ঝালকাঠি ১ আসনের সংসদ হারুনের ১০ বছরে সম্পদ বেড়েছে তিন গুণ

মো:নজরুল ইসলাম, ঝালকাঠি: ঝালকাঠি ১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুন হলফনামায় আলোচিত দি রেইনট্রি হোটেলের মালিকানার কথা উল্লেখ করেননি।

গত ১০ বছরে তাঁর সম্পদ বেড়েছে তিন গুণ। আর তাঁর স্ত্রীর সম্পদ বেড়েছে পাঁচ গুণ। তিনি পেশা ব্যবসা দেখালেও এ খাত থেকে তাঁর কোনো আয় হয়নি। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া প্রার্থীর হলফনামা পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

২০০৮ সালে নবম এবং ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে বজলুল হক হারুন নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্যের পাশাপাশি তিনি ২০১৪ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করেন ধর্ম মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতির। ২০০৮ সালে তাঁর হলফনামায় সম্পদের আর্থিক মূল্যের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১০ কোটি ৯৭ লাখ ১২ হাজার ২৮১ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ, ব্যাংকে জমা, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, মোটরগাড়ি, বাড়িভাড়া, ¯^র্ণালংকার ও অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ। আর তাঁর স্ত্রীর সম্পদের আর্থিক মূল্যের পরিমাণ দেখিয়েছেন দুই কোটি ৪৭ লাখ ৪১ হাজার ৬১০ টাকা। এর মধ্যে নগদ অর্থ, ব্যাংকে জমা, সঞ্চয়পত্র, ¯^র্ণালংকার, মোটরগাড়ি, বন্ড ও এফডিআর রয়েছে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি হলফনামায় সম্পদের আর্থিক মূল্যের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৩৫ কোটি ৬৭ লাখ ১৭ হাজার ৩৯৭ টাকা। এর মধ্যে নগদ অর্থ, ব্যাংকে জমা, সঞ্চয়পত্র, বন্ড, এফডিআর ও অন্যান্য অস্থাবর সম্পদের মূল্য দেখিয়েছেন। তবে তিনি এবার দেনার পরিমাণ দেখিয়েছেন ২৫ কোটি ৫৭ লাখ ২৩ হাজার ৮৫০ টাকা। আর তাঁর স্ত্রীর সম্পদের আর্থিক মূল্যের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১২ কোটি ৫১ লাখ ৫০ হাজার ২৫৮ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ, ব্যাংকে জমা, সঞ্চয়পত্র, বন্ড, মোটরগাড়ি ও এফডিআর।

বজলুল হক হারুন তাঁর পেশা ব্যবসার কথা উেেল্লখ করলেও এবার হলফনামায় এ খাত থেকে কোনো আয় দেখাননি। জায়গাটি খালি রেখেছেন। তবে ২০০৮ সালের হলফনামায় ব্যবসা থেকে ১৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন। তিনি তাঁর হলফনামায় প্রিমিয়ার ব্যাংকের পরিচালক ও আল হোমায়রা ট্রাভেলসের মালিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বার্ষিক আয়ের উৎস দেখিয়েছেন সংসদ ও ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে সম্মানী ভাতা, বাড়ি ও দোকান ভাড়া, শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র এবং ব্যাংক আমানত বাবদ বছরে ৫১ লাখ এক হাজার ৬০৭ টাকা। তিনি হলফনামায় এনআই অ্যাক্টের (চেক প্রত্যাখ্যান) তিনটি মামলার কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে দুটি বাদী প্রত্যাহার করেছেন। অন্যটিও বাদী প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ ঢাকার বনানীর রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ ও এর ভিডিও ধারণ করা হয়। অভিযুক্তরা হলেন আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ইমেকার্সের মালিক নাঈম আশরাফ। ওই সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, হোটেলটির মালিক বি এইচ হারুন, চেয়ারম্যান তাঁর বড় ছেলে নাহিয়ান হারুন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজো ছেলে আদনান হারুন ও পরিচালক ছোট ছেলে মাহির হারুন। হলফনামার ৬ নম্বর ঘরে প্রার্থী ও তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের সম্পদ ও দেনার বিবরণ উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। স্ত্রীর বিষয়ে উল্লেখ করলেও তিনি ছেলেদের কোনো তথ্য দেননি।

এ বিষয়ে বজলুল হক হারুন মুঠোফোনে বলেন, ‘দি রেইনট্রি হোটেলের মালিক আমি নই। যা সত্য তাই হলফনামায় তুলে ধরেছি। হলফনামার বাইরে আমার কোনো সম্পদ নেই।’ এছাড়াও তিনি মিডিয়ার কাছে বা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কোন বক্তাব্য দিতে ইচ্ছুক নয় বলে জানান।

আপনার মতামত জানানঃ