঋণচুক্তি বাতিল করে। প্রথম থেকেই দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা পদ্মা সেতু নির্মাণে বিরোধিতা করে আসছিলো। ষড়যন্ত্রকারীরা চেয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারকে বিপাকে ফেলতে। দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ এনে সরকারের জনপ্রিয়তা কমানোর পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে বরাবরের মতই বৈষম্যের বেড়াজালে আটকে রাখতে পদ্মা সেতু নির্মান বন্ধ করাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। বাস্তবে তার উল্টোই হয়েছে। বিশ্বব্যাংক কর্তৃক ঋণচুক্তি বাতিল বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদই হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ঋণচুক্তি স্থগিত করলে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন পদ্মা সেতু অবশ্যই হবে। তবে তা নিজস্ব অর্থায়নেই।অন্যের কাছ থেকে হাত পেতে টাকা এনে পদ্মা সেতু করবেন না। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা শত প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরু করেন। বাংলাদেশ পদ্মা সেতুর মতো একটি বৃহৎ বহুমুখী সেতু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত করতে সক্ষম হয়েছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি বহির্বিশ্বে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ২৫শে জুন ফিতা কেটে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন এটা বাংলাদেশ তথা বিশ্বের ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। পদ্মা নদীর উপরে শুধু একটি সেতু নয়-এটি একটি লালিত স্বপ্নের সফলতা। পদ্মা বহুমুখী সেতু শুধু যোগাযোগ নেটওয়ার্ক-এর বিপ্লব ঘটাবে না। এ সেতু সতেরো কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পদ্মা সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার ২ কোটি মানুষের আঞ্চলিক বৈষম্য কমার পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। এ অঞ্চলে নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা স্থাপনের ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে। মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরের গুরুত্ব বেড়ে যাবে। ভোমরা, বেনাপোল বন্দরসহ ভারতের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি পাবে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের দ্বিখন্ডিত বাংলাদেশকে সড়কপথে ঐক্যবদ্ধ করবে। এই সেতু সড়ক ও রেলপথের যোগাযোগের মাধ্যমে তড়িৎ অগ্রগতি সাধিত হবে। পণ্য পরিবহন, ব্যবসা বাণিজ্য শিক্ষা চিকিৎসা শাস্ত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

তিনি প্রত্যাশা করে বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে মানুষের যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সমীক্ষা অনুযায়ী, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) ১ দশমিক ২৩ শতাংশ বাড়বে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২দশমিক ৩শতাংশ। দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের নুতন দ্বার উন্মোচিত হবে। তবে শুরুতেই বড় গতিশীলতা আসবে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে। সেতুর কারণে সব ধরণের কৃষিপণ্য তাদের সবচেয়েৎকাঙ্ক্ষিত বাজারে দ্রুত যেতে পারবে। শুধু ঢাকা নয়, বরং বড় বড় জেলায়শহরগুলোতেও তাদের পণ্য যাওয়ার সুযোগ পাবে। পদ্মা সেতুর প্রাথমিক প্রভাবয়পড়বে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি খাতে আর দীর্ঘমেয়াদী সুফল আসবে ভারী শিল্পখাতে। ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন ও খানজাহান আলী মাজার, ষাট গম্বুজ মসজিদ ঘিরে পর্যটনের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। যা বাংলাদেশকে পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় পর্যটন শিল্পের দেশে রুপান্তরিত করবে বলে মনে করেন। এই ব্যবসায়ী নেতার প্রত্যাশা পদ্মা সেতু যোগাযোগের বড় দিগন্ত উন্মোচন করবে। সে বিষয়ে তার কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু এই যোগাযোগ সুবিধাকে অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপান্তর করতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস, বিদ্যুতসহ অন্য অবকাঠামোতেও নজর দিতে হবে বলেও জানান তিনি।

পানিতে ডুবে ছেলের মৃত্যুর ৪দিন পর শোকাতুর মায়ের মৃত্যু

ইউনিক প্রতিবেদক, বাগেরহাট :

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে কলেজ ছাত্র ছেলে আল-আমিন শেখ পুকুরে পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ৪ দিন পর রাস্তায় পড়ে মৃত্যু হয়েছে শোকাতুর মা আমিনা বেগমের। এঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার (২ জুন) দুপুর দুইটার দিকে মোল্লাহাট উপজেলার দারিয়ালা পূর্বপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে একটি ইজিবাইককে সাইড দিতে গিয়ে রাস্তায় পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। সে ওই গ্রামের মো. ফুল মিয়া শেখের স্ত্রী। 

মোল্লাহাট থানার ওসি (তদন্ত) মতিয়ার রহমান বলেন, মিনা বেগম নামের এক নারী মাথা ঘুরে রাস্তায় পড়ে যায়। এরপর স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে তাকে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিনা বেগমকে মৃত ঘোষনা করে।

মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক জব্বার ফারুকী বলেন, মিনা বেগম নামের এক নারীকে তার স্বজনেরা হাসপাতলে নিয়ে আসে। তবে এখানে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার গায়ে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই।

প্রতিবেশিরা জানায়, গত শনিবার (২৮ মে) রাতে উপজেলার দারিয়ালা পূর্বপাড়া গ্রামের আল-আমিন শেখ (১৯) বাড়ি থেকে বের হয়ে গোসল করতে যায়। পরে আর তাকে ওই খুজে পাওয়া যায়নি। পরের দিন সকালে পুকুরে ভাসমান ঐ কলেজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে এলাকাবাসি। এরপর থেকে মা মিনা বেগম ছেলের শোকে পাগল প্রায়। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে মিনা বেগম খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেয় এবং দ্বিগবিদিক ছোটাছুটি করে। আল-আমিন শেখ মোল্লাহাট খলিলুর রহমান ডিগ্রী কলেজের ২০২২ শিক্ষা বর্ষের এইচ এসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন ।

স্থানীয় গাংনী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রবিউল আলম বলেন, একমাত্র ছেলে আলামিনকে হারিয়ে পাগল প্রায় মা মিনা বেগম। কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছিল না ছেলের মৃত্যু। দুপুরে বাড়ির সামনে বের হলে তার এই মৃত্যুতে তার পরিবার ও গ্রামবাসির মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

খুলনা রেলওয়ের স্টেশন মাষ্টারকে শোকজ ও পাকশীতে তলব

খুলনা রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার

ইউনিক প্রতিবেদক :

কর্তৃপক্ষের মিথ্যা অযুহাতে পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে থানায় সাধারণ ডায়েরি করায় স্টেশন মাস্টারকে শোকজ সহ বিভাগীয় সদর দপ্তরে তলব করা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) পাকশি মো. আনোয়ার হোসেন খুলনা রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার মানিক চন্দ্র সরকারকে এ শোকজ করেন। শোকজে মানিক চন্দ্রকে ১৯ মে বৃহস্পতিবারে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে শোকজের জবাব দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।
রেল সূত্র জানায়, গত ১৬ মে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার মানিক চন্দ্র সরকার উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে খুলনার ৫ কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে খুলনার রেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। ডায়েরী করার পরে স্টেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের রোষানলে পড়লে তখন তিনি বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের নাম বলেন। তখন তিনি বলেন, ‘আমি রেলের বিভাগীয় পরিবহণ কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই রেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছি।” একই সাথে তিনি সাধারণ ডায়েরীতে উল্লেখ করেন যে, “ স্টেশনের শান্তি শৃংখলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে বিভাগীয় পরিবহণ কর্মকর্তার টেলিফোন নির্দেশে আমি এই সাধারণ ডায়েরী রেল থানায় নথিভুক্ত করেছি।” তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, “রেলওয়ের টিএক্সআর বায়তুল ইসলাম, আইডব্লিউ অফিসের মো. জাফর মিয়া, তোতা মিয়া, সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. আশিক আহম্মেদ ও সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. জাকির হোসেনে কালোবাজারে টিকিট বিক্রি করেন এবং তারা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ভূয়া নাম ব্যবহার করে টিকিটের চাহিদা প্রদান করে টিকিট গ্রহণ করেন। টিকিট না পেলে তারা বহিরাগতদের দিয়ে আমাকে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করেন এবং স্টেশন ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও মারধরের পায়তার নীলনকসা করছে। এছাড়া আমার মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়েছে।” এই জিডি কপি বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তার হাতে পৌছালে তাৎক্ষনাত তিনি খুলনার স্টেশন মাষ্টার মানিক চন্দ্র সরকারকে কারন দর্শিয়ে বিভাগীয় সদর দপ্তরে স্বশরীরে এসে উত্তর প্রদানের নির্দেশ দেন।
এদিকে খুলনা রেল স্টেশনে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান যে, এই স্টেশন মাষ্টার মানিক চন্দ্র সরকার এর আগে টিকিট কালোবাজারে বিক্রি করার অভিযোগে পানিষ্টমেন্ট ট্রান্সফার (শাস্তিমূলক বদলি) হয়েছিলো। এছাড়া তাকে কখনই তার চেয়ারে পাওয়া যায় না। তাকে মোবাইল করলেও তিনি ফোন রিসিভি করে না বলে কর্মকর্তা কর্মচারী সহ অসংখ্য ট্রেনযাত্রীরা অভিযোগ করেন।
এব্যাপারে রেলওয়ের টিএক্সআর বায়তুল ইসলাম বলেন, “আমরা কখনওই টিকিট কালো বাজারী করি না। স্টেশন মাষ্টারকে ট্রেন যাত্রীরা চেয়ারে না পেয়ে আমাদের কাছে আসে। তখন আমরা উপায়ান্ত না পেয়ে রেলের যাত্রী সেবার কথা বিবেচনায় নিয়ে যাত্রীদের কথা শুনি। এছাড়া আমরা খুলনায় বসবাস করি, আমাদের সাথে অনেক রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, অনেক সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা টিকিট না পেয়ে আমাদের স্মরণাপন্ন হন। এমনকি আমাদের রেলের অনেক কর্মকর্তা আছেন তাদের নির্দেশ শুনতে আমাদেরকে লাইনে দাড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করে দিতে হয়। এটি যদি আমাদের দোষ হয় তাহলে আমরা সে দোষে দোষী। আমরা প্রধানমন্ত্রীর সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোরায় পৌছে দিতে চাই।”
সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. আশিক আহম্মেদ বলেন, “স্টেশন মাষ্টার সাধারণ মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। আর তিনি ঠিকমত অফিসে বসেন না। ফলে সেবা গ্রহণকারী যাত্রীদের চাপ আমাদের উপর এসে পড়ে।” তিনি এক প্রশ্নের জবাবে দৈনিক দেশ সংযোগকে বলেন, “টিকিট আমরা কেন কালো বাজারে বিক্রি করবো? টিকিট তো কালোবাজারে মাষ্টার নিজেই বিক্রি করেন। তিনি যে কালো বাজারে টিকিট বিক্রি করে তার একটি তালিকা আমাদের কাছে রয়েছে। আর তিনি এতই উচু মাপের কর্মকর্তা যে, তিনি কোন নেতাদের হিসাবে রাখেন না। তিনি আমাদের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথেও খারাপ আচরণ করেন। আমরা সব সময় তার সহযোগীতা করে আসছি। আর তার স্বার্থ ফুরিয়ে গেলেই আমাদের সাথে এ ধরনের জীবিকার উপর হুমকি নিয়ে আসেন।”
এদিকে কারন দর্শানো নোটিশের বিষয়ে খুলনা রেল স্টেশন মাষ্টারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তার ফোনে ঢুকলেও তিনি ফোন কেটে দেন।
এ ব্যাপারে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেনকে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

বঙ্গবন্ধু দিয়েছেন স্বাধীনতা আর শেখ হাসিনা দিয়েছেন অর্থনৈতিক মুক্তি : সাবেক ছাত্রলীগ ফোরামের ঈদ পুনর্মিলনীতে বাবুল রানা

ইউনিক প্রতিবেদক:

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সংগঠনটির দীর্ঘ পথচলায় রয়েছে দেশ ও জাতির জন্য গৌরবময় অসংখ্য অর্জন। সমৃদ্ধ সেসব অর্জন জাতিকে দিয়েছে নতুন পথের ঠিকানা। স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের যেভাবে হলো, সে শব্দ প্রাপ্তিতে সংগঠনটির অবদান ইতিহাসের পাতায় আজও উজ্জ্বল হয়ে আছে। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন দাবি ও প্রেক্ষাপটের আলোকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা প্রতিষ্ঠিত করার দাবিতে; সর্বোপরি সাংগঠনিক প্রয়োজনীয়তা ও সংঘবদ্ধভাবে সফল আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই জাতির পিতা ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রলীগের রয়েছে অনন্য ভূমিকা। এ ছাত্র সংগঠনটিই হলো আওয়ামী লীগের প্রাণ।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আমাদের দিয়েছেন স্বাধীনতা আর জননেত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন অর্থনৈতিক মুক্তি। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশে ফিরে পিতার পথ ধরে সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। সরকার প্রধান হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সুযোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারণে আজ বিশ্ব নেত্রীতে পরিণত হয়েছেন। ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত করতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। আর একাজে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীদের সবসময়ের মতো জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহায়তা করতে হবে।

খুলনা সাবেক ছাত্রলীগ ফোরামের আয়োজনে নগরীর লিনিয়ার পার্কে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মিলন মেলা ও ঈদপুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেডিএ‘র স্থায়াী সদস্য জামাল উদ্দিন বাচ্চু, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ও প্যানেল মেয়র আলী আকবর টিপু। ছাত্রলীগের ফোরামের আহ্বায়ক ও মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আফরোজা জেসমিন বিথীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ১৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আবিদ উল্লাহ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল হক, ২৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জি এম রেজাউল ইসলাম, সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর, দিলীপ বর্মণ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আমিরুল ইসলাম লিটু, নুরে আলম ময়না, শাহিদা আক্তার রিনি, এ্যাড. মাহবুব রহমান, শহীদুল ইসলাম সবুজ সহ সাবেক ছাত্রলীগের নেতকর্মী, সমর্থক ও তাদের পরিবারবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

মিলনমেলায় সবার জন্য বিভিন্ন প্রতিযোগীতা, কৃতি শিক্ষার্থী সন্তানদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট, সকল বাচ্চাদের জন্য ক্রেস্ট প্রদান, ফানুস উড়ানো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

মোংলায় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের ঘর পাচ্ছেন ১৪০ পরিবার

ইউনিক প্রতিবেদক, মোংলা, বাগেরহাট :

মোংলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহার স্বরুপ ঘর পাচ্ছেন ১৪০টি পরিবার। আশ্রয়ণ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে দেয়া হচ্ছে এ ঘর। উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের মাকড়ঢোন এলাকায় নির্মিত হচ্ছে ঘরগুলো। বেশির ভাগ ঘরেরই কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। পৌরসভার শেষ সীমান্তে ও উপজেলার চাঁদপাই এবং বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের মাঝে আন্তর্জাতিক মোংলা-ঘাষিয়াখালী বঙ্গবন্ধু চ্যানেলের পাড়ে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক এ ঘরগুলো। সেখানকার পরিবেশ দেখে যে কেউই ভাববেন এটি কোন রিসোর্টই হবে। এখানে ঘরের পাশাপাশি খোলা জায়গা ও পুকুর রয়েছে। রয়েছে ক্ষেত ও ফসল চাষের মাঠও। নতুন এ ঘরে থাকছে বিদ্যুৎ সংযোগও। প্রত্যেক পরিবারকে ঘর ও জমির কাগজপত্র বুঝিয়ে দেয়া হবে শীগগিরই। তৃতীয় পর্যায়ের এ ঘরগুলো পূর্বের দুই দফায় দেয়া ঘরের চেয়ে মজবুত ও ব্যয়বহুলও। এবারের প্রতিটি এ ঘরে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। এর আগে প্রতিটিতে ব্যয় ছিলো ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এদিকে চাঁদপাই ইউনিয়নের মাকড়ডোন গ্রামে নির্মিত এ ঘর প্রকৃত ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে হস্তান্তর উপলক্ষে সোমবার বেলা ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে।

আর এ ঘরগুলো সুন্দরভাবে নির্মাণ সম্পন্ন করতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার। তিনি বলেন, অত্যন্ত সুন্দর একটি পরিবেশে এ ঘরগুলো করা হয়েছে। ঘর নির্মাণে মানসম্মত সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে খুব টেকসই হয়। কাজ শেষ পর্যায়ে উপকারভোগীরা নতুন এ ঘরেই ঈদ করতে পারবেন।

সাবেক দস্যু বাহিনী প্রধানের বিরুদ্ধে জেলেদের উপর জুলুম ও হয়রানী  এবং বনে আতংক সৃষ্টির অভিযোগ

ইউনিক প্রতিবেদক, মোংলা, বাগেরহাট : 

সুন্দরবনের সাবেক দস্যু বাহিনী প্রধানের বিরুদ্ধে নতুন করে জেলেদের উপর জুলুম ও হয়রানীসহ নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে দুর্গম বনাঞ্চলে নতুন করে আতংকের সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টায় মোংলা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জেলেরা এ অভিযোগ করেন।

সুন্দরবনের জেলে মোঃ শাাহজাহান লিখিত অভিযোগ ও বক্তব্যে বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চর সংলগ্ল লইট্যাখালী এলাকায় প্রায় ৪০ বছর ধরে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন তিনিসহ এক দল জেলে। কিন্তু গত ২২ মার্চ সকালে সাবেক দস্যু মাস্টার বাহিনীর প্রধান আব্দুল কাদের মাস্টার ও আইনশৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স পরিচয়ে জনৈক বেলায়েত ও দেবুসহ ১০/১২ জন লোক ওই সকল জেলেদের নৌকা-জাল নিয়ে সেখান থেকে চলে যাওয়ার হমকি দেয়। এরপর হুমকিদাতারা ওই জেলেদের জালের সামনে জাল পেতে মাছ ধরে সেই জায়গা দখলে নিয়ে নেয়। এতে ওই নিরীহ জেলেরা ভয়ে ও আতংকে জাল ফেলে লোকালয়ে চলে আসেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, ৩/৪ বছর আগেও সুন্দরবনের জেলেদের হত্যা, নির্যাতন ও অপহরণসহ চাঁদাবাজী করছিলো দস্যুরা। কিন্তু আইনশৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় দস্যু মুক্ত সুন্দরবনে বেশ ভালই ছিলেন সাধারণ জেলেরা। কিন্তু আত্মসমর্পনকারী সাবেক দস্যু বাহিনীর সদস্যরা সরকারীভাবে নানা সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করলেও সাবেক দস্যু মাস্টার বাহিনীর প্রধান ও তার সহযোগীদের অপতৎপরতার কাছে ফের অসহায় হয়ে পড়েছেন নিরীহ জেলে ও পেশাজীবিরা। এ সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবন থেকে ফিরে আসা অনেক জেলে উপস্থিত ছিলেন। এ থেকে প্রতিকার পেতে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও শিশু দিবস উপলক্ষে মহানগর কৃষক লীগের বিভিন্ন কর্মসূচী পালন

ইউনিক প্রতিবেদক :

১৭ মার্চ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাংগালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্মদিন। সেই মহামানবের জন্মদিন উপলক্ষে খুলনা মহানগর কৃষক লীগ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে। কর্মসূচির মধ্যে বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টায় দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, সকাল ৮টায় খুলনা বেতার কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধু’র ভাস্কর্য্যে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দুপুর ১১টায় মহানগর আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় অংশগ্রহন করে খুলনা মহানগর কৃষক লীগ। আলোচনা সভা শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু’র জন্মদিন উপলক্ষে দলীয় কার্যালয়ে মহানগর কৃষক লীগের আয়োজনে কেক কাটা হয়।

কেককাটা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা। অনুষ্ঠানে সভাপত্বি করেন মহানগর কৃষক লীগের আহ্বায়ক এ্যাড. এ কে এম শাহজাহান কচি। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মহানগর কৃষক লীগে সদস্য সচিব অধ্যা. এ বি এম আদেল মুকুল। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ, নির্বাহী সদস্য রুনু ইকবাল বিথার সহ মহানগর কৃষক লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ

সাতক্ষীরায় টাকা উদ্ধার ও নিরাপত্তার দাবিতে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

ইউনিক প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা :

সাতক্ষীরায় প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে খাস সম্পত্তি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া ৬ লক্ষাধিক টাকা উদ্ধার ও তার নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁকাল বারুইপাড়া গ্রামের মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলঅম মোস্তফার স্ত্রী ভুক্তভোগী আনোয়ারা বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর আমি সেলাইয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলাম। সম্প্রতিক সময়ে কুখরালী এলাকার মোসলেমের পুত্র মহিদুল ইসলাম অল্প খরচে আমাকে ৩/৪ বিঘা খাস জমি পাইয়ে দেবে বলে প্রস্তাব দেন। যেহেতু স্বামী নেই সেকারনে জমিটা পেলে আমার সংসার পরিচালনায় সুবিধা হবে ভেবে সরল বিশ্বাসে আমি তার কাছে তিন দফায় মোট ১লক্ষ টাকা ৪১ হাজার টাকা প্রদান করি। পরবর্তীতে মহিদুল আমাকে বলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা রাজু স্যারের বিকাশে টাকা দিতে হবে তাহলে সকল কাগজপত্র ঠিক করে দেবে। এরপর রাজু স্যারের ব্যহৃত দুটি মোবাইল ০১৮১৩-৬৭৮৭৫২ এবং ০১৭৬৩ ৬১৬৬৯০ নাম্বার দেয়। ওই রাজু নামের কথিত অফিসার আমার সাথে প্রায়ই কথা বলতো। রাজুর বিকাশ নাম্বারে কাগজপত্র ছাড়ানোর জন্য আমি বিভিন্ন সময়ে ৬ লক্ষ ১০ হাজার টাকা প্রদান করি। এখন রাজুর নাম্বারে ফোন দিলে জনৈক মহিলা ফোন রিসিভ করে বলেন, রাজু স্যার মারা গেছেন। উপায়ন্তর না পেয়ে আমি মহিদুলের কাছে গিয়ে এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার ০১৯৩৬ ০৪৫৩৫৬ এবং ০১৯১২ ৩২৫৭৮৫ এর মোবাইলে ফোন করে টাকা ফেরত চাইলে সে তালাবাহানা করতে থাকে। একপর্যায়ে মহিদুলের বাড়িতে গেলে আমাকে কোন টাকা দিতে পারবে না মর্মে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় এবং কেউকে বিষয়টি না জানানোর জন্য হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে।

তিনি বলেন, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বামীকে হারিয়ে একমাত্র পুত্র নিয়ে এখন না খেয়ে দিনাতিপাত করছি। সরলতার সুযোগে আমাকে ঠকিয়ে এতগুলো টাকা হাতিয়ে নিয়ে ওই মহিদুল এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ আমি বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ দেনা করে ওই টাকাগুলো প্রতারক মহিদুলের কাছে তুলে দিয়েছিলাম। সে আমাকে ঠকিয়ে পথে বসিয়েছে। আমার একমাত্র পুত্র একটি কোম্পানিতে চাকুরি করে যা উপার্জন করে তা দিয়ে সংসার পরিচালনা করা খুবই কষ্টসাধ্য। তিনি আরো বলেন, ওই মহিদুল টাকা ফেরত দেওয়া তো দূরের কথা উল্টো আমাকেসহ আমার সন্তানকে খুন জখমসহ বিভিন্ন হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে যাচ্ছে। এঘটনায় আমি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছি। একদিকে টাকা হারিয়ে আমি দিশেহারা অন্যদিকে ওই প্রতারকের খুন জখমের হুমকিতে আমি এবং আমার সন্তান এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি এ সময় তার প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধার অসহায় স্ত্রী হিসেবে ওই প্রতারক চক্রের কবল থেকে তার টাকা উদ্ধার এবং ওই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।