ঝিনাইদহে ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার (ভিডিও)

খুলনা অফিস : র‌্যাব ৬ এর অভিযানে ঝিনাইদহ থেকে বিপুল পরিমান ফেন্সিডিলসহ এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়েছে ।
র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলার মো হৃদয় খাঁন(২২) কে ৫৫৯ বোতল ফেন্সিডিল, ২টি মোবাইল ও মোটর সাইকেলসহ গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখ্য যে, ধৃত আসামী হৃদয় খাঁন এর বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা এবং যশোর জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদকসহ অন্যান্য মামলা রয়েছে। জব্দকৃত আলামত ও গ্রেফতারকৃত আসামীকে ঝিনাইদহ জেলার সদর থানায় হস্তান্তর করতঃ আসামীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

 

 

বাগেরহাটে চোরাই মালামালসহ গ্রেফতার ১ (ভিডিও)

খুলনা অফিস : বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানা এলাকায় থেকে চোরাই মালামালসহ চোরচক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ৬।
র‌্যাব জানায়, গত ২৪ জুলাই ২০২২ তারিখ ঢাকা জেলার তেজগাঁও থানাধীন কাওরান বাজারস্থ মেট্টো এক্সপ্রেস কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মচারী কর্তৃক অফিসের বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়ে যায়। পরবর্তীতে উক্ত কুরিয়ার সার্ভিসের সুপার ভাইজার বাদী হয়ে উক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে ডিএমপি ঢাকার তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
উক্ত কর্মচারী চোরাই মালামাল নিয়ে খুলনাঞ্চলে অবস্থান করছে মর্মে জানা যায়। র‌্যাব ৬ এর একটি আভিযানিক দল চোরকে ধরতে তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার দিবাগত রাতে র‌্যাব ৬ এর দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানা এলাকা থেকে মোঃ রাজু শেখ (২৫) কে চুরিকৃত বিভিন্ন হার্ডওয়ার এর ১১৮৭ কেজি মালামাল, ৪৪ কেজি স্যানেটারী আইটেম,-প্রায়, ৩৮ কেজি খাবার সামগ্রীসহ গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামী রাজু শেখকে ডিএমপি ঢাকার তেজগাঁও থানায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

বাণীশান্তার তিনফসলি জমিতে বালি ফেলার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের সুপষ্ট লঙ্ঘন : বাপা’র খুলনা সংলাপে বক্তারা

ইউনিক প্রতিবেদক :

বাণীশান্তার তিনফসলি উর্বর জমিতে মোংলা বন্দর কর্তৃক পশুর নদী খননের বালি ফেলার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ইতিমধ্যেই খননকৃত বালি ফেলার কারনে চিলা এলাকার পশুর নদী পাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা-স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। খননকৃত বালি দ্বারা পশুর নদীর অববাহিকার ব-দ্বীপ পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রকে ধ্বংস করছে এতে কোন সন্দেহ নেই। বাণীশান্তার তিনশো একর কৃষিজমিতে খননকৃত বালি ফেলার সিদ্ধান্ত’র বহু বিকল্প প্রস্তাব রয়েছে। তাই পশুর নদী খননের সমস্যা সমাধানের জন্য টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

শনিবার সকালে খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু ( ভিআইপি লাউঞ্জ ) মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং বাণীশান্তা ইউনিয়ন কৃষিজমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে ” পশুর নদী খননকৃত বালির কবল থেকে বাণীশান্তা ইউনিয়নের তিনশো একর তিনফসলি কৃষিজমি রক্ষায় করনীয়” শীর্ষক খুলনা সংলাপে বক্তারা একথা বলেন।

সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত খুলনা সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) খুলনার আহ্বায়ক এ্যাড. বাবুল হাওলাদার। সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ননী গোপাল মন্ডল। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল। এছাড়া খুলনা সংলাপে বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য এস এ রশিদ, খুলনা পরিবেশ মঞ্চ’র আহ্বায়ক এ্যাড. কুদরত-ই-খোদা, সাংবাদিক-গবেষক গৌরাঙ্গ নন্দী, ক্লিন খুলনার প্রধান নির্বাহি হাসান মেহেদী, দাকোপ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান গৌরপদ বাছাড়, সাবেক ছাত্রনেতা পূর্ণেন্দু দে, বাসদ নেতা জনার্দন দত্ত নান্টু, ওয়ার্কার্স পাটির নেতা শেখ মহিদুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টি ( মার্কসবাদী ) নেতা কমরেড মোজাম্মেল হক, সাংবাদিক এইচ এম আলাউদ্দিন, সিপিডি’র খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী ইকবাল হোসেন বিপ্লব, সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক এস এম শাহনওয়াজ আলী, বাপা বাগেরহাট জেলার নেতা সৈয়দ মিজানুর রহমান, বাণীশান্তা ইউপি চেয়ারম্যান সুদেব কুমার রায়, লাউডোব ইউপি চেয়ারম্যান শেখ যুবরাজ, কৃষক নেতা এ্যাড. রুহুল আমীন, কৃষক নেতা গৌরাঙ্গ প্রসাদ রায়, ছাত্র ইউনিয়ন খুলনা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র সৌরভ, বাণীশান্তা ইউনিয়ন কৃষিজমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির নেতা সত্যজিৎ গাইন, বাণীশান্তা ইউপি সদস্য জয়দেব কুমার মানিক, হিরন্ময় মন্ডল, ইউপি সদস্য পাপিয়া মিস্ত্রি, উন্নয়নকর্মী মেরিনা যুথী, চিলা ইউনিয়ন কৃষিজমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির নেতা হুমায়ুন কবির প্রমূখ। সংলাপ সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর জাতীয় পরিষদ সদস্য মো. নূর আলম শেখ। প্রধান বক্তা বাপা’র সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন সরকারের মধ্যে ভালো-মন্দ লোক আছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বাণীশান্তার কৃষিজমিতে বালি ফেলার ষড়যন্ত্র করছে। আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। বাণীশান্তার সংখ্যালঘু মানুষের কৃষিজমিতে বালি ফেলললে সরকার আন্তর্জাতিক ভাবে সমালোচিত হবে। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সাবেক সংসদ ননী গোপাল মন্ডল বলেন বাণীশান্তার কৃষিজমিতে বালি ফেলার বিষয় জাতীয় সংসদে আলোচনা দরকার ছিলো। সংসদ সদস্য আছে পার্লামেন্ট আছে কিন্তু সংসদে আলোচনা হচ্ছে না। পশুর নদীর বালি ফেলার জন্যে বিকল্প জায়গা খুঁজতে হবে। প্রয়োজনে বন্দরকে আরো দক্ষিণে সরিয়ে নিতে হবে। বন্দর বড় না মানুষ বড়। আশার আলো বাণীশান্তার কৃষকদের পাশে রাজনৈতিক-মানবিক এবং পরিবেশবাদী সংগঠন দাড়িয়েছে। বাণীশান্তার সমস্যা জাতীয় ভাবে তুলে ধরার জন্যে বাপাকে ধন্যবাদ। সভাপতির বক্তব্যে বাপা খুলনার সমন্বয়কারী বাবুল হাওলাদার কৃষি এবং কৃষক বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে গণসংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় সরকার উপকূলীয় এলাকার নারীদের জীবিকায়ন ও সুপেয় পানি নিশ্চিত করেছে : মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী

আজগর হোসেন সাব্বির, দাকোপ, খুলনা : 

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় সরকার উপকূলীয় এলাকার ৪৩ হাজার পরিবারের জীবিকায়নে সহায়তা প্রদান করছে। এসব পরিবারের জন্য জলবায়ু সহিষ্ণু, নিরাপদ এবং সারা বছর পানযোগ্য পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে। গ্রীণ ক্লাইমেট এডাপটেশন (জিসিএ) প্রকল্পের আওতায় খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার ৫টি উপজেলায় ১৩ হাজার পরিবারে জন্য খানাভিত্তিক রেইন ওয়াটার হারভেষ্টিং সিস্টেম স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। এ প্রকল্প থেকে ২২৮ টি কমিউনিটি, ১৯টি প্রতিষ্ঠান ও ৪১ টি পুকুর ভিত্তিক আল্ট্রা-ফিল্ট্রেশন রেইন ওয়াটার হারভেষ্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ৩০ হাজার পরিবার সুপেয় পানিয়জলের সুবিধা পাবে।

মঙ্গলবার খুলনার দাকোপ উপজেলায় গড়খালি পল্লীমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায় বাস্তবায়িত ‘উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর, বিশেষত নারীদের, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবনাক্ততা মোকাবেলায় অভিযোজন সক্ষমতাবৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পের আওতায় রেইন ওয়াটার হারভেষ্টিং সিস্টেমের হস্তান্তর ও অপারেশন কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর একটি বাংলাদেশ অথচ জলবায়ুর পরিবর্তনে বাংলাদেশের কোন দায় নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে তীব্র ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে স্বাদুপানির এলাকাসমূহে লবনাক্ত পানির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। যার ফলে উপকূলীয় বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠীর পানীয় জলের সহজলভ্যতা, স্বাদুপানি নির্ভর কৃষিকাজ ও জীবিকার ওপর ব্যাপক বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এর ফলে নারী ও শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঘরে খাওয়ার পানি না থাকলে, তা সংগ্রহের জন্য নারীদের অনেক কষ্ট করতে হয়।

খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান বেগম চেমন আরা তৈয়ব, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভীন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তুষার মোহন সাধু খাঁ, ইউএনডিপি’র সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি সরদার এম আসাদুজ্জামান, প্রকল্প পরিচালক মোঃ ইকবাল হোসেন, দাকোপ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খান, দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিন্টু বিশ্বাস।

প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা বলেন, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের কারণে বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠীর জলবায়ু সহনশীল জীবিকা এবং পানীয় জলের সমাধানের জন্য বাংলাদেশ সরকার, গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) এবং ইউএনডিপির সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এটি বাংলাদেশ তথা বিশ্বের মধ্যে প্রথম জিসিএফ প্রকল্প যেটি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের নেতৃত্বে নারীদের জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। সরকার জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বিভিন্ন পরিকল্পনা, কর্মসূচি, নীতি ও কৌশল বাস্তবায়ন করছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আর্থসামাজিক উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে জয়যুক্ত করার আহবান জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা গড়খালি পল্লীমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং স্থাপনাটি ২৫ জন উপকারভোগীর নিকট হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় নারী ও জনপ্রতিনিধিরা উপকূলীয় এলাকার সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানান।

উল্লেখ্য ‘উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর, বিশেষত নারীদের, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবনাক্ততা মোকাবেলায় অভিযোজন সক্ষমতাবৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পটি ২৭৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে (সরকারি ৬৭ কোটি ১৬ লাখ এবং জিসিএফ ফান্ড ২০৯ কোটি ৭০ লাখ) ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে। খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার ৫ টি উপজেলায় ৩৯ টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পের মোট সুবিধাভোগী ৭ লাখ ১৯ হাজার ২২৯ জন। প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য উপকূলীয় এলাকার নারীদের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জীবিকায়ন; নারীদের অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি; সুপেয় পানি নিশ্চিত করা এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়।

সাবেক দস্যু বাহিনী প্রধানের বিরুদ্ধে জেলেদের উপর জুলুম ও হয়রানী  এবং বনে আতংক সৃষ্টির অভিযোগ

ইউনিক প্রতিবেদক, মোংলা, বাগেরহাট : 

সুন্দরবনের সাবেক দস্যু বাহিনী প্রধানের বিরুদ্ধে নতুন করে জেলেদের উপর জুলুম ও হয়রানীসহ নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে দুর্গম বনাঞ্চলে নতুন করে আতংকের সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টায় মোংলা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জেলেরা এ অভিযোগ করেন।

সুন্দরবনের জেলে মোঃ শাাহজাহান লিখিত অভিযোগ ও বক্তব্যে বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চর সংলগ্ল লইট্যাখালী এলাকায় প্রায় ৪০ বছর ধরে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন তিনিসহ এক দল জেলে। কিন্তু গত ২২ মার্চ সকালে সাবেক দস্যু মাস্টার বাহিনীর প্রধান আব্দুল কাদের মাস্টার ও আইনশৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স পরিচয়ে জনৈক বেলায়েত ও দেবুসহ ১০/১২ জন লোক ওই সকল জেলেদের নৌকা-জাল নিয়ে সেখান থেকে চলে যাওয়ার হমকি দেয়। এরপর হুমকিদাতারা ওই জেলেদের জালের সামনে জাল পেতে মাছ ধরে সেই জায়গা দখলে নিয়ে নেয়। এতে ওই নিরীহ জেলেরা ভয়ে ও আতংকে জাল ফেলে লোকালয়ে চলে আসেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, ৩/৪ বছর আগেও সুন্দরবনের জেলেদের হত্যা, নির্যাতন ও অপহরণসহ চাঁদাবাজী করছিলো দস্যুরা। কিন্তু আইনশৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় দস্যু মুক্ত সুন্দরবনে বেশ ভালই ছিলেন সাধারণ জেলেরা। কিন্তু আত্মসমর্পনকারী সাবেক দস্যু বাহিনীর সদস্যরা সরকারীভাবে নানা সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করলেও সাবেক দস্যু মাস্টার বাহিনীর প্রধান ও তার সহযোগীদের অপতৎপরতার কাছে ফের অসহায় হয়ে পড়েছেন নিরীহ জেলে ও পেশাজীবিরা। এ সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবন থেকে ফিরে আসা অনেক জেলে উপস্থিত ছিলেন। এ থেকে প্রতিকার পেতে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মােংলার আ’লীগ নেতাসহ ছেলের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি ও হুম‌কি প্রদানের অভিযোগ

ইউনিক প্রতিবেদক: 

শিশু গৃহপ‌রিচা‌রিকাকে যৌন নিপীড়নের মামলা করায় মােংলা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হােসেন ও তার ছেলে রনির বিরুদ্ধে নানাভাবে ভয়ভী‌তি ও হুম‌কি প্রদানের অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। সেই সাথে পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ করেন পরিবারটি।

আজ মঙ্গলবার (২২ মার্চ) দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিশুটির ফুপু মানজুম আক্তার। তি‌নি খুলনার লবনচরা থানার মােক্তার হোসেন সড়কের বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো জানান, মানজুম আক্তারের ভাই রাকিব তালুকদারের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর শিশু কন্যা রিভা (১০)কে ২০২১ সালে লালন-পালনের কথা বলে আসামি মােঃ রনি মােংলায় নিয়ে যান। মােংলার বাতেন সড়কে অবস্থিত বাড়িতে নিয়ে রনি ওই রিভাকে প্রায় সময় যৌন নিপীড়ন চালাতো। এবং বিষয়টি কাউকে না বলতে ওই শিশুটিকে নানা ধরনের ভয়ভীতি দিতেন। শারীরিক নির্যাতনও চালাতেন। এছাড়া রনি’র স্ত্রী রীমা (৩২) ওই শিশুটিকে মারাত্বকভাবে নির্যাতন করতো। সর্বশেষ গত ২৮ আগস্ট সারাদিন বাসার কাজ করে রিভা রাতে ঘুমিয়ে পড়ে। গভীর রাতে রনি এসে রিভাকে বিবস্ত্র করে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষনের চেষ্টা করে। তাছাড়া রনির স্ত্রি রিমাও রিভাকে শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। পরদিন সকালে রিভা বাসার একটি মোবাইল ফোন থেকে কৌশলে ফুফু মানজুকে ফোন করে এসব কথা জানায়। খবর পেয়ে ভাই রাকিব তালুকদার ও মানজুম মােংলায় গিয়ে রিভাকে খুলনায় নিয়ে আসে। পরদিন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)কে ভর্তি করা হয়।

এঘটনায় গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর খুলনা সদর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ না নিয়ে আদালতে যেতে পরামর্শ দেন। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মানজুম আক্তার বাদি হয়ে রনি ও স্ত্রি রিমাকে আসামি করে পিটিশন দায়ের করে (নং-৯৬/২১)। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরাে অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে নির্দেশ দেন। ২৮ অক্টোবর খুলনার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম সুমি আহমেদ ভিকটিমের ২২ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব‌্যুরাে অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’র পুলিশ পরিদর্শক মনজুরুল হাসান মাসুদ তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে আসামি রনি’র বিরুদ্ধে ওই শিশুকে যৌন নিপীড়ন ও শারীরিক নির্যাতনের অপরাধে জড়িত বলে অভিযুক্ত করেন। আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও গ্রেফতার হননি রনি। গত ২০ মার্চ খুলনার আদালত থেকে জামিন নেন আসামি রনি। রনির স্ত্রীকে মামলা থেকে বাদ দেন তদন্ত কর্মকর্তা। তদন্ত কর্মকর্তা ওই অসহায় প‌রিবা‌রের কাছে ১লাখ টাকা চেয়েছিলেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন মানজুম আক্তার।

কয়রায় প্রধান শিক্ষকের উপর হামলা ও লাঞ্ছিত করায় প্রতিবাদ সমাবেশ

শেখ মনিরুজ্জামান, কয়রা, খুলনা: 

খুলনার কয়রা উপজেলায় হড্ডা ডি এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গত ৫ মার্চ কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি কয়রা উপজেলা উত্তর শাখার সভাপতি ও হড্ডা ডিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিহার রঞ্জন সরদারের উপর হামলা ও লাঞ্ছিত করায় প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্টিত হয়েছে।

কয়রা উপজেলা শিক্ষক সমিতি উত্তর শাখার আয়োজনে ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবিতে শনিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১ টায় হড্ডা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে ভাগবা এইচ বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির আলী সরদারের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তৃতা করেন, কপোতাক্ষ কলেজের অধ্যক্ষ অদ্র্যিস আদিত্য মন্ডল, শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক ও চান্নির চক এলসি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ রাজীব কুমার বাছাড়, কয়রা শাকবাড়িয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক, প্রেসকাবের সহ সভাপতি শেখ মনিরুজ্জামান মনু , প্রধান শিক্ষক জ্যেতিরশ্বর ঢালী, সুজিত কুমার রায়, রমেন রায়, মনিন্দ্র নাথ বৈরাগী, ব্রজেন জোয়াদ্দার, মনোজ কুমার বর্মন, আব্দুস সামাদ প্রমুখ।

ফরিদপুরে সাউথ লাইন পরিবহনের ১২ বাস আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত

ইউনিক প্রতিবেদক :

ফরিদপুরে আলোচিত দুই হাজার কোটি টাকার অর্থপাচার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই ভাই বরকত-রুবেলের মালিকানাধীন সাউথ লাইন পরিবহনের ১২টি বাস রহস্যজনক কারণে আগুনে পুড়ে গেছে।

শনিবার (১২ মার্চ) সকালে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, শুক্রবার (১১ মার্চ) দিনগত রাত দেড়টার দিকে শহরের গোয়ালচামটে নতুন বাস টার্মিনালের পাশে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম প্রায় ঘণ্টাখানেক চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি।

তিনি আরও জানান, সেখানে ২২টি বাস রাখা ছিল। এরমধ্যে ১২টি বাসেই আগুন লাগে। দীর্ঘদিন বাস ফেলে রাখার ফলে দ্রুতই বাসগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ দাউ দাউ করে বাসগুলোতে আগুন জ্বলতে দেখে লোকজন ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। সারিবদ্ধভাবে খোলা জায়গায় রেখে দেওয়া বাসগুলোতে রহস্যজনকভাবে একই সময়ে আগুন লাগে বলেও জানান তারা।

ফরিদপুরের সাউথ লাইন নামে পুড়ে যাওয়া ওই বাসগুলো অর্থপাচার মামলায় গ্রেফতার শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের বহিষ্কৃত সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের মালিকানাধীন। ২০২০ সালের ৭ জুন পুলিশের অভিযানে বরকত-রুবেলের গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতের নির্দেশে দুদক এসব বাস জব্দ করে। এরপর থেকে সেগুলো এখানেই রাখা ছিল।

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক শিপলু আহমেদ জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। তবে, আগুন লাগার কারণ এখনো জানা যায়নি।

ডুমুরিয়ার আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘর নিয়ে অপপ্রচার: বাঁশের খুঁটির রহস্য উন্মোচিত

মোঃ শহীদুল হাসান :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ অগ্রাধিকার প্রকল্প ভুমিহীনদের জন্য জমিসহ বাড়ি বরাদ্দের আশ্রায়ণ প্রকল্পের খুলনা জেলায় জমিসহ ঘর দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৪ হাজার ৯৪টি। ইতোমধ্যে জেলার নয়টি উপজেলায় এখন পর্যন্ত বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২ হাজার ২৭৩টি ঘরের। বাকী ঘর গুলোর কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। তবে থেমে নেই ষড়যন্ত্র। ইটের তৈরী তিন পিলারের মাঝে দুটি খুটি বসিয়ে তার ছবি ফলাও করে প্রচার হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পিলারের বদলে বাঁশের খুঁটি দিয়ে তৈরী হচ্ছে আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘর এমন কথা বলছে অপপ্রচারকারীরা।

সরকারি খাসজমি অথবা ব্যক্তিগত জমি ক্রয় করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার বিভিন্ন স্থানে ভুমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য জমিসহ এধরনের ঘর তৈরী করে দিচ্ছেন। কোন মানুষ আশ্রয়হীন থাকবেনা স্বাধীনতার সূবর্ন জয়ন্তী ও মুজিববর্ষে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই কাজ করেছে সকল জেলা প্রশাসন। যেমনটি করেছেন খুলনা জেলা প্রশাসক। সরকারের এমন মহৎ উদ্যোগ কে নস্যাৎ করতে নানা ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে সমাজের একশ্রেণির পশ্চাৎপদ মানুষ। এই ষড়যন্ত্রের এমনই একটি চিত্র তুলে ধরলেন ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়নের আমভিটা গ্রামে আশ্রায়ণ প্রকল্পে বরাদ্দ পাওয়া ৬নং ঘরের মালিক প্রেমদাসী সরকার।

প্রেমদাস সরকার বলেন, উত্তরের শীতের বাতাস ঠেকানো জন্য বাঁশের খুঁটিতে পর্দা টানিয়ে শীত থেকে বাঁচার চেষ্টা করেছিলাম। আমি ঘরের পিলারের মাঝে ৩টি দিয়ে বাঁশের খুঁটি দিয়েছিলাম। পরে জানতে পারলাম কোন সাংবাদিক ছবি তুলে নিয়ে গেছে। কিন্তু কোন সাংবাদিক আমার সাথে কোন কথা বলে নাই। পরে লোকজনের কাছে শুনে আমি বাঁশের খুঁটিগুলো খুলে ফেলেছি।

ঋুমিহীন ও গৃহহীনরা জমিসহ ঘর পাওয়া সকলেই খুশি। তবে তাদের আরো কিছু চাহিদার কথাও জানালেন। তারা দাবি আশ্রায়ণ প্রকল্পে যাতায়াতের কোন রাস্তা নেই। সুপেয় পানির সংকট তাদের দীর্ঘ দিনের। সেখানে একটি রাস্তা তৈরী এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা করে দেয়ার দাবি কথা বললেন আশ্রয়ণ প্রকল্পে বরাদ্দ পাওয়া ঘরের অধিবাসীরা।

প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ পাওয়া ভবরতি মন্ডল বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের সুন্দর ঘর করে দিয়েছে। ঘর পেয়ে আমরা অনেক আনন্দিত। ঘরে রান্নাঘর, টয়লেট দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুতের লাইন টানা হয়েছে। এখন শুধু পানির কল ও যাতায়াতের রাস্তাটা একটু ভালো করে দিলে আমাদের আর কোন সমস্যা থাকবে না।

ঘর পাওয়া দীপা সাহা বলেন, আমরা মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে অনেক খুশি। আমরা এখন পরিবার নিয়ে একটু শান্তিতে বসবাস করতে পারবো। তবে আমাদের পানির কলা আর রাস্তাটা একটু ভাল করে দিলে আমাদের আর কিছু লাগবে না।

স্থানীয় ১নং ধামালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএম জহুরুল ইসলাম বলেন “বরাদ্দ পাওয়া ঘরের মালিক তার বারান্দায় উত্তরের বাতাস সামলাতে তিনটি পিলারের মাঝে বাঁশ দিয়ে কাপড় টানিয়েছিলেন। সেই বাঁশের ছবি তুলে একটি মহল অপপ্রচার চালিয়েছে। যা অত্যন্ত নিন্দনীয় অপরাধ। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য একটি মহল পিলারের বদলে বাঁশ দিয়ে খুঁটি দেয়া হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার করেছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ভুমিহীনদের জন্য ঘর হোক এটা যারা চায়না তারাই এ ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছে। সেই সঙ্গে সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করতে একটি মহল এ অপচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রকল্প নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী ঘরের কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। কিছু কাজ বাকি আছে সেগুলো শেষ করে ঘরগুলো হস্তান্তর করা হবে।

খুলনা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: সাদিকুর রহমান খান বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ এখনও চলছে। যা এখন পর্যন্ত পুরোপুরি হস্তান্তর হয়নি। একটি নিউজ পোর্টালে বাঁশের খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে এমন সংবাদ শুনে সরেজমিনে পরিদর্শনে এসেছি। আসলে ঘটনার কোন সত্যতা নেই। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। তবে উপকূলীয় অঞ্চলে পানির সমস্যা। আর যেহেতু প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ হয়নি সেকারনেই রাস্তার কাজ হয়নি। তবে অতি দ্রুতরাস্তা এবং পানির সমস্যার সমাধান করা হবে বলে তিনি আশ^স্ত করেন। ভুমিহীনদের মাঝে এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র ডুমুরিয়া উপজেলায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৬৪০ টি ঘর।

খুলনার ডুমুরিয়ায় গরুর ফার্ম দখলের ঘটনায় মামলা, আসামী ৪

ছবি: দখলকৃত গরুর ফার্ম ও সরদার বাসারুজ্জামান

ইউনিক প্রতিবেদক :

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া গ্রামে গরুর ফার্ম দখল ও ফার্মের গেটে তালা দেওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ছোট ভাইসহ ৪ জনকে আসামী করে ডুমুরিয়া থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী আমেরিকা প্রবাসী এস এম মাসরুখ হাসান। তবে শনিবার রাত পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

মামলার বিষয়ে ডুমুরিয়া থানার ওসি মো. ওবাইদুর রহমান বলেন, ধামালিয়া গ্রামে গরুর ফার্মের তালা ভেঙে দখল, কর্মচারীদের মারপিট এবং ঘরের দরজায় তালা মারার ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে তার ছোট ভাই সরদার বাসারুজ্জামানসহ ৪ জনকে আসামী মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী এস এম মাশরুখ হাসান। মামলার আগেই আমরা গত বৃহস্পতিবার আমি নিজে গিয়ে ফার্মের তালা খুলে দিয়েছি। তবে এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। আমি তাদের বড় ভাই ড. এস কে বাকার সাহেবের সাথে কথা বলেছি। বিষয়টি পারিবারীক বিষয় হওয়ায় আমরা সবার সাথে আলোচনা করে স্থানীয়ভাবে মিটমাট করার চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে মামলা দায়েরকারী ভুক্তভোগী আমেরিকা প্রবাসী মাশরুখ হাসান বলেন, তার ছোট ভাই বাসারুজ্জামনের নেতৃত্বে গত রোববার সকালে একদল দুর্বৃত্ত আমার ফার্মে দু’টি গেটের চারটি তালা ভেঙ্গে আমার কর্মচারীদের মারপিট করে ফার্ম থেকে বের করে দেয় এবং ফার্ম দখলে নিতে তারা তালা লাগিয়ে দেয়। আমার ফার্মের অবলা প্রাণীগুলো না খেয়ে ছিল। আমি এর প্রতিবাদ করলে বাসারুজ্জান আমাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয়। সেই সাথে আমার বসত বাড়িতে তালা লাগিয়ে দেয়। আমি অসুস্থ মানুষ সেদিন রাত এগারোটা পর্যন্ত আমি বাইরে ছিলাম। আমি আমার ওষুধ পর্যন্ত খেতে পাইনি। পরবর্তীতে রাত সাড়ে এগারোটায় পুলিশের সহায়তায় তালা খুলে আমি ঘরে প্রবেশ করি। সোমবার বিকেলে আবারো বাসার উজ্জামান আমার ঘরে তালা লাগিয়ে দেয়। পরবর্তীতে আবারও পুলিশের সহায়তায় আমি তালা খুলে ঘরে প্রবেশ করি। বাসারুউজ্জামানের হুমকিতে আমি একা বৃদ্ধ মানুষ ভয়ে রয়েছি। তাই গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে ডুমুরিয়া থানায় ৪ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছি। আমি দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তাই মামলা করেছি। আমি ঘটনার সুষ্ঠ বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

মামলার এজাহারভুক্ত ৪ আসামি হলো ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া গ্রামের মৃত সরদার মজিদুল ইসলামের ছেলে সরদার বাসারুজ্জামান, একই গ্রামের আব্দুল হক সরদারের ছেলে মো. মামুন সরদার, ফুলতলা উপজেলার যুগ্নিপাশা গ্রামের মৃত নুরুল ইসলাম সরদারের ছেলে মো. ফারুক সরদার ও মো. জাহিদ সরদার (রিমু)।