চিতলমারীতে জাতীয় যুব দিবস পালিত

প্রকাশঃ ২০২৬-১১-০১ - ১৭:০৫

চিতলমারী প্রতিনিধি: যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে বাগেরহাটের চিতলমারীতে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য যুব র‍্যালি, আলোচনা সভা, যুব ঋণের চেক ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

রোববার (১ নভেম্বর) উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য জনাব মো. মশিউর রহমান খান। চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিতলমারী উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শিপন মুন্সি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার প্রদীপ কুমার ভৌমিক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের, সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রেজাউল হক, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. সাইফুল মোল্লা, চিতলমারী প্রেস ক্লাবের সভাপতি একরামুল হক মুন্সী, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি কামরুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, যুবসমাজের হাত ধরেই একটি দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথ তৈরি হয়। তাই তরুণদের শুধু শিক্ষিত হলেই চলবে না, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করে নিজেদের কর্মক্ষম ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। চাকরির প্রত্যাশায় দীর্ঘদিন অপেক্ষা না করে নিজেদের মেধা, মনন ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করতে হবে।

তাঁরা আরও বলেন, একজন দক্ষ ও উদ্যোগী যুবক নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। এজন্য যুবকদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, সাহস, পরিশ্রম ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানো প্রয়োজন। ছোট পরিসরে কোনো উদ্যোগ শুরু করলেও পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে গেলে তা একসময় সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নিতে পারে।

বক্তারা যুবসমাজকে খেলাধুলা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব তৈরি করে। একটি সুস্থ, মেধাবী ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গঠনে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার চর্চাও বাড়াতে হবে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রম প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, দেশের বেকার যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তরুণেরা নিজ উদ্যোগে ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা উৎপাদনমুখী কার্যক্রম শুরু করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণ সহায়তা আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

তাঁরা যুবকদের সরকারি প্রশিক্ষণ ও ঋণ সুবিধা সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি এসব সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। তাঁদের মতে, সরকারি সহায়তার সঙ্গে তরুণদের নিজস্ব উদ্যোগ, দক্ষতা ও কর্মস্পৃহা যুক্ত হলে স্থানীয় পর্যায়ে বেকারত্ব কমানো এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পথ আরও সুগম হবে।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী যুবকদের হাতে সনদপত্র এবং যুব উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণের চেক তুলে দেওয়া হয়। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়।