ব্যাট হাতে রেকর্ড, নেতৃত্বে সাফল্য—চামারি আতাপাত্তুর পরিচয়ের শেষ নেই। লঙ্কান ক্রিকেটের এই কিংবদন্তি এবার বল হাতে এমন এক কীর্তি গড়লেন, যা নারী টি-টোয়েন্টিতে বিশ্বরেকর্ড না হলেও শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসে তাকে বসিয়েছে নতুন উচ্চতায়।
নারী এশিয়া কাপে বুধবার ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে মাত্র ৩.৩ ওভারে ৫ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়েছেন আতাপাত্তু। এর মধ্যে ছিল হ্যাটট্রিকও। এই পারফরম্যান্সেই একসঙ্গে গড়েছেন একাধিক জাতীয় রেকর্ড—শ্রীলঙ্কার নারী টি-টোয়েন্টিতে প্রথম পাঁচ উইকেট শিকারি, প্রথম হ্যাটট্রিককারী এবং এক ইনিংসে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়া বোলার এখন তিনিই।
নারী টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি আতাপাত্তু। কিন্তু এতদিন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির কোনো ম্যাচে পাঁচ উইকেটও ছিল না তার। এবার এক ম্যাচেই সাত উইকেট নিয়ে নিজের রেকর্ডের খাতাটাই বদলে দিলেন তিনি।
বিশ্বমঞ্চে অবশ্য ৫ রানে ৭ উইকেটই সর্বকালের সেরা নয়। আইসিসির সব সদস্য দেশ টি-টোয়েন্টি মর্যাদা পাওয়ার পর এই সংস্করণে এসেছে আরও বিস্ময়কর কিছু বোলিং কীর্তি। নারী টি-টোয়েন্টিতে আতাপাত্তুর চেয়ে ভালো বোলিং ফিগার আছে আরও চারজনের।
সবচেয়ে অবিশ্বাস্য কীর্তিটি ব্রাজিলের লরা কার্দোসোর। গত এপ্রিলে লেসেথোর বিপক্ষে মাত্র ৪ রান দিয়ে ৯ উইকেট নিয়েছিলেন এই তরুণ পেসার। ২০২৪ সালে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ইন্দোনেশিয়ার রহমিলা অভিষেকেই করেছিলেন শূন্য রানে ৭ উইকেট নেওয়ার বিরল কীর্তি। আর ২০২১ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের ফ্রেডেরিক ওভারডাইক এবং পরের বছর পেরুর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার আলিসন স্টকস নিয়েছিলেন ৩ রানে ৭ উইকেট।
সেই তালিকায় ৫ রানে ৭ উইকেট নিয়ে আতাপাত্তুর অবস্থান পঞ্চম। কিন্তু পরিসংখ্যানের এই অবস্থান তার পারফরম্যান্সের মাহাত্ম্য একটুও কমাচ্ছে না। বরং ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় তার বোলিং ছিল শ্রীলঙ্কার জয়ের মূল চাবিকাঠি।