সাতক্ষীরায় লবণাক্ততা জমিতে ‌সবজি চাষে ভাগ্য ঘুরেছে শত পরিবারের

প্রকাশঃ ২০২৬-১০-১৫ - ০৭:৫৫

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় সবজি চাষেই ভাগ্য ঘুরেছে শ্যামনগরের হাটছালা গ্রামের ১০০ পরিবারের। লবণাক্ততার কারণে বছরের অন্যান্য মৌসুমে ফসল হতো না এখানকার মাটিতে। দিনমজুরি করেই সংসার চালাতেন অধিকাংশ দরিদ্র গ্রামবাসী । কিন্তু এখন দিন বদলেছে। হাটছালা গ্রামেই বছরব্যাপী নানা ধরনের শাক—সবজি চাষাবাদ হচ্ছে। এতেই ভাগ্য ঘুরেছে ওই গ্রামের অন্তত ১০০ পরিবারের। গ্রামটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ মণ উচ্ছে বাজারজাত করা হচ্ছে। প্রতিকেজি উচ্ছে বর্তমানে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি করেন চাষিরা। সেই হিসাবে এই এক গ্রাম থেকেই দিনে চার লাখ ৮০ হাজার টাকার উচ্ছে বিক্রি করেন চাষিরা। শ্যামনগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে হাটছালা গ্রামে ২৫ হেক্টর জমিতে উচ্ছের চাষ হয়েছে। থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ মণ উচ্ছে বাজারজাত করা হচ্ছে। তাদের দেখাদেখি পার্শ্ববর্তী কাশিমাড়ি ইউনিয়নের গোবিন্দপুর ও শংকরকাটিসহ কয়েকটি গ্রামেও বেড়েছে উচ্ছের আবাদ।
হাটছালা গ্রামের কৃষক বিশ্বজিৎ গায়েন জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৩ বিঘা জমিতে উচ্ছে চাষ করেছেন। বর্তমানে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ কেজি উচ্ছে বিক্রি করছেন। এই মৌসুমে উচ্ছে বিক্রি করে তার আয় হবে প্রায় এক লাখ টাকা। হাটছালা গ্রামের চাষীরা উৎপাদিত ফসল বিক্রি করেন স্থানীয় নকিপুর, বালিয়াডাঙ্গা ও মৌতলা বাজারে। পরে সেখান থেকেই এসব সবজি চলে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। প্রচণ্ড লবণাক্ততার মধ্যেও হাটছালা গ্রামে প্রায় ৩০ বছর আগে শাকসবজির চাষাবাদ শুরু করেছিলেন স্থানীয় মনোতোষ মন্ডল (৬০)। নিজবাড়ির আঙ্গিনায় বারোমাসি সবজির চাষ থেকে ধীরে ধীরে পুরো গ্রামই এখন সবুজে ভরে উঠেছে। ক্ষতিকর কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার ছাড়াই হাটছালা গ্রামে উৎপাদিত হচ্ছে সবজি। অনেক আগে ফেরি করে হাতের শাঁখা—পলা বিক্রেতা মনোতোষ মন্ডল সবজি চাষ করেই ঘুরিয়েছেন ভাগ্যের চাকা। এখন তিনি ৮০ শতাংশ জমির মালিক।
হাটছালা গ্রামের কৃষক প্রদীপ মন্ডল জানান, দুই বিঘা জমিতে ফুলকপি, ওলকপি, লালশাক, টমেটো, পালং শাক, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেছেন তিনি। গত বছর শীত মৌসুমে সবজি বিক্রি করে আয় করেন প্রায় ৩ লাখ টাকা। এ বছর আরও বেশি লাভের আশা করছেন তিনি। একই গ্রামের কৃষক অনুরুপা মন্ডল জানান, একসময় গ্রামগুলোয় নারীরা এতো কাজ করতেন না। তখন সামান্য ধান আবাদ হতো। সে সময় প্রায় প্রতিটি ঘরেই অভাব ছিল। এখন পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও মাঠে কাজ করেন। এ কারণে ১২ মাস গ্রামগুলোয় সবজি চাষ হয়। এতে অভাবও ঘুচে গেছে এ গ্রামের চাষীদের। একই এলাকার অনুপ কুমার মন্ডল আরো জানান, এই গ্রামের কৃষাণ—কিষাণীরা সমানতালে কৃষি কাজ করছেন। নারীরা ক্ষেত সামলে সংসারের রান্নাসহ ছেলে—মেয়েদের দেখাশোনার দায়িত্বও পালন করেন। এসময় ফসল সংগ্রহ, বাজারজাতকরণ এবং নতুন নতুন সবজি ক্ষেত তৈরিসহ অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন পুরুষরা।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাহাজান এই প্রতিবেদককে জানান, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে হাটছালা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে উচ্ছে বেচাকেনার হাট বসে। বাইরের ব্যাপারীরা এখান থেকেই পাইকারি দরে উচ্ছে কিনে নিয়ে যান। আমাদের গ্রামের উচ্ছে সারাদেশে চলে যায়।
শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, উচ্ছে কাঁচা তরকারি হিসেবে খুবই জনপ্রিয়। পাশাপাশি এর ঔষধী গুণও রয়েছে। উচ্ছেচাষে অধিক লাভ হয়। মাটি ও পরিবেশ অনুকূলে থাকায় ভুরুলিয়া ইউনিয়নের হাটছালা গ্রামের কৃষকেরা উচ্ছে চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। কৃষি বিভাগ থেকে তাদের সব ধরনের প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে শ্যামনগর উপজেলার ৫০ হেক্টর জমিতে উচ্ছের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ভুরুলিয়া ইউনিয়নের হাটছালা গ্রামেই উচ্ছের আবাদ হয়েছে ২৫ হেক্টর জমিতে। আগামীতে এই উপজেলায় উচ্ছে চাষ সম্প্রসারিত হবে।
শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হুদা আরো বলেন, উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের (বর্তমান শ্যামনগর পৌরসভা) হাটছালা গ্রামে দেশি সবজি ছাড়াও লবণসহনশীল আলু চাষ হচ্ছে। প্রতিবছর প্রায় ১ হাজার ৩৮৪ মেট্রিক টন সবজি উৎপাদিত হয় হাটছালা গ্রামে। যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আমারা এখানকার কৃষকদের কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি।সাতক্ষীরার শ্যামনগরের হাটছালা গ্রামে এক সময় শুধু বর্ষা মৌসুমে ধান উৎপাদন হতো। লবণাক্ততার কারণে বছরের অন্যান্য মৌসুমে ফসল হতো না এখানকার মাটিতে। দিনমজুরি করেই সংসার চালাতেন অধিকাংশ দরিদ্র গ্রামবাস। কিন্তু এখন দিন বদলেছে। হাটছালা গ্রামেই বছরব্যাপী নানা ধরণের শাক-সবজি চাষাবাদ হচ্ছে। এতেই ভাগ্য ঘুরেছে ওই গ্রামের  অন্তত ১০০ পরিবারের। যদিও সবজি চাষে সেচের পানির সংকট রয়েছে তাদের। এই সংকট দূর করা সম্ভব হলে আরও ভালো ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে এখানে। হাটছালা গ্রামের চাষীরা উৎপাদিত ফসল বিক্রি করেন স্থানীয় নকিপুর, বালিয়াডাঙ্গা ও মৌতলা বাজারে। পরে সেখান থেকেই এসব সবজি চলে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় প্রচন্ড লবণাক্ততার মধ্যেও হাটছালা গ্রামে প্রায় ৩০ বছর আগে শাক সবজির চাষাবাদ শুরু করেছিলেন স্থানীয় মনোতোষ মন্ডল (৬০)। নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় বারোমাসি সবজির চাষ থেকে ধীরে ধীরে পুরো গ্রামই এখন সবুজে ভরে উঠেছে। ক্ষতিকর কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার ছাড়াই হাটছালা গ্রামে উৎপাদিত হচ্ছে সবজি। অনেক আগে ফেরি করে হাতের শখা-পলা বিক্রেতা মনোতোষ মন্ডল সবজি চাষ করেই ঘুরিয়েছেন ভাগ্যের চাকা। এখন তিনি ৮০ শতাংশ জমির মালিক। হাটছালা গ্রামে সনাতন পদ্ধতিতে সবজি চাষ হলেও এখন আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষাবাদ করছেন কৃষকেরা। হাটছালা গ্রামের অনেক কৃষক গ্রিণহাউজ পদ্ধতির আদলে নিজস্ব পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন। প্লাস্টিকের স্বচ্ছ আবরণ দিয়ে ঢেকে সেখানে বোম্বাই মরিচ, টমেটো, কাঁচা মরিচ, গাজর, লালশাক, বাটিশাক, পালংশাক, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন শাক-সবজি চাষ করছেন। ফলে শাক-সবজিতে ভরে উঠেছে ফসলের ক্ষেত।
হাটছালা গ্রামের কৃষক প্রদীপ মন্ডল জানান, দুই বিঘা জমিতে ফুলকপি, ওলকপি, লালশাক, টমেটো, পালং শাক, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেছেন তিনি। গত বছর শীত মৌসুমে সবজি বিক্রি করে আয় করেন প্রায় ৩ লাখ টাকা। সবজির চাষ ভাল হওয়ায় এ বছর আরও বেশি লাভের আশা করছেন তিনি।
একই গ্রামের কৃষক অনুরুপা মন্ডল জানান, একসময় গ্রামগুলোয় নারীরা এতো কাজ করতেন না। তখন সামান্য ধান আবাদ হতো। সে সময় প্রায় প্রতিটি ঘরেই অভাব ছিল। এখন পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও মাঠে কাজ করেন। এ কারণে ১২ মাস গ্রামগুলোয় সবজি চাষ হয়। এতে অভাবও ঘুচে গেছে এ গ্রামের চাষীরা।
একই এলাকার অনুপ কুমার মন্ডল জানান, এই গ্রামের কৃষাণ-কিষাণীরা সমানতালে কৃষি কাজ করছেন। নারীরা ক্ষেত সামলে সংসারের রান্নাসহ ছেলে-মেয়েদের দেখাশোনার দায়িত্বও পালন করেন। এসময় ফসল সংগ্রহ, বাজারজাতকরণ এবং নতুন নতুন সবজি ক্ষেত তৈরিসহ অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন পুরষ।
কৃষক মনোতোষ মন্ডল বলেন, সবজি চাষের জন্য খুব বেশি জমির প্রয়োজন হয় না। তুলনামূলকভাবে মূলধনও কম লাগে। পরিশ্রমও অনেক কম। তবে সেবায় ত্র“টি করা যাবে না। কম সময়েই সবজি বিক্রির উপযোগি হয়ে ওঠে। প্রায় প্রতিদিনই বাজারে সবজি বিক্রি করা যায়। পরিবারের চাহিদাও মেটানো সম্ভব। এছাড়া চলতি মৌসুমে সবজির দামও বেশ ভালো। সব মিলিয়ে সবজি চাষকেই আমরা লাভজনক মনে করছি। ভালো আছে অন্তত এই গ্রামের ১০০ পরিবার।
তবে তিনি জানান, জমিতে সেচের পানি নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় থাকেন গ্রামের কৃষকরা। বৃষ্টির পানিই একমাত্র ভরসা। বর্ষা মৌসুমে ক্ষেতের পাশে পুকুর কেটে সংরক্ষণ করে রাখা বৃষ্টির পানিতেই সবজি চাষ করা হয়। তবে তাতে চাহিদা মেটে না। এজন্য বেশি দামে পাশের গ্রাম থেকে সেচের পানি কিনে সবজি চাষ করেন তারা। মনোতোষ মন্ডলের মত অন্যান্য কৃষকের দাবি, সেচের পানির ব্যবস্থা হলে এ গ্রামে আরো ভালো ফসল হয়।
স্থানীয় কৃষকরা আরো জানান, গ্রামগুলোর উৎপাদিত শাক-সবজি উপজেলার চাহিদা পূরণ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে। পদ্মা সেতুর কারণে এখন গ্রাম ঘুরে পাইকাররা ক্ষেত থেকে সবজি সংগ্রহ করে চালান করেন জেলাসহ বিভিন্ন বড় বড় বাজারে।  সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার হাটছালা গ্রামে এক সময় শুধু বর্ষা মৌসুমে ধান উৎপাদন হতো। লবণাক্ততার কারণে বছরের অন্যান্য মৌসুমে ফসল হতো না এখানকার মাটিতে। দিনমজুরি দিয়েই সংসার চালাতেন স্থানীয়রা।
কিন্তু এখন দিন বদলেছে।
হাটছালা গ্রামেই সারা বছর ফলে নানা ধরনের শাক-সবজি। এতেই ভাগ্য ঘুরেছে অন্তত ১০০ পরিবারের। বছরে তাদের উৎপাদিত সবজির মূল্য প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা।
যদিও সেচের পানির সংকট রয়েছে তাদের।
এ সংকট দূর করা সম্ভব হলে আরও ভালো ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে এখানে।
হাটছালা গ্রামের চাষিরা উৎপাদিত ফসল বিক্রি করেন স্থানীয় নকিপুর, বালিয়াডাঙ্গা ও মৌতলা বাজারে। পরে সেখান থেকেই এসব সবজি চলে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
প্রচণ্ড লবণাক্ততার মধ্যেও হাটছালা গ্রামে প্রায় ৩০ বছর আগে শাক-সবজির চাষাবাদ শুরু করেছিলেন স্থানীয় মনোতোষ মণ্ডল (৬০)।
বাড়ির আঙ্গিনায় বারোমাসি সবজির চাষ থেকে ধীরে ধীরে পুরো গ্রামই এখন সবুজে ভরে উঠেছে। ক্ষতিকর কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার ছাড়াই হাটছালা গ্রামে উৎপাদিত হচ্ছে সবজি।
একসময় ফেরি করে হাতের শাঁখা-পলা বিক্রেতা মনোতোষ সবজি চাষ করেই ঘুরিয়েছেন ভাগ্যের চাকা। এখন তিনি ৮০ শতাংশ জমির মালিক।
এক সময় হাটছালায গ্রামে সনাতন পদ্ধতিতে সবজি চাষ হলেও এখন আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষাবাদ করছেন কৃষকেরা।
ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, অনেক কৃষক গ্রিনহাউজ পদ্ধতির আদলে নিজস্ব পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন। প্লাস্টিকের স্বচ্ছ আবরণ দিয়ে ঢেকে সেখানে বোম্বাই মরিচ, টমেটো, কাঁচা মরিচ, গাজর, লালশাক, বাটিশাক, পালংশাক, ফুলকপি বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন শাক-সবজিতে ভরে উঠেছে ফসলের ক্ষেত।
হাটছালা গ্রামের কৃষক প্রদীপ মণ্ডল জানান, দুই বিঘা জমিতে ফুলকপি, ওলকপি, লালশাক, টমেটো, পালংশাক, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেছেন তিনি। গত বছর শীত মৌসুমে সবজি বিক্রি করে আয় করেন প্রায় তিন লাখ টাকা। এ বছর আরও বেশি লাভের আশা করছেন তিনি।
একই গ্রামের কৃষক অনুরুপা মণ্ডল জানান, এক সময় গ্রামগুলোয় নারীরা এতো কাজ করতেন না। তখন সামান্য ধান আবাদ হতো। সে সময় প্রায় প্রতিটি ঘরেই অভাব ছিল। এখন পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও মাঠে কাজ করেন। এ কারণে ১২ মাস সবজি চাষ হয়। এতে অভাবও ঘুচে গেছে এ গ্রামের চাষিদের।
একই এলাকার অনুপ কুমার মণ্ডল জানান, কৃষাণ-কিষাণিরা সমানতালে কৃষি কাজ করছেন। নারীরা ক্ষেত সামলে সংসারের রান্নাসহ ছেলে-মেয়েদের দেখাশোনার দায়িত্বও পালন করেন। ফসল সংগ্রহ, বাজারজাতকরণ এবং নতুন নতুন সবজি ক্ষেত তৈরিসহ অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন পুরুষরা।
কৃষক মনোতোষ বলেন, সবজি চাষের জন্য খুব বেশি জমির প্রয়োজন হয় না। তুলনামূলকভাবে মূলধনও কম লাগে। পরিশ্রমও অনেক কম। তবে যত্নে ত্রুটি করা যাবে না। কম সময়েই সবজি বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে। প্রায় প্রতিদিনই বাজারে সবজি বিক্রি করা যায়। পরিবারের চাহিদাও মেটানো সম্ভব। এছাড়া চলতি মৌসুমে সবজির দামও বেশ ভালো। সব মিলিয়ে সবজি চাষকেই আমরা লাভজনক মনে করছি। সবজি চাষ করে ভালো আছে অন্তত ১০০ পরিবার।
তবে তিনি আরও জানান, জমিতে সেচের পানি নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় থাকেন গ্রামের কৃষকরা। বৃষ্টির পানিই একমাত্র ভরসা। বৃর্ষা মৌসুমে ক্ষেতের পাশে পুকুর কেটে সংরক্ষণ করে রাখা বৃষ্টির পানিতেই সবজি চাষ করা হয়। তবে তাতে চাহিদা মেটে না। এজন্য বেশি দামে পাশের গ্রাম থেকে সেচের পানি কিনে সবজি চাষ করেন তারা।
মনোতোষের মত অন্যান্য কৃষকের দাবি, সেচের পানির ব্যবস্থা করা হোক। তাহলে এ গ্রামে আরো ভালো ফসল হবে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, তাদের উৎপাদিত শাক-সবজি উপজেলার চাহিদা পূরণ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে। পদ্মা সেতুর কারণে এখন গ্রাম ঘুরে পাইকাররা ক্ষেত থেকে সবজি সংগ্রহ করে চালান করেন বড় বড় বাজারে।
শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের (বর্তমান শ্যামনগর পৌরসভা) হাটছালা গ্রামে দেশি সবজি ছাড়াও লবণসহনশীল আলু চাষ হচ্ছে। প্রতি বছর প্রায় এক হাজার ৩৮৪ মেট্রিক টন সবজি উৎপাদিত হয় হাটছালা গ্রামে। যার আর্থিক মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আমরা এখানকার কৃষকদের কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি।
এদিকে লেখাপড়া  শিখে চাকরি না করে স্বাবলম্বী হয়েছে একই গ্রামের মনোতোষ মন্ডল নিম্নে শুনি তার জীবন কাহিনী ‌সাতক্ষীরা ভুরুলিয়া ইউনিয়নের মনোতস মন্ডল বিয়ে অনার্স করে চাকরির আসায় ঘুরে ঘুরে চাকরি না পেয়ে অবশেষে প্রতিক্র ৮৫ শতক জমির উপর নির্ভর করে অতিকষ্টে সংসার চালাতেন শ্যামনগর উপজেলার হাটচালা গ্রামের মনোতোষ মন্ডল। বাড়তি রোজগারের আশায় গ্রামে গ্রামে হেঁটে শাঁখা বিক্রির আয়ে কোন রকমে চার সদস্যের পরিবারের খরচ যোগাতেন তিনি। তবে স্বচ্ছলতার নাগাল না পেয়ে চিন্তায় পরিবর্তন আনতে হয় তাকে। সাংসারিক চাহিদা পুরণের জন্য বাড়ির আঙিনায় চাষাবাদকৃত সবজি ক্ষেতের পরিধি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেন তিনি।
মনোতোষ মন্ডল জানান, শুরুতে তিনি প্রায় ১৫ শতক এক ফসলী চাষের জমিতে পুকুর খনন করেন। আর সেই মাটি দিয়ে পাশর্^বর্তী নিচু জমির কিছু অংশ ভরাট করে সবজি চাষের জন্য ‘ভিটা’ প্রস্তুত করেন। এসময় সেচের চিন্তা দুর হওয়ার পাশাপাশি আগের এক ফসলী জমি উঁচু ‘ভিটা’য় পরিণত হলে সারা বছর সেখানে পর্যায়ক্রমে উচ্ছে, বেগুন, ঢেঁড়স আর কপি পালনশাকের চাষ শুরু করেন। এভাবে বছর তিনেক ঘুরতেই ভাগ্যের পরিবর্তন হলে গ্রামে হেঁটে শাখা বিক্রির কাজ ছাড়েন। মাত্র ২৫ শতক জমিতে মোট খরচের পাঁচ থেকে সাত গুন ‘লাভ’ ঘরে আসায় তিন বছরের ব্যবধানে আরও ৪৩ শতক জমিতে সবজী চাষের সিদ্ধান্ত নেন। একইভাবে তিনি দ্বিতীয় খন্ডের জমিতে নুতন পুকুর খননসহ পাশের নিচু জমির কিছুটা ভরাট করে আরও একটি ‘ভিটা’ গড়েন সবজী চাষের উপযোগী করে।
এরপর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি দুই সন্তানের জনক মনোতোষ মন্ডলকে। চাকরিজীবী ভাই ও প্রতিবেশীদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে এক সময় তার মধ্যে আক্ষেপ কাজ করলেও এখন তিনি সম্পূর্ণ নির্ভর। জায়গা-জমি ক্রয়ের পাশাপাশি বসবাস উপযোগী দালানকোঠা তৈরীসহ এলাকাবাসীর কাছে ‘মডেল’-এ পরিনত হয়েছেন তিনি। মনোতোষকে অনুসরণ করে হাটচালা ছাড়াও পাশের দেওল ও শংকরকাঠি গ্রামের কয়েক শ’ পরিবার এখন ছোট-বড় সবজি চাষী হয়ে উঠেছেন। আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে ৩০ বছর আগে শুরু করা সবজি চাষ এখন তাকে রীতিমত এতদাঞ্চলে সবজি চাষের পুরোধা’য় পরিণত করেছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত চার-পাঁচ বছরের ব্যবধানে শ্যামনগরের ওই তিনটি গ্রাম সবজি চাষে বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা পুরণের পাশাপাশি তাদের উৎপাদিত উচ্ছে, বেগুন, পালনশাক, বাঁধা কপি, ওল কপি, কাঁচা মরিচ, কুমড়া, পালনশাক ও ঢেঁড়স রাজধানী ঢাকাসহ বন্দরনগরী চট্টগ্রাম পর্যন্ত পৌছে যাচ্ছে। কৃষকরা জানায়, লবণাক্ততার প্রভাব ও মিষ্টি পানির অভাবে তাদের এলাকা কৃষি ফসল উৎপাদনের অনুকুল নয়। কিন্তু মনোতোষের দেখিয়ে দেয়া পথে হেঁটে বিরূপ পরিবেশেও এক সময়ের এক ফসলী জমিতে এখন তারা রীতিমত সোনা ফলিয়ে চলেছেন। এছাড়া পদ্মা সেতুর কল্যাণে উৎপাদিত সবজি দেশের বৃহত্তম বাজারগুলোতে পৌঁছানোর সুযোগ মেলায় শেষ দু’বছরে তারা আর্থিকভাবে আশাতীতভাবে লাভবান হচ্ছেন।
দেওল গ্রামের মৃত বাবুরাম মন্ডলের ছেলে অক্ষয় মন্ডল বলেন, পৈত্রিকসুত্রে তিনি মাত্র ২৫ শতকা জমি পেয়েছিলেন। মনোতোষের মতই শুরুতে জমির একপাশে ছোট একটি পুকুর খনন করে পানির বন্দোবস্ত ছাড়াও নিঁচু জমিকে ‘ভিটা’য় পরিনত করেন। একপর্যায়ে সারা বছর সেখানে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পর্যায়ক্রমে করোলা, কপি, ঢেঁড়সসহ নানান সবজি চাষ শুরু করেন। অক্ষয়ের দাবি মাত্র আট-নয় বছরের ব্যবধানে তিনি আরও ১৬ শতক জমি ক্রয় করেন এবং সেখানে একইভাবে সবজি ফলিয়ে দারুণভাবে লাভবান হচ্ছেন। চলতি বছরে মাত্র আট শতকের প্লটে পাঁচ হাজার টাকা খরচের বিপরীতে ৪২ হাজার টাকার পালনশাক বিক্রি করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন একইভাবে ১৬ শতকের প্লটে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে প্রায় একলাখ টাকার বাঁধা কপি বিক্রি করেছেন।
মনোতোষের দ্বারা অনুপ্রানিত হওয়ার তথ্য দিয়ে অক্ষয় মন্ডল জানান মাত্র ২৫ শতাংশ জমিতে ভরসা করে নিজের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছেন তিনি। পাকা বাড়ি-ঘর তৈরীসহ সার-কীটনাশকের দোকান দেয়ার পাশাপাশি দুই সন্তানকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে লেখাপড়া করাচ্ছেন তিনি। এছাড়া দেড় লাখ টাকায় গোয়াল ঘর তৈরীসহ তিনটি গরু ক্রয়ের যাবতীয় অর্থ সবজি চাষ থেকে এসেছে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয়দের দাবি সবজি চাষ শুধুমাত্র এলাকার কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তন ঘটায়নি। বরং এলাকার ফড়িয়া ও শ্রমিক শ্রেনীসহ সব ধরণের ব্যবসায়ীর আয়-রোজগারের গ্রাফকে উর্ধ্বমুখী করেছে। শংকরকাটি গ্রামের সফিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছরে সবজি চাষ এলাকার প্রতিটি পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়েছে। একসময় মানুষের বাড়ি আর ক্ষেত-খামারে শ্রমিকের কাজ করা মানুষ এখন নিজের এক টুকরা জমিতে সবজি চাষ করে আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে তৎপর। সব শ্রেণিপেশার মানুষের আয় রোজগার বৃদ্ধিতে এলাকার সার্বিক পরিবেশ উন্নতি ঘটেছে।
তবে সফলতার বিপরীতে স্থানীয় চাষীরা তাদের কিছু সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তারা জানান, এলাকার রাস্তা-ঘাট কাঁচা ও প্রশস্থ না হওয়ায় সবজি বহনের কাজে ব্যবহৃত পরিবহন সরাসরি গ্রামে ঢুকতে পারে না। ফলে ফড়িয়ারা সিন্ডিকেট গড়ে তাদের সবজীর দম কমিয়ে দেয়ার সুযোগ নেয়। এছাড়া বর্ষার সময়ে বাজারে নিয়ে যেতে দেরী হলে অনেকের সবজি অবিক্রিত থাকার পাশাপাশি কম মূল্যে ছেড়ে দিতে হয়। আবার আগ্রহ থাকা সত্তে¡ও সেচ সংকটের কারণে তারা তুলনামুলক বেশি জমিতে সবজি চাষের সুযোগ হারাচ্ছেন।
দেওল গ্রামের জগবন্ধু মন্ডল বলেন, তাদের তিন ভাইয়ের সবজি চাষের উপযোগী প্রায় তিন বিঘা জমি রয়েছে। কিন্তু পানি সংকটের কারণে মাত্র এক বিঘা জমিতে সবজি চাষ হচ্ছে। প্রতিবছর সে জমি থেকে বিভিন্ন ধরনের সবজি ফলিয়ে দেড় লাখেরও বেশি টাকা উপার্জন করছেন। তবে পানির অভাবে বাকি দুই বিঘা জমি সবজি চাষের আওতায় নিতে না পারায় বছরে ন্যুনতম দুই লাখ টাকার মুনাফা বঞ্চিত হচ্ছেন তার পরিবার। এছাড়া সময়মত কৃষি বিভাগের কর্মকর্তার দেখা না পাওয়ার পাশাপাশি কৃষি উপকরণ বন্টনে কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ আনেন কোমলেশ, আব্দুল কাদের ও অলকা রানীসহ কয়েকজন চাষী।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ জাফরুল আলম বাবু বলেন, হাটচালার মনোতোষের দেখিয়ে দেয়া পথে হেঁটে এখন তিন গ্রামের প্রতিটি মানুষ আর্থিকভাবে স্ববচ্ছল। এলাকার মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতির ফলে সেখানকার জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের সিরাজপুর, তেঘরিয়াসহ আরও কয়েকটি গ্রামে মানুষ সবজি চাষে ঝুঁকছে বলেও তিনি দাবি করেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, ওই তিন গ্রামের প্রায় ২০০ থেকে ২২০ হেক্টর জমিতে স্থানীয়রা সারা বছর সবজি চাষ করে ব্যাপক লাভবান হচ্ছে। শুধু হাটচালা গ্রামের চাষীরা এবছর থেকে দেড় কোটি টাকার উচ্ছে ও করলা বিক্রি করেছে জানিয়ে তিনি বলেন তাদের দেখে আবাদচন্ডীপুর, কুলতলি ও আাটুলিয়ার কিছু জায়গায় স্থানীয়রা সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।
শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হুদা আরো বলেন, উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের (বর্তমান শ্যামনগর পৌরসভা) হাটছালা গ্রামে দেশি সবজি ছাড়াও লবণ সহনশীল আলু চাষ হচ্ছে। প্রতিবছর প্রায় ১ হাজার ৩৮৪ মেট্রিক টন সবজি উৎপাদিত হয় হাটছালা গ্রামে। যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আমরা এখানকার কৃষকদের কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি।