রামপালে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ১

সুব্র ঢালী, রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : রামপালে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে হায়দার (৪০) নামের এক বনদস্যু নিহত হয়েছে। শনিবার ভোররাতে উপজেলার সাপমারী এলাকায় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অদূরবর্তী স্থানে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাব ও রামপাল থানা পুলিশ নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। এ ব্যাপারে র‌্যাব বাদী হয়ে রামপাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং-০১, তাং ০১.০৪.২০১৮। র‌্যাব-৮ এর উপ অধিনায়ক মেজর সজিবুল ইসলাম বলেন, রোববার বিকালে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে অস্ত্র ও গুলি দিয়ে সুন্দরবনের তিনটি বনদস্যু বাহিনীর সদস্যদের আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল। তারই অংশ হিসেবে র‌্যাবের একটি দল শনিবার দিনগত রাত ৩ টার সময় সুন্দরবনের বনদস্যুদের তিন বাহিনীর সদস্যদের রামপাল উপজেলার সাপমারী এলাকায় আনতে যায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্ধকারের মধ্যে দুর্বৃত্তরা গুলি ছোড়ে। এসময় র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় দশ মিনিট ধরে গোলাগুলি চলে। গোলাগুলির একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা পিছু হটলে সেখান থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনের মরদেহ ও ১টি একনলা বন্দুক, ২টি কাটা বন্দুক, ১টি পিস্তল, বন্দুকের ১২টি তাজা গুলি ও ২১টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয়রা এসে মরদেহটি হায়দার আলী নামের এক বনদস্যুর বলে সনাক্ত করেন। নিহত হায়দার আলী সুন্দরবনের বনদস্যু বাহীনির সক্রিয় সদস্য বলে র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা দাবী করেন ৷ তিনি আরও বলেন, বনদস্যুরা যখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সরকারের কাছে আত্মসমার্পণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে সময়ে দস্যুদের অতর্কিত হামলা আইনের প্রতি বৃদ্ধাআঙ্গুলি দেখানোর শামিল। এই তিনটি বনদস্যু দলের সদস্যরা যাতে সুন্দরবনে দস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে না পারে তা ভেস্তে দিতে অজ্ঞাত বনদস্যু দল পরিকল্পিত ভাবে এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেন র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা। কোন বনদস্যু দল এই হামলা চালিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লুৎফর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বন্দুকযুদ্ধে নিহত হায়দারের লাশ রামপাল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আপনার মতামত জানানঃ