করোনা শনাক্তের হার ৬ শতাংশের নিচে নামল

ঢাকা অফিস:  গতকালের তুলনায় করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও শনাক্ত আজ কমেছে। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল ৩১ জনের মৃত্যু হয়। একই সময় নতুন করে আরও ৭৮৫ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। শনাক্তের হার গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ এর নিচে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃত্যু হলো ৭ হাজার ৭৩৪ জনের। আর শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫ লাখ ২০ হাজার ৬৯০।
আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গতকাল বৃহস্পতিবার শনাক্তের সংখ্যা ছিল এক হাজার সাত। বুধবার দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছিল ১৭ জনের। শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৯৭৮।
গতকাল টানা ছয় দিন পর নতুন রোগীর সংখ্যা হাজার পার হয়। সে সংখ্যা আজ শুক্রবার আবার হাজারের নিচে নেমে এসেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে গত বুধবার ৯৭৮ জন, মঙ্গলবার ৯৯১ জন, সোমবার ৯১০, রোববার ৮৩৫, শনিবার ৬৮৪ ও গত শুক্রবার ৯৯০ জন করোনাভাইরাসে নতুন করে সংক্রমিত হন।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে অ্যান্টিজেনভিত্তিক পরীক্ষাসহ ১৩ হাজার ৬৮১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার সংখ্যা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৮৩৩ জন।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। ক্রমেই মহামারি আকারে সংক্রমণ বিশ্বের প্রায় সব দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম সংক্রমণ শনাক্তের কথা জানায় সরকার।

শুরুর দিকে রোগী শনাক্তের হার কম ছিল। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। ওই মাসের শেষের দিক থেকে রোগী শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপর চলে যায়। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সেটি ২০ শতাংশের ওপর ছিল। এরপর থেকে নতুন রোগীর পাশাপাশি শনাক্তের হারও কমতে শুরু করেছিল। একপর্যায়ে দৈনিক রোগী শনাক্তের হার ১০ শতাংশ পর্যন্ত নেমেছিল। এখন আবার তা কমে ৫ শতাংশে এসে ঠেকেছে।

মাস দুয়েক সংক্রমণ নিম্নমুখী থাকার পর নভেম্বরের শুরুর দিকে নতুন রোগী ও শনাক্তের হারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে দৈনিক নতুন রোগী শনাক্তের গড় দুই হাজার ছাড়ায়। অবশ্য কিছুদিন ধরে নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যা দুই হাজারের কম। তিন সপ্তাহ ধরে পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ১০ শতাংশের নিচে।

জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, টিকা না আসা পর্যন্ত সংক্রমণ প্রতিরোধের মূল উপায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। বিশেষ করে বাইরে বের হলে মুখে মাস্ক পরা শতভাগ নিশ্চিত করা এবং কিছু সময় পরপর সাবান–পানি দিয়ে হাত ধোয়ার বিধি মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

আপনার মতামত জানানঃ