মোংলায় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের ঘর পাচ্ছেন ১৪০ পরিবার

ইউনিক প্রতিবেদক, মোংলা, বাগেরহাট :

মোংলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহার স্বরুপ ঘর পাচ্ছেন ১৪০টি পরিবার। আশ্রয়ণ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে দেয়া হচ্ছে এ ঘর। উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের মাকড়ঢোন এলাকায় নির্মিত হচ্ছে ঘরগুলো। বেশির ভাগ ঘরেরই কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। পৌরসভার শেষ সীমান্তে ও উপজেলার চাঁদপাই এবং বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের মাঝে আন্তর্জাতিক মোংলা-ঘাষিয়াখালী বঙ্গবন্ধু চ্যানেলের পাড়ে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক এ ঘরগুলো। সেখানকার পরিবেশ দেখে যে কেউই ভাববেন এটি কোন রিসোর্টই হবে। এখানে ঘরের পাশাপাশি খোলা জায়গা ও পুকুর রয়েছে। রয়েছে ক্ষেত ও ফসল চাষের মাঠও। নতুন এ ঘরে থাকছে বিদ্যুৎ সংযোগও। প্রত্যেক পরিবারকে ঘর ও জমির কাগজপত্র বুঝিয়ে দেয়া হবে শীগগিরই। তৃতীয় পর্যায়ের এ ঘরগুলো পূর্বের দুই দফায় দেয়া ঘরের চেয়ে মজবুত ও ব্যয়বহুলও। এবারের প্রতিটি এ ঘরে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। এর আগে প্রতিটিতে ব্যয় ছিলো ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এদিকে চাঁদপাই ইউনিয়নের মাকড়ডোন গ্রামে নির্মিত এ ঘর প্রকৃত ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে হস্তান্তর উপলক্ষে সোমবার বেলা ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে।

আর এ ঘরগুলো সুন্দরভাবে নির্মাণ সম্পন্ন করতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার। তিনি বলেন, অত্যন্ত সুন্দর একটি পরিবেশে এ ঘরগুলো করা হয়েছে। ঘর নির্মাণে মানসম্মত সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে খুব টেকসই হয়। কাজ শেষ পর্যায়ে উপকারভোগীরা নতুন এ ঘরেই ঈদ করতে পারবেন।

সাবেক দস্যু বাহিনী প্রধানের বিরুদ্ধে জেলেদের উপর জুলুম ও হয়রানী  এবং বনে আতংক সৃষ্টির অভিযোগ

ইউনিক প্রতিবেদক, মোংলা, বাগেরহাট : 

সুন্দরবনের সাবেক দস্যু বাহিনী প্রধানের বিরুদ্ধে নতুন করে জেলেদের উপর জুলুম ও হয়রানীসহ নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে দুর্গম বনাঞ্চলে নতুন করে আতংকের সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টায় মোংলা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জেলেরা এ অভিযোগ করেন।

সুন্দরবনের জেলে মোঃ শাাহজাহান লিখিত অভিযোগ ও বক্তব্যে বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চর সংলগ্ল লইট্যাখালী এলাকায় প্রায় ৪০ বছর ধরে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন তিনিসহ এক দল জেলে। কিন্তু গত ২২ মার্চ সকালে সাবেক দস্যু মাস্টার বাহিনীর প্রধান আব্দুল কাদের মাস্টার ও আইনশৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স পরিচয়ে জনৈক বেলায়েত ও দেবুসহ ১০/১২ জন লোক ওই সকল জেলেদের নৌকা-জাল নিয়ে সেখান থেকে চলে যাওয়ার হমকি দেয়। এরপর হুমকিদাতারা ওই জেলেদের জালের সামনে জাল পেতে মাছ ধরে সেই জায়গা দখলে নিয়ে নেয়। এতে ওই নিরীহ জেলেরা ভয়ে ও আতংকে জাল ফেলে লোকালয়ে চলে আসেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, ৩/৪ বছর আগেও সুন্দরবনের জেলেদের হত্যা, নির্যাতন ও অপহরণসহ চাঁদাবাজী করছিলো দস্যুরা। কিন্তু আইনশৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় দস্যু মুক্ত সুন্দরবনে বেশ ভালই ছিলেন সাধারণ জেলেরা। কিন্তু আত্মসমর্পনকারী সাবেক দস্যু বাহিনীর সদস্যরা সরকারীভাবে নানা সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করলেও সাবেক দস্যু মাস্টার বাহিনীর প্রধান ও তার সহযোগীদের অপতৎপরতার কাছে ফের অসহায় হয়ে পড়েছেন নিরীহ জেলে ও পেশাজীবিরা। এ সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবন থেকে ফিরে আসা অনেক জেলে উপস্থিত ছিলেন। এ থেকে প্রতিকার পেতে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মোল্লাহাটে সমাজসেবা অফিসের কর্মচারীকে গলা কেটে হত্যা

ইউনিক প্রতিবেদক, মোল্লাহাট, বাগেরহাট :

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের অফিস সহায়ক নাইম খাঁনকে (২৮) শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে গাংনী গ্রামের হিরণ মাষ্টারের বাড়ীর উঠান থেকে গুরতর আহত অবস্থায় নাইমকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী ও তার স্বজনেরা। পরে তাঁকে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারী ক্লিনিকে নেওয়া হয় । এরপর সেখানে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নাইম খাঁন গাংনী গ্রামের আবুল খাঁনের ছেলে। সে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে অফিস সহায়ক পদে চাকুরী করতেন।

মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোমেন দাস বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহত নাইমের লাশ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। এঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

দেশ ও জনগনের উন্নয়ন করতে শেখ হাসিনা সরকারের বিকল্প নাই : মিসেস সারমিন সালাম 

ওয়াছিক রাজিব,  দিঘলিয়া, খুলনা :

বাংলাদেশ এখন তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে উন্নয়নের রোল মডেল। এসবই সম্ভব হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে।গতকাল দিঘলিয়া উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগ এর বিশেষ কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন খুলনা-০৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী এমপির সহ ধর্মিণী এনভয় গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট সমাজ সেবিকা মিসেস সারমিন সালাম। তিনি আরও বলেন, এই উন্নয়নকে তরান্বিত করতে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে। শনিবার বিকাল ৫.৩০ টায় দেয়াড়া আয়তুননেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গণে উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোসাম্মাৎ সামসুন নাহার এর সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগ এর দপ্তর সম্পাদক অধ্যাপক লোকমান হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগ এর সহ প্রচার সম্পাদক মোঃ মকবুল হোসেন, দিঘলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ আনসার আলী, সাধারণ সম্পাদক শেখ মুন্জুর হোসেন, মহিলা নেত্রী পাখি বেগম প্রমূখ।

এর আগে সকাল ১১টায় প্রধান অতিথি উপজেলা অডিটোরিয়ামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। দুপুর ১২ টায় সেনহাটী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এর কৃতি ছাত্রী সংবর্ধনা-২০২২ইং অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের মাঝে পুরুষ্কার বিতরন ও কৃতি ছাত্রীদের মাঝে সাইকেল বিতন করেন। দুপুর ২ টায় দিঘলিয়া দারুল উলুম এতিমখানার ছাত্রদের সাথে দুপুরের খাবার গ্রহণে অংশগ্রহণ শেষে দুপুর ৩.৩০ টায় দিঘলিয়া এম এ মজিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গণে সারমিন সালাম মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের উদ্যোগে ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পে অংশগ্রহণ ও হুইল চেয়ার বিতরন করেন, এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল আলম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি খান নজরুল ইসলাম,দিঘলিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগ এর সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মোল্লা আকরাম হোসেন, উপজেলা পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাহবুবুল আলম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মাহফুজুর রহমান, দিঘলিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হায়দার আলী মোড়ল, দিঘলিয়া এম এ মজিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আমিরুল ইসলাম, সেনহাটী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান মল্লিক,এমপি মহোদয় এর প্রধান সমন্বয়ক নোমান ওসামানী রিচি, দিঘলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ আনসার আলী, সেনহাটী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান, দিঘলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সাধারণ সম্পাদক শেখ মুন্জুর হোসেন, চন্দনীমহল সাংগঠনিক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সাধারণ সম্পাদক শেখ ইখতিয়ার হোসেন সহ সকল সহযোগী সংগঠন এর নেতৃবৃন্দ।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কটকা ট্রাজেডি দিবস আজ

দেশ প্রতিবেদক :

আজ ১৩ই মার্চ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কটকা ট্রাজেডি দিবস। এ উপলক্ষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক দিবস পালিত হবে। ২০০৪ সালের এ দিনে সুন্দরবনের কটকা নামক স্থানে সফরে গিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের ৯ জন এবং বুয়েটের ২ জনসহ মোট ১১ জন ছাত্র-ছাত্রী সমুদ্র গর্ভে নিমজ্জিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। প্রতিবছর এই দিনটিতে ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

এ বছর দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে সকাল সাড়ে ১০টায় কালো ব্যাজ ধারণ, সকাল ১০.১৫ মিনিটে শোকর‌্যালি ও ক্যাম্পাসে কটকা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, পৌনে ১১টায় আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠান, বেলা ১১টায় প্রদর্শনীর উদ্বোধন, এর পর মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে দোয়া মাহফিল ও প্রার্থনা, বাদ যোহর এতিমদের সঙ্গে মধ্যাহ্ন ভোজ, সন্ধ্যা ৬.৪৫ মিনিটে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং সন্ধ্যা ৭টায় আর্কিটেকচার ডিসিপ্লিন এর আয়োজনে শোকসভা ও স্মৃতিচারণ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের ৯জন শিক্ষার্থী যারা এ দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন তারা হলেন, আরনাজ রিফাত রুপা, মোঃ মাহমুদুর রহমান, মাকসুমুল আজিজ মোস্তজী, আব্দুল্লাহ হেল বাকী, কাজী মুয়িদ বিন ওয়ালি, মোঃ কাওছার আহমেদ খান, মুনাদিল রায়হান বিন মাহবুব, মোঃ আশরাফুজ্জামান, মোঃ তৌহিদুল এনাম। এছাড়া বুয়েটের দুজন ছাত্রের নাম সামিউল ও শাকিল।

খুলনায় বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসের কর্মসূচি

বিজ্ঞপ্তি :

আগামী ১৭ মার্চ স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস-২০২২ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসূচির আলোকে খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

১৭ মার্চ সকাল সকাল আটটায় বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্রে অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। সন্ধ্যা সাতটায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে আলোচনা সভা ও শিশুদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসের অনুষ্ঠান বিটিভি’র সহায়তায় সরাসরি প্রদর্শন/প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে।

সুবিধাজনক সময়ে শিশুদের অংশগ্রহণে কেককাটা, রচনা, চিত্রাংকন ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। ১৪ মার্চ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে রচনা ও চিত্রাংকন এবং ১৫ মার্চ সঙ্গীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। ১৭ মার্চ টুঙ্গিপাড়ার খোকা থেকে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন নতুন প্রজন্মের চিন্তা-চেতনা ও আদর্শ ধারণ করে শিশুদের নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম নাটকের দ্বারা চিত্রায়ণ/মঞ্চায়নের মাধ্যমে মোটিভেশনাল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।

১৭ মার্চ হাসপাতাল, কারাগার, শিশু পরিবার ও এতিমখানায় বিশেষ খাবার পরিবেশন এবং বাদযোহর বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ-মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। মুজিববর্ষ উদযাপনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যানার, ফেস্টুন ইত্যাদির মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও স্থাপনাসমূহ সজ্জিতকরণ, মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহে সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচলনা করা হবে। সন্ধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহ ও সরকারি ভবনসমূহে আলোজসজ্জা করা হবে।

১৭ মার্চ খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরভবনে শিশুদের অংশগ্রহণে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে বড় আকারের এলইডি স্ক্রিনে স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধুর ওপর স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। সুবিধাজনক সময়ে জেলা ও উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর জীবনী ও মহান মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পুস্তক ও ডকুমেন্টারি সপ্তাহব্যাপী প্রদর্শন এবং বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রচার করা হবে। এছাড়া শিশুদের সাথে বঙ্গবন্ধুর ছবি আর্কাইভ থেকে সংগ্রহ করে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা পর্যায়েও অনুরূপ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে

আজগর হোসেন ছাব্বির, দাকোপ : দাকোপে সুন্দরবনে অবৈধ অনুপ্রবেশে মাছ ও কাকড়া শিকারীদের হামলায় বনরক্ষিদের ট্রলার চালক হাসপাতালে। নগত টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। এ ঘটনায় হামলাকারীদের নামে দাকোপ থানায় এজাহার দাখিল করা হয়েছে।
থানায় দাখিলকৃত এজাহার এবং ভুক্তভোগীদের বর্ণনামতে চলতি মাসের ৯ ও ১০ তারিখে নলিয়ান ষ্টেশনের বনরক্ষিরা সুন্দরবনে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বনে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং বিষ প্রয়োগে মাছ ও কাকড়া শিকারের অভিযোগে ১৬ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের অধিকাংশের বাড়ী দাকোপের পানখালী ইউনিয়নে। আবার ওই অভিযানে বনরক্ষিদের ব্যবহ্নত ট্রলার চালক হিসাবে ছিলেন পানখালী ইউপির মৌখালী গ্রামের রব গাজীর পুত্র আইয়ুব আলী গাজী। যে কারনে ঘটনার পর থেকে অবৈধ মাছ ও কাকড়া শিকারীরা আইয়ুব আলীর প্রতি ক্ষিপ্ত হয়। তারই জের হিসেবে শনিবার সকাল ১০ টার দিকে আইয়ুব আলী গাজী মোটর সাইকেল যোগে পানখালী হয়ে মৌখালী যাওয়ার পথে অভিযুক্ত রম ফকির, কবির ফকির, খবির ফকির, আলীরাজ ফকির, সিরাজুল শেখসহ আরো কয়েকজন মিলে নিজেদের বাড়ীর সামনে থেকে আইয়ুব আলীকে ধরে বাড়ীতে নিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। এ সময় আইয়ুব আলীর কাছে থাকা ঘেরের হারীর ১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা তারা ছিনিয়ে নেয়। অবস্থা বেগতিক হয়ে পড়লে এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দাকোপ থানা পুলিশ আইয়ুব আলীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় আইয়ুব আলী বাদী হয়ে উল্লেখিত অভিযুক্তদের নামে দাকোপ থানায় এজাহার দাখিল করেছে। এ দিকে এজাহার দাখিলের পর থেকে হামলাকারীদের পৃষ্টপোষক জনৈক মহাসিন শেখ ভুক্তভোগীদের নানাভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বনবিভাগের নলিয়ান ষ্টেশন কর্মকর্তা শেখ আনিসুর রহমান বলেন, আসামী কবির আলীরাজসহ ১৬ জনকে আমরা গত ৯ ও ১০ তারিখ সুন্দরবনের পাটকোষ্টা টহল ফাড়ীর আওতায় চেরাগখালী ও মোরগখালী খালে নিষিদ্ধ সময়ে নিষিদ্ধ এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশে মাছ ও কাকড়া শিকারের অভিযোগে আটক করে কয়রা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করি। তারা জামিনে এসে আমাদের ব্যবহ্নত ট্রলার চালকের উপর হামলা করেছে। ঘটনাটি জানার পর আমরা দাকোপ থানা পুলিশকে অনুরোধ করি ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্য। এলাকাবাসী এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছে।

গাইবান্ধায় ত্রিমোহনী সেতুর সংযোগ সড়কের বেহাল অবস্থা

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা-ফুলছড়িবাসী গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা হয়ে ঢাকা-বগুড়া যাতায়াতের জন্য কাটাখালি নদীর ওপর প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ত্রিমোহনী সেতু নির্মাণ করা হয়। নির্মানের পর এ সেতুর কারণে সাঘাটা-ফুলছড়ি উপজেলার মানুষ প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা কমিয়ে খুব সহজে গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়ক হয়ে ঢাকা-দিনাজপুর ও বগুড়ায় যেতে পারেন। কিন্তু বর্ষা শুরুর আগেই হালকা বৃষ্টিতে সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে গেছে। সংযোগ সড়ক ধসে পড়লে হুমকিতে পড়বে দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষের চলাচল। যানবাহনের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে এই সংযোগ সড়ক। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা না নিলে যেকোন মুহূর্তে ধসে পড়বে এ সেতুটি।

জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়নের সঙ্গে সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের কাটাখালি নদীর ওপর এলজিইডির অর্থায়নে ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ত্রিমোহনী সেতু নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে সেতুর পশ্চিম তীরের সংযোগ সড়ক ধসে গেছে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের বৃষ্টিতে প্রথমে এক ফুট ধসে যায়। কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে এখন সংযোগ সড়ক পুরোটাই ধসের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে এই সংযোগ সড়কটি। রাতে যেকোনো ধরণের দূরগামী গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অনায়সে। স্থানীয়রা জানায়, এই সংযোগ সড়ক বালু দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। হালকা বৃষ্টিতে বালু সরে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এরপর সড়ক ধসে গেছে। এখন মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবসায়ী আব্দুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, একটু বৃষ্টিতেই সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে গেছে। বর্ষাকাল শুরু হলে সংযোগ সড়ক আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। এখননি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান বলেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার একান্ত প্রচেষ্টায় এই সেতুটি আমরা পেয়েছি । এতে যোগাযোগ সহজ হয়েছে আমাদের সকলের। কিন্তু নিম্নমানের কাজ করায় এখন সংযোগ সড়ক ধসে গেছে। সংযোগ সড়ক দ্রুত মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. ছবিউল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, সেতু ও সেতুর পূর্বপাশের সংযোগ সড়ক সাঘাটা উপজেলার আওতায়। পশ্চিমপাশের সংযোগ সড়ক গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার আওতায়। কাজেই সংযোগ সড়ক সংস্কার করতে হলে দুই উপজেলাকে করতে হবে। অন্যদিকে সাংবাদিকদের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ জানান, ত্রিমোহনী ওই সেতুর সংযোগ সড়ক সংস্কারের জন্য এলজিইডি দফতরে আবেদন পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা হবে।

চট্টগ্রামে সুস্থ হয়ে আসা পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

মানস চৌধুরী, চট্টগ্রাম ব্যুরো: ছিলো হালকা জ্বর, সঙ্গে ডায়রিয়া। করোনা উপসর্গ মনে করে নমুনা পরীক্ষাও করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতিও পাওয়া যায়নি। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিলে বাসায় চলে যাওয়ার কয়েকদিন পর মৃত্যু হয় তার।
সদরঘাট থানার এএসআই মর্তুজা কাইয়ুমের এমন মৃত্যু মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে সহকর্মীদের। জ্বর ও ডায়রিয়া নিয়ে ১৯ মে থেকে বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন কাইয়ুম। সেখান থেকে ভর্তি করানো হয় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। ২৭ মে নমুনা পরীক্ষা করার পর তার শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
ডায়রিয়া ভালো হয়ে যাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দেয়। পরে তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। বাসায় দুইদিন থাকার পর হঠাৎ ২ জুন অসুস্থ হয়ে গেলে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি-দক্ষিণ) এসএম মেহেদী হাসান বলেন, তার করোনা উপসর্গ থাকায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ আসে। পরে ডায়রিয়াও ভালো হয়ে যাওয়ায় বাসায় যায়। দুইদিন পর ২ জুন অসুস্থ হয়ে গেলে অ্যাম্বুলেন্স আসতে আসতেই বাসায় মৃত্যু হয় কাইয়ুমের।
করোনা পরীক্ষার জন্য আবারও তার নমুনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। তাকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফন করা হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যা করতে শিবির ক্যাডারকে কন্ট্রাক্ট

মানস চৌধুরী, চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাজালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকে হত্যা করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়েছে দুই ভাড়াটে খুনি। শিবির ক্যাডারকে হত্যার কন্ট্রাক্ট দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান। এঘটনায় দ্বায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে থানা আওয়ামীলীগ।
মঙ্গলবার (২ জুন) ভোররাতে হত্যার উদ্দেশ্যে বাড়ির এলাকা রেকি করতে গিয়ে ধরা পড়ে তারা। ধরা পরার পর দুই ভাড়াটে খুনি বাজালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ চৌধুরী ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দীন সজিবকে হত্যার পরিকল্পনার কথা ফাঁস করে। তাদের ভাষ্যমতে পরিকল্পনাকারী হিসেবে নাম উঠে এসেছে বাজালিয়া ইউপি’র বর্তমান চেয়ারম্যান তাপস দত্ত ও জামায়াত ক্যাডার সদ্য কারামুক্ত রাশেদের নাম। পরে তাদের পুলিশের কাছে তুলে দেয় স্থানীয় জনতা। ধরা পড়া দুই ভাড়া করা খুনি হলো উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের আব্দুল গনির ছেলে হাবিবুর রহমান (২৮) ও ছদাহা ইউনিয়নের উত্তর ছদাহা এলাকার মোহাম্মদ সিরাজের পুত্র তরিকুল ইসলাম জিসান (২৫)। তাদের স্বীকারোক্তিমূলক একটি ভিডিও ফুটেজও ইতিমধ্যে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ভিডিওটিতে আটককৃতরা চেয়ারম্যান তাপস দত্তের পরিকল্পনায় রাশেদের সঙ্গী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা শহীদুল্লাহ চৌধুরী ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সজিবের গতিবিধি অনুসরণ করার কাজ করছিল বলে স্বীকারোক্তি দেয়। সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিউল কবীর বলেন, বাজালিয়া থেকে ২ যুবককে এলাকাবাসী আটক করে পুলিশের কাছে সোর্পদ করেছে। ২ জনকেই আমরা সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম। তার মধ্যে একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানা যায় সাতকানিয়ার স্থানীয় রাজনীতিতে দলীয় কোন্দলের কারণে প্রতিপক্ষ হিসেবে তৈরি হওয়া সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যার জন্য শিবির ক্যাডারকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ মনোনীত চট্টগ্রামের সাতকানিয়া বাজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের তাপস দত্তের বিরুদ্ধে।এই ঘটনা ঘটেছে সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মীরপাড়া এলাকায়। হামলার টার্গেট হওয়া ওই সাবেক ছাত্রলীগ নেতার নাম গিয়াস উদ্দীন সজীব। তিনি বাজালিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। গিয়াস উদ্দীন সজীব বাজালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ চৌধুরীর অনুসারী। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, বাজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাপস দত্ত ও বাজালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ চৌধুরীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে চেয়ারম্যান তাপসের লোকজনের হাতে শহীদুল্লাহ চৌধুরীর লোকজন বেশ কয়েকবার মারধর ও হামলার শিকার হয়।
তাদের দুইজনের এ রাজনৈতিক বিরোধ মেটাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বেশ কয়েকবার চেষ্টাও করেন। মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে চেয়ারম্যান তাপস দত্ত ও শহীদুল্লাহ চৌধুরীকে নিয়ে উপজেলা আওয়ালী লীগ বৈঠক হয়েছে ।
সম্প্রতি বেশ কয়েকবার হামলার শিকার হওয়ার পর নিজ বাড়িতে থাকতেন না সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গিয়াস উদ্দীন সজীব। তিনি শহীদুল্লাহ চৌধুরীর বাড়িতে সোমবার রাতে অবস্থান করেন। তাকে অনুসরণ করে সেখানে যায় হাবিবুর রহমান ও মো. তরিকুল ইসলাম নামে দুই যুবক। পরে স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। আটক হাবিবুর রহমান ও তরিকুল ইসলাম স্থানীয়দের সামনে স্বীকারোক্তিও দেন। তারা জানান, রাশেদ চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি তাদের ভাড়া করেছেন। জনপ্রতি ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তারা মোট চারজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গিয়াস উদ্দীন সজীবের ওপর হামলা চালাতে আসেন।
রাশেদ চৌধুরী বাজালিয়া এলাকার শিবির ক্যাডার। তার ভাই মাসুদও শিবির ক্যাডার। তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। রাশেদ চৌধুরী দীর্ঘদিন কারাগারেও ছিলেন বলে জানা গেছে। আটক হাবিবুর রহমান ও তরিকুল ইসলাম বর্তমানে সাতকানিয়া থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে বলে জানান সাতকানিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ।
বাজালিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দীন সজীব বলেন, চেয়ারম্যান তাপস দত্ত আমাকে মেরে ফেলার জন্য শিবির ক্যাডার রাশেদ চৌধুরীকে কন্ট্রাক্ট করেছেন। রাশেদ অন্য এলাকা থেকে লোক ভাড়া করে এনে আমার ওপর হামলা করতে এসেছিলেন। গিয়াস উদ্দীন সজীব বলেন, তাপস দত্ত আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার পর তার জন্য আমি কাজ করেছি। তার পক্ষে কাজ করেছি। কিন্তু তিনি চেয়ারম্যান হওয়ার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের এড়িয়ে চলেছেন। কয়েকজনের ওপর হামলাও করিয়েছেন তার লোকজন দিয়ে। তারপর থেকে আমি তার সঙ্গ ত্যাগ করেছি। শহীদুল্লাহ চৌধুরী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, তার সঙ্গে রাজনীতি করার কারণে চেয়ারম্যান আমার ওপর ক্ষুব্ধ। ইতি পূর্বে চেয়ারম্যান তাপস দত্ত চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ নেতা প্রশান্ত চৌধুরী জিশুর সাতকানিয়ার বাজালিয়া বাড়িতেও তার লোকজন দিয়ে হামলা করান বলে অভিযোগ করেন গিয়াস উদ্দীন সজীব।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, চেয়ারম্যান তাপস দত্তের সঙ্গে আমার দূরত্ব তৈরি হয়েছে তার বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করান, এটা তো মেনে নিতে পারি না। তাকে এসব বন্ধ করতে অনেকবার অনুরোধ করেছি কিন্তু তিনি শুনেন না।
অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান তাপস দত্ত জনান বলেন, আমি কাউকে হামলা করতে বলিনি। এ সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। আমার সঙ্গে শহীদুল্লাহ চৌধুরী, গিয়াস উদ্দীন সজীবের কোনো বিরোধ নেই।
সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দীন চৌধুরী জানান এই ঘটনাটি অত্যন্ত দু:খ জনক। আমরা শংর্কিত দলের অন্তকোন্দলের কারণে জামাতের ক্যাডারকে ব্যবহার করে দলীয় নেতা কর্মীদের হত্যা পরিকল্পনায় যুক্তদের বিরুদ্ধে শীর্ঘই দলীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বাজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে একাধিক সদস্যরা নাম প্রকাশের না করার শর্তে দৈনিক আজকালের খবরকে জানান তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া পর একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলে ছিল। তারা আরো জানান চেয়ারম্যান তাপস দত্ত দিকে বেলায় চেয়াম্যান হলে ও রাত ৩টা পর্যন্ত তার নিজস্ব পেট্রোল পাম্পের পাশে সন্ত্রাসী পরিকল্পনা করে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে স্থানীয় ইউপি সদস্য বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই নজরুল ইসলাম আসামী হাবিবুর রহমান (২৮) তরিকুল ইসলাম জিসান (২৫) কে জিজ্ঞাসাবাদেও জন্য আদালতে রিমান্ডে আনার আবেদন করেছেন বলে দৈনিক আজকালের খবরকে নিশ্চিত করেছেন সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিউল কবীর।