পাইকগাছা প্রতিনিধি : দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর পুষ্টির চাহিদা পূরণ, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের ভূমিকা অপরিসীম। এই খাতের টেকসই উন্নয়নে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। তিনি উপকূলে মৎস্য সম্পদের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে গবেষক ও বিজ্ঞানীদের আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
৩০ অক্টোবর শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)-এর খুলনার পাইকগাছাস্থ লোনাপানি কেন্দ্রের গবেষণা অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
সরকারি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে সচিব বলেন, সীমিত সম্পদের শতভাগ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। গবেষণা প্রকল্পের একটি টাকাও যেন অপচয় না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। অন্যথায় জনগণের পাশাপাশি মহান সৃষ্টিকর্তার কাছেও জবাবদিহি করতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
বর্তমান বেতন স্কেলকে সরকারের একটি সাহসী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছে। এখন আমাদের সকলের দায়িত্ব হচ্ছে সততা ও নিষ্ঠার সাথে অধিকতর পরিশ্রম করে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করা।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ড. মো. আমিরুল ইসলাম, মৎস্য অধিদপ্তর খুলনার পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান এবং পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. লতিফুল ইসলাম বলেন, চলমান গবেষণাগুলোর সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হলে অদূর ভবিষ্যতে দেশের ‘মেরিকালচার’ বা সামুদ্রিক মৎস্য চাষে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লোনাপানি কেন্দ্রের কেন্দ্র প্রধান ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আজহার আলী।
এ সময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. দেবাশীষ কুমার মন্ডল, ড. গোলাম সাজেদ রিয়ার, ড. নূর-এ-রওশন, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা, সায়মা সুলতানা সোনিয়া, মাসুদুর রহমান, ফাল্গুনী বিশ্বাস, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পার্থ প্রতিম রায়সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।