ঝিনাইদহে ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার (ভিডিও)

খুলনা অফিস : র‌্যাব ৬ এর অভিযানে ঝিনাইদহ থেকে বিপুল পরিমান ফেন্সিডিলসহ এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়েছে ।
র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলার মো হৃদয় খাঁন(২২) কে ৫৫৯ বোতল ফেন্সিডিল, ২টি মোবাইল ও মোটর সাইকেলসহ গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখ্য যে, ধৃত আসামী হৃদয় খাঁন এর বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা এবং যশোর জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদকসহ অন্যান্য মামলা রয়েছে। জব্দকৃত আলামত ও গ্রেফতারকৃত আসামীকে ঝিনাইদহ জেলার সদর থানায় হস্তান্তর করতঃ আসামীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

 

 

বাগেরহাটে চোরাই মালামালসহ গ্রেফতার ১ (ভিডিও)

খুলনা অফিস : বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানা এলাকায় থেকে চোরাই মালামালসহ চোরচক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ৬।
র‌্যাব জানায়, গত ২৪ জুলাই ২০২২ তারিখ ঢাকা জেলার তেজগাঁও থানাধীন কাওরান বাজারস্থ মেট্টো এক্সপ্রেস কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মচারী কর্তৃক অফিসের বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়ে যায়। পরবর্তীতে উক্ত কুরিয়ার সার্ভিসের সুপার ভাইজার বাদী হয়ে উক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে ডিএমপি ঢাকার তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
উক্ত কর্মচারী চোরাই মালামাল নিয়ে খুলনাঞ্চলে অবস্থান করছে মর্মে জানা যায়। র‌্যাব ৬ এর একটি আভিযানিক দল চোরকে ধরতে তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার দিবাগত রাতে র‌্যাব ৬ এর দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানা এলাকা থেকে মোঃ রাজু শেখ (২৫) কে চুরিকৃত বিভিন্ন হার্ডওয়ার এর ১১৮৭ কেজি মালামাল, ৪৪ কেজি স্যানেটারী আইটেম,-প্রায়, ৩৮ কেজি খাবার সামগ্রীসহ গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামী রাজু শেখকে ডিএমপি ঢাকার তেজগাঁও থানায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী সৃষ্টি এবং স্থাপত্য শিল্পের মাইল ফলক : মোঃ মফিদুল ইসলাম টুটুল

মোঃ শহীদুল হাসান :

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। পদ্মা বহুমুখী সেতু বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী সৃষ্টি ও স্থাপত্য শিল্পের মাইল ফলক। পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বিশ্ব দরবারে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মোঃ মফিদুল ইসলাম টুটুল।

আগামী ২৫জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনীকে ঘিরে সারা দেশে যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, সমৃদ্ধি, উন্নয়ন ও মানবতার নেত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও দৃঢ়তার ফলে পদ্মা সেতু আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের একুশটি জেলার জনগণের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও দাবি ছিল পদ্মা সেতুর। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাও বঙ্গবন্ধুর মতো একজন ভিশনারি লিডার। তিনি পদ্মা নদীর ওপর সেতুর শুধু স্বপ্নই দেখেননি তার বাস্তব সৃষ্টিও দেখতে চেয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে তিনি পদ্মা সেতুর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ হাতে নেন। ১৯৯৮-১৯৯৯সালে বিশেষজ্ঞ দল দ্বারা সেতুর সম্ভাব্যতা বা ফিজিবিলিটি স্টাডি করান। ২০০১সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে পদ্মা সেতুর নির্মাণের বাস্তব ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তারপরেও বঙ্গবন্ধু কন্যা স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কথা বিস্মৃত হননি। ২০০৮সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইস্তেহারে পদ্মা সেতু নির্মানে জনগনকে স্বপ্ন দেখান ও প্রতিশ্রুতি দেন। দেশের মানুষ শেখ হাসিনার পদ্মা সেতুর স্বপ্নের উপর আস্থা রেখে নির্বাচনে বোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করে। নির্বাচনে জয় লাভের পর সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইস্তেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ হাতে নেন। সরকারের পরিকল্পনা ছিল বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে।

২০১১ সালের ২৮এপ্রিল বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১২০কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা চুক্তি সই হয়। এছাড়া ১৮ মে জাইকার সঙ্গে, ২৪ মে আইডিবির সঙ্গে এবং ৬ জুন এডিবির সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই বছর অর্থাৎ ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাংক অভিযোগ করে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক তাদের ঋণচুক্তি বাতিল করে। প্রথম থেকেই দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা পদ্মা সেতু নির্মাণে বিরোধিতা করে আসছিলো। ষড়যন্ত্রকারীরা চেয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারকে বিপাকে ফেলতে। দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ এনে সরকারের জনপ্রিয়তা কমানোর পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে বরাবরের মতই বৈষম্যের বেড়াজালে আটকে রাখতে পদ্মা সেতু নির্মান বন্ধ করাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। বাস্তবে তার উল্টোই হয়েছে। বিশ্বব্যাংক কর্তৃক ঋণচুক্তি বাতিল বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদই হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ঋণচুক্তি স্থগিত করলে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন পদ্মা সেতু অবশ্যই হবে। তবে তা নিজস্ব অর্থায়নেই।অন্যের কাছ থেকে হাত পেতে টাকা এনে পদ্মা সেতু করবেন না। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা শত প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরু করেন। বাংলাদেশ পদ্মা সেতুর মতো একটি বৃহৎ বহুমুখী সেতু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত করতে সক্ষম হয়েছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি বহির্বিশ্বে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ২৫শে জুন ফিতা কেটে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন এটা বাংলাদেশ তথা বিশ্বের ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। পদ্মা নদীর উপরে শুধু একটি সেতু নয়-এটি একটি লালিত স্বপ্নের সফলতা। পদ্মা বহুমুখী সেতু শুধু যোগাযোগ নেটওয়ার্ক-এর বিপ্লব ঘটাবে না। এ সেতু সতেরো কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পদ্মা সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার ২ কোটি মানুষের আঞ্চলিক বৈষম্য কমার পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। এ অঞ্চলে নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা স্থাপনের ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে। মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরের গুরুত্ব বেড়ে যাবে। ভোমরা, বেনাপোল বন্দরসহ ভারতের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি পাবে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের দ্বিখন্ডিত বাংলাদেশকে সড়কপথে ঐক্যবদ্ধ করবে। এই সেতু সড়ক ও রেলপথের যোগাযোগের মাধ্যমে তড়িৎ অগ্রগতি সাধিত হবে। পণ্য পরিবহন, ব্যবসা বাণিজ্য শিক্ষা চিকিৎসা শাস্ত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

তিনি প্রত্যাশা করে বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে মানুষের যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সমীক্ষা অনুযায়ী, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) ১ দশমিক ২৩ শতাংশ বাড়বে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২দশমিক ৩শতাংশ। দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের নুতন দ্বার উন্মোচিত হবে। তবে শুরুতেই বড় গতিশীলতা আসবে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে। সেতুর কারণে সব ধরণের কৃষিপণ্য তাদের সবচেয়েৎকাঙ্ক্ষিত বাজারে দ্রুত যেতে পারবে। শুধু ঢাকা নয়, বরং বড় বড় জেলায়শহরগুলোতেও তাদের পণ্য যাওয়ার সুযোগ পাবে। পদ্মা সেতুর প্রাথমিক প্রভাবয়পড়বে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি খাতে আর দীর্ঘমেয়াদী সুফল আসবে ভারী শিল্পখাতে। ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন ও খানজাহান আলী মাজার, ষাট গম্বুজ মসজিদ ঘিরে পর্যটনের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। যা বাংলাদেশকে পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় পর্যটন শিল্পের দেশে রুপান্তরিত করবে বলে মনে করেন। এই ব্যবসায়ী নেতার প্রত্যাশা পদ্মা সেতু যোগাযোগের বড় দিগন্ত উন্মোচন করবে। সে বিষয়ে তার কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু এই যোগাযোগ সুবিধাকে অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপান্তর করতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস, বিদ্যুতসহ অন্য অবকাঠামোতেও নজর দিতে হবে বলেও জানান তিনি।

বাণীশান্তার তিনফসলি জমিতে বালি ফেলার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের সুপষ্ট লঙ্ঘন : বাপা’র খুলনা সংলাপে বক্তারা

ইউনিক প্রতিবেদক :

বাণীশান্তার তিনফসলি উর্বর জমিতে মোংলা বন্দর কর্তৃক পশুর নদী খননের বালি ফেলার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ইতিমধ্যেই খননকৃত বালি ফেলার কারনে চিলা এলাকার পশুর নদী পাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা-স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। খননকৃত বালি দ্বারা পশুর নদীর অববাহিকার ব-দ্বীপ পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রকে ধ্বংস করছে এতে কোন সন্দেহ নেই। বাণীশান্তার তিনশো একর কৃষিজমিতে খননকৃত বালি ফেলার সিদ্ধান্ত’র বহু বিকল্প প্রস্তাব রয়েছে। তাই পশুর নদী খননের সমস্যা সমাধানের জন্য টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

শনিবার সকালে খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু ( ভিআইপি লাউঞ্জ ) মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং বাণীশান্তা ইউনিয়ন কৃষিজমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে ” পশুর নদী খননকৃত বালির কবল থেকে বাণীশান্তা ইউনিয়নের তিনশো একর তিনফসলি কৃষিজমি রক্ষায় করনীয়” শীর্ষক খুলনা সংলাপে বক্তারা একথা বলেন।

সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত খুলনা সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) খুলনার আহ্বায়ক এ্যাড. বাবুল হাওলাদার। সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ননী গোপাল মন্ডল। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল। এছাড়া খুলনা সংলাপে বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য এস এ রশিদ, খুলনা পরিবেশ মঞ্চ’র আহ্বায়ক এ্যাড. কুদরত-ই-খোদা, সাংবাদিক-গবেষক গৌরাঙ্গ নন্দী, ক্লিন খুলনার প্রধান নির্বাহি হাসান মেহেদী, দাকোপ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান গৌরপদ বাছাড়, সাবেক ছাত্রনেতা পূর্ণেন্দু দে, বাসদ নেতা জনার্দন দত্ত নান্টু, ওয়ার্কার্স পাটির নেতা শেখ মহিদুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টি ( মার্কসবাদী ) নেতা কমরেড মোজাম্মেল হক, সাংবাদিক এইচ এম আলাউদ্দিন, সিপিডি’র খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী ইকবাল হোসেন বিপ্লব, সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক এস এম শাহনওয়াজ আলী, বাপা বাগেরহাট জেলার নেতা সৈয়দ মিজানুর রহমান, বাণীশান্তা ইউপি চেয়ারম্যান সুদেব কুমার রায়, লাউডোব ইউপি চেয়ারম্যান শেখ যুবরাজ, কৃষক নেতা এ্যাড. রুহুল আমীন, কৃষক নেতা গৌরাঙ্গ প্রসাদ রায়, ছাত্র ইউনিয়ন খুলনা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র সৌরভ, বাণীশান্তা ইউনিয়ন কৃষিজমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির নেতা সত্যজিৎ গাইন, বাণীশান্তা ইউপি সদস্য জয়দেব কুমার মানিক, হিরন্ময় মন্ডল, ইউপি সদস্য পাপিয়া মিস্ত্রি, উন্নয়নকর্মী মেরিনা যুথী, চিলা ইউনিয়ন কৃষিজমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির নেতা হুমায়ুন কবির প্রমূখ। সংলাপ সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর জাতীয় পরিষদ সদস্য মো. নূর আলম শেখ। প্রধান বক্তা বাপা’র সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন সরকারের মধ্যে ভালো-মন্দ লোক আছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বাণীশান্তার কৃষিজমিতে বালি ফেলার ষড়যন্ত্র করছে। আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। বাণীশান্তার সংখ্যালঘু মানুষের কৃষিজমিতে বালি ফেলললে সরকার আন্তর্জাতিক ভাবে সমালোচিত হবে। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সাবেক সংসদ ননী গোপাল মন্ডল বলেন বাণীশান্তার কৃষিজমিতে বালি ফেলার বিষয় জাতীয় সংসদে আলোচনা দরকার ছিলো। সংসদ সদস্য আছে পার্লামেন্ট আছে কিন্তু সংসদে আলোচনা হচ্ছে না। পশুর নদীর বালি ফেলার জন্যে বিকল্প জায়গা খুঁজতে হবে। প্রয়োজনে বন্দরকে আরো দক্ষিণে সরিয়ে নিতে হবে। বন্দর বড় না মানুষ বড়। আশার আলো বাণীশান্তার কৃষকদের পাশে রাজনৈতিক-মানবিক এবং পরিবেশবাদী সংগঠন দাড়িয়েছে। বাণীশান্তার সমস্যা জাতীয় ভাবে তুলে ধরার জন্যে বাপাকে ধন্যবাদ। সভাপতির বক্তব্যে বাপা খুলনার সমন্বয়কারী বাবুল হাওলাদার কৃষি এবং কৃষক বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে গণসংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

মোংলায় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের ঘর পাচ্ছেন ১৪০ পরিবার

ইউনিক প্রতিবেদক, মোংলা, বাগেরহাট :

মোংলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহার স্বরুপ ঘর পাচ্ছেন ১৪০টি পরিবার। আশ্রয়ণ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে দেয়া হচ্ছে এ ঘর। উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের মাকড়ঢোন এলাকায় নির্মিত হচ্ছে ঘরগুলো। বেশির ভাগ ঘরেরই কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। পৌরসভার শেষ সীমান্তে ও উপজেলার চাঁদপাই এবং বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের মাঝে আন্তর্জাতিক মোংলা-ঘাষিয়াখালী বঙ্গবন্ধু চ্যানেলের পাড়ে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক এ ঘরগুলো। সেখানকার পরিবেশ দেখে যে কেউই ভাববেন এটি কোন রিসোর্টই হবে। এখানে ঘরের পাশাপাশি খোলা জায়গা ও পুকুর রয়েছে। রয়েছে ক্ষেত ও ফসল চাষের মাঠও। নতুন এ ঘরে থাকছে বিদ্যুৎ সংযোগও। প্রত্যেক পরিবারকে ঘর ও জমির কাগজপত্র বুঝিয়ে দেয়া হবে শীগগিরই। তৃতীয় পর্যায়ের এ ঘরগুলো পূর্বের দুই দফায় দেয়া ঘরের চেয়ে মজবুত ও ব্যয়বহুলও। এবারের প্রতিটি এ ঘরে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। এর আগে প্রতিটিতে ব্যয় ছিলো ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এদিকে চাঁদপাই ইউনিয়নের মাকড়ডোন গ্রামে নির্মিত এ ঘর প্রকৃত ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে হস্তান্তর উপলক্ষে সোমবার বেলা ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে।

আর এ ঘরগুলো সুন্দরভাবে নির্মাণ সম্পন্ন করতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার। তিনি বলেন, অত্যন্ত সুন্দর একটি পরিবেশে এ ঘরগুলো করা হয়েছে। ঘর নির্মাণে মানসম্মত সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে খুব টেকসই হয়। কাজ শেষ পর্যায়ে উপকারভোগীরা নতুন এ ঘরেই ঈদ করতে পারবেন।

হত্যা চেষ্টাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে ভূক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

ইউনিক প্রতিবেদক :

বাগেরহাটে সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের চি‎হ্নিত সন্ত্রাসী হালিম মোড়লের নেতৃত্বে পরিকল্পিত হত্যা চেষ্টাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি করেছে হামলার স্বীকার ভূক্তভোগীরা। এসময়ে তারা পুলিশের দায়িত্বে অবহেলারও অভিযোগ করেন। রবিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে ভূক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভূক্তভোগী বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সদস্য সচিব প্রকৌশলী মো. রায়হান হুসাইন।  

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি ও আমার রাজনৈতিক সহযোদ্ধা বাগেরহাট সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আক্তার বিল্লাহ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান, বারুইপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. জহির মল্লিক ও সাধারণ সম্পাদক মো. ফেরদাউস মোড়ল গত ২৫ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কর্মসূচীতে অংশগ্রহনের জন্য ২৪ মার্চ সন্ধ্যায় ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের দাওয়াত দিতে ০২টি মোটরসাইকেল যোগে বের হই। কাজ শেষে আমরা রাত সাড়ে ১০টায় ১নং ওয়ার্ডের আড়পাড়া বাজারে আসলে হঠাৎ অন্ধকারে আড়পাড়া গ্রামের আজাহার মোড়লের ছেলে হালিম মোড়লের নেতৃত্বে একই গ্রামের মোস্তাকিন মোড়ল, অনিক মোড়ল, এরশাদ মোড়ল, ইরফান মোড়লসহ আরো অজ্ঞাত নামা ৬/৭ জন রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে আমাদের গতিরোধ করে। তারপর তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আমাদের রামদা, লোহার রড, হাতুড়ী, লাঠিসোটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। সেই সাথে সন্ত্রাসীরা আমাদের ৪টি মোবাইল ফোন ও ০২টি মোটর সাইকেলের ব্যাপক ভাংচুর করে। সন্ত্রাসীরা আমাদের নিকট থাকা ২১,৭৭৫ (একুশ হাজার সাতশত পঁচাত্তর) টাকা জোর পূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমাদের রাজনৈতিক সহকর্মী মোহাম্মদ জিলানী সংবাদ পেয়ে লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে আমি ও আমার দুই সহকর্মীকে উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠায়। আর আক্তার বিল্লাহকে উদ্ধার করে ফকিরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা অবস্থা গুরুতর দেখে আক্তার বিল্লাহকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করে। আজ অবধি আমার সহযোদ্ধা প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বাগেরহাট হাসপাতালে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আক্তার বিল্লাহর শরীরে ৫৫টির উপরে সেলাই দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনার পরের দিন ২৫ মার্চ আমার পিতা মো. আবু সাহিদ বাগেরহাট সদর থানায় মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং ২৫। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় আসামীরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার করেনি। যেখানে মামলার আসামী হালিম মোড়লের নামে থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। তারপরও সে প্রকাশ্যে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আমরা সবাই আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কর্মসুচি ‘হৃদয়ে পিতৃভূমি’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এলাকায় কাজ করতে গিয়ে নির্মমভাবে হামলা স্বীকার হয়েও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কোন সহায়তা পাচ্ছিনা। প্রযুক্তির এই যুগে আসামীদের কেন পুলিশ এখনও গ্রেফতার করছে না তা আমাদের বোধগম্য নয়।

তিনি আরো বলেন, মানবতার মা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, দক্ষিনবাংলার রাজনৈতিক অভিভাবক শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রী, তরুন প্রজন্মের আইকন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সাহরান নাসের তন্ময়, খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে এসব সন্ত্রাসীদের ও তাদের মদদদাতাদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

আসামী গ্রেফতারে পুলিশের অবহেলার বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর মো. সেরাজুল ইসলামের মুঠোফোনে (০১৭১৬-৪৭২০৮৯) যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য নয়। আমরা আসামীদের গ্রেফতারে সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি। বাদীদের কাছে আসামীদের অবস্থান সম্পর্কে কোন তথ্য থাকলে আমাদেরকে তারা জানাতে পারে। তবে আমরা আশাবাদী খুব শীঘ্রই আসামীদের গ্রেফতার করতে পারবো।

আসামীরা এলাকায় ঘোরাফেরা করছে কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না এমন অভিযোগের বিষয়ে বাগেরহাট সদর থানা অফিসার ইনচার্জ কে এম আজিজুল ইসলামের মুঠোফোনে (০১৩২০-১৪১১৭৯) যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এটা সত্য নয়, এটা বলতে পারে তারা তাদের বক্তব্যে। বিষয়টিতে একটি মামলা হয়েছে। আমরা তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছি। আমার জানামতে আসামীরা কেউই এলাকাতে নেই। আমি তারপরও খোজ নিয়ে দেখবো। আমাদের কর্মকর্তারা আসামীদের গ্রেফতারে সব জায়গায় কাজ করছে।

খুলনার আড়ংঘাটায় গ্লোবাল চ্যারিটেবল এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

ইউনিক প্রতিবেদক :

খুলনার আড়ংঘাটা ইউনিয়নের ০৯ টি ওয়ার্ডের অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে গ্লোবাল চ্যারিটেবল এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন।

বৃহস্পতি সকাল ১১টায় আড়ংঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে গ্লোবাল চ্যারিটেবল এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (টঝঅ) এর অর্থায়নে ও “মাহমুদ আলী ফাউন্ডেশন” এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেএমপি খালিশপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ূন কবির। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আড়ংঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম ফরিদ আক্তার, আড়ংঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর, বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোড়ল জাহাঙ্গীর হোসেন, আড়ংঘাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. দীন এলাহী, আড়ংঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো. সোহেল সরদার, মাহমুদ আলী ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মো. আনিসুর রহমান মোল্লা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আড়ংঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শেখ ইয়ার হোসেন। প্রধান সমন্বায়কারীর দায়িত্ব পালন করেন মো. তুহিন মোড়ল।

উক্ত অনুষ্ঠানে রামাদান ফুড বাস্কেট প্রোগ্রাম-২০২২ এর অংশ হিসেবে ৪০০ দরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী (২৫ কেজি চাল, ০১ কেজি চিনি, ০১ কেজি ছোলা, ০১ কেজি খেজুর ও ০২ কেজি চিড়া) বিতরণ করা হয়। এসময়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেনীর পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন

সাবেক দস্যু বাহিনী প্রধানের বিরুদ্ধে জেলেদের উপর জুলুম ও হয়রানী  এবং বনে আতংক সৃষ্টির অভিযোগ

ইউনিক প্রতিবেদক, মোংলা, বাগেরহাট : 

সুন্দরবনের সাবেক দস্যু বাহিনী প্রধানের বিরুদ্ধে নতুন করে জেলেদের উপর জুলুম ও হয়রানীসহ নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে দুর্গম বনাঞ্চলে নতুন করে আতংকের সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টায় মোংলা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জেলেরা এ অভিযোগ করেন।

সুন্দরবনের জেলে মোঃ শাাহজাহান লিখিত অভিযোগ ও বক্তব্যে বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চর সংলগ্ল লইট্যাখালী এলাকায় প্রায় ৪০ বছর ধরে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন তিনিসহ এক দল জেলে। কিন্তু গত ২২ মার্চ সকালে সাবেক দস্যু মাস্টার বাহিনীর প্রধান আব্দুল কাদের মাস্টার ও আইনশৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স পরিচয়ে জনৈক বেলায়েত ও দেবুসহ ১০/১২ জন লোক ওই সকল জেলেদের নৌকা-জাল নিয়ে সেখান থেকে চলে যাওয়ার হমকি দেয়। এরপর হুমকিদাতারা ওই জেলেদের জালের সামনে জাল পেতে মাছ ধরে সেই জায়গা দখলে নিয়ে নেয়। এতে ওই নিরীহ জেলেরা ভয়ে ও আতংকে জাল ফেলে লোকালয়ে চলে আসেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, ৩/৪ বছর আগেও সুন্দরবনের জেলেদের হত্যা, নির্যাতন ও অপহরণসহ চাঁদাবাজী করছিলো দস্যুরা। কিন্তু আইনশৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় দস্যু মুক্ত সুন্দরবনে বেশ ভালই ছিলেন সাধারণ জেলেরা। কিন্তু আত্মসমর্পনকারী সাবেক দস্যু বাহিনীর সদস্যরা সরকারীভাবে নানা সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করলেও সাবেক দস্যু মাস্টার বাহিনীর প্রধান ও তার সহযোগীদের অপতৎপরতার কাছে ফের অসহায় হয়ে পড়েছেন নিরীহ জেলে ও পেশাজীবিরা। এ সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবন থেকে ফিরে আসা অনেক জেলে উপস্থিত ছিলেন। এ থেকে প্রতিকার পেতে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মোল্লাহাটে সমাজসেবা অফিসের কর্মচারীকে গলা কেটে হত্যা

ইউনিক প্রতিবেদক, মোল্লাহাট, বাগেরহাট :

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের অফিস সহায়ক নাইম খাঁনকে (২৮) শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে গাংনী গ্রামের হিরণ মাষ্টারের বাড়ীর উঠান থেকে গুরতর আহত অবস্থায় নাইমকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী ও তার স্বজনেরা। পরে তাঁকে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারী ক্লিনিকে নেওয়া হয় । এরপর সেখানে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নাইম খাঁন গাংনী গ্রামের আবুল খাঁনের ছেলে। সে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে অফিস সহায়ক পদে চাকুরী করতেন।

মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোমেন দাস বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহত নাইমের লাশ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। এঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

মােংলার আ’লীগ নেতাসহ ছেলের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি ও হুম‌কি প্রদানের অভিযোগ

ইউনিক প্রতিবেদক: 

শিশু গৃহপ‌রিচা‌রিকাকে যৌন নিপীড়নের মামলা করায় মােংলা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হােসেন ও তার ছেলে রনির বিরুদ্ধে নানাভাবে ভয়ভী‌তি ও হুম‌কি প্রদানের অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। সেই সাথে পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ করেন পরিবারটি।

আজ মঙ্গলবার (২২ মার্চ) দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিশুটির ফুপু মানজুম আক্তার। তি‌নি খুলনার লবনচরা থানার মােক্তার হোসেন সড়কের বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো জানান, মানজুম আক্তারের ভাই রাকিব তালুকদারের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর শিশু কন্যা রিভা (১০)কে ২০২১ সালে লালন-পালনের কথা বলে আসামি মােঃ রনি মােংলায় নিয়ে যান। মােংলার বাতেন সড়কে অবস্থিত বাড়িতে নিয়ে রনি ওই রিভাকে প্রায় সময় যৌন নিপীড়ন চালাতো। এবং বিষয়টি কাউকে না বলতে ওই শিশুটিকে নানা ধরনের ভয়ভীতি দিতেন। শারীরিক নির্যাতনও চালাতেন। এছাড়া রনি’র স্ত্রী রীমা (৩২) ওই শিশুটিকে মারাত্বকভাবে নির্যাতন করতো। সর্বশেষ গত ২৮ আগস্ট সারাদিন বাসার কাজ করে রিভা রাতে ঘুমিয়ে পড়ে। গভীর রাতে রনি এসে রিভাকে বিবস্ত্র করে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষনের চেষ্টা করে। তাছাড়া রনির স্ত্রি রিমাও রিভাকে শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। পরদিন সকালে রিভা বাসার একটি মোবাইল ফোন থেকে কৌশলে ফুফু মানজুকে ফোন করে এসব কথা জানায়। খবর পেয়ে ভাই রাকিব তালুকদার ও মানজুম মােংলায় গিয়ে রিভাকে খুলনায় নিয়ে আসে। পরদিন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)কে ভর্তি করা হয়।

এঘটনায় গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর খুলনা সদর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ না নিয়ে আদালতে যেতে পরামর্শ দেন। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মানজুম আক্তার বাদি হয়ে রনি ও স্ত্রি রিমাকে আসামি করে পিটিশন দায়ের করে (নং-৯৬/২১)। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরাে অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে নির্দেশ দেন। ২৮ অক্টোবর খুলনার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম সুমি আহমেদ ভিকটিমের ২২ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব‌্যুরাে অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’র পুলিশ পরিদর্শক মনজুরুল হাসান মাসুদ তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে আসামি রনি’র বিরুদ্ধে ওই শিশুকে যৌন নিপীড়ন ও শারীরিক নির্যাতনের অপরাধে জড়িত বলে অভিযুক্ত করেন। আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও গ্রেফতার হননি রনি। গত ২০ মার্চ খুলনার আদালত থেকে জামিন নেন আসামি রনি। রনির স্ত্রীকে মামলা থেকে বাদ দেন তদন্ত কর্মকর্তা। তদন্ত কর্মকর্তা ওই অসহায় প‌রিবা‌রের কাছে ১লাখ টাকা চেয়েছিলেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন মানজুম আক্তার।