জরাজীর্ণ পাইকগাছা গদাইপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পুরোনো ভবন, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

প্রকাশঃ ২০২৬-০৯-০৫ - ১৪:০২

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : খুলনার পাইকগাছা পৌর সদরের গদাইপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পুরোনো ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বছরের পর বছর ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের বাইরে থাকায় ভবনটির বিভিন্ন অংশ এখন জরাজীর্ণ। ছাদ ও দেয়ালে জন্মেছে গাছপালা, খসে পড়ছে ইট-পলেস্তারা। একসময় স্বাস্থ্যসেবার কাজে ব্যবহৃত এই সরকারি স্থাপনাটি এখন পড়ে থেকে ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ভবনের আশপাশ দিয়ে চলাচলকারী মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গদাইপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পুরোনো ভবনটি দীর্ঘদিন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার পর প্রায় তিন দশক আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এর পাশেই নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে পুরোনো ভবনটি আর ব্যবহার করা হয়নি। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভবনটির পরবর্তী ব্যবস্থাপনা বা অপসারণের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুরোনো ভবনটির বিভিন্ন অংশে ভাঙন ধরেছে। ছাদ ও দেয়ালের ওপর গজিয়ে উঠেছে বড় বড় গাছ। কোথাও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে, কোথাও ইট বেরিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিনের বৃষ্টির পানি ও প্রাকৃতিক ক্ষয়ের প্রভাবে ভবনের কাঠামো ও বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।

ভবনের বর্তমান চেহারায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দীর্ঘদিনের অযত্নের চিত্র। কোনো কোনো অংশে এমনভাবে ক্ষয় ধরেছে যে সেগুলো যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ভবনটি পরিত্যক্ত হলেও এর আশপাশের চলাচল বন্ধ হয়নি। প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও শিক্ষার্থীরা ভবনের পাশ দিয়ে যাতায়াত করেন। ফলে ভবনের কোনো অংশ আকস্মিকভাবে ভেঙে পড়লে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, ভবনটি যখন আর ব্যবহারযোগ্য নয়, তখন দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ফেলে রাখার পরিবর্তে যথাযথ প্রক্রিয়ায় এর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে জনসাধারণের চলাচলের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা থাকায় বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।

একটি সরকারি ভবন দীর্ঘদিন ব্যবহার না করে ফেলে রাখলে সময়ের সঙ্গে তার কাঠামোগত সক্ষমতা কমে যায়। একই সঙ্গে ভবনের দরজা-জানালা, কাঠ, ইট, লোহা ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীও নষ্ট হতে থাকে।

গদাইপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পুরোনো ভবনটির ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, ভবনটি নির্মাণে একসময় সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। বর্তমানে ভবনটির বিভিন্ন অংশ ক্ষয়ে যাওয়ায় সেই সরকারি বিনিয়োগের বড় একটি অংশ ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটির বর্তমান মূল্য ও অবশিষ্ট নির্মাণসামগ্রীর মূল্য নির্ধারণ করে যথাযথ সরকারি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে সরকারি সম্পদের অপচয় কমবে, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাটি থেকেও জনসাধারণ নিরাপদ থাকবে।

প্রায় ৩০ বছর ধরে একটি সরকারি ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে। ভবনটি ঠিক কবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল, এরপর এর বিষয়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, অপসারণের জন্য কোনো প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল কি না—এসব তথ্যও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কারণ দীর্ঘদিন একটি স্থাপনা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলে সেটি শুধু সম্পদহানির কারণ নয়; সময়ের সঙ্গে তা জননিরাপত্তার ঝুঁকিতেও পরিণত হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পরিত্যক্ত ভবনটির বর্তমান অবস্থা দ্রুত সরেজমিনে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। ভবনটি সংস্কারযোগ্য হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং ব্যবহারের অনুপযোগী হলে সরকারি বিধি অনুযায়ী অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ভবনটির বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে একদিকে সরকারি সম্পদ আরও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে, অন্যদিকে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্ভাব্য দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমবে।

তিন দশকের বেশি সময় ধরে পড়ে থাকা গদাইপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পুরোনো ভবনটি এখন তাই শুধু একটি জরাজীর্ণ স্থাপনা নয়; এটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় পড়ে থাকা একটি সরকারি সম্পদের চিত্রও তুলে ধরছে।