পাইকগাছা প্রতিনিধি : একদিকে কচ্ছপগতির নির্মাণকাজ, অন্যদিকে লোনা পানির আগ্রাসন- দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদী ও লোনা পানির ঘের বেষ্টিত প্রত্যন্ত এলাকার যোগাযোগের একমাত্র ভরসা তেঁতুলতলা-লতা সড়কটি লীজ ঘেরে অতিরিক্ত পানি উত্তোলনে পানির তোড়ে ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে করে গত তিন-চার দিন ধরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা। স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে জানা যায়, ‘আমফান প্রকল্পের’ আওতায় খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার শংকরদানা খেয়াঘাট থেকে কাঠামারি বাজার ভায়া তালতলা খেয়াঘাট সড়কের ২.৯৪ কিলোমিটার রাস্তার লতা তেঁতুলতলা অংশটি পানির চাপে ভেঙে সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। রাস্তা পুনর্নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জাকাতউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স (মেসার্স জাকাতউল্লাহ)। ২ কোটি ৪৯ লাখ ৪১ হাজার ৪৬৯ টাকা প্রাক্কলিত মূল্যের এই কাজটির কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল গত ১৫/০৪/২০২৫ তারিখে এবং কাজটি সম্পন্ন করার নির্ধারিত তারিখ ছিল ১৪/১০/২০২৫। তবে দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও কাজের বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ। কাজ বিলম্বের কারণ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এটি একটি অত্যন্ত প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকা। রাস্তায় ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় বালু স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায় না। বহুদূর (কাটামারী) থেকে বোট ও পাইপ ফিটিং করে বালু আনতে হচ্ছে। মাঝপথে ড্রেজার ও মেশিনের ত্রুটির কারণে বালু ভরাট কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, রাস্তার শুরুর অংশ থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার অংশে ইতোমধ্যে খোয়া বিছানোর কাজ শেষ হয়েছে। তবে শেষ দিকে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ ফিট অংশে বালু ভরাট বাকি ছিল। ওই স্থানে কালভার্ট নির্মাণ সংক্রান্ত পরিকল্পনা এবং স্থানটি নিচু থাকায় সাম্প্রতিক জোয়ারের অতিরিক্ত পানির চাপে সড়কটির একটি বড় অংশ ধসে ভেঙে যায়। এতে নদী ও ঘেরের লোনা পানি ঢুকে পড়ে লোকালয়ে। রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় গত ৩-৪ দিন ধরে এই পথে সকল প্রকার যান চলাচল ও হেঁটে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে কোমলমতি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরনের পোশাক ভিজিয়ে, বই-খাতা মাথায় তুলে কোনোমতে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে ভাঙা অংশ। জরুরি চিকিৎসাসেবা পেতে কিংবা হাটে-বাজারে পণ্য পরিবহনে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও সাধারণ খামারিরা। স্থানীয়দের ক্ষোভ, ঘেরের মালিকদের অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন ও জোয়ারের প্রবল চাপে রাস্তাটি ভেঙেছে ঠিকই, কিন্তু মূল অপরাধ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের দীর্ঘসূত্রতা। সময়মতো বালু ফেলে রাস্তাটি মজবুত করা হলে আজকের এই জলজট ও দুর্ভোগের সৃষ্টি হতো না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশল দপ্তর জানায়, যন্ত্রাংশের ত্রুটির কারণে বালু সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। তবে শিগগিরই দ্রুত গতিতে কাজ শেষ করে ভাঙা স্থানটি সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের স্বাভাবিক যাতায়াত নিশ্চিত করা হবে। উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাফিন শোয়েব বলেন, “জোয়ারের পানির তোড়ে সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করেছি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভাঙা অংশে রিং কালভার্ট বা বিকল্প বাঁধ দিয়ে পানি আটকানো এবং বালু ভরাট করে যাতায়াত উপযোগী করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কাজে অবহেলা সহ্য করা হবে না।” এদিকে, অতিদ্রুত সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।