ডেস্ক রিপোর্ট : কানাডার ফেডারেল পার্লামেন্টে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়ল। টরন্টোর বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক আসনের উপনির্বাচনে লিবারেল পার্টির প্রার্থী তানভীর শাহনওয়াজ জয় পাওয়ায় দেশটির হাউস অব কমন্সে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুজনে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে বড় ব্যবধানে জয় পান তানভীর। ২০০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৯৭টির ফল গণনা শেষে তিনি পেয়েছেন ১৭ হাজার ২৫১ ভোট। তিনি ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
তানভীরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এনডিপির শ্যানন ডিভাইন পেয়েছেন ৮ হাজার ১৫৯ ভোট, যা মোট ভোটের ২৬ দশমিক ২ শতাংশ। আর কনজারভেটিভ পার্টির জিম সার্বোস পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৫৭ ভোট বা ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ। প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে তানভীরের ব্যবধান ৯ হাজারের বেশি ভোট।
বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক আসনটি লিবারেল পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আসনটির সাবেক এমপি নাথানিয়েল আর্সকিন-স্মিথ পদত্যাগ করার পর উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে লিবারেলদের হয়ে মাঠে নামেন তানভীর শাহনওয়াজ।
তানভীরের জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিল এলাকার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ। টরন্টোর ক্রিসেন্ট টাউন এলাকায় তার বেড়ে ওঠা। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন সমস্যা ও কমিউনিটির নানা উদ্যোগের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
সাবেক এমপি আর্সকিন-স্মিথের নির্বাচনি কার্যালয়েও কাজ করেছেন তানভীর। ফলে নির্বাচনের আগে থেকেই স্থানীয় ভোটারদের একটি বড় অংশের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ ছিল।
তানভীরের আগে চলতি বছরের এপ্রিলে কানাডার পার্লামেন্টে জায়গা করে নেন ডলি বেগম। স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনের উপনির্বাচনে লিবারেল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন তিনি।
ডলি বেগমের পর এবার তানভীর শাহনওয়াজের জয় কানাডার হাউস অব কমন্সে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপির সংখ্যা দুইয়ে উন্নীত করল।
কানাডার মতো বহুজাতিক দেশের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এ জয়কে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর ফলে ৩৪৩ আসনের হাউস অব কমন্সে লিবারেলদের আসন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৩টিতে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৭২টি আসন। অর্থাৎ উপনির্বাচনের ফলাফল প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সরকারের সংসদীয় অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
জয়ের পর সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তানভীর শাহনওয়াজ বলেন, বিচেস-ইস্ট ইয়র্কের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে কানাডার পার্লামেন্টে যাওয়াটা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।
নির্বাচনি প্রচারণায় যারা তার পাশে ছিলেন, তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে আসনের প্রতিটি মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন।
তানভীরের জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী ও লিবারেল পার্টির নেতা মার্ক কার্নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি তানভীরকে নিজের কমিউনিটির মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে তার কাজের প্রশংসা করেন।
তানভীরের জয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর টরন্টোর বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আনন্দের আবহ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বিভিন্ন পোস্ট দেন কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা।
কানাডার ফেডারেল রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আরও একজনের নির্বাচিত হওয়াকে নতুন প্রজন্মের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন কমিউনিটির অনেকে।