গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই : মঈন খান

প্রকাশঃ ২০২৬-০৯-১৩ - ১৬:১২

নিউজ ডেস্ক : গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জনগণের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বেেলছন, গণতন্ত্রের ভিত্তি তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী না হলে রাষ্ট্রের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক কাঠামোও সুদৃঢ় করা সম্ভব নয়।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে শক্তিশালী ও কার্যকর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকারকে কার্যকরভাবে শক্তিশালী করতে প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জনগণের অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করা সম্ভব। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বদ্ধপরিকর।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার, গণতন্ত্র ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়া, গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, জনগণের কাছে জবাবদিহিতা বাড়ানো এবং নারী ক্ষমতায়নের মতো ক্ষেত্রে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বৈঠকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুদৃঢ় করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করা, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও কার্যকর হবে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।