খুলনা রেলওয়ের স্টেশন মাষ্টারকে শোকজ ও পাকশীতে তলব

খুলনা রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার

ইউনিক প্রতিবেদক :

কর্তৃপক্ষের মিথ্যা অযুহাতে পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে থানায় সাধারণ ডায়েরি করায় স্টেশন মাস্টারকে শোকজ সহ বিভাগীয় সদর দপ্তরে তলব করা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) পাকশি মো. আনোয়ার হোসেন খুলনা রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার মানিক চন্দ্র সরকারকে এ শোকজ করেন। শোকজে মানিক চন্দ্রকে ১৯ মে বৃহস্পতিবারে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে শোকজের জবাব দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।
রেল সূত্র জানায়, গত ১৬ মে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার মানিক চন্দ্র সরকার উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে খুলনার ৫ কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে খুলনার রেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। ডায়েরী করার পরে স্টেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের রোষানলে পড়লে তখন তিনি বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের নাম বলেন। তখন তিনি বলেন, ‘আমি রেলের বিভাগীয় পরিবহণ কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই রেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছি।” একই সাথে তিনি সাধারণ ডায়েরীতে উল্লেখ করেন যে, “ স্টেশনের শান্তি শৃংখলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে বিভাগীয় পরিবহণ কর্মকর্তার টেলিফোন নির্দেশে আমি এই সাধারণ ডায়েরী রেল থানায় নথিভুক্ত করেছি।” তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, “রেলওয়ের টিএক্সআর বায়তুল ইসলাম, আইডব্লিউ অফিসের মো. জাফর মিয়া, তোতা মিয়া, সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. আশিক আহম্মেদ ও সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. জাকির হোসেনে কালোবাজারে টিকিট বিক্রি করেন এবং তারা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ভূয়া নাম ব্যবহার করে টিকিটের চাহিদা প্রদান করে টিকিট গ্রহণ করেন। টিকিট না পেলে তারা বহিরাগতদের দিয়ে আমাকে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করেন এবং স্টেশন ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও মারধরের পায়তার নীলনকসা করছে। এছাড়া আমার মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়েছে।” এই জিডি কপি বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তার হাতে পৌছালে তাৎক্ষনাত তিনি খুলনার স্টেশন মাষ্টার মানিক চন্দ্র সরকারকে কারন দর্শিয়ে বিভাগীয় সদর দপ্তরে স্বশরীরে এসে উত্তর প্রদানের নির্দেশ দেন।
এদিকে খুলনা রেল স্টেশনে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান যে, এই স্টেশন মাষ্টার মানিক চন্দ্র সরকার এর আগে টিকিট কালোবাজারে বিক্রি করার অভিযোগে পানিষ্টমেন্ট ট্রান্সফার (শাস্তিমূলক বদলি) হয়েছিলো। এছাড়া তাকে কখনই তার চেয়ারে পাওয়া যায় না। তাকে মোবাইল করলেও তিনি ফোন রিসিভি করে না বলে কর্মকর্তা কর্মচারী সহ অসংখ্য ট্রেনযাত্রীরা অভিযোগ করেন।
এব্যাপারে রেলওয়ের টিএক্সআর বায়তুল ইসলাম বলেন, “আমরা কখনওই টিকিট কালো বাজারী করি না। স্টেশন মাষ্টারকে ট্রেন যাত্রীরা চেয়ারে না পেয়ে আমাদের কাছে আসে। তখন আমরা উপায়ান্ত না পেয়ে রেলের যাত্রী সেবার কথা বিবেচনায় নিয়ে যাত্রীদের কথা শুনি। এছাড়া আমরা খুলনায় বসবাস করি, আমাদের সাথে অনেক রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, অনেক সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা টিকিট না পেয়ে আমাদের স্মরণাপন্ন হন। এমনকি আমাদের রেলের অনেক কর্মকর্তা আছেন তাদের নির্দেশ শুনতে আমাদেরকে লাইনে দাড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করে দিতে হয়। এটি যদি আমাদের দোষ হয় তাহলে আমরা সে দোষে দোষী। আমরা প্রধানমন্ত্রীর সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোরায় পৌছে দিতে চাই।”
সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. আশিক আহম্মেদ বলেন, “স্টেশন মাষ্টার সাধারণ মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। আর তিনি ঠিকমত অফিসে বসেন না। ফলে সেবা গ্রহণকারী যাত্রীদের চাপ আমাদের উপর এসে পড়ে।” তিনি এক প্রশ্নের জবাবে দৈনিক দেশ সংযোগকে বলেন, “টিকিট আমরা কেন কালো বাজারে বিক্রি করবো? টিকিট তো কালোবাজারে মাষ্টার নিজেই বিক্রি করেন। তিনি যে কালো বাজারে টিকিট বিক্রি করে তার একটি তালিকা আমাদের কাছে রয়েছে। আর তিনি এতই উচু মাপের কর্মকর্তা যে, তিনি কোন নেতাদের হিসাবে রাখেন না। তিনি আমাদের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথেও খারাপ আচরণ করেন। আমরা সব সময় তার সহযোগীতা করে আসছি। আর তার স্বার্থ ফুরিয়ে গেলেই আমাদের সাথে এ ধরনের জীবিকার উপর হুমকি নিয়ে আসেন।”
এদিকে কারন দর্শানো নোটিশের বিষয়ে খুলনা রেল স্টেশন মাষ্টারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তার ফোনে ঢুকলেও তিনি ফোন কেটে দেন।
এ ব্যাপারে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেনকে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

বঙ্গবন্ধু দিয়েছেন স্বাধীনতা আর শেখ হাসিনা দিয়েছেন অর্থনৈতিক মুক্তি : সাবেক ছাত্রলীগ ফোরামের ঈদ পুনর্মিলনীতে বাবুল রানা

ইউনিক প্রতিবেদক:

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সংগঠনটির দীর্ঘ পথচলায় রয়েছে দেশ ও জাতির জন্য গৌরবময় অসংখ্য অর্জন। সমৃদ্ধ সেসব অর্জন জাতিকে দিয়েছে নতুন পথের ঠিকানা। স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের যেভাবে হলো, সে শব্দ প্রাপ্তিতে সংগঠনটির অবদান ইতিহাসের পাতায় আজও উজ্জ্বল হয়ে আছে। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন দাবি ও প্রেক্ষাপটের আলোকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা প্রতিষ্ঠিত করার দাবিতে; সর্বোপরি সাংগঠনিক প্রয়োজনীয়তা ও সংঘবদ্ধভাবে সফল আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই জাতির পিতা ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রলীগের রয়েছে অনন্য ভূমিকা। এ ছাত্র সংগঠনটিই হলো আওয়ামী লীগের প্রাণ।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আমাদের দিয়েছেন স্বাধীনতা আর জননেত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন অর্থনৈতিক মুক্তি। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশে ফিরে পিতার পথ ধরে সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। সরকার প্রধান হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সুযোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারণে আজ বিশ্ব নেত্রীতে পরিণত হয়েছেন। ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত করতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। আর একাজে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীদের সবসময়ের মতো জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহায়তা করতে হবে।

খুলনা সাবেক ছাত্রলীগ ফোরামের আয়োজনে নগরীর লিনিয়ার পার্কে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মিলন মেলা ও ঈদপুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেডিএ‘র স্থায়াী সদস্য জামাল উদ্দিন বাচ্চু, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ও প্যানেল মেয়র আলী আকবর টিপু। ছাত্রলীগের ফোরামের আহ্বায়ক ও মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আফরোজা জেসমিন বিথীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ১৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আবিদ উল্লাহ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল হক, ২৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জি এম রেজাউল ইসলাম, সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর, দিলীপ বর্মণ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আমিরুল ইসলাম লিটু, নুরে আলম ময়না, শাহিদা আক্তার রিনি, এ্যাড. মাহবুব রহমান, শহীদুল ইসলাম সবুজ সহ সাবেক ছাত্রলীগের নেতকর্মী, সমর্থক ও তাদের পরিবারবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

মিলনমেলায় সবার জন্য বিভিন্ন প্রতিযোগীতা, কৃতি শিক্ষার্থী সন্তানদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট, সকল বাচ্চাদের জন্য ক্রেস্ট প্রদান, ফানুস উড়ানো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

বাণীশান্তার তিনফসলি জমিতে বালি ফেলার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের সুপষ্ট লঙ্ঘন : বাপা’র খুলনা সংলাপে বক্তারা

ইউনিক প্রতিবেদক :

বাণীশান্তার তিনফসলি উর্বর জমিতে মোংলা বন্দর কর্তৃক পশুর নদী খননের বালি ফেলার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ইতিমধ্যেই খননকৃত বালি ফেলার কারনে চিলা এলাকার পশুর নদী পাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা-স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। খননকৃত বালি দ্বারা পশুর নদীর অববাহিকার ব-দ্বীপ পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রকে ধ্বংস করছে এতে কোন সন্দেহ নেই। বাণীশান্তার তিনশো একর কৃষিজমিতে খননকৃত বালি ফেলার সিদ্ধান্ত’র বহু বিকল্প প্রস্তাব রয়েছে। তাই পশুর নদী খননের সমস্যা সমাধানের জন্য টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

শনিবার সকালে খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু ( ভিআইপি লাউঞ্জ ) মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং বাণীশান্তা ইউনিয়ন কৃষিজমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে ” পশুর নদী খননকৃত বালির কবল থেকে বাণীশান্তা ইউনিয়নের তিনশো একর তিনফসলি কৃষিজমি রক্ষায় করনীয়” শীর্ষক খুলনা সংলাপে বক্তারা একথা বলেন।

সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত খুলনা সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) খুলনার আহ্বায়ক এ্যাড. বাবুল হাওলাদার। সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ননী গোপাল মন্ডল। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল। এছাড়া খুলনা সংলাপে বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য এস এ রশিদ, খুলনা পরিবেশ মঞ্চ’র আহ্বায়ক এ্যাড. কুদরত-ই-খোদা, সাংবাদিক-গবেষক গৌরাঙ্গ নন্দী, ক্লিন খুলনার প্রধান নির্বাহি হাসান মেহেদী, দাকোপ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান গৌরপদ বাছাড়, সাবেক ছাত্রনেতা পূর্ণেন্দু দে, বাসদ নেতা জনার্দন দত্ত নান্টু, ওয়ার্কার্স পাটির নেতা শেখ মহিদুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টি ( মার্কসবাদী ) নেতা কমরেড মোজাম্মেল হক, সাংবাদিক এইচ এম আলাউদ্দিন, সিপিডি’র খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী ইকবাল হোসেন বিপ্লব, সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক এস এম শাহনওয়াজ আলী, বাপা বাগেরহাট জেলার নেতা সৈয়দ মিজানুর রহমান, বাণীশান্তা ইউপি চেয়ারম্যান সুদেব কুমার রায়, লাউডোব ইউপি চেয়ারম্যান শেখ যুবরাজ, কৃষক নেতা এ্যাড. রুহুল আমীন, কৃষক নেতা গৌরাঙ্গ প্রসাদ রায়, ছাত্র ইউনিয়ন খুলনা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র সৌরভ, বাণীশান্তা ইউনিয়ন কৃষিজমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির নেতা সত্যজিৎ গাইন, বাণীশান্তা ইউপি সদস্য জয়দেব কুমার মানিক, হিরন্ময় মন্ডল, ইউপি সদস্য পাপিয়া মিস্ত্রি, উন্নয়নকর্মী মেরিনা যুথী, চিলা ইউনিয়ন কৃষিজমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির নেতা হুমায়ুন কবির প্রমূখ। সংলাপ সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর জাতীয় পরিষদ সদস্য মো. নূর আলম শেখ। প্রধান বক্তা বাপা’র সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন সরকারের মধ্যে ভালো-মন্দ লোক আছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বাণীশান্তার কৃষিজমিতে বালি ফেলার ষড়যন্ত্র করছে। আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। বাণীশান্তার সংখ্যালঘু মানুষের কৃষিজমিতে বালি ফেলললে সরকার আন্তর্জাতিক ভাবে সমালোচিত হবে। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সাবেক সংসদ ননী গোপাল মন্ডল বলেন বাণীশান্তার কৃষিজমিতে বালি ফেলার বিষয় জাতীয় সংসদে আলোচনা দরকার ছিলো। সংসদ সদস্য আছে পার্লামেন্ট আছে কিন্তু সংসদে আলোচনা হচ্ছে না। পশুর নদীর বালি ফেলার জন্যে বিকল্প জায়গা খুঁজতে হবে। প্রয়োজনে বন্দরকে আরো দক্ষিণে সরিয়ে নিতে হবে। বন্দর বড় না মানুষ বড়। আশার আলো বাণীশান্তার কৃষকদের পাশে রাজনৈতিক-মানবিক এবং পরিবেশবাদী সংগঠন দাড়িয়েছে। বাণীশান্তার সমস্যা জাতীয় ভাবে তুলে ধরার জন্যে বাপাকে ধন্যবাদ। সভাপতির বক্তব্যে বাপা খুলনার সমন্বয়কারী বাবুল হাওলাদার কৃষি এবং কৃষক বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে গণসংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

মোংলায় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের ঘর পাচ্ছেন ১৪০ পরিবার

ইউনিক প্রতিবেদক, মোংলা, বাগেরহাট :

মোংলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহার স্বরুপ ঘর পাচ্ছেন ১৪০টি পরিবার। আশ্রয়ণ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে দেয়া হচ্ছে এ ঘর। উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের মাকড়ঢোন এলাকায় নির্মিত হচ্ছে ঘরগুলো। বেশির ভাগ ঘরেরই কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। পৌরসভার শেষ সীমান্তে ও উপজেলার চাঁদপাই এবং বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের মাঝে আন্তর্জাতিক মোংলা-ঘাষিয়াখালী বঙ্গবন্ধু চ্যানেলের পাড়ে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক এ ঘরগুলো। সেখানকার পরিবেশ দেখে যে কেউই ভাববেন এটি কোন রিসোর্টই হবে। এখানে ঘরের পাশাপাশি খোলা জায়গা ও পুকুর রয়েছে। রয়েছে ক্ষেত ও ফসল চাষের মাঠও। নতুন এ ঘরে থাকছে বিদ্যুৎ সংযোগও। প্রত্যেক পরিবারকে ঘর ও জমির কাগজপত্র বুঝিয়ে দেয়া হবে শীগগিরই। তৃতীয় পর্যায়ের এ ঘরগুলো পূর্বের দুই দফায় দেয়া ঘরের চেয়ে মজবুত ও ব্যয়বহুলও। এবারের প্রতিটি এ ঘরে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। এর আগে প্রতিটিতে ব্যয় ছিলো ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এদিকে চাঁদপাই ইউনিয়নের মাকড়ডোন গ্রামে নির্মিত এ ঘর প্রকৃত ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে হস্তান্তর উপলক্ষে সোমবার বেলা ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে।

আর এ ঘরগুলো সুন্দরভাবে নির্মাণ সম্পন্ন করতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার। তিনি বলেন, অত্যন্ত সুন্দর একটি পরিবেশে এ ঘরগুলো করা হয়েছে। ঘর নির্মাণে মানসম্মত সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে খুব টেকসই হয়। কাজ শেষ পর্যায়ে উপকারভোগীরা নতুন এ ঘরেই ঈদ করতে পারবেন।

আ’লীগ এদেশের মাটি ও মানুষের কল্যাণ এবং ভাগ্যোন্নয়ণের রাজনীতি করে : খুলনা নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঈদ উপহার বিতরণকালে সেখ জুয়েল এমপি

বিজ্ঞপ্তি :

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভ্রাতুষ্পুত্র খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল বলেন, “জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের শাসনামলে দেশের একটি মানুষও না খেয়ে থাকবে না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যেমন সারাজীবন এই দেশ ও দেশের মানুষের কল্যানের জন্য রাজনীতি করে গেছেন, জীবন বিলিয়ে দিয়ে গেছেন ঠিক তেমনি তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এদেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ও সুখী সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ বির্নিমাণে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এদেশের মাটি ও মানুষের কল্যাণ এবং ভাগ্যোন্নয়ণের রাজনীতি করে। তিনি আরও বলেন, তার সরকারের আমলে এদেশে কোন মানুষ যেমন ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবে না। সে কারনেই তিনি এদেশের প্রায় সাড়ে ৯ লাখ ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষকে জমিসহ ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। একই সাথে মানুষের নিরাপদ খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন। তার নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশের মানুষ যাতে নিরাপদে ও শান্তিতে বসবাস করতে পারে সে লক্ষে তিনি আইন-শৃংখলার পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছেন। তৎকালীন বিএনপি জোট সরকারের আমলের মত আজ দেশে জঙ্গী হামলা, বোমা হামলা হয় না। দেশের মানুষ আজ শান্তিতে আছেন। দেশের জনগণের সার্বিক জীবন মান উন্নত হয়েছে। বিগত দুই বছর করোনা মহামারীর কারনে সারা বিশ্ব যেখানে থমকে গিয়েছিলো, সেখানে বাংলাদেশ তার অর্থনীতির চাকা সচল রেখে রিজার্ভ বৃদ্ধি করেছে। যখনই দেশের কোন ক্রান্তি কাল এসেছে তখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসহযোগী সংগঠন মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে খাদ্যদ্রব্য, নগদ অর্থ, ঔষধ, অক্সিজেন সহ বিভিন্ন সেবা সামগ্রী পৌছিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের এই ঈদ উপহার কিছুটা হলেও অসহায় মানুষের মুখে ঈদের হাঁসি ফোঁটাবে। তিনি মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ কে ধন্যবাদ দিয়ে আগামীতে এমন সব ভাল কাজের সাথে সংগঠনকে নিয়োজিত রাখতে আহবান জানান। তিনি সকলের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন আসুন সকল ভেদাভেদ ভুলে মানুষের সেবায় কাজ করতে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে এবং দেশরতœ জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প বাস্তবায়ন করতে আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীককে আবার বিজয়ী করি।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় শঙ্খমার্কেটস্থ দলীয় কার্যালয়ে খুলনা মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আয়োজনে ঈদ উপহার বিতরণ কালে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও খুলনা সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম.ডি.এ বাবুল রানা। এছাড়ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা কাউন্সিলর জেড এ মাহমুদ ডন, শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলম, মফিদুল ইসলাম টুটুল, এ্যাড. মো. সাইফুল ইসলাম। খুলনা মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এম.এ নাসিমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এস.এম আসাদুজ্জামান রাসেলের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবলীগের আহবায়ক সফিকুর রহমান পলাশ, সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মীর বরকত আলী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক রাসেল, মহানগর যুবলীগ নেতা কাজী কামাল হোসেন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ড.সাঈদুর রহমান, মো. গোলাম মাওলা টিংকু, শেখ মাসুম বিল্লাহ, ইদ্রিস আলী, মোঃ জিলহজ্জ হাওলাদার, মোঃ কামরুল ইসলাম, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, বুলবুল আহম্মেদ, মো. শফিকুল ইসলাম অভি, আশরাফুল আলম বাবু, শেখ রায়হান উদ্দিন, আসাদুল ইসলাম সানি, মারুফ চৌধুরী লেমন,মো. আমিরুল ইসলাম বাবু, মিটু দে, রাহাত আলী মোড়ল, মোঃ নাজমুল হক, সাকিব হাসান, কাজী ইউসুফ আলী মন্টু, মোঃ মোজাহার হোসেন মোজো, জাকির হোসেন, এম. আসিফ সবুজ, রুপম তালুকদার, কামরুজ্জামান ইমরান, মারুফ চৌধুরী রিমন, তাপস চোধুরী, সোহানুর রহমান সোহাগ, হাবিবুর রহমান, শওকাত হাওলাদার,মো. দেলোয়ার হোসেন, রফিকুল ইসলাম কাজল, মোঃ হানিফ শেখ, শেখ সাহিদ, রফিক খান, মোঃ রাজিব, রায়হান শিকদার, শেখ মো. নাজমুল হাসান, শেখ রাজিব হাসান, , কবির হোসেন, রাম মোহন সরদার, নাদিম খান, রবিন ধর, সারমিন সুলতানা মিথিলা, লতা আক্তার প্রিয়া, দিদারুল আলম, নাসির মৃধা,জাকির হোসেন খোকন, ফরহাদ হোসেন, আকরাম হুসাইন, আব্দুল্লাহ আল নোমান, মোঃ পিয়াল, মোঃ জাহিদুল ইসলাম বাদশা, বায়োজিদ হোসেন, মোঃ নাসির, মোঃ রাসেল, নুশান অভিসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবন্দ। ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে দুইশতাধিক নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় সরকার উপকূলীয় এলাকার নারীদের জীবিকায়ন ও সুপেয় পানি নিশ্চিত করেছে : মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী

আজগর হোসেন সাব্বির, দাকোপ, খুলনা : 

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় সরকার উপকূলীয় এলাকার ৪৩ হাজার পরিবারের জীবিকায়নে সহায়তা প্রদান করছে। এসব পরিবারের জন্য জলবায়ু সহিষ্ণু, নিরাপদ এবং সারা বছর পানযোগ্য পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে। গ্রীণ ক্লাইমেট এডাপটেশন (জিসিএ) প্রকল্পের আওতায় খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার ৫টি উপজেলায় ১৩ হাজার পরিবারে জন্য খানাভিত্তিক রেইন ওয়াটার হারভেষ্টিং সিস্টেম স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। এ প্রকল্প থেকে ২২৮ টি কমিউনিটি, ১৯টি প্রতিষ্ঠান ও ৪১ টি পুকুর ভিত্তিক আল্ট্রা-ফিল্ট্রেশন রেইন ওয়াটার হারভেষ্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ৩০ হাজার পরিবার সুপেয় পানিয়জলের সুবিধা পাবে।

মঙ্গলবার খুলনার দাকোপ উপজেলায় গড়খালি পল্লীমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায় বাস্তবায়িত ‘উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর, বিশেষত নারীদের, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবনাক্ততা মোকাবেলায় অভিযোজন সক্ষমতাবৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পের আওতায় রেইন ওয়াটার হারভেষ্টিং সিস্টেমের হস্তান্তর ও অপারেশন কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর একটি বাংলাদেশ অথচ জলবায়ুর পরিবর্তনে বাংলাদেশের কোন দায় নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে তীব্র ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে স্বাদুপানির এলাকাসমূহে লবনাক্ত পানির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। যার ফলে উপকূলীয় বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠীর পানীয় জলের সহজলভ্যতা, স্বাদুপানি নির্ভর কৃষিকাজ ও জীবিকার ওপর ব্যাপক বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এর ফলে নারী ও শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঘরে খাওয়ার পানি না থাকলে, তা সংগ্রহের জন্য নারীদের অনেক কষ্ট করতে হয়।

খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান বেগম চেমন আরা তৈয়ব, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভীন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তুষার মোহন সাধু খাঁ, ইউএনডিপি’র সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি সরদার এম আসাদুজ্জামান, প্রকল্প পরিচালক মোঃ ইকবাল হোসেন, দাকোপ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খান, দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিন্টু বিশ্বাস।

প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা বলেন, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের কারণে বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠীর জলবায়ু সহনশীল জীবিকা এবং পানীয় জলের সমাধানের জন্য বাংলাদেশ সরকার, গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) এবং ইউএনডিপির সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এটি বাংলাদেশ তথা বিশ্বের মধ্যে প্রথম জিসিএফ প্রকল্প যেটি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের নেতৃত্বে নারীদের জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। সরকার জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বিভিন্ন পরিকল্পনা, কর্মসূচি, নীতি ও কৌশল বাস্তবায়ন করছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আর্থসামাজিক উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে জয়যুক্ত করার আহবান জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা গড়খালি পল্লীমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং স্থাপনাটি ২৫ জন উপকারভোগীর নিকট হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় নারী ও জনপ্রতিনিধিরা উপকূলীয় এলাকার সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানান।

উল্লেখ্য ‘উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর, বিশেষত নারীদের, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবনাক্ততা মোকাবেলায় অভিযোজন সক্ষমতাবৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পটি ২৭৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে (সরকারি ৬৭ কোটি ১৬ লাখ এবং জিসিএফ ফান্ড ২০৯ কোটি ৭০ লাখ) ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে। খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার ৫ টি উপজেলায় ৩৯ টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পের মোট সুবিধাভোগী ৭ লাখ ১৯ হাজার ২২৯ জন। প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য উপকূলীয় এলাকার নারীদের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জীবিকায়ন; নারীদের অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি; সুপেয় পানি নিশ্চিত করা এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়।

হত্যা চেষ্টাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে ভূক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

ইউনিক প্রতিবেদক :

বাগেরহাটে সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের চি‎হ্নিত সন্ত্রাসী হালিম মোড়লের নেতৃত্বে পরিকল্পিত হত্যা চেষ্টাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি করেছে হামলার স্বীকার ভূক্তভোগীরা। এসময়ে তারা পুলিশের দায়িত্বে অবহেলারও অভিযোগ করেন। রবিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে ভূক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভূক্তভোগী বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সদস্য সচিব প্রকৌশলী মো. রায়হান হুসাইন।  

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি ও আমার রাজনৈতিক সহযোদ্ধা বাগেরহাট সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আক্তার বিল্লাহ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান, বারুইপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. জহির মল্লিক ও সাধারণ সম্পাদক মো. ফেরদাউস মোড়ল গত ২৫ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কর্মসূচীতে অংশগ্রহনের জন্য ২৪ মার্চ সন্ধ্যায় ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের দাওয়াত দিতে ০২টি মোটরসাইকেল যোগে বের হই। কাজ শেষে আমরা রাত সাড়ে ১০টায় ১নং ওয়ার্ডের আড়পাড়া বাজারে আসলে হঠাৎ অন্ধকারে আড়পাড়া গ্রামের আজাহার মোড়লের ছেলে হালিম মোড়লের নেতৃত্বে একই গ্রামের মোস্তাকিন মোড়ল, অনিক মোড়ল, এরশাদ মোড়ল, ইরফান মোড়লসহ আরো অজ্ঞাত নামা ৬/৭ জন রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে আমাদের গতিরোধ করে। তারপর তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আমাদের রামদা, লোহার রড, হাতুড়ী, লাঠিসোটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। সেই সাথে সন্ত্রাসীরা আমাদের ৪টি মোবাইল ফোন ও ০২টি মোটর সাইকেলের ব্যাপক ভাংচুর করে। সন্ত্রাসীরা আমাদের নিকট থাকা ২১,৭৭৫ (একুশ হাজার সাতশত পঁচাত্তর) টাকা জোর পূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমাদের রাজনৈতিক সহকর্মী মোহাম্মদ জিলানী সংবাদ পেয়ে লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে আমি ও আমার দুই সহকর্মীকে উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠায়। আর আক্তার বিল্লাহকে উদ্ধার করে ফকিরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা অবস্থা গুরুতর দেখে আক্তার বিল্লাহকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করে। আজ অবধি আমার সহযোদ্ধা প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বাগেরহাট হাসপাতালে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আক্তার বিল্লাহর শরীরে ৫৫টির উপরে সেলাই দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনার পরের দিন ২৫ মার্চ আমার পিতা মো. আবু সাহিদ বাগেরহাট সদর থানায় মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং ২৫। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় আসামীরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার করেনি। যেখানে মামলার আসামী হালিম মোড়লের নামে থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। তারপরও সে প্রকাশ্যে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আমরা সবাই আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কর্মসুচি ‘হৃদয়ে পিতৃভূমি’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এলাকায় কাজ করতে গিয়ে নির্মমভাবে হামলা স্বীকার হয়েও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কোন সহায়তা পাচ্ছিনা। প্রযুক্তির এই যুগে আসামীদের কেন পুলিশ এখনও গ্রেফতার করছে না তা আমাদের বোধগম্য নয়।

তিনি আরো বলেন, মানবতার মা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, দক্ষিনবাংলার রাজনৈতিক অভিভাবক শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রী, তরুন প্রজন্মের আইকন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সাহরান নাসের তন্ময়, খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে এসব সন্ত্রাসীদের ও তাদের মদদদাতাদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

আসামী গ্রেফতারে পুলিশের অবহেলার বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর মো. সেরাজুল ইসলামের মুঠোফোনে (০১৭১৬-৪৭২০৮৯) যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য নয়। আমরা আসামীদের গ্রেফতারে সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি। বাদীদের কাছে আসামীদের অবস্থান সম্পর্কে কোন তথ্য থাকলে আমাদেরকে তারা জানাতে পারে। তবে আমরা আশাবাদী খুব শীঘ্রই আসামীদের গ্রেফতার করতে পারবো।

আসামীরা এলাকায় ঘোরাফেরা করছে কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না এমন অভিযোগের বিষয়ে বাগেরহাট সদর থানা অফিসার ইনচার্জ কে এম আজিজুল ইসলামের মুঠোফোনে (০১৩২০-১৪১১৭৯) যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এটা সত্য নয়, এটা বলতে পারে তারা তাদের বক্তব্যে। বিষয়টিতে একটি মামলা হয়েছে। আমরা তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছি। আমার জানামতে আসামীরা কেউই এলাকাতে নেই। আমি তারপরও খোজ নিয়ে দেখবো। আমাদের কর্মকর্তারা আসামীদের গ্রেফতারে সব জায়গায় কাজ করছে।

খুলনার আড়ংঘাটায় গ্লোবাল চ্যারিটেবল এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

ইউনিক প্রতিবেদক :

খুলনার আড়ংঘাটা ইউনিয়নের ০৯ টি ওয়ার্ডের অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে গ্লোবাল চ্যারিটেবল এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন।

বৃহস্পতি সকাল ১১টায় আড়ংঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে গ্লোবাল চ্যারিটেবল এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (টঝঅ) এর অর্থায়নে ও “মাহমুদ আলী ফাউন্ডেশন” এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেএমপি খালিশপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ূন কবির। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আড়ংঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম ফরিদ আক্তার, আড়ংঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর, বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোড়ল জাহাঙ্গীর হোসেন, আড়ংঘাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. দীন এলাহী, আড়ংঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো. সোহেল সরদার, মাহমুদ আলী ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মো. আনিসুর রহমান মোল্লা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আড়ংঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শেখ ইয়ার হোসেন। প্রধান সমন্বায়কারীর দায়িত্ব পালন করেন মো. তুহিন মোড়ল।

উক্ত অনুষ্ঠানে রামাদান ফুড বাস্কেট প্রোগ্রাম-২০২২ এর অংশ হিসেবে ৪০০ দরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী (২৫ কেজি চাল, ০১ কেজি চিনি, ০১ কেজি ছোলা, ০১ কেজি খেজুর ও ০২ কেজি চিড়া) বিতরণ করা হয়। এসময়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেনীর পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন

খুলনার রূপসা উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদকের জমি দখলের অভিযোগ

ইউনিক প্রতিবেদক :

খুলনার রূপসা উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশার বিরুদ্ধে জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সুজিত অধিকারীর পৈত্রিক সম্পত্তি জবর দখল করে ইটভাটা তৈরির এবং উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের ডোবা গ্রামের জনৈক গোপাল দাসের জায়গা জবর দখলেরও অভিযোগ উঠেছে। সেই সাথে ইটভাটায় অবৈধভাবে জমি দখলে সহযোগিতাকারীদের সমন্বয়ে এবার উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটি গঠনের পায়তারা করছেন তিনি। বুধবার (৩০ মার্চ) ঘাটভোগ ইউনিয়ন যুবলীগের সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও এসব বিষয়ে কিছুই জানেন না আহবায়ক মোঃ রউফ শিকদার। মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেছেন রূপসার ঘাটভোগ ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক মোঃ রউফ শিকদার। উপজেলা চেয়ারম্যানের এসব অনিয়মে সহায়তার অভিযোগ তুলেছেন উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক এবিএম কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে।

ঘাটভোগ ইউনিয়ন যুবলীগের দেড় যুগ ধরে আহবায়ক মোঃ রউফ শিকদার। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর যাবত থানা ও ইউনিয়ন যুবলীগের কোন সম্মেলন হয় না। যখন জেলা যুবলীগের সম্মেলন হবে জানতে পারছি; ঠিক সেই মুহুর্তে তড়িঘড়ি করে একটি মহল সংগঠন পরিপন্থিভাবে হঠাৎ করে তাকে না জানিয়ে, তার নাম ব্যবহার করে ৩০ মার্চ ইউনিয়ন যুবলীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেছে। এ বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি।

তিনি বলেন, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক এবিএম কামরুজ্জামান, রূপসা উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও রূপসা উপজেলার চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশার নির্দেশে সম্মেলনের বিষয়ে তার সাথে নুন্যতম কোন আলোচনা ছাড়াই সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার। মুলত এই সম্মেলনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন যাবৎ রূপসা উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও উপজেলার চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশা যাদের দ্বারা তার ইট ভাটায় বিভিন্ন লোকের সম্পত্তি জবর দখল করে ইট ভাটা পরিচালনা করছেন তাদের দিয়েই এই সম্মেলনের কমিটি করতে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। রূপসা আ’লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশা ইতিপূর্বে রূপসার ডোবা গ্রামের জনৈক গোপাল দাসের জায়গা জবর দখলে নিয়ে ইটভাটার মধ্যে। এমনকি জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সুজিত অধিকারীর পৈত্রিক সম্পত্তিও তিনি জবর দখল করে তার ইটভাটার ভিতরে নিয়েছেন। আত্মসম্মান রক্ষার্থে কিছুই বলেন না এ্যাড. সুজিত অধিকারী। তিনি লোকালয়ে, স্কুল, রাস্তার পার্শ্বে এবং আঠারো ঢেঁকি নদীর মাটি যেটা প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দ্বারা খননকৃত মাটি সেই মাটি নিয়ে তিনি ইট ভাটা পরিচালনা করছে যেটা পরিবেশ এবং আইন বিরোধী। বর্তমানে তিনি তার এই সকল অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে যুবলীগকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করার জন্য নিজস্ব লোক নিয়ে কমিটি করার জন্য আমাকে না জানিয়ে আগামীকাল ২৯/০৩/২০২২ তারিখ সম্মেলন করতে যাচ্ছে। যেখানে জামাত-বিএনপির লোক কমিটিতে আসতে পারে বলে আমি আশংকা করছি। বর্তমান এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ঘাটভোগ ইউনিয়নে পক্ষে এবং বিপক্ষে দু’টি গ্রুপের সৃষ্টি হয়েছে এবং একটি উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।

পরিশেষে তিনি বলেন, যেহেতু ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক হিসাবে দাওয়াতপত্রে আমাকে সভাপতি উল্লেখ করা হয়েছে- অথচ এ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না; বিধায় আগামীকালের সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করছেন তিনি।

রূপসা আ’লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশা মুঠোফোনে অভিযোগের বিষয়ে বলেন, এসব সুজিত অধিকারী আর ডাবলু পয়সা দিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে। আমি কারোরই জমি দখল করে রাখিনি। আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে মামলা দিয়েছে। ওরা যদি কিছু পারে তাহলে যেন আমার কিছু করে। আপনারা সাংবাদিকরা এলাকাতে এসে সঠিকভাবে তদন্ত করুন এ বিষয়ে।

জমি দখলের বিষয়ে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারী মুঠোফোনে জানান, চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশা আমার পৈত্রিক সম্পত্তি দখল করে ইটভাটা তৈরি করেছে। ডোবা গ্রামের জনৈক গোপাল দাসের জমি দখল করে রেখেছে চেয়ারম্যান বাদশা। এমনকি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দ্বারা খননকৃত মাটি সেই মাটি নিয়ে তিনি ইট ভাটা পরিচালনা করছে যেটা পরিবেশ এবং আইন বিরোধী। তার ভাটায় অভিযান চালালে এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

মোল্লাহাটে সমাজসেবা অফিসের কর্মচারীকে গলা কেটে হত্যা

ইউনিক প্রতিবেদক, মোল্লাহাট, বাগেরহাট :

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের অফিস সহায়ক নাইম খাঁনকে (২৮) শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে গাংনী গ্রামের হিরণ মাষ্টারের বাড়ীর উঠান থেকে গুরতর আহত অবস্থায় নাইমকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী ও তার স্বজনেরা। পরে তাঁকে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারী ক্লিনিকে নেওয়া হয় । এরপর সেখানে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নাইম খাঁন গাংনী গ্রামের আবুল খাঁনের ছেলে। সে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে অফিস সহায়ক পদে চাকুরী করতেন।

মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোমেন দাস বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহত নাইমের লাশ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। এঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।