আগাম জামিন চাইলেন ওসি মোয়াজ্জেম

ঢাকা অফিস : মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতের ভিডিও ধারণের ঘটনায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর গা ঢাকা দেয়া ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন। আজ বুধবার, হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন করেন মোয়াজ্জেম হোসেন।

সোনাগজী মডেল থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমের আবেদন বিচারপতি হাবিবুল গনি ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের হাইকোর্টে বেঞ্চে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ৪৮ ঘন্টার মধ্যে উচ্চ আদালতে অনেকটা গোপনে জামিন নেয়ার আবেদন করেন ওসি মোয়াজ্জেম। গেল ২৭শে মে ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় গেল সোমবার ঢাকার একটি আদালত সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই।

নুসরাতকে ২৭শে মার্চ থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ওই ভিডিও ওসি নিজেই তার মোবাইলে ধারণ করেন বলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার।

ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার তদন্ত শেষে এই প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন পিবিআই সদর দফতরের সিনিয়র এএসপি রিমা সুলতানা। ২৭ মার্চ রাফিকে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন। এমন অভিযোগ উঠলে দুজনকে থানায় নিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। ওসি নিয়ম ভেঙে জেরা করতে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন। মৌখিক অভিযোগ নেয়ার সময় দুই পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না। ভিডিওটি প্রকাশ হলে অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ওসির সখ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

আপনার মতামত জানানঃ