খুবিতে ডিএএডি আর্লি ক্যারিয়ার রিসার্চ সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত

প্রকাশঃ ২০২৬-০৯-১০ - ১৮:০৭

নিউজ ডেস্ক : বন, জীববৈচিত্র‍্য ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে বিজ্ঞান ও নীতির মধ্যে সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডিএএডি আর্লি ক্যারিয়ার রিসার্চ সিম্পোজিয়াম ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউআরপি ডিসিপ্লিনের লেকচার থিয়েটারে ‘ব্রিজিং সায়েন্স এন্ড পলিসি ইন ফরেস্টস, বায়োডাইভারসিটি এন্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ’ প্রতিপাদ্যে এ সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়।
সকালে সিম্পোজিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও অ্যালামনাই এসোসিয়েশন অব জার্মান ইউনিভার্সিটি ইন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. এ.বি.এম. ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র‍্যরে ক্ষয় ও প্রতিবেশব্যবস্থার অবক্ষয় পরস্পর সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ, যার সমাধানে বিজ্ঞান ও নীতির মধ্যে কার্যকর সংযোগ প্রয়োজন। এসব বিষয়ে গবেষণার মূল্য শুধু একাডেমিক জ্ঞান সৃষ্টিতে নয় বরং বাস্তব সমস্যা সমাধান ও মানুষের কল্যাণে এর প্রয়োগের মধ্যেই নিহিত। তিনি তরুণ গবেষকদের আন্তঃবিষয়ক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি গবেষণার ফলাফল নীতিনির্ধারক ও জনগোষ্ঠীর কাছে সহজভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান। বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ডিএএডির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সিম্পোজিয়াম দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক অংশীদারত্বের ক্ষেত্র তৈরি করবে।
গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, বন, জীববৈচিত্র‍্য, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশের অবক্ষয় ও প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে শুধু একাডেমিক জ্ঞান সৃষ্টিতে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব সমস্যা মোকাবিলা ও সমাজের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। তিনি তরুণ গবেষকদের নিজেদের গবেষণা উপস্থাপন, গঠনমূলক মতামত গ্রহণ ও আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা জোরদারে ডিএএডি ও জার্মান একাডেমিক অংশীদারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিকীকরণ, আন্তঃবিষয়ক গবেষণা ও সামাজিক প্রভাবসম্পন্ন গবেষণায় গুরুত্ব দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ডিএএডির রিসার্চ অ্যাম্বাসেডর প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে তরুণ গবেষকেরা জার্মানির গবেষণা ব্যবস্থা, গবেষণার সুযোগ ও বিভিন্ন গবেষণা পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা লাভের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে গবেষণার অভিজ্ঞতা অর্জন এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য নতুন ধারণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ পাবেন।
সিম্পোজিয়ামে বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও জার্মান অ্যালামনাই এসোসিয়েশন খুলনার চ্যাপ্টার চেয়ার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান এবং দি অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ আশিক উর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ সালাউদ্দীন ও ডিএএডি বাংলাদেশের রিজিওনাল অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান সুমন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর টেকনিক্যাল সেশনে বন, জীববৈচিত্র‍্য ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে গবেষণা, বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান এবং নীতিনির্ধারণের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা উপস্থাপন করা হয়।
এ সিম্পোজিয়ামে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রসঙ্গত, ডিএএডির অর্থায়নে এবং এর রিসার্চ অ্যাম্বাসেডর প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাত-এর তত্ত্বাবধানে এ সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা হয়।