পশুর নদে পড়ে জেলে নিখোঁজ

প্রকাশঃ ২০২৬-১০-২৯ - ২০:৫৪

মোংলা প্রতিনিধি : সুন্দরবনের দুবলার চরে শুটকি আহরণের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় পশুর নদে পড়ে মেহেদী হাসান (২২) নামের এক জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে মোংলা উপজেলার সিন্দুরতলা খাল সংলগ্ন পশুর নদী এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও বন বিভাগের সমন্বয়ে যৌথ উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি।

নিখোঁজ জেলে মেহেদী হাসান বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার ফয়লা বাজার সংলগ্ন গোবিন্দপুর এলাকার মো: শফিউল শেখের ছেলে। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে মেহেদী সেজো এবং পরিবারের একমাত্র ভাই। দরিদ্র পরিবারের এই তরুণ জীবিকার তাগিদে ৫০ হাজার টাকা চুক্তিতে এক মহাজনের সাথে মাছ ধরতে দুবলার চরের দিকে যাচ্ছিলেন।

 

 

স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনরা জানায়, শীতকালীন শুটকি আহরণ মৌসুমকে সামনে রেখে মোংলার পশুর নদের সিন্দুরতলা খাল এলাকায় ২০ থেকে ২৫টি মাছ ধরার ট্রলারের একটি বহর নোঙর করে অবস্থান করছিল। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে বহরের ট্রলারগুলো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

ওই সময় জেলে মেহেদী হাসান ট্রলারের পাটাতন থেকে উঠে পাশে এসে দাঁড়ালে ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ পা পিছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি গভীর পশুর নদের পানিতে পড়ে যান এবং মুহূর্তেই স্রোতের টানে তলিয়ে যান। তাঁর সাথে থাকা অন্য জেলেরা তাৎক্ষণিক নদীতে নেমে ও ট্রলার ঘুরিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু নদীর তীব্র স্রোত ও গভীরতার কারণে তাঁকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি। পরে তারা দ্রুত বিষয়টি ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানান।

 

 

ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই তৎপর হয়ে ওঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর সতস্যরা। ফায়ার সার্ভিসের মোংলা ও খুলনার অভিজ্ঞ ডুবুরি দল, কোস্ট গার্ডের উদ্ধারকারী দল, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। দিনভর নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে তল­াশি চালানো হয়।

তবে নদীর শক্তিশালী স্রোত এবং ঘোলা পানির কারণে ডুবুরিদের কার্যক্রমে বেশ বেগ পেতে হয়। সারাদিনের যৌথ চেষ্টার পরও মেহেদী হাসানের সন্ধান না মেলায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

 

 

নিখোঁজ জেলের সন্ধান পেতে এবং আশপাশের এলাকায় খবর ছড়িয়ে দিতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে নদীতে মাইকিং করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ জেলের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত তাদের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে একমাত্র ভাইকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন মেহেদীর পরিবার ও স্বজনরা। ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

 

 

চাদঁপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা দিপন চন্দ্র দাস জানান, সুন্দরবনের পশুর নদী সিন্দরতলা সংলগ্ন এলাকায় জেলে নিখোঁজের ঘটনাটি শোনার পর থেকেই আমাদের বন বিভাগের টহল দল ও স্থানীয় স্টেশনগুলোর মাধ্যমে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সুন্দরবনের নদীগুলোতে জোয়ার-ভাটা এবং স্রোতের তীব্রতা থাকায় উদ্ধার কার্যক্রমে কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তবে নিখোঁজ জেলের সন্ধান পেতে পেতে নদীতে মাইকিং করা হচ্চে, এছাড়া ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড এবং নৌপুলিশের সাথে আমাদের বন বিভাগ যৌথভাবে কাজ করছে এবং সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

 

 

মোংলা ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, সংবাদ পাওয়া মাত্রই আমাদের ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং খুলনা থেকে একটি ডুবুরি দল এসে উদ্ধার তৎপরতা চালাই। পশুর নদীর তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও আমরা কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশের সহায়তায় যৌথ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছি। নিখোঁজ জেলেকে দ্রুত উদ্ধার করার জন্য ফায়ার সার্ভিসের অভিজ্ঞ ডুবুরি দল নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।