প্রকল্পে ওভারল্যাপিং বন্ধ করতে হবে : শিল্পমন্ত্রী

প্রকাশঃ ২০২৬-১০-০১ - ১৮:৫৯

নিউজ ডেস্ক : দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে ওভারল্যাপিং বা একই ধরনের কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর সঙ্গে এর উদ্দেশ্য ও কার্যক্রমের কোনো ধরনের ওভারল্যাপিং রয়েছে কি না, তা প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে যাচাই করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) শিল্প মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) ও দৈনিক যুগান্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘এনএসডি মূলত একটি রেগুলেটরি বিষয়, আর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি একটি নীতিগত বিষয়। দুটি বিষয়কে একইভাবে দেখলে চলবে না। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে যদি একই ধরনের কার্যক্রম থাকে, তাহলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
’
এডিপির নতুন প্রকল্প প্রস্তাবগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে যাচাই করার প্রস্তাব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, নতুন প্রকল্প প্রস্তাব পাওয়ার পর সফটওয়্যারের মাধ্যমে একই উদ্দেশ্যে অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থায় প্রকল্প চলমান রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করা সম্ভব হলে সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়বে এবং অপচয় কমবে। তিনি বলেন, ‘সরকারি প্রকল্পে ডুপ্লিকেশন বা ওভারল্যাপিং কমানো গেলে এডিপি বাস্তবায়নে যে ধরনের অদক্ষতা তৈরি হয়, তার একটি বড় অংশ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

বিশ্ববাজারের বাস্তবতা তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, প্রতিটি দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো পণ্য প্রতিযোগিতামূলকভাবে উৎপাদন করা না গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে অন্য দেশ সেই বাজার দখল করবে। তাই কৃত্রিমভাবে বাজার সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশীয় শিল্পকে প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের যে গভীর সংযুক্তি তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে হঠাৎ করে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়। এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বাস্তবতায় বাংলাদেশের শিল্প ও অর্থনীতির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।’

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকলেও প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জনের সক্ষমতা থাকলে সাধারণ শ্রমিকরাও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারেন। তাই ‘আমাদের মূল ঘাটতি শুধু দক্ষতার নয়; নেতৃত্ব, সঠিক পরিকল্পনা এবং দৃঢ় সংকল্পের ঘাটতিও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পথে বড় চ্যালেঞ্জ।’

আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান উপস্থিত ছিলেন।