আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক সোমবার (৫ অক্টোবর) প্যারিসের কাছে একটি সড়কে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় কিছু বিক্ষোভকারী আতশবাজি নিক্ষেপ করেন। ছবি: রয়টার্স
শিক্ষার মান উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। গত এক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ, স্কুল অবরুদ্ধকরণ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দেশজুড়ে বড় ধরনের জাতীয় ধর্মঘট ও আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিক্ষর্থীরা। গত এক সপ্তাহ ধরে চলা এই বিক্ষোভের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা শত শত স্কুল অবরুদ্ধ করেছে। এ পর্যন্ত ১৯০ জন শিক্ষার্থী আহত এবং পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার লেন্স শহরে এক সংঘর্ষের সময় ১৫ বছর বয়সী একটি কিশোরের একটি হাত উড়ে গেছে। এছাড়া গত সপ্তাহে সাঁ-উয়েন-লুমোন এলাকায় টিয়ার গ্যাস গ্রেনেডের আঘাতে চোয়াল ভেঙে গুরুতর আহত হয় ১৪ বছর বয়সী আরেক কিশোর এদেন।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পূরণে সরকার নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান আয়োজক ‘ইউনিয়ন সিন্ডিকাল লাইসেয়েন’ (ইউএসএল)-এর অভিযোগ, সরকার এই অচলাবস্থা নিরসনে ‘সুনির্দিষ্ট কোনো সমাধান দিতে পারেনি’, বরং আন্দোলন দমনে নজিরবিহীন দমনপীড়ন চালাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে আজ মঙ্গলবার সবাইকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। শিক্ষার্থীদের এই দাবির প্রতি সংগতি জানিয়ে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী শিক্ষক ইউনিয়ন ‘এসএনইএস-এফএসইউ’ (এসএনইএস-এফএসইউ)-ও।
র্যাডিক্যাল-বামসপন্থি ‘লা ফ্রান্স ইনসোমাইজ’ (এলএফআই) দলের নেতা জঁ-লুক ম্যালেরশোঁ এই আন্দোলনকে ১৯৬৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র ও শ্রমিক অভ্যুত্থানের পর ফ্রান্সের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী যুব আন্দোলন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। গত সেপ্টেম্বর থেকে প্যারিসে শুরু হওয়া এই আন্দোলন বর্তমানে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ক্লাসরুমে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, জরাজীর্ণ ভবন ও শিক্ষক সংকটের মতো মৌলিক সংকটগুলোর প্রতিবাদ জানাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রোববার (৪ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংকট নিরসনে একগুচ্ছ নতুন ব্যবস্থার ঘোষণা দিলেও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সহিংসতার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। শিক্ষামন্ত্রী এদোয়ার জেফ্রে জানান, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ২৪টি স্কুল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বা ভাঙচুর করা হয়েছে। ফ্রান্সের বিচার মন্ত্রণালয়েল তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের ৮৭ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
ফ্রান্সের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সরকার ও কট্টর ডানপন্থি রাজনীতিবিদরা এই বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার জন্য বামপন্থিদের দায়ী করেছেন। প্রধানমন্ত্রী লেকোর্নু বলেন, আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার ডাক দিয়ে এলএফআই ‘দায়িত্বজ্ঞানহীতার’ পরিচয় দিচ্ছে। কট্টর ডানপন্থি ‘ন্যাশনাল র্যালি’ দলের নেত্রী মারিন ল্য পেনও চলতি ইস্যুতে বামপন্থি রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, এট আর স্কুল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি পেশাদারদের মাধ্যমে সংগঠিত ও এলএফআই-এর এমপিদের তত্ত্ববধানে পরিচালিত দাঙ্গা। একইসঙ্গে তিনি দাঙ্গা-বিরোধী নতুন একটি আইন পাস করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, এলএফআই দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ম্যালেরশোঁ পুলিশের “ক্ষমতার অপব্যবহারের” সমালোচনা করে ‘ছাত্র আন্দোলনকে রক্ষা করতে’ মানুষকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: বিবিসি