ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলায় শিশুসহ নিহত ৫, আহত ৬৩

প্রকাশঃ ২০২৬-০৯-০২ - ১৪:৩৬

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক কাউন্টিতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে একটি বাড়িতে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬৩ জন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, বুধবার ভোরে সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক শহরের একটি বাড়িতে এ হামলা চালানো হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। পরে সিরিক কাউন্টির গভর্নর রেজা শহিদিয়ান রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে বলেন, আহত ৬৩ জনের মধ্যে ৫০ জন নারী ও শিশু। তাদের মিনাব শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন তিনি।

হামলার পর আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি বিস্ফোরণ থেকে বেঁচে যাওয়া এক শিশুর বক্তব্য প্রকাশ করেছে। শিশুটি জানায়, অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার আগেই সে আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখেছিল।

শিশুটির ভাষ্য, সেখানে পৌঁছানোর পরপরই ভয়াবহ একটি বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের ধাক্কায় ইট, পাথর ও সিমেন্টের টুকরা তার মুখ ও মাথায় এসে লাগে। এ সময় আরও অনেকে আহত হন। আহত ব্যক্তিদের সবাই সাধারণ বেসামরিক নাগরিক বলে দাবি করেছে শিশুটি।

ইরানের অভিযোগের মধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের বিভিন্ন ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ নতুন করে হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার চেষ্টা করেছিল। এর জবাবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, রাডার, সমুদ্রপথে ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জাম ও স্থাপনা, সমুদ্রে মাইন পেতে রাখার সক্ষমতা এবং যোগাযোগব্যবস্থার বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন হামলা চালানো হলো। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান অচলাবস্থায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে প্রণালিটি অবরোধ করে রেখেছে ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সর্বশেষ হামলার জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এ নিষ্ঠুরতাকে এর আগে ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক নৃশংসতা থেকে আলাদা করে দেখা যায় না।’

যুদ্ধের প্রথম দিন মিনাব ও লামার্দ শহরে চালানো মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার কথাও উল্লেখ করেন বাঘাই। ইরানের দাবি, মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো ওই হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। লামার্দে একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে হামলায় নিহত হন অন্তত ২১ জন।

কুহেস্তাক ছাড়াও ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কোনারাক, বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপসহ আরও কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে আধা সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা পাল্টা হামলা চালিয়ে জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় আঘাত করেছে। কুয়েতও জানিয়েছে, তারা আকাশে কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করেছে।