রামপালের তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ

প্রকাশঃ ২০২৬-০৯-১৬ - ২১:১১

নিউজ ডেস্ক : বাগেরহাটের রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে শুরু হয়েছে লোডশেডিং। পাশাপাশি খুলনা ও বরিশালসহ ওজোপাডিকোর আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে লোডশেডিং। বিশেষ করে খুলনা অঞ্চলে এক ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। এতে জনজীবনে ভোগান্তি নেমে এসেছে।

যান্ত্রিক ও কারিগরি ত্রুটির কারণে গত রবিবার সকালে ইউনিটটি বন্ধ করা হয়। ত্রুটি মেরামতে ভারত থেকে দুই জন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আসার কথা থাকলেও বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল পর্যন্ত তারা এসে পৌঁছাননি। তাদের আসতে আরও দুই-এক দিন সময় লাগতে পারে। ফলে কেন্দ্রটির উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও তিন-চার দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ওজোপাডিকোর বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় ওজোপাডিকোর আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৮০৭ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৬২৯ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং ছিল ১২৯ মেগাওয়াট। এর মধ্যে খুলনা জোনে ৬১৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ৪৯৪ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ১২৪ মেগাওয়াট। বরিশাল জোনে ১৮৯ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৩৫ মেগাওয়াট; লোডশেডিং হয় ৫৪ মেগাওয়াট।

জোনভিত্তিক হিসাবে খুলনায় ৫৬ মেগাওয়াট, মাগুরায় ৮, কুষ্টিয়ায় ১৩, ঝিনাইদহে ১১, চুয়াডাঙ্গায় ৬, ফরিদপুরে ৬, রাজবাড়ীতে ১২, মাদারীপুরে ৬, শরীয়তপুরে ২, গোপালগঞ্জে ৪, বরিশালে ৩১, ঝালকাঠিতে ৫, পিরোজপুরে ৩, পটুয়াখালীতে ৬, বরগুনায় ৩ এবং ভোলায় ৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল।

এর আগের দিন মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় ওজোপাডিকোর আওতাধীন এলাকায় ৭৪৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল ৭১৭ মেগাওয়াট। ওই সময় লোডশেডিং ছিল ৩০ মেগাওয়াট। খুলনা জোনে ৫৮০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৫৫৪ মেগাওয়াট সরবরাহ হওয়ায় ২৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল। বরিশাল জোনে ১৬৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৬৩ মেগাওয়াট; লোডশেডিং ছিল ৪ মেগাওয়াট।

ওই সময়ে মাগুরায় ৪ মেগাওয়াট, নড়াইলে ১, ফরিদপুরে ৬, রাজবাড়ীতে ১০, মাদারীপুরে ৩, শরীয়তপুরে ২, পটুয়াখালীতে ২ এবং ভোলায় ২ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল।

তবে ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টায় ওজোপাডিকোর আওতাধীন এলাকায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল। ওই সময়ে মোট চাহিদা ছিল ৭৭৮ মেগাওয়াট এবং সমপরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ফলে কোনও লোডশেডিং ছিল না। খুলনা জোনে ৫৯৬ মেগাওয়াট এবং বরিশাল জোনে ১৮২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পুরো সরবরাহ দেওয়া হয়েছিল।

উৎপাদন কমেছে ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি

ভারত-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে নির্মিত রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে পর্যাপ্ত কয়লার মজুত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। কিন্তু বয়লার অতিরিক্ত গরম হওয়া ও অভ্যন্তরীণ কারিগরি ত্রুটির কারণে গত রবিবার সকালে ২ নম্বর ইউনিট পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এতে কেন্দ্রটির সার্বিক উৎপাদন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি থেকে কমে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। অর্থাৎ এক ইউনিট বন্ধ থাকায় উৎপাদন কমেছে ৫০০ মেগাওয়াটেরও বেশি।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘ভারতীয় বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা এসে পৌঁছালে বয়লারের মেরামতের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এরই মধ্যে দেশীয় প্রকৌশলীরা বয়লারের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির শতভাগ উৎপাদন স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে।’

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটটি বর্তমানে ‘কুল ডাউন’ বা ঠান্ডা করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

এদিকে রামপালের একটি ইউনিট হঠাৎ বন্ধ হয়ে উৎপাদন কমে যাওয়ায় খুলনা অঞ্চলে লোডশেডিং বেড়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দ্রুত মেরামতের কাজ শেষ করে ২ নম্বর ইউনিটটি পূর্ণ উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকেরা।