ডেস্ক রিপোর্ট : রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফল নেগেটিভ এসেছে। তাঁদের প্রস্রাবের নমুনায় ইয়াবা, গাঁজা বা অন্য কোনো মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৯ দিন পর নমুনা সংগ্রহ করায় ডোপ টেস্টের এই ফলাফল দিয়ে ঘটনার সময় তাঁরা মাদকাসক্ত ছিলেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পুলিশও বলছে, তদন্তে আসামিদের দেওয়া জবানবন্দি ও অন্যান্য আলামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক জিন্নাত আলী বলেন, ডোপ টেস্টের রিপোর্ট মামলার নথির অংশ হিসেবে আদালতে জমা দেওয়া হবে। তদন্তের অন্যান্য তথ্য-উপাত্তও যাচাই করা হচ্ছে।
মহানগর ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘কারাগার থেকে নমুনা সংগ্রহের পর তা পরীক্ষা করে এমফিটামিনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পরীক্ষায় কোনো মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেলে তো হতো।’
মামলা ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ আগস্ট রাতে মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়িতে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা দেবী, ছেলে ও মেয়েকে হত্যা করা হয়। ২২ আগস্ট তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানায়।
আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের সময় মাদকাসক্ত থাকার বিষয়টি সামনে আসার পর ডোপ টেস্টের উদ্যোগ নেয় পুলিশ। আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর গত ৩০ আগস্ট রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে দুই আসামির প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নিরাপত্তার কারণে তাঁদের কারাগার থেকে বাইরে নেওয়া হয়নি। রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবের টেকনোলজিস্ট ও সহকারী ডিবি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নমুনা সংগ্রহ করেন।
চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিভিন্ন মাদক শরীরে শনাক্ত হওয়ার সময়সীমা এক নয়। অনেক ক্ষেত্রে মাদক সেবনের কয়েক দিন পর প্রস্রাবের নমুনায় তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ঘটনার প্রায় ৯ দিন পর নমুনা সংগ্রহ করায় পরীক্ষার ফল নেগেটিভ হওয়া অস্বাভাবিক নয়। ঘটনার কাছাকাছি সময়ে নমুনা সংগ্রহ করা হলে মাদক গ্রহণের বিষয়ে তুলনামূলক নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যেত।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি না পাওয়ায় তদন্তের একটি প্রশ্নের উত্তর মিলেছে, তবে এতে হত্যাকাণ্ডের মূল তদন্ত থেমে থাকছে না। আসামিদের জবানবন্দি, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামতসহ অন্যান্য তথ্য যাচাই করে মামলার তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটি মহানগর ডিবিতে তদন্তের জন্য হস্তান্তর করা হয়। ওই মামলায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।