মাগুরার শিশু ধর্ষণ-হত্যা: মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় খুশি মা, দ্রুত কার্যকরের দাবি

প্রকাশঃ ২০২৬-০৮-৩১ - ১৭:৪২

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরায় শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুটির মা। তবে রায় ঘোষণায় খুশি হলেও, মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ সন্তুষ্ট নন তিনি। দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় শিশুটার মা বলেন, রায়ে তিনি খুশি হয়েছেন। তবে এখনো পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি।

শিশুটির মা আরও বলেন, ‘আজকে হাইকোর্ট থেকে ফাঁসির রায় দিয়েছে, এতে আমি খুশি হয়েছি। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত এই ফাঁসির রায় কার্যকর না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি পরিপূর্ণ সন্তুষ্ট নই। আমি চাই, দ্রুত এই ফাঁসির রায় কার্যকর করা হোক।’

হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তবে তাদের দাবি, আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুততম সময়ে যেন দণ্ড কার্যকর করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা জগদিশ অদবকারী বলেন, ‘এই রায়ে আমরা খুশি, তবে আমরা চাই, দ্রুত এই রায় কার্যকর করা হোক। তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ করার আগে অপরাধীরা ভয় পাবে।’

পরিবারের স্বজন ও স্থানীয়দের আশঙ্কা, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দ্রুত কার্যকর না হলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হতে পারে। তাই কোনো ধরনের ক্ষমা নয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি তাদের।

স্বজন আকলিমা খাতুন বলেন, ‘আমরা চাই, দ্রুত রায় কার্যকর করা হোক। যদি দ্রুত কার্যকর না হয়, তাহলে অপরাধ এভাবেই বাড়তে থাকবে। আমরা চাই, এই অপরাধের যেন কোনো ক্ষমা না হয়।’

গত বছরের মার্চে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বড় বোনের শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আট দিন অচেতন থাকার পর গত বছরের ১৩ মার্চ মৃত্যু হয় তার। ওই সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন অভিযুক্তদের বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল।

ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনায় গত বছরের ৮ মার্চ শিশুটির মা চারজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মাগুরা সদর থানায় ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। ১৩ এপ্রিল এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ এপ্রিল। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।

ওই মামলায় দ্রুত বিচার শেষে ১৭ মে রায় দেন আদালত। রায়ে শিশুটির বড় বোনের শ্বশুর হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। খালাস পান বাকি তিনজন।

হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করতে পারবেন হিটু শেখ। আপিল বিভাগে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলে রিভিউ করার সুযোগ পাবেন। রিভিউ খারিজ হলে সব শেষ রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করার সুযোগ থাকবে। আর রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন না করলে বা আবেদন করার পর তা খারিজ হলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারবে সরকার।