ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : মাত্র ১৭ বছর বয়স। যে বয়সে স্বপ্ন দেখার কথা, সেই বয়সেই রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যু হলো চঞ্চল কর্মকারের। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার দেড়ুলী গ্রামের উজ্জ্বল কর্মকারের ছেলে চঞ্চলের মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় দেখা দিয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। মৃত্যুর আগে তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করা, ঘরের ভেতর থেকে চিৎকার এবং পরে স্থানীয় ক্লিনিকে নেওয়ার পর তার মৃত্যু—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। এরই মধ্যে পুলিশি তদন্ত ছাড়াই বৃহস্পতিবার সকালে শোলঘাতিয়া শ্মশানে তার মরদেহ দাহ করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের আগেই মরদেহ দাহ করায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার গভীর রাতে চঞ্চল অসুস্থ হয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সে যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে এবং মা-বাবাকে ডাকতে থাকে। নয়নসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, সে সময় চঞ্চল একটি ঘরের ভেতরে ছিল এবং দরজা আটকানো থাকায় প্রথমে তাকে বের করা সম্ভব হয়নি। পরে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে রঘুনাথপুর বাজারের আফিয়া ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, চঞ্চলকে সেখানে নেওয়ার পর দ্রুত ভর্তি করে স্যালাইন দেওয়া হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ক্লিনিকেই তার মৃত্যু হয়।
আফিয়া ক্লিনিকের পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, চঞ্চলকে ক্লিনিকে আনার সময় তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। দ্রুত ভর্তি করে স্যালাইন দেওয়া হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রোগীর শারীরিক অবস্থা দেখে নেশাজাতীয় কিছু সেবনের সম্ভাবনা মনে হয়েছিল। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়ার মতো কোনো পরীক্ষার তথ্য পাওয়া যায়নি।
ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ, উঠছে নানা প্রশ্ন
চঞ্চলের মৃত্যু ঘিরে এলাকায় আরও কিছু অভিযোগ ও গুঞ্জন ছড়িয়েছে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল মোড়ল নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে চঞ্চলের মায়ের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার অভিযোগ করেছেন। ঘটনার রাতে চঞ্চলের মা কেন জুয়েল মোড়লের বাড়িতে ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, চঞ্চলকে আগে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এলাকায় ঘুরতে দেখা যেত।
তদন্ত ছাড়াই দাহ, এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর ঘটনাটি পুলিশকে না জানিয়েই বৃহস্পতিবার সকালে শোলঘাতিয়া শ্মশানে চঞ্চলের মরদেহ দাহ করা হয়। আকস্মিক মৃত্যুর পর কোনো পুলিশি তদন্ত হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মরদেহ দাহ হয়ে যাওয়ায় মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
ঘটনাটি সম্পর্কে রঘুনাথপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা কোনো অভিযোগ না পেলে ব্যবস্থা কীভাবে নেব?”
এক কিশোরের আকস্মিক মৃত্যু, মৃত্যুর আগে যন্ত্রণায় ছটফট করা, নেশা সেবনের সন্দেহ এবং পুলিশি তদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাহ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। চঞ্চলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার আগের পরিস্থিতি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।