ইস্পাহানি গ্রুপের বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার মামলা

রিটন দে, চট্টগ্রাম :চট্টগ্রামের অন্যতম ও বেশ প্রাচীন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে একটি ইস্পাহানী গ্রুপ। দিনে দিনে ব্যবসার পরিধি বেড়ে টেক্সটাইল, সিকিউরিটিজ, রিয়েল এস্টেট, ক্রিস্পস, পোল্ট্রি, শিপিং, বেকারি পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে এই শিল্পগ্রুপের আছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। এই গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠান প্রায় দেড় কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। ভ্যাট ফাঁকি দিতে ইস্পাহানী গ্রুপ ১৮ কোটি ২৭ লাখ টাকার পণ্য বিক্রির তথ্য গোপন রেখেছিল। ভ্যাট নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এ ঘটনায় ওই চার প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ইস্পাহানী গ্রুপের সদরদপ্তর চট্টগ্রামে হলেও ঢাকা এবং খুলনায় তাদের কর্পোরেট অফিস রয়েছে।

ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান জানান, বিক্রির প্রকৃত তথ্য গোপন করে ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ায় ইস্পাহানী গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া প্রতিষ্ঠান চারটি হচ্ছে— চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার মোড়ের দি অ্যাভিনিউ হোটেল অ্যান্ড স্যুটস (ভ্যাট নিবন্ধন নং-১৯০৯৮৭৪-০৫০৩) ও পিটস্টপ সুইটস অ্যান্ড বেকারি (ভ্যাট নিবন্ধন নং-০০০০১৮৪৮৮-০৫০৩), পিটস্টপ শো-রুম (ভ্যাট নিবন্ধন নং-০০১৯০৯৮৩৮-০৫০৩) এবং পিটস্টপ সুপার স্টোর (ভ্যাট নিবন্ধন নং- ০০১৯০৯৮৩৮-০৫০৩)।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর ভ্যাট ফাঁকির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্যাট গোয়েন্দা উপ-পরিচালক তানভীর আহমেদ ও সহকারী পরিচালক মো. মহিউদ্দীনের নেতৃত্বে ভ্যাট গোয়েন্দারা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিযান চালায়।

ভ্যাট গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পগ্রুপ ইস্পাহানী গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানে ১৮ কোটি ২৭ লাখ টাকার পণ্য বিক্রির হিসাব গোপন করার তথ্য উদঘাটন করা হয়। এ হিসেবে সুদসহ প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইস্পাহানী গ্রুপের মালিকানাধীন দি এভিনিউ হোটেল অ্যান্ড স্যুটস ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দাখিলপত্রে বিক্রয়মূল্য দেখিয়েছে ৮৭ লাখ ৭২ হাজার ১৪৬ টাকা। কিন্তু জব্দ করা কম্পিউটার থেকে প্রকৃত বিক্রয়মূল্য পাওয়া গেছে ১ কোটি ২৯ লাখ ৯৩ হাজার ৮১৪ টাকা। এক্ষেত্রে ৪২ লাখ ২১ হাজার ৬৬৮ টাকার তথ্য গোপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ৬ লাখ ৩৩ হাজার ২৫০ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। ভ্যাট আইন অনুযায়ী এর সুদ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫৬৯ টাকা।

একইভাবে পিটস্টপ সুইটস অ্যান্ড বেকারি ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। সেখানে সুদ এসেছে আরও ৭ লাখ ২১ হাজার ১২৬ টাকা।

অন্যদিকে পিটস্টপ শো-রুম ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪৪ লাখ ৩২ হাজার ৪২১ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। মাসিক ২ শতাংশ হারে সেখানে সুদ এসেছে আরও ৪১ লাখ ৭১ হাজার ৯১৪ টাকা।

এছাড়া পিটস্টপ সুপার স্টোর ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ১০১ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। ভ্যাট আইন অনুযায়ী এর সুদ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ১৪ হাজার টাকা।

আপনার মতামত জানানঃ