অবশেষে মোংলার চিলা ইউপি চেয়ারম্যানের আত্মসাৎকৃত চাল উদ্ধার

ইউপি সচিবকে রেগুলার মামলা দায়ের ও থানার ওসিকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন ইউএনও
আবু হোসাইন সুমন, মোংলা প্রতিনিধিঃ অবশেষে মোংলার চিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী আকবর হোসেনের আত্মসাৎকৃত ভিজিডি’র চাল উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে সুন্দরবন ইউনিয়নের বুড়বুড়িয়া গ্রামের মনির ফরাজীর বাড়ী থেকে এ চাল উদ্ধার করা হয়। ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আকবর হোসেন ইউনিয়ন পরিষদের কেয়ার টেকার আশ্রাফ আলী জোমাদ্দারকে দিয়ে ২৫ টাকা দরে চোরাইভাবে কয়েক মন চাল মনির ফরাজীর কাছে বিক্রি করান। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ইউপি চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দেনদরবার শুরু করেছেন।
চিলা ইউপি মেম্বর জাহানারা বেগম জানান, পরিষদের কেয়ার টেকার আশ্রাফ আলী জোমাদ্দারের বিক্রি করা ভিজিডি’র চাল পাশের সুন্দরবন ইউনিয়নের বুড়বুড়িয়া গ্রামের মনির ফরাজীর কাড়ীতে পাওয়া গেছে খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রবিউল ইসলাম, থানা পুলিশসহ আমরা কয়েকজন মেম্বরও ওই বাড়ীতে যাই। এ সময় মনির ফরাজীর বাড়ী হতে ৫ বস্তা ভিজিডি’র চাল উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদে নেয়া হয়। পরে সেখানে কি হয়েছে তা আর জানি না। তবে শুনেছি বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। মেম্বর জাহানারা বেগম আরো বলেন, উপস্থিত সকলের সামনে কেয়ার টেকার আশ্রাফ আলী জোমাদ্দার স্বীকার করেছেন যে, চাল বিক্রির বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আকবর হোসেন জানেন। এ বিষয়ে চিলা ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আকবর হোসেন বলেন, এ চাল সে চাল না। বিগত সময় যখন পরিষদ থেকে ভিজিডি’র চাল দেয়া হয় তখন বস্তা থেকে নিচে পড়ে যা জমা হয়েছিল সেই চাল গুছিয়ে রেখে কেয়ার টেকার আশ্রাফ আলী মনির ফরাজী কাছে বিক্রি করে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রবিউল ইসলাম বলেন, চাল উদ্ধারের ঘটনায় চিলা ইউনিয়ন পরিষদ সচিবকে রেগুলার মামলা দায়ের ও মোংলা থানার ওসিকে মামলা নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দরিদ্রদের মাঝে চাল বিতরণের সময় ৩০ কেজির জায়গায় ২৫/২৬ কেজি করে দেয়ার অভিযোগ উঠে চেয়ারম্যান আকবর গাজীর বিরুদ্ধে। চাল কম দেয়ার খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার ঘটনাস্থলে গিয়ে কম দেয়ার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে ওই দিন চাল বিতরণ বন্ধ করে দেন। সেই আত্মসাৎকৃত চালের একটি অংশ শুক্রবার উদ্ধার করা হয়। চিলা ইউপি চেয়ারম্যানের চাল আত্মসাৎতের ঘটনাটি এখন পুরো মোংলা জুড়েই আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

আপনার মতামত জানানঃ