সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায়

তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের বিনেরপোতা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় রামকৃঞ্চ দেবনাথ (৫০) নামের এক পান ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। তিনি সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের বিঞ্চুপদ দেবনাথের ছেলে। বুধবার (৬ মে) সকালে তালা ও সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী বিনেরপোতা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
সদর থানার এস আই হাসানুর রহমান স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, সকালে রামকৃঞ্চ দেবনাথ পান কিনতে বাইসাইকেলে করে তালার পাটকেলঘাটা বাজারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ঋ-শিল্পির সামনে পিছন থেকে একটি মোটরসাইকেল ওভারটেক করতে গিয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে দু’জনেই রাস্তায় পড়ে আহত হন। পথচারীরা তাদেরকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসার এক পর্যায়ে রামকৃঞ্চ দেবনাথ মারা যান।

মসজিদে নামাজ আদায়ে মুসল্লিদের যেসব শর্ত মানতে হবে

ঢাকা অফিস : আগামীকাল থেকে সারা দেশের মসজিদগুলো সাধারণ মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হচ্ছে। তবে, মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়ে বেশ কিছু শর্ত মানতে হবে মুসল্লিদের।

শর্ত সাপেক্ষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার জোহরের ওয়াক্ত থেকে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় করতে পারবেন মুসল্লিরা। আজ বুধবার (৬ই মে) এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনার কারণে সারাদেশে বন্ধ ঘোষণা ও জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ৪ঠা এপ্রিল এবং ২৩শে এপ্রিল বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মসজিদসমূহে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা এবং রমজান মাসের তারাবির জামাত সীমিত আকারে আদায়ের জন্য নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামারা পবিত্র রমজানুল মোবারক মাসের গুরুত্ব বিবেচনা করে মসজিদে নামাজ আদায়ের শর্ত শিথিল করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর জোর দাবি জানিয়েছেন।

সম্প্রতি সরকার সার্বিক বিবেচনায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে বন্ধ ঘোষণার নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জারি করা নির্দেশাবলী অনুসরণ করে বিশেষ সতর্কতামূলক বিষয়াদি মেনে চলার শর্তে ৭ মে জোহরের ওয়াক্ত থেকে সুস্থ মুসল্লিদের মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়ের সুযোগ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুসারে যেসব শর্ত মানতে হবে-

১. মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।

২. মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা সাবান-পানিসহ হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং আগত মুসল্লিদের অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে।

৩. প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে অজু করে সুন্নত নামাজ আদায় করে মসজিদে আসতে হবে। অজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

৪. কাতারে নামাজে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব অর্থাৎ তিন ফুট পরপর দাঁড়াতে হবে।

৫. এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে।

৬. শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামাতে অংশ নিতে পারবেন না।

৭. সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদের অজুখানায় সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

৮. সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

৯. মসজিদে ইফতার ও সেহরির আয়োজন করা যাবে না।

১০. উল্লিখিত শর্ত পালন সাপেক্ষে প্রত্যেক মসজিদে সর্বোচ্চ পাঁচজন নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ইতেকাফের জন্য অবস্থান করতে পারবেন।

১১. করোনাভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নামাজ শেষে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করার জন্য খতিব ও ইমামদের অনুরোধ করা যাচ্ছে।

১২. খতিব ইমাম এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উল্লিখিত নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

মোল্লাহাটে গাঁজার গাছসহ মাদক কারবারী আটক

মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি :খুলনা র‌্যাব-৬ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোল্লাহাট উপজেলার চরকুলিয়া গ্রামের জনৈক তুহিন আহম্মেদ এর বাড়িতে মাদ্রক দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের খবর পায়। এরুপ সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাত আড়াইটায় উক্ত স্থানে অভিযান পরিচালনা করে মোঃ তুহিন আহম্মেদ রাজু হাওলাদার (২৬)’কে আটক করে। রাজু ওই গ্রামের মৃত রমজান আলী হাওলাদারের ছেলে।
ওই বাড়িতে রোপনকৃত ও নিজ হেফাজতে থাকা ছোট ও বড় ৪টি তাঁজা গাঁজা গাছ পাওয়া যায়। এলাকাবাসী জানায়, তুহিন দীর্ঘদিন ধরে গাঁজার গাছ রোপন করে নিজ হেফাজতে রেখে চাষাবাদ এবং ক্রয়-বিক্রয় ও সেবন করতো। আটকের পর রাজুকে মোল্লাহাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এসংবাদ লেখা পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য আইনে মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।

মানবদেহে পরীক্ষার অনুমোদন পেল ১০৮টি ভ্যাকসিন: ডব্লিউএইচও

আন্তর্জাতিক : বিশ্বে পরীক্ষামূলক ১০৮টি ভ্যাকসিনের মধ্যে ৮টিকে মানবদেহে প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পাওয়া আটটি ভ্যাকসিনের মধ্যে পাঁচটিই চীনের। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে একটি করে ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চলছে। অপরটি একটি ভ্যাকসিন যৌথভাবে তৈরির কাজ করছে জার্মান কোম্পানি বায়োএনটেক ও যুক্তরাষ্ট্রের বায়োটেক কোম্পানি পিজফার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, গোটা বিশ্বে শতাধিক গবেষক দল মহামারি করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন উন্নয়নে কাজ করছে। গেল এপ্রিলের শেষ নাগাদ পর্যন্ত ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে গবেষক দল ছিল ১শ’ ৪টি। কয়েক মাস ধরে ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চললেও প্রত্যাশিত ভ্যাকসিন এখন পর্যন্ত কেউ তৈরি করতে পারেনি।

পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিনগুলোর কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তবেই বাজারে আসবে।

আটোয়ারীতে এতিম শিক্ষার্থীদের খাদ্য সহায়তা প্রদান

মনোজ রায় হিরু, আটোয়ারী(পঞ্চগড়) : পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের “ বামনকুমার আলহাজ্ব খোষ মোহাম্মদ সরকার নূরানী হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা লিল্লাহ বোডিং” এর ৭২জন এতিম শিক্ষার্থীকে খাদ্য সহায়তা করা হয়েছে। মাদরাসা পরিচালনা কমিটির উদ্দ্যেগে ৬মে মাদরাসা প্রাঙ্গণে ৭২জন এতিম শিক্ষার্থীর মাঝে খাদ্য সামগ্রীর একটি করে প্যাকেজ বিতরণ করেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ও আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ তৌহিদুল ইসলাম। বিতরণকালে সহযোগিতা করেন মাদরাসার সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ ওবায়দুর রহমান, সুপার হাফেজ মোঃ শাহাজাহান আলী, সদস্য আলহাজ্ব মোঃ তাজুল ইসলাম, মোঃ জিয়াউর রহমান প্রমুখ। প্রতি প্যাকেজে ১৫ কেজি চাল, ৫কেজি আলু, ১কেজি মুশারী ডাল, ১লিটার সোয়াবিন তেল, ১ কেজি চিনি, আধা কেজি সেমাই, ২টা করে কাপড় কাচা সাবান ছিল। মাদরাসার সভাপতি বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে মাদরাসা বন্ধ রয়েছে এবং এতিম শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে। এ দুর্যোগে তাদের খাদ্য সহায়তা দেয়া আমাদের দায়িত্ব। পাশাপাশি যেহেতু মাদরাসা ও এতিমখানাটি সমাজসেবা থেকে নিবন্ধনকৃত সেহেতু সমাজসেবা দপ্তরের পরামর্শ নিয়ে প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে এতিম শিক্ষার্থীদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হলো। #

করোনায় পাশে না থাকায় দাকোপে বিরোধী রাজনৈতিক দলের দ্বায়বদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ

আজগর হোসেন ছাব্বির : বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় আমাদের মানুষ বর্তমানে অভিন্ন অদৃশ্য শত্রু করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। খুলনার দাকোপ উপজেলায় এর প্রভাবটা আরো বেশী। কারন এখানকার জনসাধারন অধিকাংশ শ্রমজীবি হওয়ায় বর্তমানে তাদের খাদ্য সংকট চরমে। কিন্তু ভোটের মাঠে যাদের পদচারনায় মুখরিত থাকে দাকোপের মাঠ ঘাট সেই বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের কারো দেখা মিলছেনা অসহায় মানুষের পাশে।
সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় অধ্যুষিত হওয়ায় দাকোপ অঞ্চলকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ঘাটি হিসেবে ভাবা হয়। তবে ধীরে ধীরে সেই অবস্থার যে পরিবর্তন হচ্ছে সেটা বিগত কয়েকটি নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সমিকরনে স্পষ্ট। কিন্তু সাধারণ মানুষ যে পরিবর্তনের ধারায় যোগ দিতে চায় মানুষের এই চরম দুঃসময়ে তাদের জনগনের প্রতি দ্বায়বদ্ধতা আজ প্রশ্নের সম্মুক্ষিন। যেখানে করোনা মেকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাধ্য অনুযায়ী অভুক্ত মানুষের মুখে খাদ্য তুলে দিতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে, সেখানে দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি বিরোধীদল জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের যেন কোন দ্বায়বদ্ধতা নেই ! এমনকি নিজেদের অসহায় দুস্থ কর্মিদের পাশে এসে তাদের দাড়াতে দেখা যায়নি। অথচ এই দু’টি দলের ডাক সাইডের নেতা এখানে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করে এই মানুষের কল্যানে নানা কিছু করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে। এমনকি বিএনপি জাপার স্থানীয় নেতাদেরও করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জনসাধারনের পাশে দাড়াতে দেখা যায়নি। খুলনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আমির এজাজ খান দীর্ঘ কয়েকটি সংসদ নির্বাচনে দাকোপ বটিয়াঘাটা থেকে দলের প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দিতা করে আসছেন। যিনি একটি বৃহৎ জেলার দায়িত্ব পালন করছেন তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের চরম দুঃসময়ে পাশে দাড়াবেননা এটা সাধারণ মানুষের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবতা তাই। অপরদিকে সংসদের বিরোধীদল জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসাবে বিগত দু’টি সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতাকারী সুনিল শুভ রায় দলটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী ফোরাম প্রেসিডিয়ামের প্রভাবশালী সদস্য, দলীয় চেয়ারম্যানের প্রেস এন্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারী। পদের বিবেচনায় খুলনা অঞ্চলের সব দলের মধ্যে তিনিই প্রভাবশালী নেতা। খোজ নিয়ে জানা গেছে সেই জাতীয় পার্টির দুস্থ কর্মিরা আজ ত্রানের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ধর্না দিয়ে বেড়াচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপি জাপার তৃনমুলের কর্মিরা ক্ষোভের সাথে বলেন, জেলা কেন্দ্রতো খবর নিচ্ছেই না, এমনকি উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা করোনায় কেমন আছি সেই খবরটি নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে দু’টি দলের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি আজ সর্ব সাধারনের কাছে প্রশ্নের সম্মুক্ষিন। যার প্রভাব হয়ত আগামী দিনের ভোটের মাঠে দেখা যাবে।

তালায় দু:স্থদের খাদ্য সহায়তা প্রদান

তালা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার তালায় জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ৩৭৫ টি দুঃস্থ, অসহায় ও কর্মহীন পরিবারের মাঝে চাল,নগদ অর্থ ও সবজি বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ মে) দুপুরে জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ইউপি চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু,ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা যুব উন্নায়ন অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম ও ইউপি সদস্যরা উপস্থিত থেকে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।
এসময় এসব পরিবারের মাঝে নগদ ২২,৬০০ টাকা বিতরণ করা হয়। পরিষদের পক্ষ থেকে দেওয়া খাদ্য তালিকায় ছিল ৮ কেজি চাল,১ কেজি আলু এবং ১ টি মিষ্টি কুমড়া।

খুলনায় হাতের মুঠোয় কাঁচাবাজার মোবাইল অ্যাপের উদ্বোধন

খুলনা অফিস : করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসাধারণের ঘরে বসে শাক-সবজি ও ডিম-দুধ প্রাপ্তির লক্ষ্য নিয়ে  ‘হাতের মুঠোয় কাঁচাবাজার’ অ্যাপটি আজ (বুধবার) খুলনায় চালু হয়েছে।

স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অ্যাপটির মাধ্যমে খুলনা মহানগরের বাসিন্দারা ঘরে বসে বিষমুক্ত, তাজা শাক-সজবি, মাছ, মাংস ও ডিম ক্রয় করতে পারবেন।

সকালে খুলনা সার্কিট হাউজ সম্মেলনকক্ষে খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ড. মুঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার এই অ্যাপটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, ক্রেতাকে মানসম্পন্ন পণ্যটি ন্যায্যমূলে সময়মতো বাড়িতে পৌঁছে দিতে পারলে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

এসময় খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরদার রকিবুল ইসালম, পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ, খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার ম. জাভেদ ইকবাল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক পঙ্কজ কান্তি মজুমদার, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এসএম আউয়াল হক, বাজার কর্মকর্তা আব্দুস সালাম তরফদারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের এই ক্রান্তিকালে প্রান্তিক কৃষক, পোল্ট্রি ও ডেইরি খামারীদের উৎপাদিত পণ্য মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বাজারজাতকরণে খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্ভাবনী উদ্যোগটিতে  খুুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর,  জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস এবং খুলনা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরসহ ঘরে বসে কৃষি বাজার ও ডিজিটাল সুন্দরবন প্রোটিন হাউজ নামের দু’টি উদ্যোক্তা সংগঠন সহযোগিতা করে।

‘হাতের মুঠোয় কাঁচাবাজার’ অ্যাপের ‘ঘরে বসে কৃষি বাজার করি’ কার্যক্রমের আওতায় শাক-সবজি, কাঁচা তরকারি, ফলমূল ইত্যাদি কেনা যাবে। ‘ডিজিটাল সুন্দরবন প্রোটিন হাউজ’ কার্যক্রমের আওতায় আমিষ জাতীয় পণ্য ডিম, দুধ ইত্যাদি কেনা যাবে।

খুলনা মহানগরীর মধ্যে যে কোন বাসিন্দা শাক-সবজি, ডিম, মাংস ও দুধের অর্ডার করলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ২৪ ঘন্টার মধ্যে বাসা-বাড়িতে প্রয়োজনীয় মালামাল পৌঁছে দিবে।

এই কর্মসূচির ফলে দুর্যোগের এই মুহূর্তে সামাজিক দূরত্ব যেমন বজায় থাকবে তেমনি কৃষি উৎপাদনকারীরা তাদের পণ্য বিক্রিতে সুবিধা পাবেন। ক্রেতারা ভিড় এড়িয়ে ঘরে বসে বিষমুক্ত এবং তাজা পণ্য কিনতে পারবেন।

গুগল প্লে-স্টোর থেকে ‘হাতের মুঠোয় কাঁচাবাজার’ অ্যাপটি সহজেই ডাউনলোড করা যাবে।

 নিম্নআয়ের কর্মহীনদের মাঝে খুলনা সিটি মেয়রের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ

খুলনা অফিস : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘মানবিক সহায়তা কর্মসূচির’ আওতায় আজ (বুধবার) সকালে খুলনার ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় চত্বরে চারশত ২৮ কর্মহীন নিম্নআয়ের শ্রমজীবী, অসহায়, দুস্থ ও হতদরিদ্রদের মাঝে সাত কেজি করে চালসহ আলু, ডাল, লবণ, পেঁয়াজ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

ত্রাণসামগ্রী বিতরণকালে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এসএম মোজাফফর রশিদী রেজা, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট মোঃ ফারুক হোসেন শেখ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিনসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরে সিটি মেয়র পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘মানবিক সহায়তা কর্মসূচির’ আওতায় নগরীর ২৭, ২৫, ২০, ১২, ১১, ৮ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চারশত ২৮ জন করে মোট দুই হাজার নয়শত ৯৬ কর্মহীন নিম্নআয়ের শ্রমজীবী, অসহায়, দুস্থ ও দরিদ্রদের মাঝে সাত কেজি করে চালসহ আলু, ডাল, লবণ, পেঁয়াজ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেন।

খুলনা বিভাগীয় শ্রম দপ্তর চত্বরে আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘মানবিক সহায়তা কর্মসূচির’ আওতায় পাঁচশ ৪০ কর্মহীন বাসচালক ও হেলপারের মাঝে আট কেজি করে চালসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। ইতোপূর্বে এক হাজার সাতশত ৮০ কর্মহীন বাসচালক ও হেলপারের মাঝে আট কেজি করে চালসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

সুন্দরবনের কর্তন নিষিদ্ধ সুন্দরী গাছ কেটে বনবিভাগের ট্রলারেই পাচার!

আবু হোসাইন সুমন, মোংলা (বাগেরহাট) : করোনা পরিস্থিতি ও চলমান লকডাউনের মধ্যে দিনে দুপুরে সুন্দরবনের কর্তন নিষিদ্ধ সুন্দরী ও কাকড়া গাছ কেটে তা পাচারের অভিযোগ উঠেছে বনবিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। পূর্ব সুন্দরবনের ঢাংমারী ষ্টেশনের ষ্টেশন অফিসার (এসও) মোঃ আনোয়ার হোসেন খাঁন বনের ঘাগরামারী এলাকা থেকে সুন্দরী ও কাকড়া গাছ কেটে তা ট্রলারযোগে পাচার করছিল। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাচার কাজে ব্যবহৃত করা হয় বনবিভাগের পতাকাবাহী ট্রলার। বনবিভাগেরই ট্রলারে থাকা গাছ পাচারকারী তরুন বলেন, এ গাছ তাদের ষ্টেশন অফিসার আনোয়ার সাহেব ঘাগরামারী থেকে কেটে আনার অনুমতি দিয়েছেন।
তবে ঢাংমারী ষ্টেশনের ষ্টেশন অফিসার (এসও) মোঃ আনোয়ার হোসেন খাঁন দাবী করে বলেন, ঘাগরামারী টহল ফাঁড়ি থেকে এ গাছ আমাদের ষ্টেশনের (ঢাংমারী) স্থাপনা তৈরীর কাজে আনা হচ্ছিল। এ ব্যাপারে তাদের উর্দ্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশনা রয়েছে। তবে বনবিভাগের পতাকাবাহী ট্রলারে গাছ নেয়ার সময় ছিলনা কোনও বনরক্ষী, ছিল তিনজন পাচারকারী।
এদিকে বনবিভাগের স্থাপনা তৈরীর কাজে কোন গাছ ব্যবহার করতে হলে তাদের জব্দকৃত গাছ ছাড়া ব্যবহার করতে পারবেনা বলে জানান পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ এনামুল হক। ঢাংমারী ষ্টেশনের ষ্টেশন অফিসার আনোয়ার হোসেন খাঁনের সুন্দরবনের সদ্য গাছ কাটার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উনি তাকে (এসও আনোয়ার) বলেছেন তাদের ষ্টেশনের জেটি নির্মাণের জন্য ওই গাছ নেয়া হচ্ছিল। তবে সেটি সদ্য কাটা কিনা আমি বলতে পারব না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাংমারী ষ্টেশনের ষ্টেশন অফিসার আনোয়ার হোসেন খাঁন ও ঢাংমারী ষ্টেশনের আওতাধীন ঘাগরামারী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে গাছ কেটে পাচারসহ নানা রকম অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ঢাংমারী ষ্টেশন সংলগ্ন ভোজনখালী গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মুজিবর রহমান, সাবেক ইউপি মেম্বর মোঃ আফসার আলী ও সঞ্জয় কুমার বর্মন অভিযোগ করে বলেন, ঢাংমারী ষ্টেশন অফিসার আনোয়ার হোসেন এবং ঘাগরামারীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রউফ তাদের লোক (দালাল) দিয়ে সুন্দরবন থেকে প্রতিনিয়তই কর্তন নিষিদ্ধ সুন্দরী, কাকড়া ও বাইনসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ পাচার করে থাকেন। যারা এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করে তাদের বিরুদ্ধে হরিণ পাচারের মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেন বলেও অভিযোগ ওই গ্রামবাসীর।
আর অভিযোগ রয়েছে বনবিভাগের এই দুই কর্তার সকল অনিয়মে সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন ভোজনখালী গ্রামের বাসিন্দা বাদল ও ট্রলার মাঝি রহিম নামের দুই ব্যক্তি (দালাল)। বনকর্তা আনোয়ার ও রউফের সহযোগী বাদল এবং রহিমের অত্যাচারে অতিষ্ট গ্রামের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ বেলায়েত হোসেনের কাছে ঢাংমারী ষ্টেশনের ষ্টেশন অফিসার আনোয়ার হোসেন খাঁনের কর্তন নিষিদ্ধ সুন্দরী ও কাকড়া গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি আমি দেখছি বলেই ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে বনবিভাগের খুলনাঞ্চল’র বন সংরক্ষক (সিএফ) মোঃ মঈন খাঁন বলেন, সুন্দরবন থেকে সদ্য গাছ কেটে ষ্টেশনের কোন স্থাপনা তৈরী করার কোন সুযোগ নেই। দীর্ঘদিনের জব্দকৃত গাছ দিয়ে এসব স্থাপনা করতে গেলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের অনুমতির প্রয়োজন। কোন কর্মকর্তা বনের গাছ কেটে থাকলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।