ক্ষুদ্র পৃথিবীর নগণ্য মানুষ কি বোঝে আল্লাহ কত বড়

প্রকাশঃ ২০২৬-০৯-১৪ - ১০:১১

সিরাজুল ইসলাম, শ্যামনগর: হজের সময় তালবিয়া পড়া হয় আল্লাহর বড়ত্ব, মহত্ত- ও মালিকানার ঘোষণা দিয়ে। ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক। ঈদের সময়ও আমরা তাকবীর বলি, ঘোষণা করি : আল্লাহ বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ মহান; আল্লাহর কোনো শরিক নেই, সকল প্রশংসা তাঁর। নামাজেও আমরা প্রতিদিন ষোষণা করি ‘আল্লাহু আকবার’। মানুষ যে কত দুর্বল ও অসহায় তা মানুষ আন্দাজ করতে পারে না, তাই মানুষ অহঙ্কারও করে। অহঙ্কার থেকেই মানুষ আল্লাহকে অস্বীকার করে। কাফির হয়। মুশরিক হয়। নাস্তিক হয়। মুরতাদ হয়।
আল্লাহর একটি হুকুমে সৃষ্টিজগত তৈরি হয়েছে। আল্লাহ যখন কোনো কিছু ইচ্ছা করেন, তখন শুধু বলেন, ‘কুন’ মানে হয়ে যাও। ‘ফা ইয়াকুন’ তখনই তা হয়ে যায়। (আল কোরআন)। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, শুরুতে আসমান ও জমিন একসাথে মিলিত ছিল। এরপর আমি সবকিছুকে ছড়িয়ে দিয়েছি এবং সমস্ত জীবিত বস্তুকে আমি সৃষ্টি করেছি পানি থেকে। (আল কোরআন)। আল্লাহর এই সৃষ্টির বয়স পৃথিবীর সময় অনুযায়ী কোটি কোটি বছর হতে পারে। আল্লাহ বলেছেন, আল্লাহ যিনি সাত আকাশ সৃষ্টি করেছেন স্তরে স্তরে। অন্যত্র আল্লাহ বলেন, আমি তোমাদের নিকটবর্তী আকাশকে নক্ষত্রের বাতি দিয়ে সুসজ্জিত করেছি। (আল কোরআন)। বোখারী শরীফে আছে, সবচেয়ে ছোট জান্নাতটি হবে দশটি পৃথিবীর সমান।
মুসলমান আগেই আল্লাহ ও রাসুলের সব কথার ওপর ঈমান এনেছে। বর্তমানে মানুষ বিশাল সৌরজগত চিনে আল্লাহর রাজত্বের বিশালত্ব আর পৃথিবীর ক্ষুদ্রতা আন্দাজ করতে পারছে। বুঝতে পারছে, সবচেয়ে ছোট জান্নাতটি কেন দশটি পৃথিবীর সমান। আর মহাকাশ ও জান্নাতের তুলনায় দশটি পৃথিবী আসলেই কত ছোট।
কোরআন ও হাদিসের এমন শত শত বর্ণনা থেকে মানুষ বুঝতে পারে আল্লাহর সৃষ্টি কত বড়। এই সৃষ্টি ও জগতসমূহের যিনি রব। রাব্বুল আলামীন। মানুষের জ্ঞান, ধারণা ও কল্পনার চেয়ে কত বেশি সংখ্যা ও পরিমাণ আল্লাহর জানা আছে, তার কুদরতে সৃষ্টি করা আছে, তা মানুষ ভাবতেও পারে না। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, মানুষকে খুবই দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে। অন্য আয়াতে আছে, মানুষকে খুবই সামান্য জ্ঞান দান করা হয়েছে।
অতএব, প্রথম আকাশ কত বড়, এর নিচে কত সংখ্যার কী পরিমাণ গ্রহ নক্ষত্র আছে, তা শুমার করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। মহাকাশ কেন, পৃথিবীতেই আল্লাহর দান ও অনুগ্রহের পরিসংখ্যান বের করা মানব জাতির জন্য অসম্ভব। আল্লাহ বলেন, যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামত গণনার চেষ্টা করো, তাহলে কোনোদিনই তা শেষ করতে পারবে না। (আল কোরআন)।
অতএব, আল্লাহকে বিশ্বাস করা, তার বিধান মেনে চলা, তাঁকে ভয় করা, সবসময় আল্লাহর নিকট রহমত ও ক্ষমা প্রার্থনা করা, তার প্রতি গভীর প্রেম ও সুধারণা পোষণ করা মানুষের কর্তব্য। যে একমাত্র আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও উপাস্যরূপে বিশ্বাস করে, সেই মুমিন। আল্লাহর সাথে শরিক না করলে, গুনাহ থেকে তওবা করলে আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন। জাহান্নামের আগুন থেকে নাজাত দিবেন।
বিজ্ঞানের আবিষ্কারের দ্বারা মানুষ আল্লাহকে বেশি করে জানার সুযোগ পায়। আল্লাহর কুদরত সম্পর্কে উত্তমরূপে অবগত হয়। যেমন- মহাকাশ গবেষণার ফলে যেসব জ্ঞান, তথ্য, ছবি, সংখ্যা ইত্যাদি মানুষ জানতে পারে, তা ঈমানদারদের আস্থা ও বিশ্বাসকে আরো দৃঢ় করে। এসব গবেষণা ছাড়াও আল্লাহর অনুগত বান্দাগণ সৃষ্টির প্রতিটি নিদর্শনকে নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেন এবং সবসময় আল্লাহর জিকির, স্মরণ, আলোচনা, ভাবনা ও আরাধনা করেন।
সৃষ্টি জগত নিয়ে বিশ্বাসী চিন্তা-ভাবনা অন্য সব ইবাদতের চেয়ে কম নয়। আল্লাহর স্মরণ, আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি, আল্লাহর সৃষ্টিকে নিয়ে চিন্তা-ভাবনা ও আল্লাহর কুদরত থেকে শিক্ষা ও প্রেরণা গ্রহণও মহান ইবাদত। আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় পৃথিবী ও আকাশসমূহের সৃষ্টিতে এবং দিন ও রাতের আসা-যাওয়ায় চিন্তাশীল মানুষের জন্য রয়েছে অনেক নিদর্শন। যারা শোয়া বসা ও দাঁড়ানো সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে। তারা বলে, হে আল্লাহ আপনি এসব অকারণে সৃষ্টি করেননি। আপনি আমাদের জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচান। (আল কোরআন)।
আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি জানতেন আল্লাহর নবী (সা.)। আল্লাহ তাঁর নিকট ওহী প্রেরণ করেছেন। তাঁকে নিজ সৃষ্টিজগতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিদর্শন করিয়েছেন। মানুষের উচিত আল্লাহর রাসূলের দেয়া তথ্যানুযায়ী আখেরাত, জান্নাত, জাহান্নাম, কবর, হাশর, মিযান, পুলসিরাত ইত্যাদি বিশ্বাস করা। আল্লাহকে ভয় করা। নিজের ক্ষুদ্রতা, দুর্বলতা, অসহায়ত্ব অনুধাবন করা।
আল্লাহর সৃষ্টি কত বড় ও ব্যাপক তা যদি মানুষ বোঝে, মানুষ যদি পৃথিবী কত ছোট তা বোঝে, মানুষ কত দুর্বল তা যদি মানুষ বোঝে, আল্লাহর কুদরতের সামনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কত অসহায় সেটা বোঝে, তাহলে সে প্রকৃত ঈমানদার হতে পারবে। তখন মানুষ নিজেকে বুদ্ধিমান, বড় ও ক্ষমতাশালী মনে করবে না। তারা আল্লাহর ওলী আউলিয়া দরবেশ ও বিনয়ী জ্ঞানী বান্দাদের মতোই আল্লাহর প্রকৃত বান্দা হয়ে সুখ ও বিপদ উভয় সময়ই আল্লাহর রহমতের আশায় আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইতে থাকবে।
মহাবিশ্বেরর স্রষ্টা ও পরিচালক আল্লাহ রাব্বুল আলামিন অধিষ্ঠিত রয়েছে আরশে আজিমে। কোরআনে বর্ণিত হয়েছে ‘তিনি পরম দয়ালু, তিনি আরশে সমাসীন হয়েছেন।’ (সুরা তহা : ৫)। অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে, ‘আল্লাহ, যিনি ঊর্ধ্বদেশে স্থাপন করেছেন আকাশমন্ডলীকে স্তম্ভ ব্যতীত। তোমরা সেগুলো দেখ। অতঃপর তিনি আরশের ওপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন
আল্লাহ তা’য়ালার অসংখ্য নিয়ামতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান একটি হলো সময়। মহাগ্রন্থ আল কুরআন ও হাদীসের বিভিন্ন স্থানে নিয়ামতটির যথার্থ মূল্যায়নের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কেননা, সময়ের যথাযথ মূল্যায়নও ব্যবস্থাপনা ছাড়া মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব নয়। ইসলামী শরীআত এ কারণে সময় ব্যবস্থাপনাকে মানবজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করেছে। ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে সময়, সময়ের গুরুত্ব, সময় ব্যবস্থাপনা, মানুষের উভয় জীবনে সফলতার জন্য সময় ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব ও পদ্ধতি আলোচনার উদ্দেশ্যে অত্র প্রবন্ধটি প্রণীত হয়েছে। প্রবন্ধটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে বর্ণনা ও বিশ্লেষণমূলক পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। আলোচ্য গবেষণাকর্ম থেকে প্রমাণিত হয়েছে, সমসাময়িক সময় ব্যবস্থাপনা পরিভাষাটির মূল কথা হয়েছে। আলোচ্য ইসলাম প্রদান করেছে। ইসলাম নির্দেশিত যৌক্তিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিতে সময় ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন হলে মানুষের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত হতে পারে। মহান আল্লাহ তাঁর উত্তম সৃষ্টি মানুষকে অফুরন্ত ও অগণিত নিয়ামত দ্বারা পরিবেষ্টন করে রেখেছেন। তিনি এসব নিয়ামতের ব্যবহার ও উপভোগের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন। এর ভিত্তিতেই মানুষকে এসব নিয়ামত ব্যবহার করতে হয় এবং পরকালে সে সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।
সময় সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা কী বলেছেন তা জেনে নেই, সূরা ইউনুসের ৫নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘মহামহিম আল্লাহ সূর্যকে তৈরি করেছেন বিচ্ছুরিত আলোর উৎসরূপে আর চাঁদকে করেছেন জ্যোতির্ময় (সে আলোর প্রতিফলন)। তিনি চাঁদের কক্ষপথ ও কলাকাল নির্দিষ্ট করেছেন, যাতে তোমরা বছর দিন ও সময়ের হিসাব নির্ণয় করতে পারো। আল্লাহ এসব অনর্থক সৃষ্টি করেননি। জ্ঞানীদের জন্যে তিনি তাঁর বাণী বিশদভাবে বয়ান করেন।’
আল্লাহ তায়ালা সূরা ইউনুসের ১১নং আয়াতে বলেন, ‘পার্থিব ভালো জিনিস পাওয়ার জন্যে মানুষ যেভাবে তাড়াহুড়ো করে, আল্লাহ যদি মানুষের পাপের শাস্তিদানে সে-রকম হাড়াহুড়ো করতেন, তবে সহসাই তারা শেষ হয়ে যেত। তাই যারা বিশ্বাস করে না যে, পরকালে আমার সামন হাজির হতে হবে, তাদেরও আমি কিছু সময়ের জন্যে ছেড়ে দিয়ে রেখেছি, অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘনের মধ্যে উদভ্রান্তের ন্যায় ঘুরপাক খাওয়ার জন্যে।
মহান আল্লাহ অফুরন্ত নিয়ামতরাজির মধ্যে সময় হচ্ছে অন্যতম। নিশ্চয়ই সময়, দিন, রাত্রির সমন্বিত রূপ। সময় শব্দটি তিন অক্ষরের ছোট শব্দ হলেও এর ব্যাপ্তিকাল অনেক বড়। সৌর বছরে ৩৬৫ দিন আর চন্দ্র বছরে ৩৫৪ দিন। ঘণ্টার হিসাবে ২৪ ঘণ্টা এবং মিনিটের হিসাবের দিক দিয়ে ১৪৪০ মিনিট। এ সময় হতে এক ঘণ্টা বা এক মিনিট চলে যাওয়া মানে প্রকৃত পক্ষে জীবনের একটা মূল্যবান অংশ কমে যাওয়া। এ কারণে সময়ের যথাযথ ব্যবহার একান্ত অপরিহার্য। সময়ের সমষ্টিই জীবন। মানুষ তার দুনিয়ার জীবন কীভাবে অতিবাহিত করেছে আখিরাতে সে হিসাব প্রদান করতে হবে। এ কারণে সময়ের সদ্ব্যব্যবহারের জন্য এর যথার্থ ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। এ প্রয়োজনীয়তাকে সামনে রেখেই জন্ম হয়েছে সময় ব্যবস্থাপনা পরিভাষার।
বর্তমানে উন্নয়ন চিন্তার ক্ষেত্রে মানবসম্পদ উন্নয়ন ধারণাটি ব্যাপকভাবে আলোচিত। কেননা, সব ধরনের চিন্তার মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে মানবসম্পদ। তাকে কেন্দ্র করেই সব ধরনের উন্নয়ন চিন্তা পরিচালিত হয়। এ উন্নয়ন চিন্তার স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতার জন্য সময় ব্যবস্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত। ইসলাম মানুষের সার্বিক কল্যাণ, চিন্তা ও পরকালীন সুখ-সমৃদ্ধির বিষয় সামনে রেখে মানুষকে সময়ের গুরুত্ব অনুধাবন, এর সদ্ব্যবহার ও ফলপ্রসূ ব্যবস্থাপনার নির্দেশ প্রদান করে। আরবিতে সময়ের প্রতিশব্দ ওয়াক্তুন। এর বহুবচন আওক্বাতুন। ইংরেজিতে সময়ের প্রতিশব্দ Time, period, hour। সময় বা কাল একটি পুরাতন পরিভাষা। তা দ্বারা ভিন্ন ভিন্ন নির্দিষ্ট মেয়াদে নানা ঘটনার অতিক্রমকে বোঝানো হয়। এ কারণে এ সময় থেকে যা অতিক্রান্ত হয় তা আর কখনো ফিরে আসে না। সময় হচ্ছে এই সংক্ষিপ্ত দুনিয়াতে মানুষের প্রধান সম্পদ। এটা তার আয়ূষ্কালের সংক্ষিপ্ত রূপ এবং তার কাঁধে একটা বড় দায়িত্ব। যদি সে সময়ের দ্বারা উপকৃত হয়, তাহলে সে তার উত্তম প্রতিফল পেল। আর যদি সে তার কাঁধে সময় নামক অর্পিত বস্তুর আমানত ও দায়িত্ব পালনে খেয়ানত করে, তাহলে সে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সূরা হজের ৫নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি যে শুক্রাণুকেই ইচ্ছা করি, নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত জরায়ুতে স্থিতিশীল রাখি। তারপর শিশুরূপে ভূমিষ্ঠ করি। তারপর কালক্রমে পরিণত বয়সে উপনীত করি। যৌবন আসার আগেই কারো কারো মৃত্যু হয়, আবার কাউকে কাউকে নিষ্কর্ম বয়স পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখা হয়।’ সময় হলো একটি মানদন্ড, যেখানে ঘটনাসমূহ অতীত থেকে বর্তমান হয়ে ভবিষ্যতের পানে বা অতীত বর্তমান ভবিষ্যতে সন্নিবেশ করা যায় এবং ঘটনাসমূহের ব্যাপ্তিকাল ও তাদের মধ্যকার বিরামকালের ও পরিমাপক। মানবজাতির জীবন পরিচালনার আদর্শ গাইডলাইন মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে সময় অপচয় ও অনর্থক কাজে ব্যয় করার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এমনকি আল্লাহতায়ালা সময় বোঝানোর জন্য কুরআনে অনেক প্রতিশব্দ ব্যবহার করে এর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, তিনি সূর্যকে করেছেন তেজোদ্দীপ্ত, আর চন্দ্রকে করেছেন আলোকময়। আর তার (হ্রাস-বৃদ্ধির) মানযিলসমূহ সঠিকভাবে নির্ধারণ করেছেন, যাতে তোমরা (এ নিয়ম দ্বারা) বছরের গণনা এবং দিন তারিখের হিসাবটা জানতে পার; (আসলে) আল্লাহতায়ালা যে এসব কিছু সৃষ্টি করে রেখেছেন (তার) কোনটাই তিনি অনর্থক সৃষ্টি করেনটি; যারা (সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে) জানতে চায় তাদের জন্যে আল্লাহতায়ালা তাঁর নির্দেশগুলোকে সুস্পষ্ট করে বর্ণনা করেন।
আল্লাহতায়ালা আরো বলেন : কালের শপথ। মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে ডুবে আছে। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের অনেক স্থানে তা বুহ সৃষ্টিকে নিয়ে কসম করেছেন, এতে এগুলোর মর্যাদা অনেক বেড়ে গেছে। তেমনি সময় নিয়ে কসম করায় এটি প্রত্যেক মানুষের জন্য কতগুণ গুরুত্বপূর্ণ তা সহজেই অনুমেয়। আল্লাহতায়ালা আরো বলেন : আমি রাত আর দিনকে দুটো নিদর্শন বানিয়েছি। আমি রাতের নিদর্শনকে জ্যোতিহীন করেছি, আর দিনের নিদর্শনটিকে করেছি আলোয় উজ্জ্বল, যাতে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ অনুসন্ধান করতে পার। আর যাতে বছরের সংখ্যা ও হিসাব জানতে পার; আমি সকল বিষয় বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে দিয়েছি। সময়ের সাথে রয়েছে হিসাববিজ্ঞান (Accounting) ও জ্যোতিবিদ্যার (Astronomy) অনন্য সম্পর্ক। কুরআনে সময়ের কথা উল্লেখ করতে যেয়ে আল্লাহতায়ালা একাধিক স্থানে এই দুই জ্ঞানের কথা উল্লেখ করেছেন।
আল্লাহতায়ালা বলেন : আর তিনি দিবা রাত্রিকে পরস্পরে অনুগামী করেছেন। যে উপদেশ গ্রহণ করতে চায় অথবা কৃতজ্ঞ হতে চায় তার জন্য। আল্লাহতায়ালা আরো বলেন : তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে তোমাদের কাজে লাগিয়ে রেখেছেন, তারা অনুগত হয়ে নিজ নিজ পথে চলছে। আর তিনি রাত ও দিনকে তোমাদের কাজে লাগিয়ে রেখেছেন। আল্লাহ আরো বলেন : সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চন্দ্রের নাগাল পাওয়া এবং রজনীর পক্ষে সম্ভব নয় দিবসকে অতিক্রম করা এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ কক্ষপথে চলছে। আল্লাহ আরো বলেন : নিশ্চয়ই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃজনে এবং দিবস রাত্রির পরিবর্তনের জ্ঞানবানদের জন্যে স্পষ্ট নির্দেশাবলী রয়েছে। আল্লাহ আরো বলেন : আর এ দিনগুলোকে আমি মানুষের মধ্যে আবর্তিত করে থাকি। আল্লাহ আরো বলেন : আল্লাহ দিবস ও রাত্রির পরিবর্তন ঘটান, এতে শিক্ষা রয়েছে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য।
আল্লাহ আরো বলেন : সূর্য ও চন্দ্র নির্ধারিত হিসাবের অধীনে। আল্লাহ আরো বলেন : তারা তোমাকে নতুন চাঁদসমূহ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করছে। তুমি বল, এগুলো হচ্ছে জনসমাজের ও হজের সময় নিরূপক…। আল্লাহ আরো বলেন : মানুষের উপর অন্তহীন মহাকালের এমন এক সময় কি এসেছিল, যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না। আল্লাহ আরো বলেন : তিনিই তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন রজনী, দিবস, সূর্য এবং চন্দ্রকে; আর নক্ষত্ররাজিও অধীন হয়েছে তাঁরই হুকুমে; অবশ্যই এতে বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন। আল্লাহতায়ালা মানুষকে সময়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বোঝানোর জন্য আল-কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় সময়ের কসম করেছেন।
যেমন : শপথ রজনী, যখন তা আচ্ছন্ন হয়ে যায়, শপথ দিনের, যখন তার আলোকিত হয়। আল্লাহ আরো বলেন : শপথ ফজরের, শপথ দশটি রাতের। আল্লাহ আরো বলেন : সকালের উজ্জ্বল আলোর শপথ, রাতের শপথ যখন তা হয় শান্ত নিঝুম। মহান আল্লাহ কোন তুচ্ছ বিষয়কে নিয়ে শপথ করেন না। আর তার সময়কে নিয়ে কসম করাতে সময়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। মহানবী (সা.) সময়কে গুরুত্ব দিতে এবং একে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে অনেক তাকিদ দিয়েছেন। এমনকি তিনি সর্তক করে দিয়েছেন, প্রতিটি মানুষকে সময়ের হিসাব কিয়ামতের দিন দিতে হবে। তিনি আরো বলেন : কিয়ামতের দিন কোন বান্দা চারটি প্রশ্নের উত্তর না দেয়া পর্যন্ত সামনে যেতে পারবে না- সে তার জীবনকালে কোন কাজে ব্যয় করেছে, তার যৌবনকাল কোথায় ক্ষয় করেছে, তার সম্পদ কোথা থেকে আয় করে কোথায় ব্যয় করেছে এবং তার অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী সে আমল করেছে কি না। উল্লিখিত হাদীসের চার বিষয়ই সময়ের সাথে সম্পর্কিত।
সূরা কলমের ৪৪নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে নবী! যারা আমার সত্যবাণীকে প্রত্যাখ্যান করেছে তাদের বিষয়টি আমার হাতে ছেড়ে দাও। আমি একে একে এমনভাবে ওদের শক্তি ক্ষয় করে দেবো যে, ওরা বুঝতেও পারবে না। যদিও আমি সময় ও সুযোগ দিয়ে থাকি, কিন্তু আমার সূক্ষ্ম কৌশল অত্যন্ত কার্যকর।’
সূরা মুজাম্মিলের ২-৪নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘ তুমি রাতে প্রার্থনার জন্যে দাঁড়াও, রাতের অর্ধেক বা তার চেয়ে কিছু কম বা কিছু বেশি সময় নিয়ে। তুমি সে সময় কোরআন তেলাওয়াত করো শান্তভাবে, সুস্পষ্ট উচ্চারণে, অর্থের প্রতি মনোযোগী হয়ে।’কোরআন মাজীদ এ বিষয়ে শতাধিক জায়গায় আলোকপাত করেছে। আখেরাত অস্বীকারকারীদের সেসমস্ত দুর্বোধ্যতা ও যুক্তিহীন কাল্পনিক প্রশ্নের অবসান ঘটিয়েছে। এ প্রসঙ্গে কয়েকটি আয়াতও পড়ে দেখুন।
সূরা ইয়াসিনের একেবারে শেষাংশে আখেরাত সম্পর্কে সেসস্ত কাল্পনিক সন্দেহ-সংশয়ের জবাবদান প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালার পরিপূর্ণ কুদরতের উদ্ধৃতি দিয়ে মুশরেকিনদের বুদ্ধিকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, ‘সেই একক ক্ষমতার অধিকারী যিনি আসমান, জমিন (এবং তন্মমধ্যস্থিত যাবতীয় বস্তুকে) সৃষ্টি করেছেন তিনি কি এ ক্ষমতা রাখেন না যে, এমনি ধরনের আবারো সৃষ্টি করবেন? নিঃসন্দেহে তিনি সে ক্ষমতা রাখেন। তিনি অসংখ্য সৃষ্টির স্রষ্টা এবং সর্বজ্ঞ। তার মহিমা তো এ রকম যে, তিনি যখনই কোনো কিছু সৃষ্টি করতে চান, তখন শুধু বলেন, ‘হয়ে যাও’ আর অমনি তা হয়ে যায়।’ (সূরা ইয়াসিন : আয়াত-৮১-৮২)। অর্থাৎ কোনো বস্তুকে অস্তিত্ব দান করতে এবং সৃষ্টি করতে শুধুমাত্র তার ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ই যথেষ্ট। এমতাবস্থায় নিজেরই সৃষ্ট কোনো সৃষ্টিকে একবার মৃত্যু দান করার পর পুনর্বার জীবিত করে দেয়া তার জন্য কঠিন কিছু নয়।
সূরা রূমে বলা হয়েছে, ‘তিনিই সৃষ্টিজগৎকে প্রথমবার সৃষ্টি করেন, তারপর আবার তিনিই তাকে সৃষ্টি করবেন। আর (বলা বাহুল্য) একবার সৃষ্টি করার পর পুনরায় সৃষ্টি করা তার পক্ষে অনেক বেশি সহজ। আর আসমান ও জমিনে তার মহিমা সর্বোচ্চ। তিনি বড়ই পরাক্রমশীল (একক ক্ষমতাশীল) ও প্রজ্ঞাময়।’ (সূরা রূম : আয়াত ২৭)। সূরা হজ্জে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মানুষগণ কেয়ামত এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থান সম্পর্কে যদি তোমাদের কোনো সন্দেহ-সংশয় থেকে থাকে, তা হলে (ভেবে দেখো) আমি তোমাদের তৈরি করেছি মাটির দ্বারা, অতঃপর বীর্যের দ্বারা, অতঃপর জমাট রক্তপিন্ড থেকে, অতঃপর পূর্ণাকৃতি ও অপূর্ণাকৃতি খন্ড থেকে, যাতে আমি তোমাদের সম্মুখে আমার ক্ষমতা প্রকাশ করে দিতে পারি। আর আমি যে বীর্যকে ইচ্ছা জরায়ুতে স্থিতি দান করি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত। তারপর বের করে আনি তোমাদেরকে শিশু বানিয়ে, যাতে অতঃপর তোমরা পরিপূর্ণ যৌবনে পৌঁছাতে পারো। আর তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ থাকে যাদেরকে তুলে নেয়া হয় (যৌবনেই)। আবার কেউ কেউ থাকে যাদেরকে পৌঁছানো হয় (বার্ধক্যপূর্ণ) অথর্ব বয়স পর্যন্ত। (তার পরিণতি হয় এই যে,) জ্ঞান ও প্রজ্ঞা লাভের পর পুনরায় তারা (সঙ্কুচিত হয়ে) জ্ঞানে খর্ব হয়ে থেকে যায়। আর মৃত্যু পরবর্তী জীবনের আরেকটি প্রমাণ হলো এই যে, তোমরা দেখে থাকো, ভ‚মিকে বিশুদ্ধতার পর যখন তার ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করি, তখন যেটি সজীব হয়ে উঠে, শস্যশ্যামল হয়ে যায় এবং নানা রকম সবুজ গাছ-গাছালি অঙ্কুরিত করে। এসব প্রক্রিয়া এজন্য যে, আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্ব সত্য। (আর যাতে তোমরা নিজের চোখে দেখে বুঝতে পারো যে,) তিনিই মৃতদের জীবনদাতা এবং সর্ববিষয়ে পরিপূর্ণ সক্ষম। আরো যেন বুঝতে পারো যে, অবশ্যই কেয়ামত সমাগত। এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর নিশ্চিতই আল্লাহ তায়ালা পুনরায় জীবিত করে তুলবেন কবরে সমাহিত মৃতদেরকে।’ (সূরা হজ্জ : আয়াত ৫-৭)।
কোরআনে বর্ণিত এসব আয়াতের সারসংক্ষেপ এটাই যে, মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করার বিষয়টিতে সন্দিহান কিন্তু তা বুঝার ইচ্ছা পোষণকারী মানুষ যদি নিজের সৃষ্টি ও জন্মের ব্যাপারে এবং তার শৈশব থেকে শুরু করে বার্ধক্য পর্যন্ত নিজের জীবনের এসব ক্রমবিবর্তন সম্পর্কে চিন্তা করে, যাতে তার কোনো অধিকার চলে না এবং যা শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার হুকুমে হয়ে থাকে। তেমনিভাবে সে যদি ভ‚মির এই বিবর্তন সম্পর্কে চিন্তা করে যে, এক ঋতুতে তা সম্পূর্ণ বিশুষ্ক, নিষ্প্রাণ ও মৃত অবস্থায় পড়ে থাকে এবং তাতে জীবনের কোনো চমক বা কোনো তরঙ্গ দেখা যায় না; কিন্তু তারপর যখন আল্লাহর স্বীয় রহমতের পানি তার ওপর বর্ষণ করেন, তখন সেই মৃত ভ‚মির ভেতর থেকে জীবন ও সজীবতা শস্যের আকারে নির্গত হয়ে যায়। (মোট কথা, মানুষ যদি নিজের অস্তিত্ব এবং নিজের পায়ের তলার ভ‚মির এসব বিবর্তন নিয়ে সত্যিকার একজন জ্ঞানান্বেষীর মতো চিন্তাভাবনা করে,) তা হলে মৃত্যুর পর পুনরুত্থান আর কেয়ামতের ব্যাপারে তার কোনো সন্দেহ-সংশয় থাকতেই পারে না।পবিত্র কোরআনে সূরা মুনাফিকুন – এর ১০ ও ১১ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ’মুমিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। যারা এ কারণে গাফেল হয়, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত। আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় কর। অন্যথায় (মৃত্যু আসলে) সে বলবে: হে আমার পালনকর্তা, আমাকে আরো কিছুকাল অবকাশ দিলেন না কেন? তাহলে আমি সদকা করতাম এবং সৎকর্মীদের অন্তর্ভূক্ত হতাম। প্রত্যেক ব্যক্তির যখন নির্ধারিত সময় উপস্থিত হবে তখন আল্লাহ কাউকে অবকাশ দেবেন না। তোমরা যা কর, আল্লাহ সে বিষয়ে খবর রাখেন’।
এখানে একথা জেনে রাখা দরকার, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সমগ্র বিশ্বের স্রষ্টা ও অধিপতি। আকাশও তাঁর সৃষ্টি এবং অধিকারভুক্ত। তিনিই সবকিছুর মালিক। তাঁর কোন কথা, তাঁর কোন কাজের ওপর কারো কোন প্রশ্ন করার অধিকার নেই। পবিত্র কোরআনের সূরা আ’রাফের ১৭২ নং আয়াতে আছে, ’আর যখন তোমার পালনকর্তা বনী আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে বের করলেন তাদের সন্তানদেরকে এবং নিজের ওপর তাদের প্রতিজ্ঞা করালেন, ’আমি কি তোমাদের পালনকর্তা নই? তারা বলল, অবশ্যই। আমরা অঙ্গীকার করছি; আবার না কিয়ামতের দিন বলতে শুরু কর যে, এ বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না’।
একথা জেনে রাখা দরকার, রাব্বুল আলামীন মহান আল্লাহ হযরত আদম (আলাইহিস্ সালাম)কে সৃষ্টি করার পর আদম (আলাইহিস সালাম) – এর পৃষ্ঠদেশ থেকে কিয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী সমস্ত বংশধরদের রূহ সৃষ্টি করলেন এবং তাদের জ্ঞান ও বাকশক্তি দিয়ে আল্লাহ তায়ালা রুবুবিয়্যাত তথা আল্লাহ তায়ালাই একমাত্র রব (প্রভু) – এ কথার স্বীকৃতি এভাবে নিয়েছেন ’আলাস্তু বি রাব্বিকুম’ অর্থ্যাৎ ’আমি কি তোমাদের প্রভু নই’? সমস্ত রূহেরা জবাব দিল, ’বালা’ হা’ অবশ্যই। এ আলমে আরওয়াহ তথা রূহের জগতের স্বীকৃতি থেকে মানব জাতির প্রথম সফর শুরু হয়। ’আলাস্তু’ সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির এটাই সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ।
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। আর একথা চিরসত্য যে, জন্ম হচ্ছে মৃত্যুর সংবাদদাতা। আর জীব মাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। পবিত্র কোরআনের সূরা আম্বিয়ার ৩৫ নং আয়াতে আছে, ’জীব মাত্রই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে’। এ আয়াতে ’নফস’- বলে পৃথিবীর জীব বোঝানো হয়েছে। আর তাদের সবার মৃত্যু অপরিহার্য।
এছাড়া সূরা ক্বাফ এর ১৯ নং আয়াতে আছে, ’মৃত্যু যন্ত্রণা নিশ্চিত আসবে। এ থেকেই তুমি টালবাহানা করতে’।
মৃত্যুর পর মানুষের কিয়ামত শুরু হয়ে যায়। মৃত্যুর পর কোন মানুষ আর দুনিয়াতে ফেরত আসে না। পবিত্র কোরআন ও হাদীস শরীফে মৃত্যুর কষ্ট ও ভয়াবহতা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা আছে।
মহানবী সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ’আমার উম্মতের হায়াত ৬০ থেকে ৭০ বছরের মাঝে’ (তিরমিযী)। বস্তুত: দুনিয়ার জীবন আখেরাতের তুলনায় একেবারেই সংকীর্ণ। আর আখেরাতের জীবন অনন্ত, অসীম ও চিরন্তন।
প্রতি মূহুর্তে মানুষ মৃত্যু আশংকার সম্মুখীন
পবিত্র কোরআনের সূরা আম্বিয়ার ১ নং আয়াতে আছে, ’মানুষের হিসাব-কিতাবের সময় নিকটবর্তী, অথচ তারা বেখবর হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে’। প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীকে চিন্তা করতে হবে যে, আমার হিসাব-নিকাশের সময় আসন্ন, আমার অন্যমনস্ক কিংবা উদাসীন হওয়া মোটেই সমীচীন হবে না। কেননা উল্লেখিত এ আয়াতের দ্বারা বুঝা যায়, মানুষের কাছ থেকে তাদের কৃতকর্মের হিসাব নেয়ার দিন ঘনিয়ে এসেছে। এখানে পৃথিবীর বিগত বয়সের অনুপাতে ঘনিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে। কারণ, এই উম্মতই হচ্ছে সর্বশেষ উম্মত। যদি ব্যপক হিসেব ধরা হয়, তবে কবরের হিসেবও এতে শামিল রয়েছে। প্রত্যেক মানুষকে মৃত্যুর পরমূহুর্তেই এই হিসেব দিতে হয়। এজন্য প্রত্যেকের মৃত্যুকে তার কিয়ামত বলা হয়েছে।
হাদীস শরীফে আছে, ’কবরে মুনকার-নাকীর ফেরেশতা তিনটি প্রশ্ন করবে: ১. তোমার রব কে? ২. তোমার দ্বীন কি ছিল? ৩. তোমার নবী কে’? সত্যিকার মুমিন ব্যক্তি সেই ৩টি প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে দিতে পারবে। আল্লাহ আমাদের সকলকে মুনকার-নাকীরের প্রশ্নের জবাবগুলো সঠিকভাবে দেয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।ইন্নাল হামদা লিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। ওয়াসসালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিহিল কারীম। ওয়া আলা আলিহি ওয়া আসহাবিহি আজমাঈন।
‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে ও পরিবারবর্গকে আগুন (জাহান্নাম) থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। সেখানে অত্যন্ত কর্কশ, রূঢ় ও নির্মম স্বভাবের ফেরেশতা নিয়োজিত থাকবে, যারা কখনই আল্লাহর কথা অমান্য করে না এবং নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে’ (তাহরীম ৬)।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘‘প্রতিটি প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর অবশ্যই কিয়ামতের দিনে তাদের প্রতিদান পরিপূর্ণভাবে দেওয়া হবে। সুতরাং যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সে-ই সফলতা পাবে। আর দুনিয়ার জীবন শুধু ধোঁকার সামগ্রী।’’ (আলে-ইমরান : ১৮৫)
পিতা-মাতা তাদের সন্তানদেরকে শিক্ষা দানের জন্য শুধু স্কুলে পাঠিয়েই ক্ষান্ত হন না; বরং ক্লাসের পরে প্রাইভেট, কোচিং ইত্যাদির মাধ্যমে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিভাবকরা কি কখনো চিন্তা করে দেখেছেন যে, তাদের সন্তানদেরকে জাহান্নামের দাউ দাউ করা আগুন থেকে বাঁচাতে হবে?
আল্লাহ দুআ শিক্ষা দিয়েছেন- ‘‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ইহকালে কল্যাণ দান করো এবং পরকালেও কল্যাণ দান কর। আর আমাদেরকে জাহান্নামের থেকে রক্ষা কর।’’