পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা জোরদারের তাগিদ এমপি আবুল কালাম আজাদ

প্রকাশঃ ২০২৬-১০-২৮ - ১৯:১৪

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : খুলনার পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদকে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা জোরদার এবং চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ ও চিকিৎসক-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সংসদ সদস্য।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদের অভিযোগ, গত ২৬ অক্টোবর বিকেল ৩টার পর আসলাম সিকদার পরিচয়ে এক ব্যক্তি ০১৯৫০-৯৯৯১৭৮ নম্বর থেকে তাঁকে ফোন করেন। এ সময় ওই ব্যক্তি তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে এ ধরনের অর্থ দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানালে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি বলেন, ‘হয় অর্থ, নয় রক্ত’—এই দুটির যেকোনো একটি তাঁকে দিতে হবে।

বিষয়টি থানা-পুলিশকে জানানোর কথা বললে ওই ব্যক্তি আরও ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষায় কথা বলেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। সরকারি দায়িত্ব পালনকালে একজন কর্মকর্তাকে এ ধরনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বুধবার সকালে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ। পরে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা যাতে কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

হুমকির ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদ সদস্য অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। এ বিষয়ে তিনি ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পাইকগাছা পৌরসভাসহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় চিকিৎসক-কর্মচারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ভয়ভীতি বা চাপের মধ্যে থাকলে তাঁদের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থাকে। এর প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবার ওপরও।

এ কারণে অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করা এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আউয়াল কবির, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাকিলা আফরোজ, জুনিয়র কনসালট্যান্ট ও গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সুজন কুমার সরকার এবং মেডিকেল অফিসার ডা. সঞ্জয় কুমার মণ্ডল।

একজন সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা যাচাই, হুমকিদাতাকে শনাক্ত করা এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

পাইকগাছাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং চিকিৎসক-কর্মচারীরা নিরাপদ পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।