সিরাজুল ইসলাম, শ্যামনগর : পর্যটনে বাংলাদেশের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণির স্পট আকৃষ্ট করতে সক্ষম। বড় কিছু উদ্যোগের সঙ্গে ছোটো-ছোটো পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। ছোট ছোট অথচ গুরুত্বপূর্ণ কিছু উদ্যোগ বদলে দেবে বাংলাদেশের পর্যটন খাত। বিশ্ব জানে, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার যেমন রয়েছে তেমনই রয়েছে বিশ্ববিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। কান্তজিও, পাহাড়পুরসহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, মসজিদ-মন্দির-প্যাগাডো-সহবিভিন্
পর্যটনকে বলা হয় অদৃশ্য অর্থনৈতিক শক্তি। পর্যটন হচ্ছে বিশ্বের শীর্ষ আয়ের খাতের একটি। পর্যটনশিল্প অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য Life blood হিসেবে কাজ করে ওইসব দেশের অর্থনীতি ও সামাজিকব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। এ-শিল্পের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অনেক শিল্পনির্ভর করে। পর্যটন একটি বহুমাত্রিক ও শ্রমঘন শিল্প। সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারণশীল ও বৃহৎ বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড হিসেবে এ শিল্প বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি লাভ করেছে। প্রচুর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয় পর্যটন খাত থেকে। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সেক্টর (যেমন- পরিবহন, হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ, রিসোর্ট, এয়ারলাইন্স ও অন্যান্য) যোগাযোগের মাধ্যম থেকে পৃথিবীর অনেক দেশ প্রতি বছর প্রচুর রাজস্ব আয় করে, যা অন্য যেকোনো বৃহৎশিল্প থেকে পাওয়া আয়ের চেয়ে বেশি। আমাদের সম্ভাবনাও প্রচুর রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের জন্য অত্যন্ত অনুকূল।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য আলাদা পরিকল্পনা নিতে হবে। একইসঙ্গে পাহাড়, সমুদ্রসৈকত, নদী, পাথর, বনাঞ্চল, ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্থাপত্য, বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনা ইত্যাদির প্যাকেজ পৃথিবীর আর কোনো এককস্থানে নেই। শুধু চট্টগ্রাম অঞ্চলে পর্যটনে আলাদা গুরুত্ব দিতে হবে, বাজেট বাড়াতে হবে। সুন্দরবন হচ্ছে আকর্ষণীয় একটি বিষয়। কিন্তু বনের বিভিন্ন অংশ সরকারের ভিন্ন ভিন্ন দপ্তর নিয়ন্ত্রণ ও বাস্তবায়ন করে থাকে। এতে উন্নয়নে স্লথ হয়। ফলে, সুন্দরবনের জন্য দপ্তর/বিভাগ চালু করা যেতে পারে। আলাদা দপ্তর করা গেলে সুন্দরবনের সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ একার হাতেই থাকবে। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা সহজ ও অল্পসময়ে করা সম্ভব হবে। আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সুন্দরবনের জন্য আলাদা দপ্তর ও মন্ত্রী রয়েছে। অথচ ৬২ শতাংশ সুন্দরবন বাংলাদেশের হয়েও আলাদা কোনো দপ্তর নেই। ইকোট্যুরিজম সর্বোচ্চ কাজে লাগানো দরকার। এক্ষেত্রে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছোট ছোট অনেক ¯পট গড়ে উঠেছে। তবে বড় বড় ¯পটগুলোতে পর্যায়ক্রমে পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
বিদেশি পর্যটক যেদেশে যত বেশি সেদেশের পর্যটন থেকে আয় ততই বেশি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ফ্রান্স বা ইউরোপে বিদেশিদের আনাগোনা অনেক বেশি। তাই এসব দেশে পর্যটন থেকে আয়ের পরিমাণও বেশি। এশিয়ার মধ্যে চীন, থাইল্যান্ডে পর্যটন খাত থেকে আয়ের পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণও কিন্তু বিদেশি পর্যটক। ভারত বা শ্রীলঙ্কা আমাদের অঞ্চলে পর্যটন আয় বেশি। কারণ তাদের পরিকল্পিত চিন্তাভাবনা। ছোটরাষ্ট্রগুলো (যেমন- হংকং, সিংগাপুর, ম্যাকাউ, মালদ্বীপ, ফিজি) কিন্তু পর্যটন খাত থেকে প্রচুর আয় করে শুধু বিদেশিদের আনাগোনার জন্যই। চীন, জাপান, মালয়েশিয়া পর্যটন খাত থেকে প্রচুর আয় করে দেশি পর্যটকের চেয়ে বিদেশি-পর্যটকের জন্য। উল্লিখিত দেশের পর্যটন খাতে চীনের পর্যটক আয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে। পর্যটনশিল্পের প্রচারের জন্য ট্রেন/বাস/স্টিমার/লঞ্চ প্রভৃতির যাত্রী টিকিটে সংশ্লিষ্ট এলাকার ট্যুরিস্টম/ঐতিহ্যের ছবি সংযুক্ত করা যায়। সংশ্লিষ্ট ট্রেন-স্টেশন থেকে টিকিটে সেই এলাকার পর্যটন এলাকার ছবি ও একেবারেই সংক্ষিপ্ত শিরোনাম দিতে হবে। এতে মনের অজান্তেই যাত্রীরা সংশ্লিষ্ট এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা/ঐতিহ্য স¤পর্কে জানতে পারবেন। জেলাভিত্তিক না- করা গেলেও রেলের টিকিটে অঞ্চলভিত্তিক এ উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে বাস বা নৌযাত্রীদের টিকিটে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রাধান্য দিতে হবে। আর একটি সুপারিশ খুব কার্যকর হতে পারে- সেটি হলো ট্রেন স্টেশনগুলোতে বা বাস টার্মিনালে বা নৌবন্দরে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভ্রমণের চিত্র দেওয়ালে তুলে ধরা যায় এবং ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করলে খুব ভালো হবে। ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা নিকটস্থ স্পট ঘুরে আসতে অনুপ্রাণিত হবে বলে মনে করি। বিশ্বে চীনা পর্যটকেরা বেশি ব্যয় করে। চীনের নাগরিকের বেশিরভাগ বৌদ্ধধর্মালম্বী। তাই তাদের আকৃষ্ট করতে বৌদ্ধস্থাপনাগুলোতে যোগাযোগ ও অন্যান্য সুবিধা বাড়াতে হবে। চীনা পর্যটকদের আনতে পারলে অর্থনীতিতে গতিসঞ্চার হবে। থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়ায় পর্যটন খাতে অনেক এগিয়ে। দেখা যায়, চীনা পর্যটকের হার অনেক বেশি এ দুদেশে। ভারতেও পর্যটন থেকে আয় অনেক হয়। কিন্তু শুধু চীনা/জাপানিদের উল্লেখিত দুদেশের সমান হতে পারেনি। তাই, উল্লেখিত দুই দেশ থেকে ভারত পিছিয়ে। বিশ্বপর্যটকের বড় একটি অংশ খ্রিষ্টান ধর্মের। অনেক পর্যটক বিভিন্ন ধর্মের প্রসিদ্ধ স্থাপনা ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন। তাই, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও স্থাপনাগুলোতে অধিক নজর দেওয়ার দরকার বলে মনে করি। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের স্থাপনাতেও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিশেষ নজর দিতে হবে।
পাঠ্যপুস্তকে আরো বেশি করে ট্যুরিস্ট-স্পট নিয়ে লেখা, ছবি অন্তর্ভুক্ত করা যায়। অনেক উন্নত দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন কালচার স¤পর্কে বাস্তব অবস্থা জানতে পারে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় সহযোগী হতে পারে। বিভিন্ন দূতাবাসে লিফলেট বা তথ্যসম্বলিত ম্যাগ/বই প্রেরণের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে বিদেশি/প্রবাসীদের আকর্ষণ করা যাবে। ভারতের ভ্রমণ¯পটগুলো প্রচারের জন্য বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছে। এর জন্য বিভিন সাইটও খুলেছে অনলাইনে। এগুলো খুবই তথ্যসমৃদ্ধ। যেমন- একটা সাইট: ‘ইনক্রিডেবল ইন্ডিয়া’। ভিডিও, ছবি এবং তথ্যে সমৃদ্ধ একটি পর্যটন সাইট। ভারতের মতো আমরাও এরকম বিভিন্ন সাইট খুলতে পারি। আর সেসব সাইট বিদ্যমান সেগুলো আরো তথ্যসমৃদ্ধ করতে পারি। অনেক বিদেশি পর্যটক অনেকসময় খোলামেলা পরিবেশ পছন্দ করেন। এসব সেদেশের কৃষ্টি-কালচার। বিদেশিদের জন্য কক্সবাজার, কুয়াকাটা বা সৈকত এলাকায় সংরক্ষিত এলাকা তৈরি করা দরকার। বাঙালির ভিড় এড়িয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারলে বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে। সর্বোপরি ট্যুরিস্ট-স্পটগুলোতে যোগাযোগব্যবস্থা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে। দক্ষ ও প্রশিক্ষিত গাইডও তৈরি করতে হবে আমাদের। যারা বাংলা ভাষার পাশাপাশি ইংরেজিতেও দক্ষ হবেন, কৌশলী হবেন। বিদেশিদের আস্থা অর্জন করতে পারবে। এ-জন্য পর্যাপ্ত ট্রেনিং ব্যবস্থা নিতে হবে। ইংরেজি বা অন্যান্য ভাষার গাইডদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। তবে দালালদের দৌরাত্ব রুখে দিতে হবে। দালালদের কার্যক্রম বিদেশি পর্যটকদেরকে অসুন্তুষ্ট করে থাকে। রিকশাড্রাইভারসহ নৌকা, কার, মাইক্রোবাস ইত্যাদির ক্ষেত্রে মুনাফালোভীদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। এগুলো মাঝেমধ্যে খুবই পীড়াদায়ক হয়। বিদেশিদের জন্য আমরা আলাদা জোন করতে পারি। সেখানে আবাসিক ব্যবস্থা, বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। পর্যটন স্থানগুলোর যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো আবশ্যক। নিরাপত্তার অভাব, চুরি বা ছিনতাই, রাস্তা বা ট্যুরিস্টস্পটের নোংরা পরিবেশ ইত্যাদি বিদেশিদের কাছে চিন্তার কারণ। অনেক স্পটে যোগাযোগব্যবস্থা ভালো নয়। ট্রেন যোগাযোগ বিদেশিরা পছন্দ করে। এটি আরামদায়ক। এক্ষেত্রে বিদেশিরা যেমন- স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে তেমনই বিপুল পরিমাণ খরচ করবে তারা। এতে আমরাই লাভবান হব। ভারতে দেখেছি ট্রেনে বিদেশিদের জন্য আলাদা টিকিটের ব্যবস্থা আছে। আমরাও তা করতে পারি। রেল সুবিধা বাড়াতে হবে যাতে বিদেশিরা আরামদায়ক বোধ করে। বর্তমান সরকারের আমলে রেলের অনেক উন্নয়ন সাধন হয়েছে। কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ করা হয়েছে। যেসব পর্যটন এলাগুলোতে রেললাইন নেই সেখানে রেললাইন সম্প্রসারণ করতে হবে।
দেশের বর্তমানের ১৭ জি-আই পণ্যকে দেশি-বিদেশি পর্যটকের কাছে পরিচিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রসিদ্ধ কিছু খাবার/জিনিস যোগ হতে পারে। অনেক পর্যটন স্পটে যাওয়ার কানেক্টিং রোড অপ্রসস্ত ও খারাপ। পর্যটন ¯পটে যাওয়ার কানেক্টিং/লিংকরোডের উন্নয়ন করতে হবে। জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে পাহারপুর কানেক্টিং রোড বা রামসাগর লিংকরোড উদাহরণ হতে পারে। এগুলো প্রসস্ত, সংস্কার বা নির্মাণ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ, ঐতিহাসিক, ও প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর/স্থাপনা উন্নয়ন করতে হবে। উপজাতি সংস্কৃতির বিকাশ করতে ব্যবস্থা নিতে হবে। চা-শিল্পের উন্নয়ন ও বিস্তার করলে পর্যটক বাড়বে। নদী ও গ্রামীণ পর্যটনের উন্নয়ন ও বিকাশে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড গ্রামীণ পর্যটন থেকে অনেক আয় করে। আমাদের গ্রাম ও নদীকেন্দ্রিক পর্যটনে জোর দিতে হবে। হাওর পর্যটনে গুরুত্ব দিতে হবে। হাওরে উন্নয়ন করতে হবে। পর্যটন-¯পটগুলোতে নারী ও প্রতিবন্ধী পর্যটকদের জন্য বিশেষ সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। ওয়াসরুম ও নিরাপত্তা বাড়াতে হবে। দুগ্ধ-কর্ণার করা যেতে পারে। জেলাব্র্যান্ডিং জোরালো করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রচার বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে বড় বা সব ¯পটে হাত দিতে না- পারলেও পকেট পকেট পর্যটন স্পট বিকাশিত করার পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। গুচ্ছ-উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন-১. বর্ডার ট্যুরিজম: চায়না-ভিয়েতনাম বর্ডার ট্যুরিজম খুব কাজে দিচ্ছে। বাংলাদেশে-ভারত সীমান্ত হতে পারে আমাদের বিরাট সম্ভাবনা। যেমন ‘বর্ডার হাট’ একটি ভালো পরিকল্পনা। ২. ধর্মীয় স্থাপনা: ভারত-শ্রীলঙ্কা-নেপাল হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নিদর্শন ভ্রমণ করেন অনেকে। বাংলাদেশ-ভারত মুসলিম-হিন্দু স্থাপনা এমন দৃষ্টান্ত হতে পারে। ৩. শহর পর্যটন: প্যারিস (র্যাংকিং-১), বেইজিং(২), সাংহাই(৩), ম্যাকাউ(৬), টোকিও(৭), ব্যাংকক(১০), সিংগাপুর(১২) বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জিডিপিতে অবদান রাখা শহর। প্রথম তিন শতভাগ শহরভিত্তিক পর্যটন। যোগাযোগব্যবস্থা ও পর্যটন স্পট বিবেচনায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম পর্যটনশহর (পার্শ্ববর্তী শহর-সহ) হতে পারে। ৪. অডিও/ভিডিও/চিত্র প্রকাশ: তাজমহলসহ ভারতের অনেক ট্যুরিস্ট স্পটে দেখেছি বিভিন্ন স্থাপনায় অডিও সেট করা। সেখানে চাপ দিলেই বিভিন্ন তথ্য (হিন্দি-ইংরেজি) পাওয়া যাবে। এরকম ব্যবস্থা নিলে আমরাও বিদেশি পর্যটককে তথ্য দিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারব। প্রয়োজনে ভিডিও/এপস চালু করা যেতে পারে। প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে যাবেন পর্যটক। ৫. ছুটি: নভেম্বর-ডিসেম্বর-জানুয়ারি-এই তিন মাসে শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে রবি বা বৃহ¯পতিবার একদিন ছুটি (দুই-তিন সপ্তাহে) প্রদান/বর্ধিতকরণ করা ভালো কাজ হতে পারে। এতে চাকরিজীবীরা তিন দিনের ছুটি পাবেন এবং পর্যটনে উৎসাহিত হবেন। এতে বিপুল রাজস্ব আদায় হবে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট শিল্পের ব্যাপক উন্নয়ন হবে। গত বছর (২০২২ সালের ২৫ ডিসেম্বর রবিবার হওয়ায় পর্যটন ¯পটগুলোতে প্রচুর চাপ হয় ও বিপুল রাজস্ব আয় সম্ভব হয়েছে।
৬. পুরস্কার ও প্রণদনা : পর্যটন সংশ্লিষ্ট লেখক, সংগঠন ও ট্যুর আয়োজনকারীদের মধ্যে র্যাংকিং করে পুরস্কার প্রণোদনা বা স্বীকৃতি দিলে ভালো হবে। এতে করে লেখকরা সংবাদপত্রে আরো বেশি বেশি ফিচার প্রকাশ করতে আগ্রহী হবে। ৭. অভিজ্ঞতা বাস্তবায়ন : পার্শ্ববর্তী দেশ থাইল্যান্ড, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল পর্যটনে অনেক আয় করে। এসব দেশের বিভিন্ন উদ্যোগ/অভিজ্ঞতা আমাদের দেশে রূপান্তর করে বাস্তবায়ন করা ফলপ্রসু হবে বলে মনে করি।
সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ইত্যাদি রাষ্ট্রের আমাদের দেশের মতো বৈচিত্র্যময় ট্যুরিস্টস্পট নেই। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট, সি-বিচ, পাহাড়, ধর্মীয় স্থাপনা ইত্যাদির ভেরিয়েশন রয়েছে আমাদের দেশে। তারপরেও উল্লিখিত দেশে সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে পর্যটনে শীর্ষস্থানীয় একটি খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, যানবাহনগুলোতে সুযোগসুবিধা বাড়িয়ে আমরা বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করতে পারি। পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের প্রায় ৭৩ শতাংশ ভ্রমণ করবেন এশিয়ার দেশগুলোতে। এ ছাড়াও বিশ্ব পর্যটন সংস্থার তথ্যমতে, এ শিল্প হতে ২৯ কোটি ৭০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হচ্ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে অবদান রাখবে ১০.৫ ভাগ। বাংলাদেশ যদি এ বিশাল বাজার ধরতে পারে তাহলে পর্যটনের হাত ধরেই বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতি।
যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পর্যটন একটা চমৎকার ভূমিকা রাখতে পারে। অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের আয়ের অন্যতম উৎস পর্যটন। কারণ পর্যটন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে রাজস্ব বৃদ্ধি করে এবং দেশের মোট আয় ও উৎপাদনের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এমতবস্তায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পর্যটনখাত কত বড় পরিবর্তন আনতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। দীর্ঘ প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে করোনা মহামারির কারণে দেশের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত খাত পর্যটন। করোনা মহামারি পৃথিবীর গতিপথকে এলোমেলো করে দেওয়ার আগের দশকে (২০০৮- ২০১৮) বিশ্বজুড়ে পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে ৭৫ শতাংশ। উন্নত বিশ্বে অর্থনীতিকে টেনে ধরবার অন্যতম হাতিয়ার পর্যটন। ২০২৭ সাল নাগাদ বিশ্ব জিডিপিতে পর্যটনের অবদান ১১ দশমিক ৭ শতাংশ হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বহাল রাখতে পর্যটন খাতকে গুরুত্ব দেওয়া একান্ত প্রয়োজন মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। পৃথিবীতে বর্তমানে ১৪০ কোটিরও বেশি পর্যটক রয়েছে। এই সংখ্যা আসন্ন বছরগুলোতে অর্থাৎ ২০২৫ সাল নাগাদ, ২০০ কোটি হবে। এর আগে কোভিড মহামারির সময়ে বিশ্বব্যাপী পর্যটকের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যায়। তবে ধীরে ধীরে এই সংখ্যা আবারও বাড়ছে।
গবেষণা বলছে, এই বিপুল পর্যটকের ৭৫ শতাংশ পর্যটক ভ্রমণের জন্য বেছে নেবে এশিয়া। আর সেখানেই বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে নিজের সুযোগ তৈরি করে নিতে হবে। এখানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে এবারের বাজেট।
বাংলাদেশের পর্যটন খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতে আছেন প্রায় ৪০ লাখ মানুষ। এর ভেতর সরাসরি জড়িত আছেন ১৫ লাখ আর প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আছে প্রায় ২৩ লাখ। এক হিসাবে দেখা গেছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ লাখ পর্যটক ভ্রমণ করছে। এই সংখ্যাটি সন্তোষজনক হলেও এর মাত্র ২ শতাংশ বিদেশি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে মোট ১৬ লাখ ৪০ হাজার পর্যটক আসে। এর মধ্যে ৮০ দশমিক ২৮ শতাংশ অনাবাসী বাংলাদেশি। বাকি ২ লাখ ৯১ হাজার জন বিদেশি পর্যটক। করোনা মহামারিতে ২০২০-২১ অর্থবছরে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা আরও কমেছে।
হতাশার বিষয় হলো, ইনক্লুসিভ ডেভলপমেন্ট ইনডেক্সের ২০১৮ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ পর্যটনকে কাজে লাগিয়ে প্রবৃদ্ধির এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান ৩৪। অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এখানে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৯ সাল জুড়ে আমাদের দেশে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২৩ হাজার ২৯৫, যার অধিকাংশ ভারতীয়।
বর্তমানে দেশে দেশে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলেও পর্যটকদের মনের ভয় এখনো দূর হয়নি। নিরাপত্তাজনিত ভয়ে পর্যটকদের অনেকেই আসছেন না। নিজেদের ইতিহাস ঐতিহ্য সঠিকভাবে তুলে ধরাতেও গাফিলতি আছে বলে মনে করেন পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া আমাদের দেশের চিরায়ত চারু ও কারুশিল্প, মৃত্তিকাশিল্প, তাঁতশিল্পকে কেন্দ্র করে এখনো জেলাভিত্তিক কোনো পর্যটন ব্যবস্থা দাঁড়ায়নি। এগুলো পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পারে। অভ্যন্তরীণ পর্যটনে সফলতা আসলে গ্রামীণ নারীরাও তাদের আর্থিক সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারবে।
তবে আশার কথা হলো ইতোমধ্যেই পুরো দেশকে আটটি পর্যটন জোনে ভাগ করেছে সরকার। এসব প্রকল্পে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এইখাতে বিনিয়োগ করে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হওয়ার মাধ্যমে দেশের পর্যটনে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারেন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা।
ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ এর প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, ‘এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণাই হয়নি যে আমাদের দেশ এখন বিদেশি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত। যতক্ষণ না আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা প্রজ্ঞাপন আসবে তারা এটা পরিষ্কারভাবে বুঝবে না যে আমরা এখন বিদেশিদের স্বাগত জানাচ্ছি। আরেকটি বিষয় হলো- বাজেটে আমাদের প্রত্যাশা, এখনো পর্যটনকে শিল্প ঘোষণা না করায় আমরা প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত। অনেক ট্যুর অপারেটর আছে যাদের ৬০-৭০ জন কর্মী আছে। তবে শিল্প ঘোষণা না করায়, মহামারির পরেও আমরা কোনো প্রণোদনাই পাইনি।’
বিদেশি পর্যটকরা বাংলাদেশে আসতে আগ্রহী হচ্ছেন না কেন, এমন প্রশ্নে সময়নিউজকে তিনি জানান, বান্দরবানসহ পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটকদের ঢুকতে যে নিয়ম আছে তা ক্লান্তিকর। ডিসি অফিসে এপ্রুভাল নিতে হয়, টাকা দিতে হয়। যদি কোনো অ্যাপ থাকে যার মাধ্যমে এই এপ্রুভাল পাওয়া যেত তাহলে ভালো হত।
এছাড়া সুন্দরবন ঢোকার জন্য প্রতিবন্ধকতা ও নিয়মকানুনের বালাইয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেখুন আমরা সুন্দরবনকে ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট হিসেবে সারা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চাই অথচ একজন বিদেশি আসলে তাকে বাংলাদেশিদের তুলনায় ১০ হাজার টাকা বেশি দিতে হয়। এছাড়া কক্সবাজারে হোটেলগুলোতে রয়েছে দালালের দৌরাত্ম্য। আমরা যখন সেখানে যাই, অনেক সময় রুম পাই না।
দীর্ঘদিন পর্যটনের সঙ্গে জড়িত থাকা এই ব্যক্তি বলেন, বাংলাদেশ অনেক বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ। এখানে একজন রিক্সাচালক ইংরেজি না জানলেও বিদেশি কাউকে দেখলে হাত নেড়ে হেসে অভিভাদন জানায়। কিন্তু পর্যটনে এই বিষয়টা আমরা কাজে লাগাতে পারছি না। বৈদেশিক মুদ্রা আনা-নেওয়াতেও ট্যুর অপারেটরদের কোনো নীতিমালা নেই বলেও অভিযোগ তার। তিনি বলেন, যখন ট্যুর অপারেটররা গেস্ট নিয়ে বিদেশে যাচ্ছে তখন তাদের সঙ্গে টাকা নিয়ে যেতে হচ্ছে। এটা বড় একটি সমস্যা।
বাংলাদেশের বিখ্যাত পর্যটক এবং ‘পৃথিবীর পথে পথে’ বইয়ের লেখক তারেক অণুর সঙ্গে কথা বলে সময়নিউজ। তার কাছে প্রশ্ন ছিল পর্যটনে কোন বিষয়টি এখন বেশি দরকার। তিনি বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশের মতোই বাংলাদেশ স্বল্প বাজেটে নিরাপদ ইয়ুথ হোস্টেল এর মত প্রচুর বাসস্থান তৈরি হওয়া দরকার, বিশেষ করে প্রতিটি জেলা সদরে। যেখানে সবাই নিজের মত প্রাইভেসি নিয়ে খুব কম খরচে প্রতিটি জেলায় ঘুরতে পারবেন। সেইসঙ্গে প্রত্যেকটি পর্যটনের সম্ভাবনা আছে তেমন জায়গায় এই ধরনের সস্তায় থাকা-খাওয়ার জায়গা ব্যবস্থা থাকতে পারে।
ইকো ট্যুরিজমের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে কটেজ নির্মাণ সাংঘর্ষিক কিনা এই প্রশ্নের উত্তরে তারেক অণু বলেন, পর্যটনের জন্য যেখানে যত হোটেল বা যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে উঠুক সবার আগে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে যাতে নতুন করে পরিবেশ নষ্ট করে কিছু না হয়। বাংলাদেশে পর্যটনের উন্নয়নে অনেক তরুণরাও এগিয়ে আসছেন।
তেমনি একজন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার প্রকৌশল শেষ করা সাদিফুজ্জামান দিগন্ত। তিনি সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে ‘ইকোফ্রেন্ডলি’ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে পর্যটনের উন্নয়নে কাজ করছে বেশ কিছু তরুণ। এখন আমার ফুল টাইম প্রফেশন ট্যুরিজম। সুনামগঞ্জ টাঙ্গুয়া হাওরে ‘বজরা’ আমার নৌকা, এ মৌসুমে পরিবেশবান্ধব আরও বেশ কয়েকটা হাউজবোটের কাজ হচ্ছে। একটু তাকালে দেখবেন এখানে তৈরি করা হাউজবোট গুলো বেশির ভাগই কাঠের তৈরি, এখানে কোনো নৌকাতেই আপনি সিঙ্গেল ইউজড প্লাস্টিকের ব্যবহার পাবেন না।
অনেক তরুণরা ট্যুরিজম নিয়ে কাজ করতে এগিয়ে আসছে বলেও জানান তিনি। ‘আমি যেমন ব্র্যাক ভার্সিটি থেকে পাশ করে পর্যটন কাজ করছি, তেমন অনেক গ্র্যাজুয়েট ছেলে-মেয়ের ফুলটাইম প্রফেশন এখন পর্যটন। যারা কথার তুবড়ি ছোটায় শুধু উনাদের পৃষ্ঠপোষকতা না করে এইসব তরুণদের সরকার সহোযোগিতা করলে পর্যটনের উন্নয়ন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া কমিউনিটি বেইসড ট্যুরিজম এর উন্নতিতে সরকারের সকল প্রশাসনের সহোযোগিতা প্রয়োজন বলেন তিনি।’
এদিকে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে আমাদের পর্যটন শিল্পের যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠার জন্য সরকার বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের পর্যটনে বিভিন্ন উপখাতের ব্যবসায় জড়িত পর্যটন অংশীজনদের সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন পর্যন্ত এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন।
এছাড়াও, পর্যটন শিল্পের ক্ষতি চিহ্নিতকরণ ও সমাধানের উপায় নির্ধারণের জন্য ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন, করোনাকালীন পর্যটন শিল্প পুনরায় চালুকরণের জন্য অনুসরণীয় নির্দেশিকা প্রস্তুত ও বিতরণ, অনুসরণীয় নির্দেশিকার উপর পর্যটন শিল্পের অংশীজনদের প্রশিক্ষণ প্রদান, ট্যুরিজম রিকোভারি প্ল্যান প্রস্তুতকরণ, পর্যটন শিল্পে ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়-দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়, পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন অংশীজনদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান, জেলা ও উপজেলায় সচেতনতামূল কর্মসূচি গ্রহণ, অন-এরাইভাল ভিসার আওতা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে পত্র প্রদান ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা সীমাহীন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন সরকার এ সুযোগ গ্রহণ করবে দেশের উন্নয়ন ত্বরাণ্বিত করার জন্য।বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন শিল্পে যখন মন্দা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তখনই সারা বিশ্বে অতি দ্রুত সম্প্রসারণশীল ও বহুমাত্রিক শিল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছে পর্যটন শিল্পের। এই শিল্প শুধু আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বহন করে না, সেই সঙ্গে টেকসই উন্নয়নের অগ্রগতিকে সচল রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
পৃথিবীর প্রায় সকল দেশে পর্যটন এখন অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার খাত। পর্যটন ১০৯টি শিল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। পর্যটন বর্তমানে পৃথিবীর অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের হাতিয়ার। পর্যটনের মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হয়ে থাকে। ২০১৭ সালে বিশ্বের জিডিপিতে ট্যুরিজমের অবদান ছিল ১০.৪ শতাংশ যা ২০২৭ সালে ১১.৭ শতাংশে গিয়ে পৌঁছাবে। এছাড়া ২০১৭ সালে পর্যটকদের ভ্রমণখাতে ব্যয় হয়েছে ১৮৯৪.২ বিলিয়ন ডলার। আর একই বছর পর্যটনে বিনিয়োগ হয়েছে ৮৮২.৪ বিলিয়ন ডলার। পর্যটনকে বলা হয় একটি শ্রমবহুল ও কর্মসংস্থান তৈরির অন্যতম হাতিয়ার। বর্তমানে পৃথিবীর ১০টি কর্মসংস্থান খাতের মধ্যে ১টি হলো পর্যটন খাত। ২০১৭ সালে প্রায় ১১ কোটি ৮৪ লাখ ৫৪ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয় পর্যটন খাতে। যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ খাত মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি ৩২ লাখ। অর্থাত্ মোট কর্মসংস্থানের ৯.৯ শতাংশ তৈরি হয় পর্যটন খাতে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের জিডিপি খাতে পর্যটন শিল্পের মোট অবদান ছিল ৮৫০.৭ মিলিয়ন টাকা। আর এইখাতে কর্মস্থান তৈরি হয়েছে মোট ২৪ লাখ ৩২ হাজারটি। সুতরাং এই পরিসংখ্যান থেকে বুঝা যায় আমাদের দেশ পর্যটন শিল্প কতটা পিছিয়ে আছে।
বিশ্বায়নের পরিপ্রেক্ষিতে পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন সাধন করাই হলো পর্যটন শিল্পের মূল বিষয়। বিগত বছরগুলোয় বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে পর্যটন শিল্পের আবির্ভাব ঘটেছে। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে পর্যটন শিল্প। পর্যটন শিল্প সমৃদ্ধ উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালেই এ সত্য উপলব্ধি করা যায়।
বিশ্ববাণিজ্যের ক্ষেত্রে অবদান রাখছে শতকরা ৬ ভাগ যার পরিমাণ ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার। জানা গেছে, ভ্রমণপিপাসু পর্যটকরা প্রতিবছর থাকা, খাওয়া, ভ্রমণ, দর্শন এবং কেনাকাটা বাবদ খরচ করেন প্রায় ৫০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। আরো জানা গেছে, বিশ্বের প্রায় ৮৩ ভাগ দেশের সবচেয়ে জাতীয় আয় আহরণকারী প্রথম পাঁচটি খাতের মধ্যে পর্যটন একটি বিশেষ খাত। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, পর্যটকরা এখন পুরাকীর্তি, বাগান, পাহাড়, সাগর, ঝরনার পাশাপাশি ইকো ট্যুরিজমের দিকে ঝুঁকছে। প্রকৃতির পাশাপাশি মানুষের বিচিত্র জীবনধারা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিও পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ছে।
পর্যটন শিল্প বিকাশের অবারিত সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশে।