মোঃ ওমর ফারুক (বাবু), চট্টগ্রাম: প্রকাশ্য দিবালোকে পিস্তল থেকে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে কখনো কখনো ভাড়াটে গুন্ডা ও অস্ত্রের মহড়া দিয়ে ভয় ভীতি প্রদর্শন করে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি করার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম মহানগরে এক তথাকথিত নেতা রাশেদুল আলম রাশেদের নামে।
প্রয়াত মহানগর আওয়ামী লীগের জামাল খান ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক স্বচ্ছ রাজনীতি বিদ মোরশেদুল আলমের ছোট ভাই রাশেদ।
চট্টগ্রাম মহানগরের ২০ নং জামালখান ওয়ার্ডের রহমত গঞ্জ এলাকার জাহানারা ম্যানসনের বাসিন্দা এ রাশেদ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, নতুন ভবন নির্মাণ, জায়গা ক্রয় এবং নতুন ব্যবসা চালু করতে হলেও মোটা অংকের টাকা দিতে হয়, অন্যথায় জীবননাশের হুমকি পাশাপাশি কাজ বন্ধ রাখতে হয়।
১৯৮৫ সালে বাচ্চু- বাচ্চু সংসদের সাধারন সম্পাদক ছিলেন রাশেদ, ১৯৮৬ সালে দেব পাহাড়ের জসীম হত্যা মামলার আসামী হওয়ার পর পলাতক হয়ে আত্মগোপন করে কানাডা চলে যান।
পরবর্তী রাশেদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি, চকবাজার ও পাঁচলাইশ থানার চাঁদাবাজি ও অস্ত্র মামলা হলে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করেন । কোনো এক অদৃশ্য কারণে মামলাগুলো ধামাচাপা পড়ে যায়।
বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন নেতার ছবি সম্বলিত পোস্টার ও ব্যানার ছাপিয়ে নিজের অস্তিত্বের কথা জানান দেয় এ রাশেদ।
দীর্ঘদিন বাইরে থাকার পর দেশে এসে আবারও পুরনো রুপে ফেরত আসা রাশেদ চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগ ঠিকাদার সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়।
পেশী শক্তি প্রয়োগ করে ঠিকাদার সমিতির সভাপতি বনে যাওয়া রাশেদ গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ঠিকাদারী কাজে একছত্র অধিপত্যে বিস্তার শুরু করে। সাধারণ ঠিকাদার দের কাছ থেকে ৪% হারে চাঁদা আদায় করে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যায়।
তারেক আহম্মদ ( ছদ্মনাম) নামে এক ঠিকাদার বলেন, কখনও ঠিকাদারী কাজ না করে হঠাৎ করে সভাপতি পদে আসীন হয়েছে গ্যাং গড ফাদার রাশেদ। মহানগর আওয়ামীলীগের কোন পদে না থেকে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে নিজেকে নিয়ে গেছে টাকার পাহাড়ে।
পি ডাব্লিউ ডি এর একজন তালিকাভুক্ত ঠিকাদার রাশেদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে সরকার দলীয় একজন নেতার নির্দেশে কোতোয়ালি থানা মামলা গ্রহণে বিরত থাকে।
রাশেদের দোর্দণ্ড দাপটে অনেকটা জিম্মি এলাকাবাসী। তবে রাশেদের এ সব অপকর্মের পিছনে ডান হাত হিসেবে কাজ করে সি এন্ড বি রনি প্রকাশ বন্দুক রনি ও সিজার বড়ুয়া প্রকাশ বুলেট সিজার । রাশেদের বিপক্ষে কেউ কথা বললে বা কেউ প্রতিবাদ করলে শারীরিক হেনেস্তা ও বিব্রতকর অবস্থার শিকার হতে হয়।
ভুক্তভোগীরা একাধিক ব্যক্তির নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে জানান অস্ত্রধারী সশস্ত্র সন্ত্রাসী রাশেদ ও তার সহযোগীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক স্বরাষ্ট্র সচিব মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।